Logo_print
 
সূচীপএ : বিশ্লেষন
[মানবাধিকার] বিনায়ক সেনের যাবজ্জীবন কারাদ-

আনিস রায়হান

রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে ভারতীয় আদালত মানবাধিকার কর্মী ডাক্তার বিনায়ক সেনকে যাবজ্জীবন কারাদ-ে দ-িত করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি মাওবাদী নেতা মাওবাদী নেতা নারায়ণ সান্যালের কুরিয়ারের কাজ করেছেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে পুলিশের অনুমতিক্রমেই তিনি জেলে সেই নেতার চিকিৎসার জন্য যেতেন। হঠাৎ পুলিশ নাকি তিনটি চিঠি আবিষ্কার করে যেগুলো সেন পাচার করেছেন! শুধু তাই না, তার ঘর থেকে নাকি মাও লেনিনের প্রচুর বই পাওয়া গেছে! আর এই অপরাধে তার যাবজ্জীবন জেল! আদালতে সরকারি আইনজীবীর অভিযোগ ছিল, রায়পুর কেন্দ্রীয় জেলে এক মাসের মধ্যে তেত্রিশ বার মাওবাদী নেতা নারায়ণ সান্যালের সঙ্গে দেখা করেন এই চিকিৎসক। নারায়ণ সান্যালের লেখা রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক চিঠি তিনি কেন্দুপাতার ব্যবসায়ী পীযূষ গুহের কাছে পাচার করেছেন। পক্ষান্তরে, বিনায়ক সেনের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, জেলারের অনুমতি নিয়ে তার ঘরেই মাওবাদী নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন বিনায়ক সেন। জেল কর্তৃপক্ষের সিলমোহর দেয়া চিঠিই তিনি বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন। দুপক্ষের বক্তব্য শুনে ছত্তিশগড় রাজ্যের জেলা ও সেশন আদালত তাকে ভারতীয় দ-বিধির ১২৪এ এবং ১২০বি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ৫৮ বছর বয়েসী ডা. বিনায়ক সেনকে বিলাসপুর শহর থেকে ১৪ মে, ২০০৭ তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়। মাওবাদীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে ছত্তিশগড় বিশেষ জননিরাপত্তা আইন (ছত্তিশগড় স্পেশাল পাবলিক সিকিউরিটি এ্যাক্ট) এবং বেআইনি কার্যকলাপ রোধ আইনে (আনলফুল এ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন এ্যাক্ট অথবা ইউএপিএ) তার এ গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে দীর্ঘ এগারো মাস বিনা বিচারে আটক রাখা হয়। অবশেষে ২৪ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে রায়পুরের দায়রা আদালতে পুনরায় তার বিচার শুরু হয়। রায়পুর দায়রা আদালত ও বিলাসপুর হাইকোর্টে তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। যদিও সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে বিনায়ক সেনকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয় ২০০৯-এর ২৫ মে। এরপর তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন।
বিনায়ক সেনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়ায় পৃথিবীজুড়ে ভারতের বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ঝড় উঠেছে। বিনায়ক সেনের পরিবার এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আদালতের এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। ডাক্তার সেনের স্ত্রী ইলিনা সেনের অভিযোগ তার স্বামীকে ভিত্তিহীন অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের নামে আদালতে পুলিশ যা পেশ করেছে তা জাল। তার বাড়ি থেকে যেসব কাগজপত্র এবং কম্পিউটার তথ্য-উপাত্ত পুলিশ নিয়ে গেছে তা বিকৃত করা হয়েছে। সে সময় কোনো সাক্ষী উপস্থিত ছিল না। বাড়ির মালিকেরও সই নেয়া হয়নি। তিনি এই বিচারকে এক নাটক অভিহিত করে বলেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণের একটিও সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই। আমার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে আমি নাকি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই-কে চিঠি লিখি এবং আল-কায়েদার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। কাজেই এই রায়ের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে যা করার করব। আশা করি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাব।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে আজ এক কালো দিন। কারণ যে ব্যক্তি গত ৩০ বছর ধরে গরিবের সেবা করেছেন, আজ তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো, অথচ গুন্ডা, মাফিয়া আর যারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে বুক ফুলিয়ে।’ তিনি দাবি করেন, ‘আমার পুরো পরিবারকে যেভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাতে একসময় বিদেশে আশ্রয় নেবার কথাও ভেবেছিলাম।’
ডা. সেনের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এই অন্যায় বিচারের জন্য রায় প্রদানকারী বিচারকের অপসারণ দাবি করেন। বিশিষ্ট এ আইনজীবী বলেন, ‘এই জিনিস চলতে থাকলে সামাজিক মেরুকরণের আশঙ্কা আছে। অর্থাৎ সরকারের পক্ষে না আসা মানে সরকারের বিপক্ষে। এটা এক নাৎসিবাদী মানসিকতার পরিচয়।’ ভারতের সুপ্রিমকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং এ্যাটর্নি জেনারেল, সোরাবজি বলেছেন, ‘এই রায় তামাশা। বিচার ব্যবস্থার প্রতি অপমান, ভারতের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আক্রমণ ছত্তিশগড়ের এই রায়।’
শুধু ডা. সেনের পরিবার ও আইনজীবীরা নন প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আরো অনেকেই। দার্শনিক ও ভাষাবিদ নোয়াম চমস্কি, নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন, ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার, মুশিরুল হাসান, অর্থনীতিবিদ অশোক মিত্রের মতো বিদ্বজ্জনদের অভিমত বিনায়ক সেন কখনো হিংসার পথে হাঁটেননি। চিকিৎসক হিসেবে বরাবরই তিনি থেকেছেন প্রান্তিক মানুষজনদের পাশে। তার পরও তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে যেভাবে শাস্তি দেয়া হয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। তারা একথাও বলেছেন, সাংবিধানিক ব্যবস্থার নামে রাষ্ট্র যখন এমন ব্যবস্থা নেয়, তখন সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন বলেছেন, যিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন তাকে দেশবিরোধী বলে জেলে ঢোকানো সরকারের চিন্তার বিকৃতি। মহৎ কাজের স্বীকৃতি না দিয়ে বিনায়ক সেনকে সারা জীবন জেলবন্দি করে রাখা অন্যায় অবিচার। বিচারের প্রহসন। বিনায়ক সেনের শাস্তি রদ করার আহ্বান জানিয়ে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে নিখিল ভারত খ্রিস্টান কাউন্সিল।
অনেকে মনে করছেন, আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রের প্রভাব রয়েছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্র নাগরিক অধিকারের দাবিতে যারা আন্দোলন করেন, তাদের কাছে একটা বার্তা পাঠাতে চাইছে। তা হচ্ছে, ডা. বিনায়ক সেনের মতন একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার কর্মীকে জেলে পাঠানোর ক্ষমতা ভারত সরকারের রয়েছে। সুতরাং অন্যরা সাবধান।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য অনুযায়ী, ডা. বিনায়ক সেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও প্রমাণাদি ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার বিরুদ্ধে আনীত অনেক অভিযোগের উৎস এমন আইনের অধীনে যা আন্তর্জাতিক আদর্শ আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। তাদের মতে, ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক আইনসমূহ অপব্যবহারের জন্য এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে ‘বেআইনি কার্যকলাপ’-এর সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক। যেকোনো পরিস্থিতিতেই মানবাধিকার সংক্রান্ত যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মকা-কেও ইচ্ছে করলেই ‘বেআইনি কার্যকলাপ’ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মানবাধিকার রক্ষাকর্মীকে মুক্তি দেয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা ভারত সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই রায় মাওবাদী-অধ্যুষিত এলাকায় অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, বিনায়ক সেনের কারাদ-কে ‘প্রিজনার অব কনসায়েন্স’ (যেকোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে অহিংস আন্দোলনের কারণে যাদের কারাদ- দেয়া হয়) বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক সাম জারিফি বলেন, বিনায়ক সেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়নি। এর ফলে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরো বেড়ে যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, বিনায়ক সেনের বিরুদ্ধে এই রায় অন্য মানবাধিকার কর্মীদের শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের প্রতি হুমকি হিসেবে কাজ করবে। জারিফি আরো বলেন, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রায় প্রত্যাহার করে বিনায়ক সেনকে মুক্তি দেয়া।

মানবতার দূত বিনায়ক সেন
ডা. বিনায়ক সেন একজন মানবাধিকার রক্ষাকর্মী ও চিকিৎসক। তিনি ভারতের একটি বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠন পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (পিইউসিএল)-এর জাতীয় সহ-সভাপতি, এবং এর রাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক। আদিবাসী সমাজের স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা উন্নয়নের জন্য তাদের সঙ্গে যে অল্প কয়েকজন চিকিৎসক কাজ করছেন তিনি তাদের একজন। উল্লেখ্য, ছত্তিশগড়ের রাষ্ট্র পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো খুবই দুর্বল।
ডা. সেন আদিবাসীদের শুধু স্বাস্থ্যসেবাই দেননি, বরং প্রকাশ্যে সালওয়া জুদুমের সহিংস কর্মকা-ের সমালোচনা করেছেন। মানবাধিকার রক্ষাকর্মী ও অন্যরা মনে করেন যে সালওয়া জুদুম নামক অসামরিক মিলিশিয়া বাহিনী রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়। তারা দাবি করেন এর মাধ্যমে নিরীহ আদিবাসীদের হত্যা করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, সালওয়া জুদুমের বিরোধিতা করার জন্যই বিনায়ক সেনের আজ এই করুণ পরিণতি।
মানবাধিকার রক্ষাকর্মী ডা. বিনায়ক সেন ভেলোর মেডিকেল কলেজের গোল্ড মেডেলিস্ট। কিন্তু দিল্লিতে ডাক্তারি করে টাকা কামাতে তার ভালো লাগল না। ২০ বছর আগে সস্ত্রীক চলে এলেন ছত্তিশগড়ের জঙ্গলে। আদিবাসীদের জন্য হাসপাতাল খুললেন। তাদের উন্নত কৃষিকাজ শেখালেন। স্থানীয় আদিবাসীদের কাছে তিনি দেবতা। অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। তার কাজকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে কাজ করতে চেয়েছে জাতিসংঘ। ফলে ২০০৪ সালে যখন তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়, পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় সব মানবাধিকার কর্মী এবং নোবেলজয়ী ডাক্তাররা তার মুক্তির দাবিতে ভারতীয় সরকারের কাছে আবেদন করে। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশাল তার বিচারকে বিচার ব্যবস্থার সর্বাধিক প্রহসন বলে উল্লেখ করেছে। ২০০৮ সালের ২১ এপ্রিল তারিখে ঘোষণা করা হয় যে ডা. বিনায়ক সেনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য কাউন্সিলের ‘জনাথন ম্যান ২০০৮’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ভারতে দরিদ্র ও উপজাতি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় তার অবদানের জন্য এবং মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে তার কাজের জন্য সম্মান জানাতে এটি প্রদান করা হয়। ২০০৮ সালের মে মাসে, বাইশ জন নোবেল বিজয়ী ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি লেখেন যেন ড. সেনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য কাউন্সিলের ৩৫তম বার্ষিক সভায় উপস্থিত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণের জন্য ওয়াশিংটন ভ্রমণের অনুমতি প্রদান করা হয়। সরকার এই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ওই বছর ২৮ মে তারিখে ড. সেনের স্ত্রী ইলিনা সেন ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তার পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।


কি এই সালওয়া জুদুম

২০০৫ সালে সালওয়া জুদুম বা শুদ্ধি অভিযান বাহিনী গঠন করে ছত্তিশগড়ের মাহেন্দ্রকর্মা গ্রামের প্রভাবশালীরা। বহুজাতিক কোম্পানি কোনো এলাকায় খনিজ সম্পদ ওঠাতে ইজারা বা কারখানা স্থাপন করলে এ বাহিনী ওই এলাকার আদিবাসীদের সরিয়ে রাস্তার ধারে ক্যাম্পে নিয়ে আসত। ভারতীয় প্রভাবশালীদের এটা ছিল একটা কৌশল। ক্যাম্পে থাকলে আদিবাসীরা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বনের ভেতরের জমিও ফাঁকা থাকবে। মাওবাদীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে তারা আন্দোলনও করতে পারবে না। কোনো গ্রামের লোকজন ক্যাম্পে আসতে না চাইলে শুদ্ধি অভিযান বাহিনী সে গ্রাম পুড়িয়ে ফেলত। কোনো কোনো গ্রাম তারা আট-নয় বারও পুড়িয়ে দিয়েছে। সালওয়া জুদুম পরিচালিত হতো সরাসরি মাওবাদীদের বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে সরাসরি ছত্তিশগড় সরকার সালওয়া জুদুম নামে ওই বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। মাওবাদী বিরোধী আধা সরকারি এই মিলিশিয়া বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে বিতর্ক ভারতের সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত ওই বাহিনীর হাতে ঢালাওভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ নানা সময় মিছিল, সভা, হরতালের মতো কর্মসূচীতেও নেমেছে। ভারতের অধিকাংশ এবং অনেক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই বাহিনীর বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে ছত্তিশগড় রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে এই বাহিনীর কর্মকা- হচ্ছে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া।

Print
©2009. All rights reserved.