Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২৫ ১৪ই অগ্রহায়ন, ১৪২৫ ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
 জলছবি'র বিস্তারিত সংবাদ
[প্রবন্ধ] ভাষা আন্দোলনের হারিয়ে যাওয়া লিফলেট - মুনতাসীর মামুন

এর মধ্যে রেলওয়ের ধর্মঘট সংক্রান্ত প্রচারপত্রও আছে দুটি। অনুমান করে নিলাম রেলওয়ের নিম্নপদস্থ কোনো কর্মচারীর খাতা এটি। লিফলেটগুলিও তাঁর সংগ্রহে ছিল। হয়ত বয়স হয়ে গেছে, খেয়ালবশত আমার কাছে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। হয়তবা ভেবেছেন তা আমার কাজে লাগতে পারে। আমি লিফলেটগুলি এত যতœ করে রেখেছিলাম যে, ইতোমধ্যে তা আর খুঁজে পাইনি।
কয়েকদিন আগে, পুরনো কাগজপত্র ঘাঁটতে গিয়ে লিফলেটগুলি পেলাম। আসলেই এগুলি অত্যন্ত দু®প্রাপ্য, এর অনেকগুলির খোঁজ গবেষকরা জানেন না, দেখার তো প্রশ্নই আসে না। তাই আমার মনে হয়েছে, এগুলি সংকলন প্রকাশ করা যেতে পারে, হয়তবা গবেষকদের তা কাজেও লাগতে পারে। বিশেষ করে যারা ভাষা আন্দোলনের অঞ্চলভিত্তিক কাজ করবেন। যতœসহকারে এই প্রচারপত্রগুলি রক্ষা করে যিনি আমাকে এগুলি পাঠিয়েছিলেন তাঁকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যিনি আমাকে এগুলি পাঠিয়েছিলেন, হতে পারে তিনি রেলওয়ে ইউনিয়ন ও ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন তাই প্রচারপত্রগুলি তাঁর কাছে ছিল।
প্রথম প্রচারপত্রটি মুসলিম লীগের ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনা সম্পর্কিত সরকারি দলের প্রতিক্রিয়া। বদরুদ্দীন উমর ও বশীর আল হেলাল তাঁদের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত ইতিহাস গ্রন্থে মুসলিম লীগের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
২১শে ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, বর্তমান বাংলা একাডেমী (তৎকালীন বর্ধমান হাউস)তে ক্ষমতাসীন প্রাদেশিক মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হয়। এ বৈঠক সম্পর্কে জানা যায় মোহন মিঞার জবানিতে যা বদরুদ্দীন উমর উদ্ধৃত করেছেন। (তাঁর নেয়া সাক্ষাৎকার) ‘পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতির তৃতীয় খণ্ডে।’ মোহন মিঞা তাঁকে জানিয়েছিলেনÑ “সেই রাত্রেই বর্ধমান হাউসে প্রাদেশিক লীগ ওয়ার্কিং কমিটির একটি emergent মিটিং হলো। এই মিটিং পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিং-এর পর হয়েছিল। মিটিং ২৪ তারিখের ভোর পর্যন্ত চলেছিল। এই সভাতে আমরা গুলি condemn করলাম। Judicial enquiry চাইলাম। অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আমরা সুপারিশ করলাম। এসব খবর সংবাদপত্রেও বের হয়েছিল।”
আসলে মিটিং ২৩ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছিল। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রাদেশিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহেল বাকী। এরপর তারা ‘ঢাকার গোলযোগ সম্পর্কে মুসলিম লীগ’ শিরোনামে চারপাতার একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করেন। এতে ছিল নেতৃবৃন্দের বিবৃতি, মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাব, মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির প্রস্তাব। স্বাক্ষর করেছিলেন আবদুল্লাহেল বাকী, সহ-সভাপতি খাজা হবিবুল্লাহ, সম্পাদক ইউসুফ আলী চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক গিয়াসুদ্দীন পাঠান ও শাহ্ আজিজুর রহমান। বশীর আল হেলাল তাঁর গ্রন্থ ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’-এ দৈনিক আজাদে প্রকাশিত খবর থেকে খানিকটা উদ্ধৃত করেছেন। রতনলাল চক্রবর্তী ‘ভাষা আন্দোলনের দলিলপত্র’-এ লিফলেটটি উদ্ধৃত করেছেন। এখানে তার পুরো বয়ান দেয়া হলো। [নং: ১]
এ প্রচারপত্রে মুসলিম লীগ নেতারা যে মূল বক্তব্য তুলে ধরেছেন। পরবর্তীকালে দেখবো ডানপন্থী দলগুলি প্রতিটি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে এই বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন। এটিকেই ‘পাকিস্তান দর্শন’ নামে অভিহিত করা যায়। এবং আশ্চর্য এখনও ডানপন্থী দলগুলি তাদের বিরোধী যে কোনো আন্দোলনে এই বক্তব্যই প্রচার করে, ভাষা খানিকটা অদলবদল হয় এই আর কি। এর অর্থ, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ‘পাকিস্তান দর্শন’ এই জনগোষ্ঠীর মন থেকে একেবারে মুছে ফেলতে পারেনি। এর কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৩০ বছর ডানপন্থীরা দেশ শাসন করেছে।
ভাষা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ঐ প্রচারপত্রে এই বক্তব্যটিই ঘুরে ফিরে এসেছে। এবং এই বক্তব্যটুকু মোটা হরফে ছাপা হয়েছে। মুসলিম নেতারা বলেছেনÑ
“দুঃখের বিষয়, আমাদের সরলপ্রাণ ছাত্রবৃন্দের এই আন্দোলনকে অবলম্বন করিয়া রাষ্ট্রের দুশমন ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিগণ জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি এবং আইন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিয়া দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করিবার প্রয়াস পাইতেছে। এই আন্দোলন আরম্ভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু সন্ত্রাসবাদী ও কম্যুনিস্টবাদী এবং পাকিস্তানের শত্রুর গুপ্তচর অলক্ষ্যে পাকিস্তানে প্রবেশ করিয়া ভিত্তিহীন, উত্তেজনামূলক, অতিরঞ্জিত প্রচারণা ও গুজব রটাইয়া এবং অজস্র অর্থ ব্যয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করিবার চেষ্টা করিতেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ক্ষমতালোলুপ কতিপয় ব্যক্তি ইহাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করিয়া ইন্ধন যোগাইতেছে।... যে মুসলিম লীগের আপ্রাণ চেষ্টায় এবং ত্যাগের ফলে পাকিস্তান অর্জিত হইয়াছে তাহার মূলোৎপাটন করতঃ কম্যুনিজমের বীজ রোপণ করিয়া পাকিস্তানের ধ্বংস সাধনই আমাদের দুশমনদের মুখ্য উদ্দেশ্য।”
প্রচারপত্রটি সরকারি প্রেস থেকে ৫ লক্ষ কপি ছেপে বিলি করা হয়েছিল।
২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি এবং সিভিল লিবার্টি কো-অর্ডিনেশন কমিটির এক যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কমরুদ্দীন আহমদ, আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও যুগ্ম সম্পাদক মুস্তাক আহমদ (খন্দকার মোশতাক)। এম. এ রহিম, তাজউদ্দীন আহমদ, এস.এম. হক, শামসুদ্দীন আহমদ এম.এল.এ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন আতাউর রহমান খান। বৈঠক শেষে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ-এর পক্ষে তারা একটি প্রচারপত্র বিলি করেন। এর শিরোনাম ছিলÑ‘সংগ্রামী জনতার প্রতি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের আবেদন।’ [নং: ২]
বদরুদ্দীন উমর তাঁর উল্লিখিত গ্রন্থে কর্মপরিষদের মূল বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তথ্যপঞ্জিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রচারপত্রটি তিনি দেখেছেন কিন্তু উদ্ধৃতাংশ দেখে মনে হয় তা  উদ্ধৃত হয়েছে দৈনিক আজাদ থেকে। ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত যে দলিলপত্র তিনি প্রকাশ করেছেন তাতেও এটি নেই। রতনলালের গ্রন্থেও নেই। ২নং এই প্রচারপত্রটির বক্তব্য সবাই উদ্ধৃত করলেও মূল প্রচারপত্রটি বোধহয় এই প্রথম ছাপা হলো। এখানে ৩৯ জন শহীদের উল্লেখ করা হয়েছে। মাহবুব আলম চৌধুরী তাঁর একুশের কবিতায়ও ৪০ জন শহীদের উল্লেখ করেছেন। আসলে ভাষা আন্দোলনে ঠিক কতজন শহীদ ও আহত হয়েছিলেন তার হিসাব জানা যায়নি। এ বিষয়টি গবেষণার অপেক্ষা রাখে।
৩ থেকে ৬নং প্রচারপত্র চারটি বিলি করা হয়েছিল চট্টগ্রামে। দু’টি জেলাপ্রশাসন কর্তৃক, দু’টি সংগ্রাম পরিষদ থেকে।
আগেই উল্লেখ করেছি, ভাষা আন্দোলনের অঞ্চলভিত্তিক ইতিহাস তেমন প্রকাশিত হয়নি। এ ধরনের একটি গবেষণা প্রকল্প অনেকদিন আগেই বাংলা একাডেমির নেয়া উচিত ছিল। চট্টগ্রামের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে শরীফ শারমিন-এর শীর্ণকায় ‘চট্টগ্রামে ভাষা আন্দোলন’ আমার নজরে পড়েছে। সেখানে সামান্য কিছু নতুন তথ্য আছে। তবে যেসব প্রচারপত্রগুলির উল্লেখ করছি সেগুলি একটিও উল্লিখিত হয়নি। এক অর্থে এই চারটি প্রচারপত্রই এই প্রথম সংকলিত হলো।
শরীফ জানাচ্ছেন, ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে ঢাকায় গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচি অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সভা আহ্বান করা হয়। বৈঠকে আন্দোলনের জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়, প্রচারপত্র অনুযায়ী এর নাম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। শরীফের তথ্য অনুযায়ী, এর আহ্বায়ক হন মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী, রেল শ্রমিক নেতা চৌধুরী হারুনুর রশীদ ও চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ আজিজ। কমিটিতে ছিলেন তৎকালীন রাজনৈতিক ও সংস্কৃতি জগতের নেতৃবৃন্দ। তবে, আহ্বায়ক কে ছিলেন এই সম্পর্কে শরীফকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কেউ ঐক্যমত পোষণ করেননি।
৩নং প্রচারপত্রটি প্রচার করেছিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ছাপা হয়েছিল কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেসে। এর শিরোনামÑ‘বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ভাষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকÑ ২১শে ফেব্রুয়ারি পূর্ণ হরতাল পালন করুন।’ এ প্রচারপত্রে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সমস্যাকে তুলে ধরা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়। এটি বিশেষভাবে উল্লেখ্য। প্রচারপত্রের শেষে লেখা হয়েছিলÑ
“এই প্রসঙ্গে বর্তমান সরকারের আরও কয়েকটি অপকীর্তি আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরছি। আপনারা জানেন, এই সরকার চট্টগ্রাম [সৌন্দর্যকরণের] নামে পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, হালিশহর, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ, পটিয়া এলাকা হইতে হাজার হাজার গরিব মানুষের ভিটামাটি কেড়ে নিয়ে [গুণ্ডা] লেলিয়ে দিয়ে সর্বস্বান্ত করেছে এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি ধামাচাপা দিয়ে ঐ সমস্ত জায়গায় বহিরাগত ধনীদের প্রদান করেছে। এই [ছেঁড়া] দেশের জাতীয় প্রধান সম্পদ পাট, চা, তুলা, চামড়া প্রভৃতি বৃটিশ ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়ে, দেশী ছোট ব্যবসায়ীদের মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। এমনি করে আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রেই এই বর্তমান সরকার চূড়ান্ত সংকটের সৃষ্টি করেছে।”
৪নং প্রচারপত্রটিও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের। ঠিকানা ১২২ আন্দরকিল্লা। কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেসে ছাপা। এর শিরোনাম- “রক্তলোলুপ নুরুল আমিন সরকারের মরণকামড় শতাধিক ছাত্রছাত্রী ও জনতার খুনের পরও ব্যাপক ধরপাকড়। ২৮শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ছাত্রদের মিছিল-শোভাযাত্রা ও বিরাট সভা।” এতে যথেষ্ট আবেগী ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং খানিকটা রংও চড়ানো হয়েছে। যেমন, “পিতামাতারা তাদের মৃত সন্তানদের শেষবারের মতো মুখ দেখতে পারেনি। নুরুল আমিন সরকার এই বীর শহীদদের জানাজা ও দাফন করা দূরে থাকুক, গভীর রাত্রে চুরি করে নিয়ে এইসব মৃতদেহকে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে।...স্মৃতিস্তম্ভ বর্বর সরকার মেশিনগানের গুলিতে তাকে বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছে। সুতরাং, এ খুনী জল্লাদদের যতদিন না প্রকাশ্য বিচার হয়, যতদিন না তাদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, যতদিন না তাদের তখত তাউস ভেঙে ছারখার হয়, যতদিন না বাংলাভাষা রাষ্ট্রভাষা হয় ততদিন পাকিস্তানের জনসাধারণ তাদের ক্ষমা করবে না।”
৫নং প্রচারপত্রটি বিলি করেছিল চট্টগ্রাম জেলা কর্তৃপক্ষ। এটি কোথাও কোথাও সামান্য উদ্ধৃত হয়েছে। গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে যে হরতাল হয় তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার করে ‘পূর্ববঙ্গ সরকারের এশতেহারটি’ প্রেরিত হয়। এতে বলা হয়, সব স্বাভাবিক ছিল [যা এখনও হরতালের সময় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে]। তবে, শহরে কোনো কোনো জায়গায় হরতাল পালিত হয়।... ঢাকায় সাম্প্রতিক গোলমালের ষড়যন্ত্রের দ্বারাই এই ভীতি প্রদর্শন চলে।
৬নং প্রচারপত্রটি প্রচার করেন চট্টগ্রামের তৎকালীন জিলা ম্যাজিস্ট্রেট এ মজিদ। জিলা প্রচার বিভাগ কর্তৃক তা প্রকাশিত হয়। প্রচারপত্রটি ১৯৭১ সালের কথা মনে করিয়ে দেয়Ñ যখন অভিভাবকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে। এ মজিদও অভিভাবকদের কঠোর ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন, অভিভাবকদের কর্তব্য ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠানো। তার ভাষায়Ñ যদি অভিভাবকদের সন্তানরা ‘মিষ্টি কথায় কর্ণপাত না করে তবে অবশ্যই তিক্ত ঔষধে রোগমুক্ত করিতে হইবে। স্বয়ং পিতাই এই কাজের জন্য উপযুক্ত লোক। আসুন। আমরা এখন কাজে লাগিয়া যাই এবং আমাদের ছেলেদিগকে পুনরায় স্কুল-কলেজে পাঠাই। আমরা দেখিব যে তাদের শিক্ষা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন স্কুল-কলেজ থেকে বাহির হইয়া না আসে।”
.......
Bookmark and Share পিছনে

Warning: require_once(/home/content/s/h/a/shaptahik/html/v2/comments/c_comments.php) [function.require-once]: failed to open stream: No such file or directory in /home/content/26/13292126/html/v2/main/sup_details.php on line 49

Fatal error: require_once() [function.require]: Failed opening required '/home/content/s/h/a/shaptahik/html/v2/comments/c_comments.php' (include_path='.;C:\Program Files\VertrigoServ\Smarty') in /home/content/26/13292126/html/v2/main/sup_details.php on line 49