Logo
 বর্ষ ১০ সংখ্যা ৭ ৩০শে আষাঢ, ১৪২৪ ১৯ জুলাই, ২০১৭ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
 জলছবি'র বিস্তারিত সংবাদ
কে সেই বনলতা সেন

অঞ্জন আচার্য

কবি জীবনানন্দ দাশ ১৯৩৩ সালে ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি লিখলেও সে সময় তা প্রকাশিত হয়নি কোথাও। জীবদ্দশায় কবি নিজেও দেখে যেতে পারেননি মুদ্রিত অক্ষরে ছাপা এই কবিতাটি। ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কবির মৃত্যুর পর বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকার পৌষ ১৩৪২ বাংলা সংখ্যায় তা প্রকাশিত হয়। তারপর সবটুকুই কিংবদন্তি। ব্যাপক পাঠক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে কবিতাটি। মুখে মুখে ঘুরে ফিরে এই কবিতার পঙক্তি। সে সময় থেকে আজঅবধি নিজের প্রেমিকাকে বনলতা ভেবে কতশত আবেগ কাজ করে আসছে। সেই সঙ্গে এই রহস্যময় নামটিকে ঘিরে কত জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। কবির মানসপটে আঁকা চিত্রিত বনলতা যেন বাঙালি প্রেমিক পুরুষের কাছে এক প্রেমের প্রতিমা। হাজার বছর ধরে পৃথিবীর বিবিধ অলিগলিতে হাঁটা কবিকে যে মানুষটি দু’দণ্ড শান্তি দিয়েছিল তেমন শান্তির প্রত্যাশায় বুভুক্ষু হয়ে ওঠে সকলের মন। পার্থিব পৃথিবীর সৃষ্টি বনলতা সেন এক স্বপ্নময় অপার্থিব নারী হয়ে ওঠেও ওঠে না; কেননা বাংলাদেশের নাটোর নামক কোনো এক অঞ্চলে এই বনলতার সুনির্দিষ্ট বসবাস। এখনো কেউ কেউ নাটোর অঞ্চলে গেলে বলে ওঠেন বনলতার বাসভূমি, আর মনে মনে খুঁজে ফেরেন কবির কল্পনার মানসীকে। তবে মুহূর্তেই সে ভাবনা উবে যায় যখন চেতনায় কাজ করে সে তো (বনলতা) আর রক্তমাংসের কেউ নয়; নিতান্তই কবির ছন্দের প্রয়োজনে নান্দনিক উপমার অবয়ব মাত্র। এমন ভাবনা-ই এযাবৎকাল ধরে চলে আসছিল। তবে সেই ভাবনার গুড়েবালি দিয়ে সম্প্রতি উদ্ভাসিত হলো এক যুগান্তকারী আবিষ্কার।
বনলতা কোনো কাল্পনিক মানস নয়, বরং একজন বাস্তবিক মানুষ। আর সেই মানুষটি আর কেউ নয়, কবিরই আপন কাকাতো বোন শোভনা দাশ বেবী। এমনটা জোর দাবি যে মানুষটি করেছেন তিনি হলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত জীবনানন্দ গবেষক, জীবনানন্দ রচনাবলীর সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ভূমেন্দ্র গুহ। তিনি কবির ইংরেজিতে লেখা দিনলিপি ‘ খরঃবৎধৎু ঘড়ঃবং’-এ ণ (ওয়াই) চিহ্নিত সাঙ্কেতিক ও রহস্যময় নারীটিকে সম্প্রতি পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর মতে, কবির কাকাতো বোন ‘শোভনা’ই বনলতা সেন। এর আগে সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘বিভাব’ জীবনানন্দ জন্মশতবর্ষ সংখ্যায় (প্রকাশকাল ১৪০৫ বাংলা ১৯৯৮ইং) তিনি আমন্ত্রিত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সম্পাদকীয় নিবেদনের এক পর্যায়ে লিখেন- ‘...এই সংখ্যায় প্রকাশিত জীবনানন্দের খরঃবৎধৎু ঘড়ঃবং নামে লেখা দিনলিপির একটি খাতার মুদ্রিত অংশ লক্ষ্য করলে আন্দাজ করা যাবে যে, কী রকম কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজনের খপ্পরে আমরা পড়ে গিয়েছিলুম। এই দিনলিপি সম্বন্ধে যথাস্থানে আমাদের বক্তব্য   পেশ   করা    হয়েছে।   এই   ছাত্র ব্যবহার্য এক্সারসাইজ খাতাটির সংখ্যা ৫;১ থেকে ৪ সংখ্যক খাতাগুলো প্রথমে উদ্ধার করা যায়নি; আরো তন্ন তন্ন করে খোঁজার পরে সেই খাতাগুলো এবং আরো অনেকগুলো খাতার হদিস পাওয়া গেছে; সেগুলোও হয়ত এরপরে ধীরে ধীরে প্রকাশিত হবে। এই দিনলিপি যে জীবনানন্দ-অনুধাবনে বিশেষ সহায়ক হবে, তাতে সন্দেহ নেই।’
লেখার আরেক পর্যায়ে তিনি বলেন তাঁর (কবির) প্রকাশিত প্রথম গল্পটি ‘গ্রাম ও শহরের গল্প’- পুনর্মুদ্রিত হলো, বিশেষত এই কারণে যে, এই গল্পটি দেবেশ রায়-কৃত ‘জীবনানন্দ সমগ্রে’ অন্তর্ভুক্ত হয়নি, এবং গল্পটির নায়িকার নাম শচী; শচী নামটি ণ সম্বোধিত একটি মহিলার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, যে- ণ, জীবনানন্দের দিনলিপিতে দেখা যাবে যে, তাঁকে কয়েকটা বছর খুবই অনুরক্ত ও বিশ্বস্ত করে রেখেছিলেন। আগস্ট ১৯৩২-এ লেখা সম্পূর্ণ উপন্যাসের না-হারিয়ে যাওয়া ১-নম্বর খাতাটি উদ্ধার হয়েছে। ......এই উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটি সম্বন্ধে একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য এই যে, পাণ্ডুলিপির খাতাটির নামপত্রের পিছনের পৃষ্ঠায় এই কটি কথা লেখা আছে : ঈযধৎধপঃবৎং/অলরঃ ঞধৎধশ ইধ ভববিভূতি/ চঁৎহরসধ: ১ ধপঃৎবংং / ঝধপযর: ণ.১’।
অপরদিকে ১৯৪৪ সালে হীরেন কুমার স্যান্নাল ও সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘কেন লিখি’ নামে একটি সঙ্কলন প্রকাশিত হয়েছিল সেখানে জীবনানন্দ যে লেখাটি লিখেছিলেন তার প্রথম লাইনটি হচ্ছেÑ ‘জীবন ছাড়িয়ে কোনো মানবীয় অভিজ্ঞতা থাকা কি সম্ভব?’ অর্থাৎ সম্ভব নয়। তাই বনলতা সেন যে কেউ একজন ছিলেন তা খুব স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে।
ভূমেন্দ্র গুহের সাম্প্রতিক দাবি, কলকাতার ডিব্র“গড়ে বসবাসকারী জীবনানন্দের কাকা ফরেস্ট অফিসার অতুলান্ত দাশের মেয়ে শোভনাই বনলতা সেন। তাঁর সঙ্গে কবির প্রথম যৌবনেই পরিচয় ঘটে। ১৯৩৩ সাল অর্থাৎ কবির বয়স যখন ৩৪-এর কোঠায় তখন কবি শুধু শোভনাই নয়, আরো ৩ জনের প্রেমে পড়েছিলেন। শোভনাকে কবি ভালোবাসতেন ঠিকই, তবে লোকলজ্জা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার ভয়ে কখনো তাঁকে জীবনসঙ্গী করতে চাননি। শোভনাও তাঁর জেঠাতো ভাই ‘মিলুদা’র (জীবনানন্দ দাশের ডাক নাম) কবিতার খুবই অনুরাগী ছিলেন। তখনকার রক্ষণশীল সমাজের বলয়ে থেকেও অন্দর মহলের অভিভাবকদের কড়া নির্দেশনা উপেক্ষা করে শোভনা তাঁর নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে কবির কবিতা শোনতেন। কবিও তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ শোভনাকে উৎসর্গ করেন। শোভনাকে নিয়ে কবি যে শুধু ‘বনলতা সেন’ কবিতাটিই লিখেছেন তা নয় বরং কবির লেখা উপন্যাস ‘কারুবাসনা’য় অকপটে তিনি শোভনার কথা বলে গেছেন। তাছাড়া বরিশাল ছেড়ে কবি যখন কলকাতা সিটি কলেজে শিক্ষকতা করতে আসেন তখন শোভনা সেখানকার ‘ডায়োসেশান কলেজ’-এ পড়ত। ১৯৩২ সালের আগস্টে লেখা কবির আরেক উপন্যাস ‘কলকাতা ছাড়ছি’র নায়িকা শচীও ডায়োসেশানের ছাত্রী। ‘প্রেম’ নামে কবির যে কবিতাটি আছে, ধারণা করা হয় সেটিও শোভনাকে উপলক্ষ্য করে লেখা।

Bookmark and Share পিছনে

Warning: require_once(/home/content/s/h/a/shaptahik/html/v2/comments/c_comments.php) [function.require-once]: failed to open stream: No such file or directory in /home/content/26/13292126/html/v2/main/sup_details.php on line 49

Fatal error: require_once() [function.require]: Failed opening required '/home/content/s/h/a/shaptahik/html/v2/comments/c_comments.php' (include_path='.;C:\Program Files\VertrigoServ\Smarty') in /home/content/26/13292126/html/v2/main/sup_details.php on line 49