Logo_print
 
সূচীপএ : নিয়মিত বিভাগ
মাগুরা : ২য় পর্ব - নবগঙ্গা নদীর স্লুইজগেট

বাংলালিংক বাংলারপথে। চ্যানেল আই-এর একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। ধারাবাহিক এ অনুষ্ঠানের এক একটি পর্বে তুলে ধরা হয় দেশের একটি স্থান। তুলে ধরা হয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন বিবরণ। ব্যাপক দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় রয়েছেন হাসান ইমাম চৌধুরী টিংকু। তার চিত্রনাট্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানটির পর্ব অবলম্বনে সাপ্তাহিক-এর পাঠকদের জন্য এই স্পট ফিচার। এবারে থাকছে
‘মাগুরা’
বাংলালিংক বাংলারপথে অনুষ্ঠানটিতে এই পর্বে তুলে ধরা হয়েছে মাগুরার বিভিন্ন স্থান।
সব স্থান একসঙ্গে উপস্থাপন সম্ভব নয়।
তাই পর্ব ভাগ করে মাগুরার
স্পটগুলোকে তুলে
ধরা হলো...
আরিফুর রহমান

মাগুরার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটি রয়েছে জেলার জিরো পয়েন্ট ভায়নার মোড়ে। স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মুক্তিপাগল মানুষ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিপক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিসংগ্রামে। লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত সে স্মৃতি বড় গর্বের ও বেদনার। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মাগুরার উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। ভায়নার মোড়ের সুউচ্চ স্মৃতিস্তম্ভটি সেই কথাই জানিয়ে দেয়। ১৯৭১-এ মাগুরার চারটি উপজেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা রয়েছে এই স্তম্ভের চার দেয়ালে।
১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে পাকিস্তানি সেনারা ঝিনাইদহ ও যশোর থেকে একযোগে সাঁজোয়া বহর নিয়ে মাগুরায় আসতে থাকে। মাগুরা ঢুকেই তারা শুরু করে হত্যাযজ্ঞ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগসহ নিরীহ নিরস্ত্রদের উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় জুলুম-নির্যাতন। পাকিস্তানি হায়েনাদের সেই নির্মম অত্যাচারের স্মৃতি আজো বয়ে চলেছে মাগুরা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রের পিটিআই চত্বর। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিকামী মানুষ ছাড়াও অনেক নিরীহ বাঙালিকে ধরে এনে এই (পিটিআই) স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা ক্যাম্প বানিয়েছিল। এই ক্যাম্পে রাতভর নির্মম অত্যাচার করে হত্যা করা হতো।
শুধুমাত্র এই পিটিআই-তেই নয়, সরকারি বালক বিদ্যালয় ও বর্তমান উপজেলা ভবনসহ মাগুরা শহরের অন্যান্য স্থানে ক্যাম্প  ও  বাঙ্কার  তৈরি  করে পাকিস্তানি বাহিনী। সে সময় বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের তাণ্ডব রুখে দিতে গঠিত হয়েছিল আকবর বাহিনী, ইয়াকুব বাহিনী, মোহন মিয়ার বাহিনী, খন্দকার আব্দুল মাজেদ বাহিনী, বামপন্থিদের বাহিনী, মুজিব বাহিনীসহ ছোট বড় দলে অনেক মুক্তিবাহিনী। এদের পাশাপাশি ছিল ঈগল কোম্পানি। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গেরিলা আক্রমণে অংশগ্রহণ করত। ওদের ভয়েই ভীত থাকত পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও রাজাকাররা।
শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত স্লুইজগেটও দেখে আসতে পারেন। ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডের গ্যামন কোম্পানি এই স্লুইজগেটটি তৈরি করে। নবগঙ্গা নদীর পানি সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য এই গেটটি তৈরি করা হয়েছিল। মাগুরা আসতে হলে এই গেট পার হয়েই আসতে হবে।
যুদ্ধের সময় বিভিন্ন গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষকে ধরে এনে দড়ি বেঁধে এই ব্রিজ থেকে নদীর ওপর ঝুলিয়ে রাখা হতো। তারপর গুলি করে হত্যা করে ভাসিয়ে দেওয়া হতো এই নবগঙ্গা নদীতে। ১৯৭১ এর ৫ অক্টোবর পবিত্র শবেবরাতের রাতে মাগুরার নারী মুক্তিযোদ্ধা লুতফর নাহার হেলেনকে মোহাম্মদপুরের সুলতানশী গ্রামের এক বাড়ি থেকে রাজাকাররা ধরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। বর্বররা জীবন্ত হেলেনকে জিপের পিছে বেঁধে পুরো শহর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এই গেট থেকে নদীতে ফেলে দেয়।
জেলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে আঠারোখাদা গ্রামে নবগঙ্গা নদীর তীরে রয়েছে সিদ্ধেশ্বরী মঠ। মাগুরা সদরের আঠারোখাদা গ্রামে নবগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে সিদ্ধেশ্বরী মঠ। প্রাচীনকালে এই মঠস্থল কালিকাতলা শ্মশান নামে পরিচিত ছিল। তখন এই শ্মশানের পাশে একটি মঠ এবং সিদ্ধেশ্বরী মাতার মন্ত্রাঙ্কিত শিলাখণ্ড ও কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ণ এই স্থানটি ছিল সন্ন্যাসীদের তপস্যাস্থল। জানা যায় সপ্তদশ শতকে এবং তার আগেও এই সিদ্ধেশ্বরী মঠ থেকে নবগঙ্গা ধরে পুণ্যার্র্থীরা কামাখ্যায় তীর্থে যেতেন। সে সময় থেকেই এই সিদ্ধেশ্বরী মঠটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ পুণ্যস্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। এখনো বিভিন্ন তিথি-পর্বে সাধুÑ সন্ন্যাসীদের সমাগম ঘটে এই সিদ্ধেশ্বরী মঠে, চলে পূজা-অর্চনা।
শহর সংলগ্ন নিজনান্দুয়াল গ্রামে রয়েছে গোপাল দেবের মন্দির। মাগুরা শহরের পাশের নিঝুম এই গ্রামের ভেতর দারুণ কারুকাজ করা এই মন্দিরটির নির্মাণশৈলী দেখার মতো। নলডাঙা স্টেটের রাজাদের একজন আমমোক্তার ১৭৩৩ সালে এই গ্রামের গোপাল দেবের মন্দিরটি তৈরি করেন। মন্দিরটি টেরাকোটার কারুকাজ দেখার মতো। মাগুরার প্রাচীন প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন নিজনান্দুয়াল গ্রামের গোপাল দেবের মন্দির।
বাংলাদেশে ক্রিকেটে ইতিহাসের এমনকি বর্তমান পৃথিবীর ক্রিকেট জগতের এক দুর্দান্ত নাম সাকিব আল হাসান। তার সম্পর্কে বেশি কিছু বলার নেই। শুধু জেনে রাখুন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ এই জেলাতেই জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় ফুটবল দিয়ে শুরু করলেও আস্তেধীরে সাকিব ক্রিকেটেই নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সে আজ শুধু মাগুরারই না সারা বাংলাদেশের অহংকার। ক্রিকেটপাগল বন্ধুরা আপনারা এক ফাঁকে ডু মারতে পারেন। সাকিব আল হাসানের বাড়ি থেকে।

 বাংলালিংক বাংলার পথে প্রচারিত হয় চ্যানেল আইতে প্রতি মঙ্গলবার
রাত ১১টা ৩০ মিনিটে

অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে যে কোনো তথ্য ও মতামত জানাতে
ই-মেইল করুন :
tinkutraveler@gmail.com
Print
©2009. All rights reserved.