শাহ্রুখ শহীদ : ফ্যাশন ভুবনে এক তারকার অকাল প্রয়াণ
বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক ফ্যাশন সচেতন। আর ফ্যাশনও এখন বাংলাদেশের মানুষের পছন্দ নিয়ে অনেক সচেতনতার সঙ্গে কাজ করছে। বৈশাখ, বসন্ত, ভালোবাসা, শীত, বর্ষার পোশাক কোন কোন রঙে রাঙিয়ে উঠবে তা এখন সাধারণ মানুষের কাছে অনেক পরিচিত। এই রঙের সঙ্গে ঋতুর সম্পর্ক, রঙের মধ্যে ভালোবাসা ইত্যাদি পোশাকে পরিচিত করতে যে ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রথম কাজ শুরু করেছিল তার নাম শাহ্রুখ শহীদ, শাহরুখ্স কালেকশনের কর্ণধর। প্রতিভাবান এই ফ্যাশন ডিজাইনার ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মাত্র ৪৭ বছর বয়স হয়েছিল তার। পারিবারিক সূত্রে জানা যায় রাত সাড়ে নয়টার দিকে ধানম-িস্থ কার্যালয়ে কাজ করতে করতে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনই তাকে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, পরে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মাইকেল ডেভিড তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডিজাইনার শাহরুখ শহীদ বাংলাদেশ টাইমস-এর সম্পাদক শহীদুল হকের ছেলে এবং শাহরুখ শহীদের ভাই শাহরিয়ার শহীদ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সম্পাদক। শাহরুখ শহীদ কেবল একজন ফ্যাশন ডিজাইনারই ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের ফ্যাশন জগতে ব্যতিক্রমী মেধার অধিকারী এবং নতুন নতুন ধারার প্রবর্তক একজন ব্যক্তি ছিলেন। তার ব্যক্তিহীন কর্মকা- সম্পর্কে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দু’জন ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক ও খালিদ খান সাপ্তাহিকের কাছে বলেছেনÑ
এমদাদ হক ডিজাইনার ও কর্ণধর বাংলার মেলা শাহরুখ যদিও সম্পর্কে আমার ভাইয়ের ছেলে। কিন্তু ও আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। এমন কোনো বিষয় ছিল না যা নিয়ে আমরা একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করতাম না। সবার ধারণা ছিল, আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। কিন্তু না। আসলে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করতাম। শাহরুখ দিল্লীর জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেইন্টিংয়ের ওপর পড়াশোনা করে এসে শখের বসে বলা যায় পেশা হিসেবে পোশাককে পছন্দ করে পোশাকের ডিজাইনার হলো। সেখানে তার শিক্ষাটা পেশার ক্ষেত্রে যুক্ত করে একটা নতুন জিনিস নিয়ে এলো। শাহরুখ বহুমুখী প্রতিভা ছিল। নাটক লিখত, গান লিখত। গতরাতে তার অসুস্থ হওয়ার আধাঘণ্টা আগে সে আমাকে ফোন দিয়ে তার একটি নাটক সম্পর্কে বলল, বলল যে, নাটকের মূল চরিত্র বাইজির ভূমিকায় সে সুর্বণাকে চিন্তা করছে। আর একটা গান সে রুনা লায়লাকে দিয়ে গাওয়ার জন্য অনুরোধ করবে। অনেক সমালোচনা হতো ওর কাজের এবং সেগুলো ও খুব এনজয় করত। বলত, আমি চাই আমার কাজের সমালোচনা হোক। না হলে আমি যে কাজ করছি তা যে কাজ হচ্ছে তা বুঝব কি করে, তাকে উন্নত করব কি করে? খুব হাসিখুশি মজার মানুষ ছিল শাহরুখ। সরল কোন কথা বললেও এমন করে বলত যে, সবাই হাসত। আমি আমার খুব কাছের একজন মানুষকে হারিয়ে চরম একাকিত্ব বোধ করছি।
খালেদ খান ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী, কে ক্রাফট শাহরুখ অনেক বড় মনের মানুষ ছিলেন। আমাদের দেশে যারা ফাশন নিয়ে কাজ করে তাদের অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন তিনি। অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করার শক্তি ছিল তার মধ্যে। আমরা এখন আমাদের শাড়ি, কাপড়ে যে অনেক রঙের ব্যবহার দেখি সেই ধারার প্রবর্তক তিনি। ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে তার অনেক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। উনি অনেক হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। বাংলাদেশের ফ্যাশন জগত শাহরুখ শহীদকে হারিয়ে অনেক বড় একজন ডিজাইনারকে হারাল। |