Logo_print
 
সূচীপএ : নিয়মিত বিভাগ
বান্দরবান : ১১তম পর্ব - নুড়ি পাথরের দ্বীপ

বাংলালিংক বাংলারপথে। চ্যানেল আই-এর একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। ধারাবাহিক এ অনুষ্ঠানের এক একটি পর্বে তুলে ধরা হয় দেশের একটি স্থান। তুলে ধরা হয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন বিবরণ। ব্যাপক দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় রয়েছেন হাসান ইমাম চৌধুরী টিংকু। তার চিত্রনাট্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানটির পর্ব অবলম্বনে সাপ্তাহিক-এর পাঠকদের জন্য এই স্পট ফিচার। এবারে থাকছে  ‘বান্দরবান’ বাংলালিংক বাংলারপথে অনুষ্ঠানটিতে এই পর্বে তুলে ধরা হয়েছে বান্দরবানের বিভিন্ন স্থান। সব স্থান একসঙ্গে উপস্থাপন সম্ভব নয়। তাই পর্ব ভাগ করে বান্দরবানের স্পটগুলোকে তুলে ধরা হলো...

আরিফুর রহমান
 
এ এলাকায় পাথরগুলো আলাদা আলাদা নাম আছে। প্রকাণ্ড পাথরগুলোর কোনোটা মুকুট, কোনোটা থালা, কোনোটা কলসি, কংকাল, সাপ। অদ্ভুত দেখতে এক একটা পাথর। বাংলাদেশে গ্রানাইট পাথর পাওয়া যায় না। এই পাথরগুলো শক্ত বেলে পাথর। রাজাপাথর দেখতে পারবেন। এ পাথরের নামেই এ স্থানের নামকরণ হয়েছে। ভরা বর্ষায় যখন সব পাথর ডুবে যায়, তখনও এ পাথরটি পানির উপর মাথা তুলে ভেসে থাকে। চলাচলে এ রাজা পাথরকে সম্মান দেখানো হয়। এটা এ এলাকার ট্র্যাডিশন।
সাঙ্গু নদীর ওই স্থানটি যেমন সুন্দর তেমন ভয়ানক। সে কারণে রাত হয়ে গেলে কোনো নৌকা এ স্থান পার হয় না। তাই রাত হয়ে যাবার আগেই আপনাদেরকে বড় পাথর এলাকা পার হতে হবে। আর একটু আলো না থাকলে ক্যাম্প করতেও অসুবিধা হবে। দিনের শেষ আভা থাকতে আপনারা চেষ্টা করবেন  বড়পাথর পার করে সোনা পাহাড়ের নিচের সাঙ্গু নদীর  বাঁকে এক চিলতে নুড়ি পাথরের দ্বীপে পোঁছতে।
ক্যাম্প করার জন্য সবচেয়ে আগে দরকার আলো। সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন কুটি। তাতে খুব একটা আলো না হলে একটা বড় ক্যাম্পফায়ার করবেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁবুগুলো খাটিয়ে নিতে পারলে পরবর্তী কাজে হাত দেয়া যাবে। বিশেষ করে রান্নার আয়োজন।
সমস্যার কথা হলো এই এলাকায় চিতাবাঘ, ভাল্লুক, সজারু, সাপ, বানর, হরিণসহ নানান প্রকারের জীবজন্তু ও পোকামাকড় আছে। চিতাবাঘ তেমন ঝামেলা করে না, তবে ভাল্লুক বড় বেয়াদব। ওরা অনেকদূর থেকে খাবারের গন্ধ পায়। আর একবার যদি সে মনে করে যে, আমাদের খাবার সে খাবে, তাহলে বড় সমস্যা হয়ে যাবে। মূলত বড় আগুন জ্বালানো হয় একধরনের প্রতিরক্ষার কারণে। তাছাড়া রাতের আঁধারে একা একা ক্যাম্পের বাইরে যাওয়া ও ঠিক নয়।
 এই রকম অভিযানে গেলে রান্নার সবকিছুই নিয়ে যাবেন। ঝটপট সবাই আশপাশ থেকে কাঠ কুড়িয়ে রান্নার কাজে লেগে যাবেন। আপনাদের জানিয়ে দেই এর আশপাশে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মানুষের বসতি বা পাড়া নেই। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে সকালের আগে সাহায্য পাওয়ার কোনো পথই খোলা নেই। এমন বুনো পরিবেশে যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো কিছুই ঘটে যেতে পারে। কারণ ঘুটঘুটে অন্ধকারে জ্বালানো ল্যাম্প ফায়ারটি অনেক দূর থেকে দেখা যায়।
এই ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে ক্যাম্প করে থাকার অন্যরকম মজা পাবেন। কল্পনা করে দেখুন, থানচি উপজেলার তিনদু ইউনিয়নের বড়পাথর এলাকার সোনা পাহাড়ের নিচে, সাঙ্গু নদীর পাড়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। আপনারা জানেন বান্দরবানই বাংলাদেশের সবচেয়ে কম ঘনবসতীপূর্ণ জেলা। যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬৭ জন মানুষ বসবাস করে। তার মানে বুঝতেই পারছেন আশপাশে ৩-৪ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো জনবসতীর চিহ্ন নেই। এ রাতে বিপদে পড়লে সাহায্য চাওয়া বা পাওয়ার কোনো উপায় নেই, তাই সাবধান। বান্দরবানের এই বুনো পরিবেশে অনেক জীব-জন্তু আছে। কোনোভাবে রাতটা কাটিয়ে দিতে পারলেই রক্ষা।
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই দেখবেন সাঙ্গু নদীর বাকে মাথার ওপর সোনা পাহাড়ের খাজে কিভাবে অল্প অল্প করে মেঘ জমা হবার দৃশ্য। সেই দৃশ্যটি অপরূপ। সেই মেঘের শেষ রেশটা সূর্য উঠে গেলেই মেঘ পালিয়ে যাবে। এটি দেখে এমন এক দৃশ্যের ভেতরে থাকবেন যা কিনা আপনারা সাধারণত সিনেমাতে দেখে থাকেন। ঘুম থেকে উঠেই তাবুর বাইরে প্রকৃতির এই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য খুব কম মানুষেরই হয়। কিন্তু সুন্দর দৃশ্যের ভেতরে কিছু বিরক্তিকর দৃশ্যের মতো পাথরের গায়ে লেখাগুলো চোখে পড়লে ভালো লাগবে না। জানি না কোন ধরনের বিচার বুদ্ধি মানুষ এমনই একটি স্থানে পাথরের গায়ে নানান কথা রঙ দিয়ে লিখতে পারে। আশা করি তাঁবুর ভেতর পাথুরে বিছানায় রাতে ঘুমের কোনো অসুবিধা হবে না। সাঙ্গু নদীর কুলু কুলু শব্দ যেন আপনাদের ঘুমপাড়ানি গান শুনাবে। রাতটি থাকার পর আবার ইচ্ছে হবে আরও একটু সময় পার করতে বান্দরবানের থানচির সাঙ্গু নদীর বাকের এই স্বপ্লীল পরিবেশে।

 বাংলালিংক বাংলার পথে প্রচারিত হয় চ্যানেল আইতে প্রতি মঙ্গলবার
রাত ১১টা ৩০ মিনিটে

অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে যে কোনো তথ্য ও মতামত জানাতে
ই-মেইল করুন :
tinkutraveler@gmail.com

Print
©2009. All rights reserved.