Logo
 বর্ষ ২ সংখ্যা ৩৪ ২৪শে পৌষ, ১৪১৬ ০৭ জানুয়ারী, ২০১০ 
আপনি এখন পুরোনো সংখ্যায় আছেন ! তারিখ : ০৭ জানুয়ারী, ২০১০
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
 
iforning
 জলছবি'র বিস্তারিত সংবাদ
‘বিয়েশাদি নিয়ে কোনো চিন্তা করছি না’

বড় বোন থাকেন সিঙ্গাপুরে। সম্প্রতি তিনি মা হয়েছেন। নিজের ক্যারিয়ারে অনেক ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও তাই বোনকে সময় দেবার জন্য ৬ মাস আগে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন মোনালিসা। অভিনয় ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে নিজের মতো করে কিছু সময় কাটিয়ে অনেক ঘুরে ফিরে দেশে ফিরেছেন ২১ ফেব্রুয়ারিতে। দেশে ফিরে জলছবির কাছে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দেশে তার কাজ, লাখো ভক্ত, সর্বোপরি দেশকে তিনি অনেক মিস করেছেন সিঙ্গাপুরে বসে। বলেছেন ব্যক্তিগত অনেক কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল্লাহ্ নূহ
জলছবি : কোথায় ছিলেন এতদিন?
মোনালিসা : সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম। ৬ মাস থেকে এলাম।
জলছবি : হঠাৎ সিঙ্গাপুরে এত সময় কাটালেন যে?
মোনালিসা : আমার বড় বোন মা হয়েছেন। তাকে সময় দেবার জন্য গিয়েছিলাম।
জলছবি : কিন্তু আপনার মতো ব্যস্ত মানুষের ৬ মাস কাজ থেকে দূরে থাকা...
মোনালিসা : এবারের গ্যাপটা একটু বেশি হয়ে গেছে। তবে যাবার আগে অনেক কাজ করে গিয়েছিলাম।
জলছবি : হঠাৎ এতটা সময় কাজ থেকে দূরে থেকে খারাপ লাগেনি এ রকম ব্যস্ততার পর?
মোনালিসা : খারাপ লেগেছে। খুব মিস করতাম সবাইকে। ফিল করতাম আমার কাজগুলোকে। কাজের ক্ষেত্রকে। কিন্তু কি করব পরিবার বলেও তো কথা। কাজের জন্য তো পরিবারকে তো সময় দিতে পারতাম না। এদিকে এমন একটা সুখবর। বোনের জন্য তো কিছু সময় দেয়া দরকার।
জলছবি : দেশে ফিরেই কি কাজ শুরু করে দিয়েছেন?
মোনালিসা : না। দু-একদিন পরে শুরু করব ভাবছি।
জলছবি : শুরু করছেন কি কাজ দিয়ে? নাটক না বিজ্ঞাপন?
মোনালিসা : কথা হয়েছে নাটক, বিজ্ঞাপন দুটোতেই।
জলছবি : বাংলাদেশের সিনেমা তো এখন কিছু কিছু নির্মাতার হাত ধরে সুনাম অর্জন করছে। সিনেমাতে কি কাজ করার কথা বা ইচ্ছা আছে?
মোনালিসা : সিনেমাতে কাজ করার ইচ্ছা আমার আগে থেকেই নেই। আসলে ভালো ভালো কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।
জলছবি : পড়াশোনা কেমন চলছে?
মোনালিসা : আমি তো বিবিএ করছি ইউআইইউতে। এবারে ফোর্থ সেমিস্টারে। কিন্তু এগুতে পারছি না। কারণ, কাজের চাপ। তাই একবার ভাবছিলাম বাইরে থেকে পড়াশোনাটা শেষ করে আসি। কিন্তু কি বলব, আমি আমার কাজটাকে খুব ভালোবাসি। এটাকে বাদ দিয়ে দূর দেশে থাকতে পারব না।
জলছবি : জীবন নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা কি?
মোনালিসা : মানে?
জলছবি : মানে ক্যারিয়ার এবং বিয়ে?
মোনালিসা : ক্যারিয়ার তো অভিনয়। এরপর হতে পারে একটা ভালো চাকরি পেলে চাকরি করব। আর বিয়েশাদি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করছি না। কাজ করব। কাজের মাঝখান দিয়ে যদি কোনোদিন মনে হয় যে, বিয়ে করে সেটেল হওয়া দরকার। সেদিন হয়ত করব। তবে আমার মনে হয় এটা নিয়তির ব্যাপার। বিয়েশাদি তো সৃষ্টিকর্তা ঠিক করে রাখেন।
জলছবি : নিয়তি বিশ্বাস করেন মনে হচ্ছে?
মোনালিসা : নিয়তি তো বিশ্বাস করিই। আল্লাহ্কে ছাড়া তো কোনো কিছুই হবে না। কিন্তু তার পরও এখনকার দিনে আমি মনে করি যে, বিয়েটা জেনে, বুঝে করা উচিত। হঠাৎ করে কাউকে না জেনে, না বুঝে বিয়ে করা উচিত না। এখন সময় অনেক জটিল। যে সময় পড়েছে কেবল বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নয় আমাদের দেশেও অনেক বাধাবিপত্তি দেখতে পাচ্ছি। এখনকার জেনারেশনের মানুষ কমিটেড না। দেখুন কি পরিমাণে ডিভোর্স হচ্ছে। একটা রিলেশন তৈরি করতে হলে দেখে শুনে এগুতে হবে।
কেবল আমার জেনারেশন নয়, আমার বোনের কথা বলি, তারা  তো  আমার  চেয়ে  কিছুটা  হলেও  আগের  সময়ের মানুষ। আমার বোনের যে সার্কেল, বন্ধু-বান্ধব তাদেরকেও দেখছিÑ বুঝে শুনে বিয়ে করেও দু-একদিনে বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। ভয় লাগে, জীবনের ব্যাপার। সবাই বলে যে, বিয়ে কর। কিন্তু বিয়েটা করতে হবে অনেক ভেবে। এ জন্য সময়ের অপেক্ষায় থাকব।
জলছবি : বিয়েশাদিতে তো অনেক ভয় বুঝলাম। কিন্তু ভালোবাসা নিয়ে তো বিশ্বব্যাপী এখন বেশ কদর, বেশ আয়োজন করে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে ভালোবাসা দিবস। এবারে আপনি সিঙ্গাপুরে থেকে ভালোবাসা দিবস কেমন দেখলেন।
মোনালিসা : সিঙ্গাপুরে ভালোবাসা দিবস অনেক মজা করে পালিত হয়। রাস্তায় বেরুলেই জোড়ায় জোড়ায় মানুষ দেখা যায়। তবে ওরা খুব সুন্দর করে ভালোবাসা দিবস সেলিব্রেট করে। গান বাজনা করে, খাওয়া-দাওয়া করে, পার্কে বা রেস্টুরেন্টে বসে আড্ডা দিয়ে ওরা ভালোবাসা দিবস পালন করছে। ভালোবাসা দিবসে ওখানে তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীরা বিভিন্ন পার্ক বা সুন্দর জায়গায় বেড়াতে যায় কিন্তু কোথাও কোনো গ্যাঞ্জাম-হট্টগোল নেই। আমাদের দেশে যেমন কোনো একটা দিবস এলে ভিড়ের কারণে হাঁটা যায় না। তারপর থাকে গ-গোলের আশঙ্কাÑ কখন কোথায় বোমা ফাটে! ওখানে এসব নেই। কোনো ভিড় নেই। কেবল ভালোবাসা দিবস নয় এত সুন্দর, পরিপাটি ভাবে ওরা যে কোনো উৎসব পালন করে যে, তা আমাদের কাছে এখন আশ্চর্যজনক কোনো বিষয়। ওখানে নিয়ম আছে, আইন আছে, তোমরা যতখুশি আনন্দ কর, কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে নয়, কোন সীমা লঙ্ঘন করতে পারবে না। দারুণ শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে হয় সব কিছু। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
জলছবি : তো, এ রকম একটা সুন্দর, শৃঙ্খলার দেশ থেকে এসব দেখে, ঘুরে এসে আবার আগের চেনা সেই ঢাকাকে কেমন লাগছে?
মোনালিসা : সত্য যেটা তা বলা উচিত। সত্যটা লুকিয়ে রাখতে রাখতে কোনো কাজই হচ্ছে না। আমাদের উচিত মন খুলে বলা, কেমন দেখতে চাই আমাদের দেশটাকে, কেমন দেখতে চাই আমাদের শহরটাকে? আমার মনে হয় সবাই যদি একটু আন্তরিক হয়, নিজের ঘর কোনো ভালো মানুষ কি নোংরা করে রাখতে পারে বলুন। আমরা তো নিজেদের খারাপ মানুষ বলতে পারি না। আমরা বাঙালিরা আসলেই খারাপ মানুষ নই, ভালো মানুষ। তাহলে কেন আমাদের দেশটা ভালো হবে না? সবার সহযোগিতা নিয়ে যদি কাজ করা হয় তবে আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে। ঢাকা অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে। আমরা যদি আমাদের সমস্যাগুলো নিজেরাই সমাধান না করি তবে বাইরের কেউ তো আমাদের সমস্যা সমাধান করে দেবেই না বরং এটাই ঠিক যে, তারা আমাদেরকে কেবল খারাপই বলবে। আমাদের মধ্যে সে বোধটা থাকা উচিত।
Bookmark and Share পিছনে
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :
বর্তমান সংথ্যা
পুরানো সংথ্যা
Click to see Archive
 
 
 
Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive