Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২৫ ১৪ই অগ্রহায়ন, ১৪২৫ ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
 জলছবি'র বিস্তারিত সংবাদ
পিতা : মুক্তিযুদ্ধের ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র

‘পিতা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নতুন চলচ্চিত্র। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ও মাসুদ আখন্দ পরিচালিত চলচ্চিত্রটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তি পাচ্ছে। ‘পিতা’ চলচ্চিত্রে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন এপ্রিল-মে মাসের কোনো এক সপ্তাহের মাত্র ২ দিনেই ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক নানা কাহিনী সেলুয়েডের ফিতায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কলা-কুশলীগণ। চলচ্চিত্রটির নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন আরিফুর রহমান


ডায়রির পাতায় পিছন ফিরে ৪১ বছর আগের দিনগুলোতে তাকালে ফিরে যেতে হয় সেই একাত্তরে। সেই রক্তঝরা দিন, বিভীষিকাময় রাত। বাঙালির প্রতিটির দিন কেটেছে রক্ত ঝরিয়ে, স্বজন হারিয়ে। এক দুই দিন কিংবা মাসের নয়, দিন থেকে সপ্তাহ হয়ে মাসের পর মাস পেরিয়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধের দিনের ঘটনা মনে হলে যে কারো গা শিউরে ওঠে। নিজ দেশকে পরাধীনতার কবল থেকে মুক্ত করতে প্রাণ দিতে হয়েছে হাজারো বাঙালিকে। সম্ভ্রম হারিয়েছেন হাজারো মা। তাদের সম্ভ্রম আর টকটকে লাল রক্তের বিনিময়েই আমাদের সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য প্রাণ বলিদানের বিনিময়ে মুক্তির স্বাদ আমরা ভোগ করছি।
আমরা এই সময়ে কতটা স্বাধীন হতে পেরেছি, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি তথা কাক্সিক্ষত মুক্তি এসেছে কিনা-এই প্রশ্নগুলো থাকলেও আমরা সেই দিনগুলোর প্রশ্নে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। সব বাধা বিভেদ আর মতাদর্শ ভুলে শ্রদ্ধা জানাতে চাই শহীদদের, তুলে ধরতে চাই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। আর এই ইতিহাস গড়ার পেছনে কাজ করেন আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা। সৃজনশীলতা ও ইতিহাসের অপূর্ব সম্মিলন ঘটিয়ে কালে কালে নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক চলচ্চিত্র। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে অনেক চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়ার কারণে মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়কার ঘটনা আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারছি। নতুন প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছে। সে কারণে কয়েক বছর ধরেই ইমপ্রেস টেলিফিল্ম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহিত করছে। চলচ্চিত্রগুলো সুনামও অর্জন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আসছে ‘পিতা’।
মাসুদ আখন্দ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘পিতা’ বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে বিজয়ের মাসেই। এটিই ২০১২ সালে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যতম চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির কাহিনী পড়ে উঠেছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়কার ঘটনা ঘিরে। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছয়আনি গ্রাম। এই গ্রামের কেউ জানে না ২৬ মার্চের গণহত্যার ঘটনা। কারণ এই গ্রামে কোনো রেডিও নেই, তবু উড়ো খবর শুনে হিন্দুপাড়ায় মাতব্বর নিতাই ঠাকুরের বাড়িতে সভা বসে। অন্যদিকে মিটিং হচ্ছে গ্রামের প্রধান জমাদার সাহেবের বাড়িতে। কোনো অবস্থাতেই পাকিস্তানকে বিভক্ত হতে দিতে রাজি না তিনি।
বিপিন সেদিন রাতেই ইন্ডিয়া রওনা দিতে চায়। কিন্তু তার একরোখা ছেলে শরৎ কোনো অবস্থাতেই পালিয়ে যেতে রাজি নয়। প্রয়োজনে যুদ্ধ করবে। পল্লবী তার রূপবতী স্ত্রী। অন্তঃসত্ত্বা, যে কোনো সময় প্রসব হতে পারে। বিপতœীক জলিলের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তার উপর সংসারে রয়েছে একজন অন্ধ। জলিল বিষু কর্মকারের পালিত সাগরেদ যাকে বিষু সন্তানের মতোই স্নেহ করেন। বিষু আজ অন্ধ। জলিল একমাত্র মুসলমান কামার হিন্দু পাড়াতে। শর্মিলী কিশোরী বিধবা ও নিতাই এর মেয়ে। জলিলের মা-হারা সন্তানদের প্রতি গভীর মমতা তার। কিন্তু তার মা ভালোভাবে দেখেন না এই মমতাকে।
এক ভোরে একটি বুনো শূকর, দলছুট হয়ে ঢুকে পড়ে ছয়আনির এই পাড়াতে। শুরু হয় পিতার মূল গল্প। আরেক ভোরে বুনো শূকরের মতোই পাকিস্তানের হানাদার ঢুকে পড়ে ছয়আনি গ্রামে। সৈন্যবাহিনী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে তছনছ করে দেয় সমস্ত পাড়াটি। নির্বিচারে হত্যা করে সকল হিন্দু পুরুষদের। জঙ্গলে, পানিতে, ডোবায় লুকিয়ে জান বাঁচায় জলিল এবং তার তিন সন্তান। শরৎ অন্তঃসত্ত্বা পল্লবীকে নিয়ে লুকায় গভীর জঙ্গলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পল্লবীর জন্যই তাকে বের হতে হয় জঙ্গল থেকে। ধরা পড়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে। শর্মিলী মুনিয়ার সঙ্গে বারো বছরের কিশোরী লিলাকে ধরে নিয়ে যায় হানাদার সেনারা... হতভম্ব দরিদ্র মানুষের মাঝ থেকে ঝলসে উঠে এক পিতা চরিত্র। শুরু হয় গোলাবারুদের বিপরীতে বাংলার গ্রাম্য অস্ত্র, কাঁচি, বল্লম, দা, টেঁটা, হাতুড়ির যুদ্ধ। গল্পটি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ঘটে যাওয়া দুই দিনের একটি সম্ভাব্য ঘটনা নিয়ে নির্মিত।
‘পিতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মাসুদ আখন্দ, কল্যাণ কোরাইয়া, বন্যা মির্জা, সায়না আমীন, উপমা, শামীমা নাজনীন, মইন দুররানী, রফিকুল ইসলাম, আশরাফ জয়, শুভরাজ, জুয়েল রানা, নিয়াজ মোর্শেদ প্রমুখ। চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। এই চলচ্চিত্রের গান গেয়েছেন সায়ান, শাওন, কণা, পান্থ কানাই, চঞ্চল চৌধুরী, রফিক ইসলাম এবং তূর্য। গান লিখেছেন সায়ান, মাসুদ আখন্দ, রফিকুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সংগ্রহ। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন ইমন সাহা ও এরশাদ ওয়াহিদ।

 

‘পিতা’ চলচ্চিত্রটি দেখে দর্শকের চোখে জল আসবে
মাসুদ আখন্দ
পরিচালক

‘পিতা’ আমার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। আমি সুইডিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে ফিল্মের ডিরেকশনের উপর গ্রাজুয়েশন করেছি। আমার স্ক্রিপ্ট লেখা শেখা শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদ স্যারের কাছে। এই চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লিখি ২০১০ সালে। আমি সৌভাগ্যবান যে, স্যার আমার স্ক্রিপ্ট পড়েছেন এবং কিছু জায়গায় সংশোধন করে দিয়েছেন। স্যার যখন প্রথমবার আমেরিকায় ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য যান সেদিনই আমি চলচ্চিত্রটি শুটিং শুরু করি। স্যার বিদেশ যাবার পরও আমার চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের খোঁজখবর নিয়মিত রাখতেন। আমার প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত হবার কারণ হচ্ছে আমার বাবা ’৭১ সালে পাকিস্তানের সৈনিক ছিলেন। দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন দেশে পালিয়ে আসেন মুক্তিযুদ্ধ করার জন্য। কিন্তু দেশে আসার পর পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে ধরা পড়েন। এরপর দীর্ঘ চার বছর পাকিস্তানে জেল খেটেছেন। সেই চার বছর তার উপর প্রচুর অত্যাচার করা হয়েছে। এরপর বাবা পাকিস্তান জেল থেকে মুক্ত হবার পর দেশে আসেন। দেশে আসার পর কিছুদিন থেকে সুইডেন চলে যান। আমার বাবা ২০১০ সালে মারা যান, বাবা মারা যাবার পর আমি মুক্তিযুদ্ধের উপর স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু করি।  দেশের প্রতি যে দায়বদ্ধতা সেই দায়বদ্ধতা থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহী হই। আমার ফিল্মের পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ সুইডেন থেকে করে এনেছি। আমার চলচ্চিত্রটিতে ডিরেকশন, অভিনয় করা, গান লেখাসহ মোট ১১টি ক্ষেত্রে নিজের কাজের ছাপ রাখার চেষ্টা করেছি। আমি আশা করি ‘পিতা’ চলচ্চিত্রটি দেখে দর্শকের চোখে জল আসবে।

Bookmark and Share পিছনে

Warning: require_once(/home/content/s/h/a/shaptahik/html/v2/comments/c_comments.php) [function.require-once]: failed to open stream: No such file or directory in /home/content/26/13292126/html/v2/main/sup_details.php on line 49

Fatal error: require_once() [function.require]: Failed opening required '/home/content/s/h/a/shaptahik/html/v2/comments/c_comments.php' (include_path='.;C:\Program Files\VertrigoServ\Smarty') in /home/content/26/13292126/html/v2/main/sup_details.php on line 49