Logo_print
 
সূচীপএ : নিয়মিত বিভাগ
[সেই সময়] অন্দর-ভুবন থেকে মুক্ত ভুবনে

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব থেকে অবসর গ্রহণের পর পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন লেখালেখিতেÑ যেটা তিনি উত্তরকৈশোর থেকেই করতেন। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ক্ষীয়মাণ প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালে। উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য এবং গ্রন্থসম্পাদনাতেও রয়েছে তাঁর সমান দক্ষতা। এই প্রাজ্ঞ কথাকারের শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো সম্পর্কে আংশিক অবগত হই তাঁর রচিত কাঁটাতে গোলাপও থাকে শীর্ষক আত্মকথনমূলক রচনাটি থেকে। বাকি অংশ তাঁর কাছ থেকে শুনে এই লেখাটি তৈরি করি

স্বকৃত নোমান

সমুদ্রস্নাত নোয়াখালী জেলার নিভৃত গ্রাম রামেশ্বরপুর। চল্লিশের দশকের শুরুতে জেলাশহরেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি, শহরটির আট মাইল পুবের গ-গ্রাম রামেশ্বরপুরে তো দূরের কথা। ১৯৪১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন আবদুশ শাকুর। বাবা বহুপূর্বে প্রয়াত মকবুল আহমাদ ও মা ফায়জুন্নিসা। দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।
পিতা মকবুল আহমাদ ছিলেন একাধারে সাহিত্য-সঙ্গীত ও রাজনীতি মনস্ক। আরবি, ফার্সি এবং উর্দুÑ এ তিন ভাষাতেই ছিল তাঁর সমান দক্ষতা। উর্দু ও ফার্সিতে অবলীলায় শের রচনা করতেন। কারুকার্যময় কণ্ঠে গাইতেন হাফিজ, গালিব, আমিরের কাসিদা ও গজল এবং মরমী কবি জালালুদ্দিন রুমির মস্নভি। প্রথম জীবনে বহু বছর তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ফলে এলাকার মান্যগণ্যদের আনাগোনায় এবং সালিশে-দরবারে সরগরম থাকতো বাড়ি।
আবদুশ শাকুরের বর্ণনা মতে, শৈশবে তিনি ছিলেন খানিকটা ইঁচড়েপাকা। তাই নিতান্ত অল্প বয়সেই তাকে হাতেখড়ি দেয়া সম্ভব হয়েছিল। প্রথম সবক্ অ-আ-ক-খ নয়, আলিফ-বে-তে-সে ইত্যাদি। যখন কোরানের সবক্ দেয়া হয় তখন তিনি একেবারেই ছোট। খেলার আসর থেকে তুলে এনে অজুর পরিবর্তে গোসল করিয়ে কোরান পড়তে দেয়া হতো। ভিনদেশী ভাষার এ ধর্মগ্রন্থটি মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি খতম করে ফেলেছিলন। কাঁচা বয়সে কোরান-খতমের সুখবরটি প্রচার হয়ে পড়লো সারা তল্লাটে। আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন এসে এই জহীন ছেলেটির ভবিষ্যত-সফলতার জন্য বিশেষ দোয়া করে গেলেন।
নাতির এই সাফল্যের খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে চলে এলেন নানা কাজী নাজির আহমাদ। তিনি আর দেরি করতে রাজি নন, অতি দ্রুত পাক্কা কোরানে হাফেজ বানিয়ে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষার জন্য নাতিকে পাঠিয়ে দিতে চান মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন নোয়াখালীর ধর্মীয় প-িতদের কাছে আল-আজহার ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ ইসলামি বিদ্যাপীঠ। এ ধারণাটি এখনো নোয়াখালীর ক্বওমি মাদ্রাসার আলিমদের মাঝে বিদ্যমান।
নানা আর বাড়ি ফিরে না গিয়ে নিজ তত্ত্বাবধানে নাতিকে কোরানে হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। অল্প ক’দিনে প্রথম পারাটি মুখস্থ করানোর পর তিনি ফিরে গেলেন বাড়িতে। অন্যদের অনুৎসাহে আবদুশ শাকুরের কোরান হেফ্জ করা হলো না। তারপর মামা-আম্মার উৎসাহে শুরু হলো উর্দু শেখার পালা। উর্দু কি প্যাহ্লি কিতাব, দোস্রি কিতাব, তেস্রি কিতাব পড়া শেষ হতে না হতেই মা ঘরের সংরক্ষিত তাক থেকে নামিয়ে দিলেন মাওলানা আশরাফ আলী থানভির বহুল প্রচারিত বেহেশ্তি জেওর গ্রন্থটি। এরপর বাবার পালা। তিনি উর্দুর সঙ্গে পুত্রকে ফার্সিও শেখাতে চান। শুরু হলো ফার্সি কি প্যাহ্লি কিতাব, দোস্রি কিতাব, তেস্রি কিতাবের অধ্যয়ন। সেই সঙ্গে বড় ভাই-বোন ও মায়ের মুখে মুখে শুনে কণ্ঠস্থ করতে শুরু করলেন বিভিন্ন হাম্দ ও নাত। বাড়িতে এসবের ব্যাপক চর্চা ছিল তখন। এগুলোতে পরিবারের সবার কণ্ঠ এবং গায়কী ছিল খুবই আকর্ষণীয়।
পরিবারের সবার আকর্ষণ আরবি-ফারসি-উর্দুর প্রতি হলেও বড় ভাই আবদুল হাই ছিলেন দেশীয় সংস্কৃতিবান। তিনি থাকলে হয়ত ছোট ভাই শাকুরকে ভিনদেশী ভাষা শেখানোর পরিবর্তে মাতৃভাষা শেখানোর উপরই গুরুত্ব দিতেন শুরু থেকে। কিন্তু তিনি তখন জেলা শহরে অধ্যয়নরত। ফলে বাংলা ভাষা শেখানোর ব্যাপারে কেউ তেমন গুরুত্ব দিলেন না।
খানিকটা দেরিতে হলেও মাতৃভাষার প্রতি এই উদাসীনতার বিষয়টি আমলে আনলেন কুদ্দুস নামের শাকুরের এক ফুফাতো ভাই। হোমটাস্ক হিসাবে মীর মোশাররফ হোসেনের বিষাদসিন্ধুর ইংরেজি অনুবাদ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে তিনি অষ্টম শ্রেণী পাস না করেই স্কুল থেকে পালিয়ে মামা বাড়িতে উঠলেন মামার পাটোয়ার হয়ে। কাজিনটি ছিলেন সাহিত্যরসিক এবং সঙ্গীতপ্রেমী। তাঁর তাল-ঠুকে গাওয়া গানগুলোর প্রতি আকর্ষণবোধ করতেন শাকুর। বঙ্কিমচন্দ্রের বিভিন্ন উপন্যাসও পড়া ছিল তাঁর এই মর্মসহচরের। প্রায়ই দূর-দূরান্তে ছুটে যেতেন কবিগান শুনতে। ছন্দ মিলিয়ে কথা বলার একটা স্বভাব ছিল তার মধ্যে। বিষয়টি ছিল শাকুরের নিকট একটি মজার খেলা। কুদ্দুস ভাইয়ের সঙ্গে মিলে নিজেও মাঝে মধ্যে ছন্দ মিলিয়ে কথা বলার চেষ্টা করতেন। এ কুদ্দুসের মাধ্যমেই বাংলা ভাষার রসের সন্ধান প্রথম পেয়েছিলেন বলে মনে করেন শাকুর।

দুই.
কিন্তু এভাবে আর কতদিন? এবার যে স্কুলে ভর্তি হওয়া চাই। বড় ভাই আবদুল হাই তখন নোয়াখালী জেলা স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র। তার অভিমত, কেবল বাড়ির টোলে আরবি-ফার্সি-উর্দু শিখলেই হবে না, আধুনিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত হওয়া চাই। এ জন্য দ্রুত স্কুলে ভর্তি হওয়া দরকার। স্কুলের কথা শুনে তখনো মায়ের আঁচল না-ছাড়া আবদুশ শাকুরের সে কি কান্না! না কেঁদে উপায়-ই বা কী? মাস্টারদের কঠিন বেত্রাঘাত সইবার বয়স যে হয়নি তখনো।
তারপর বাড়ি থেকে মাত্র তিনটি বাড়ি পরের প্রাইমারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করানো হলো শাকুরকে। না, স্কুলমুখী করা যাচ্ছে না সহজে। স্কুলে আনা-নেয়ার দায়িত্ব বর্তালো প্রতিবেশী নোমানের উপর। নোমান প্রতিদিন প্রস্তুত হয়ে শাকুরদের ঘরে দীর্ঘক্ষণ প্রতীক্ষায় থাকে, অথচ শাকুরের হদিস নেই। যখন স্কুলে পৌঁছায় তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। বিলম্বের শাস্তিস্বরূপ থার্ড মাস্টারের বেত্রাঘাত সইতে হতো নোমানকেই। মাস্টারের ধারণা, নোমানই এ বিলম্বের কারণ। আর যাই হোক, দেরি করে আসার ছাত্র নয় শাকুর। জেলা শহর থেকে স্কুল পরিদর্শনে ইন্সপেক্টর এলে শাকুর গান গেয়ে তার গলায় মালা পরায় এবং স্পষ্ট উচ্চারণে মানপত্র পড়ে। এরকম একটি ছাত্র কি স্কুলে দেরি করে আসতে পারে? সব দোষই নোমানের! এভাবেই প্রকৃত অপরাধী থেকে যেত অন্তরালে। (এ অন্যায় বিচারের প্রকৃত কারণ সামাজিক অবস্থানের হেরফেরও হতে পারে।)
প্রাইমারি উত্তীর্ণ হওয়ার পর শাকুরের মেজ মামা পাঁচ মাইল দূর থেকে ঝাঁচকচকে সাইকেল হাঁকিয়ে এসে বললেন যে, চাপরাশীর হাট স্কুলে পড়ে সর্বোচ্চ গরুর গাড়ির গোড়ায়ান হওয়া যাবে। ভালো পড়াশোনার জন্য ভর্তি হতে হবে নামকরা স্কুলে। মানে, তাদের বাড়ির পাশের স্কুলে। সব্বনাশ, গাড়োয়ান! মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে গরুর গাড়িতে আসা-যাওয়ার সময় গাড়োয়ান দেখেছেন শাকুর। বোঝায় ভারাক্রান্ত, ক্ষুধায় পরিশ্রান্ত জানোয়ার দুটিকে যে হিংস্র মানুষটি কেবল সপাং সপাং প্রহার করেÑ সে-ই তো গাড়োয়ান। না, আর যাই হোক, গাড়োয়ান হওয়া যাবে না। কী করা যায় তবে? মামা পরামর্শ দিলেন, তাঁদের বাড়িতে থেকে ‘বামনিয়া মাইনর স্কুলে’ ভর্তি হওয়ার। ব্যবস্থাও হলো সেই মোতাবেক। কিন্তু মাকে ছেড়ে মামা বাড়িতে থাকার মতো বয়স তখনো হয়নি শাকুরের। তিন-চারটা মাস শুধু শিশুটিকে মা-ছাড়া করে মামাবাড়িতে পাঠানোর অপচেষ্টাতেই নষ্ট হলো। শেষমেষ বছরের মাঝামাঝি ভর্তি করানো হলো মাইলখানেক দূরের অনুজ্জ্বল চাপরাশীর হাট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীতে। শাকুর যার হাত ধরে প্রতিদিন স্কুলে যেতেন সে তারই সহপাঠী কাজিন শহীদ। এ শহীদের মাধ্যমেই তিনি পেয়েছিলেন বাংলা ভাষা চর্চার প্রথম উপাদান।
শাকুরদের বাড়িতে ভারতের বিজনুর শহর থেকে ডাকযোগে আসতো আল-মদিনা, কানপুর থেকে আসতো মাসিক আল-বোরহান পত্রিকা। এসব উর্দু পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন তার বাবা। জ্যেঠাতো ভাই শহীদের কাছ থেকে শাকুর পেয়ে যান বাংলা ভাষার বিভিন্ন বই এবং পত্রপত্রিকা। তাদের বাড়িতে ছিল বঙ্কিম-রমেশ রচনাবলী। কলকাতা থেকে আসতো আনন্দবাজার, ভারতী, সওগাত, বঙ্গবাসী ইত্যাদি পত্রিকা। এসব পত্রপত্রিকার মাধ্যমে শাকুর পরিচিত হয়ে ওঠেন লীলা মজুমদার, প্রভাবতী দেবী সরস্বতী, পাঁচকড়ি দে, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ লেখকদের লেখার সঙ্গে। শহীদসহ চাপরাশীর হাটের ডাকঘরে গিয়ে তিন পয়সার পোস্টকার্ড কিনে কলকাতার বিভিন্ন বইয়ের দোকানে চিঠি লিখতেন বই পাঠানোর জন্য। বই আসতো ভিপিপি যোগে। বায়না ধরে মায়ের কাছ থেকে আদায় করে নিতেন ভিপি ছাড়করণের টাকা। বিষাদসিন্ধুসহ বিভিন্ন বই এভাবে তিনি পাঠের একটা উপায় বের করে নিয়েছিলেন। তবে এ পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হিসেবে মীর মশারফের ক্ল্যাসিক গ্রন্থ বিষাদসিন্ধুর স্মৃতিই আবদুশ শাকুরের মনে এখনও অম্লান।

তিন.
রাজনৈতিক কাজে মকবুল আহমাদ তখন দিল্লিতে। এদিকে চাপরাশীর হাট মাইনর স্কুল থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পাস করেছেন শাকুর। এবার যে হাই স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। দিল্লি থেকে বাবা চিঠি লিখে পাঠালেন যে, তিনি না আসা পর্যন্ত যেন শাকুরকে কোথাও ভর্তি করা না হয়। নোয়াখালী শহরের জেলাস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করানোর পরিবর্তে তিনি বাড়িতে রেখে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছেলেকে নাহু-সরফ, মানতিক, ফিকাহ-হাদিস ইত্যদি পড়াতে চান। কারণ জ্যেষ্ঠ পুত্র কলকাতার কলেজে ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে বিধায় কনিষ্ঠ পুত্রকেই তিনি তাঁর বিদ্যার বন্ধুরূপে পেতে চান। দিল্লি থেকে ফিরে আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন শুরু করলেন। বাংলার প্রতি বাবা কোনো আকর্ষণ কিংবা বিদ্বেষ পোষণ করতেন না। তার বিদ্বেষ কেবল ইংরেজি ভাষাটির প্রতি। এটি একটি ক্ষতিকর ভাষা বলেই তিনি মনে করতেন। এক কথায় তিনি ইঙ্গবঙ্গ সংস্কৃতিকে তুর্কিবঙ্গ সংস্কৃতির সমান মূল্য দিতেন না।
সপ্তাহের সাতদিনই চলে বাড়ির অন্দর-ভুবনে অপ্রাতিষ্ঠানিক র্দাস। ছুটি পেতেন কেবল রোববার বিকালে। সহপাঠীদের, যারা শহরে জায়গির কিংবা মেসে থেকে পড়ালেখা করত, তারাও সাপ্তাহিক ছুটিতে আসত সেদিন। প্রতি রোববার বিকালে তাদের সঙ্গে চলত তুখোড় আড্ডা। তাদের কাছে শুনতেন বিভিন্ন গল্প। আবুল নামের এক সহপাঠী অনবরত বলে যেত তার দেখা বিভিন্ন সিনেমার গল্প। শুনতে শুনতে নিজেকে খুবই দুর্ভাগা মনে হতো শাকুরের। বাড়ির অন্দর-ভুবন থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের মতো শহরের স্কুলে যাবার প্রবল ইচ্ছা জাগত মনে। কিন্তু সেটা হতো আব্বার স্বপ্নপূরণের পরিপন্থী।

চার.
ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও মকবুল আহমাদ ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ। শাকুর ইসলামি পোশাক পাঞ্জাবি-টুপি না পরে টেরিকাটা শার্ট পরতেন সবসময়। গ্রামোফোন কোম্পানির ১০২ নম্বর মডেলের কলের গানে এইচএমভি হিন্দুস্তান-ম্যানোলা কোম্পানির বিভিন্ন রেকর্ড শুনতেন। সেসব গানের সুর তুলে নিতেন নিজ কণ্ঠে। কৈশোরে বাঁশি বাজাতে পারতেন মনকাড়া সুরে। রেডিও সিলোনে শোনা প্রিয় গানগুলো তুলে নিতেন তার প্রিয় আড়-বাঁশিতে। কিন্তু যখনই শুনলেন যে, বাঁশি বাজালে গান গাওয়ায় ক্ষতি হবে, সঙ্গে সঙ্গেই ছেড়ে দিলেন বংশীবাদন। কারণ, ভবিষ্যতে যে সঙ্গীত-শিল্পী হবার সম্ভাবনা! ছেলের এসব বিষয়ে ধার্মিক পিতা মকবুল আহমাদ কখনো হস্তক্ষেপ কিংবা কটাক্ষ করতেন না।
দু’বছর বাড়িতে বাবার কাছে পড়াশোনার পর শাকুর এককালীন ভর্তি হলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আলিম ফাইনাল ক্লাসে। শেষ হলো রামেশ্বরপুর পর্ব। শুরু হলো জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়। বাড়ির অন্দর-ভুবন থেকে পা রাখলেন মুক্ত-ভুবনে।
ছবি : রাশেদুজ্জামান

Print
©2009. All rights reserved.