Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ৩০ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
বিএনপির আন্দোলন : রিস্টার্ট না হ্যাঙ্?  
৫ জানুয়ারি ২০১৪, বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। নিজ জোটকে নিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করতে চেয়েছে। সহিংসতা আর রাজনৈতিক প্রতিরোধের মধ্যেও নির্বাচন হয়েছে। ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। গঠিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার। এই সরকারকে বিএনপি বলছে ‘অবৈধ’। বিএনপি কথিত ‘অবৈধ’ সরকারকে একটি নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য করার জন্য নতুন আন্দোলনের কথা বলছে বিএনপি। বিএনপির এই আন্দোলনের ডাককে আওয়ামী লীগ বলছে নিছক মিডিয়ায় আওয়াজ তোলা। আন্দোলন রুখতে সরকার ও আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে। এখন কী করবে বিএনপি?
বিএনপির পক্ষে কি আরেকটি আন্দোলন সংঘটিত করা সম্ভব হবে? নিজেদের রাজনৈতিক দুর্বলতাকে কাটিয়ে উঠে একটি গণ-আন্দোলনে যাওয়ার মতো যোগ্যতা কি অর্জন করতে পেরেছে বিএনপি?
শেখ হাসিনার শক্ত ভিতকে কাঁপিয়ে দেবার মতো আন্তর্জাতিক মহলের সুদৃষ্টি কি অর্জন করা সম্ভব বিএনপির পক্ষে?
নাকি পাল্টা আক্রমণে ভিত কেঁপে উঠবে বিএনপিরই?
বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে নেতাকর্মীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ধাবিত হতে পারবে কী বিএনপি?
বেগম জিয়া এবং তারেক জিয়ার দুই ভিন্ন অবস্থান থেকে, ভিন্ন কৌশল কি সমন্বিতভাবে দেখা দেবে নেতাকর্মীদের কাছে?
নাকি অতীতে কৃষক শ্রমিক প্রজা পার্টি, ন্যাপ বা মুসলিম লীগের পরিণতি ধারণ করবে বিএনপি?
বিএনপির রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন শুভ কিবরিয়া    

 বিএনপি তার রাজনৈতিক জীবনে সবচাইতে দীর্ঘ এবং অনিশ্চিত সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। সরকারের অনেক কাজ জনতুষ্টি অর্জন করতে সম্ভবপর হচ্ছে না। সংসদে একটা শক্তিশালী কার্যকর যুৎসই বিরোধী দল নেই। অথচ বিএনপি জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে জনস্বার্থ আদায়ে কার্যকর কোনো কর্মসূচি দিতে পারছে না। বিএনপির জনসমর্থন গোটা দেশে ছড়িয়ে আছে। আছে তৃণমূল বিস্তৃত শুভানুধ্যায়ী-সমর্থক। কিন্তু সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় এনে এই জনসমর্থনকে দলের পক্ষে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে বিএনপি। একটি বড় জোট গঠন করেছে তারা। কিন্তু সমন্বয়হীনতা আর কর্মসূচির অভাবে কার্যকর হচ্ছে না সেই জোট। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এখন অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এই চ্যালেঞ্জগুলো কী, সেটাকে কীভাবে মোকাবেলা করা দরকার, তার জন্য অনুপুঙ্খ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সঠিক কর্মপন্থা এবং কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়া একটা সফল গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা বিএনপির পক্ষে সম্ভব কি সম্ভব নয়, সেই প্রশ্ন উঠছে ব্যাপকভাবে। দেখা যাক চ্যালেঞ্জগুলো কী?

তিনপকেট রাজনীতি
এক. বিএনপির সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ তার তিনপকেট রাজনীতি। বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেছে তখন তার সমস্যা ছিল দুই ক্ষমতাকেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। হাওয়া ভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দুই ক্ষমতাকেন্দ্রের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেনি বিএনপি সরকার। এখন তা দাঁড়িয়েছে তিনপকেটেÑ গুলশানের চেয়ারম্যান কার্যালয়, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং হাওয়া ভবনের কুশীলবদের দ্বারা পরিচালিত একটি পত্রিকা অফিসের কার্যালয়। এই তিন কার্যালয়ের চরিত্র তিন রকম। তিন পকেটই স্থানীয়ভাবে কিছু কিছু মানুষের কুক্ষিগত। এই পকেটগুলো যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা নিজ নিজ খুঁটির জোরে ক্ষমতাশালী। এক পকেটের সঙ্গে অন্য পকেটের কোনো দৃশ্যমান সখ্য নেই। এরা পরস্পরকে ধ্বংস করতে শত্রুপক্ষের সাহায্য নিতেও পিছপা নন। তিন পকেটেই সরকারের সঙ্গে গোপন যোগসাজশ করা লোকজনের অভাব নেই বলে অভিযোগ আছে। ফলে আপামর নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলের নিয়ন্ত্রণকারী একক কোনো কর্তৃত্বের কোনো আস্থাভাজন সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভবপর হচ্ছে না বিএনপির। সরকার এবং তার সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের সাফল্য হচ্ছে, এই তিন পকেটকেই তারা পরস্পরের বৈরী করে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপির নেয়া কোনো পরিকল্পনাই সরকারের অগোচর থাকছে না।
দুই. গুলশানের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের কর্তৃত্ব দলের নেতাদের হাতে নেই। এটা নিয়ন্ত্রণ করেন বেগম জিয়ার পার্সোনাল স্টাফরা। প্রেস উইং এবং আমলা উপদেষ্টারা। এদের সঙ্গে দলের বড় নেতাদের কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই। চেয়ারপার্সনকে ঘিরে থাকেন বলে এরা সবসময়ই খুবই ক্ষমতাশালী। এদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং কূটনীতিক ও সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে প্রকাশ্য এবং গোপন যোগাযোগকেই এরা নিজেদের কর্মকাণ্ড হিসেবে চালিয়ে থাকেন। সেই যোগাযোগও প্রশ্নবিদ্ধ এবং ফলাফলহীন। দলের স্থায়ী কমিটির নেতারাও এদের দাপটে অস্থির। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেগম জিয়ার মাঝে যে অদৃশ্য দেয়াল আছে সেটা যাতে আরও মজবুত থাকে, এদের সার্বক্ষণিক কাজ হচ্ছে সেটাকেই পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া।
তিন. নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা নিয়মিত যান না। সেখানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাঝে মাঝে যান। মূলত সেখান থেকেই প্রেস ব্রিফিং আর মিডিয়ায় উপস্থিতির মাঝে বিএনপির কার্যক্রম সচল থাকে দপ্তর সম্পাদকের মাধ্যমে। একটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমের জন্য যে অবকাঠামো, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং কার্যক্রমের ব্যাপকতা দরকার তার কোনো সুসমন্বিত ব্যবস্থা এখানে নেই। চেয়ারম্যানের গুলশানের কার্যালয়ের সঙ্গে এই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কোনো সমন্বয় নেই। বেগম জিয়া কালেভদ্রে এখানে আসেন। ফলে, দৃশ্যত এটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় হলেও মূলত দলের একটি প্রেস সেন্টার হিসেবেই এটি সার্ভিস দিয়ে থাকে।
চার. দলের অপর শক্তিশালী অংশটি তারেক রহমানের নিকটজন হিসেবে একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে ঘাঁটি গেড়েছে। হাওয়া ভবনের কুশীলবরাই এটির নিয়ন্ত্রক। এক সময় হাওয়া ভবনে যারা দাপ্তরিক কাজ করতেন, তারেক জিয়ার ফাইফরমাশ খাটতেন, তারাই ‘ভাইয়া’র নিকটজন বলে দাবি তুলে একটি নতুন বিএনপি-দোকান খুলেছেন। গুলশান কার্যালয়ের শক্তিমানরা এই অংশটিকে ঘাঁটান না। নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা এদের এড়িয়ে চলেন। তবে, তারেক জিয়ার আশীর্বাদপুষ্ট বলে দাবিদার এই অংশটিকে দলের শক্তিমান নেতারা অপছন্দ করলেও তারেক জিয়ার বিরাগভাজন হবার ভয়ে কেউ তাদের সরাসরি ঘাঁটাতে চান না।
দলের অভ্যন্তরীণ এই বিশৃঙ্খলাকে একটি সমন্বিত নীতি ও কার্যকর সূত্রে গাঁথতে পারছে না বিএনপি। তিন গ্রুপের বলয়ভুক্ত নেতারা বরং পরস্পরকে সন্দেহ ও অবিশ্বাস করছেন। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা এক অর্থে তাই মিডিয়ায় দেয়া প্রেস ব্রিফিং ছাড়া কোনো কার্যকর নির্দেশনা পান না দল থেকে।

সঙ্কটে ঢাকা মহানগর বিএনপি
৫ জানুয়ারি ২০১৪ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি এবং তার জোট যে আন্দোলন এবং সহিংসতা তৈরি করেছিল, তা সাফল্য পায়নি ঢাকা মহানগরে বিএনপির ব্যর্থতায়। এটিই বিএনপির নীতিনির্ধারক, তৃণমূল নেতাকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের বিশ্লেষণ। ফলে ঢাকা মহানগর কমিটি কার্যকর করা ছিল বিএনপির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা মহানগর বিএনপির দুই বড় পক্ষ সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাস গ্রুপের দৃশ্যমান বিরোধ লুকোচাপা থাকেনি। তার প্রভাব পড়েছে বিএনপির রাজনীতিতেও। হালে এই কমিটি গঠিত হয়েছে মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক এবং সাবেক ছাত্রনেতা হাবিব-উন-নবী সোহেলকে সদস্যসচিব করে। মির্জা আব্বাস এই কমিটিতে খুশি নন। পরে খোদ বিএনপি নেত্রীর হস্তক্ষেপে এই কমিটি একত্রে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। ঢাকা মহানগর কমিটির এই অসুখ খুব শিগগির কাটছে না। কেননাÑ
এক. মির্জা আব্বাস দলের আপামর নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা নন। সুশীল সমাজ এবং মিডিয়ার কাছেও তার দৃশ্যমান গ্রহণযোগ্যতা নেই। অতীতে বিএনপি যখন ক্ষমতায় থেকেছে মির্জা আব্বাস মন্ত্রী ছিলেন। একসময় ঢাকার মেয়রও থেকেছেন। কিন্তু দলের একটা উগ্র, জঙ্গি, মারমুখী অংশের নেতৃত্ব দেয়া ছাড়া তার জনমুখী কোনো ভাবমূর্তি গড়ে ওঠেনি। বরং সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধপক্ষ বলেই তার পরিচিতি বেড়ে ওঠে। গত এক দশকে বিভিন্ন সময় বিএনপির  কর্মসূচিতে তার সক্রিয় কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং সরকারের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে বিপদ বাঁচিয়েছেন বলে অভিযোগ যেসব নেতার বিরুদ্ধে মির্জা আব্বাস সেই তালিকার বাইরে নন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে দৃষ্টিভঙ্গি, ধৈর্য, ইনক্লুসিভনেস, সবাইকে নিয়ে কাজ করার যোগ্যতা প্রয়োজন, তা মির্জা আব্বাসের মধ্যে অতীতে কখনোই দেখা যায়নি। বর্তমানেও তা সুস্পষ্ট নয়। বরং বিএনপির মধ্যে কথিত দক্ষিণপন্থি, উগ্রবাদী, জঙ্গি মনোভাবাপন্ন অংশের নেতা হিসেবেই লোকে তাকে চেনেন।
দুই. বিএনপি ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্যসচিব হাবিব-উন-নবী সোহেল রাজনীতিতে অনেক জুনিয়র এবং ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন। ফলে তার পক্ষে মির্জা আব্বাসকে ডিঙিয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও তাকে সদস্যসচিব করার পেছনে মির্জা আব্বাসবিরোধী বিএনপির শক্তিশালী অংশটির সমর্থন রয়েছে। রয়েছে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, সাদেক হোসেন খোকাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটা বিরাট অংশের দৃশ্যমান ও মৌন সমর্থন। কিন্তু একটা বিপদাপন্ন দলকে চাঙ্গা করে, সরকার ও নিজদলের শক্তিমান প্রতিপক্ষকে ডিঙিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য যে ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক ভার প্রয়োজন, সেই অভিজ্ঞতা তার নেই। আবার দলের চেয়ারপার্সন এবং তারেক জিয়ার আশীর্বাদ কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যে তিনি ব্যবহার করতে পারবেন, তার ওপর নির্ভর করছে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করার দৃশ্যমান চেষ্টাটি।
তিন. বিএনপির ঢাকা মহানগর রাজনীতিতে বেশ ক’জন কুশীলব আছেন যাদের বড় কোনো জনসমর্থন নেই, লোকবল-অর্থবল নেই; কিন্তু আছে প্যাঁচ খেলার যোগ্যতা। বড় আয়োজনকে বিপদাপন্ন করে দেয়ার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র এই ক্ষমতার অধিকারী। এরকম আরেকজন নেতা হচ্ছেন বরকতউল্লা বুলু। এদের সমঝে চলেন সবাই। মির্জা আব্বাস এবং হাবিব-উন-নবী সোহেল দুজনের জন্য এই গুটিচালা নেতারা এক বড় চ্যালেঞ্জ।
চার. ঢাকা মহানগর বিএনপির শক্তি নির্ভর করে ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটিগুলোর ওপর। এখানে নির্বাচিত ওয়ার্ড কমিশনার, দলের পক্ষে নির্বাচিত এমপি এবং এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাÑ এই তিন গ্রুপের সমন্বয় করাটা খুব জটিল একটি সাংগঠনিক কাজ। মির্জা আব্বাস-সোহেল কমিটি এই চ্যালেঞ্জকে কতটা যোগ্যতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারে, দেখার বিষয় সেটাই।
ঢাকা মহানগর বিএনপি আন্দোলনে সফল হতে পারেনি যেসব কারণে তার অন্যতম ছিল রাজনীতিতে প্রয়োজনে যে ঝুঁকি নিতে হয় দলের মধ্যে সেই প্রবণতা দেখা যায়নি। প্রয়োজনে রাজপথে সরকারের হামলা-মামলা-গুলি-নিপীড়নের মুখে যে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়তে হয়, বিএনপির ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা সেই সাহস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোট আন্দোলনে যে প্রাণপাত বিপদকে মাথায় নিয়ে মাঠে নেমেছিল, ঢাকায় তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ঢাকা মহানগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব সেটা কতটুকু পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সমন্বয়হীনতা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
বিএনপির রাজনীতির এক সঙ্কটকালে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মহাসচিবের ভারপ্রাপ্ত অবস্থান এখনও কাটেনি। কথাটা ঘুরিয়ে অন্যভাবে বলা যায়, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে পূর্ণ মহাসচিব করার আস্থা এখনও পাননি। এটি দলের জন্য একটি বড় দুর্বলতা। বিএনপি যখন বিরোধী দল হিসেবে সংসদে থেকেছে তখন যেমন একজন বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচন করতে পারেনি, এত বছর পরেও একজন পূর্ণ মহাসচিব নির্বাচন করতে পারেনি। ফলে, দলের বিভিন্ন বৈরী, শত্রুভাবাপন্ন, আত্মঘাতী, দলের জন্য প্রাণপাত করা, সুবিধা পাওয়া কিংবা সুবিধাবঞ্চিত যেসব অংশ নানা পথে ক্রিয়াশীল, তাদের মধ্যে কোনো সুসমন্বয় গড়ে ওঠেনি। বিএনপিতে সিনিয়র এবং জুনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমন্বয়হীনতা খুবই প্রকটভাবে দৃশ্যমান। দলের মধ্যে যারা নেতৃত্ব দিতে চান তাদের মাথায় রাখতে হয় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করার কথা, অন্যদিকে তারেক জিয়ার পছন্দ-অপছন্দের কথাও। কেননা, তারেক জিয়ার অপছন্দের তালিকায় পড়লে, বিএনপির রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা অনুমেয়। ফলে, তারেকপ্রীতি বা তারেকভীতি এবং বেগম জিয়ার সুনজর বা কুনজর দুটোকেই মাথায় রাখতে হয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। এক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সাহস, নীতিবোধ, রাজনৈতিক যোগ্যতা, অতীত অভিজ্ঞতা যে খুব প্রীতিকর অবস্থানে এসেছে, তা বলা যায় না। বরং একটা সুশীল ইমেজ নিয়ে অনেক নিঃসঙ্গ সারথির মতো দলের মহাসচিবের ‘ভারপ্রাপ্ত’ ভার বহন করে চলেছেন তিনি।
যার ফলে, বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের মধ্যে একজন মহাসচিবের যে কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা দৃশ্যমান হওয়া দরকার, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তা অর্জন করতে সক্ষম হননি। তার ব্যক্তিত্ব, সততা, সুশীল ইমেজই হয়ত দলের ভেতরের কুটিল-জটিল প্রতিপক্ষকে তার কাছ থেকে আরও দূরে ঠেলেছে। দলের মহাসচিব হিসেবে একক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেখিয়ে দলকে, জোটকে সক্রিয় করার মতো ক্ষিপ্রতা তার পক্ষে দেখানো সম্ভবপর হয়নি। কখনো কখনো দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নয় বরং দলের মুখপাত্র হিসেবেই তার ভূমিকা সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এই শঙ্কা খুবই জটিল। অচিরে তা কাটানো না গেলে, দল হিসেবে বিএনপির ভেতর-বাইরে কোনো ঐক্যবদ্ধ চেহারা দেয়া খুব সহজ কাজ হবে না।

তারেক জিয়া : ভরসা না বিপদ
বেগম জিয়ার বয়স বাড়ছে। দল এক দারুণতর বিপদের মুখে। শেখ হাসিনার শক্ত শাসন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানামুখীন জটিল সমীকরণ বিএনপির রাজনীতিকে আরও কঠিন করে দিয়েছে। বিএনপির রাজনীতিতে যারা নতুন মুখ তারা ভরসা করে আছেন তারেক জিয়ার ওপর। তারেক জিয়ার মাথার ওপরে ঝুলছে নানা অপবাদ ও মামলার খড়গ। লন্ডনে বসে তারেক জিয়াও রাজনীতিতে সক্রিয়। দলের নেতাদের জুনিয়র-সিনিয়র অংশের অনেকেই খোদ লন্ডনে গিয়ে তার সুদৃষ্টি কামনা করছেন। লন্ডনে বসেই তারেক জিয়া নানারকম বক্তব্য দিচ্ছেন। নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিন্তু তাতে বিএনপির বিপদ কি কাটছে?
এক. তারেক জিয়া লন্ডনে বসে যে রাজনীতি করছেন তাতে খুব সুস্পষ্ট তিনি এখনও হাওয়া ভবনের ঘোর কাটাতে পারেননি। এখনও তার সঙ্গ ছাড়েনি আশিক, অপু, নূরউদ্দীন, রুম্মন, বেলায়েত নামের হাওয়া ভবনের সেইসব বিতর্কিত কুশীলবরা। সম্প্রতি লন্ডন থেকে মালয়েশিয়া এলে তাকে রিসিভ করেন তার এসব ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের একজন। পরে সেই কর্মকর্তাই দেশে এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করে এখন জেলখানায়, সরকারি হেফাজতে।
বৈরী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রবাসে নির্বাসন, নির্জনে পরিবারের সঙ্গ, চিকিৎসাÑ এসব অবকাশ তারেক জিয়াকে হাওয়া ভবনের ইমেজ থেকে বাইরে আনবে বলে যে পরিবর্তিত তারেক জিয়ার কথা ভাবছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা, তার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনও দৃশ্যমান নয়।
দুই. দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তারেক জিয়ার সুস্পষ্ট সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। লন্ডনে বসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে যেসব রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন তাতে তার নবতর পরিপক্বতার কোনো লক্ষণ বিএনপির নেতাকর্মীরা দেখতে পাননি। ইতোমধ্যে সৌদি আরবে যেসব নেতার সঙ্গে তার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, তারাও তার সম্পর্কে কোনো নতুন আশাবাদ দিতে পারেননি।
তিন. আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন ঘটছে। সেসব ক্ষেত্রে তারেক জিয়ার কোনো সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে, এরকম কোনো দৃশ্যমান ইঙ্গিত সুস্পষ্ট নয়। দেশে তার প্রতি বিরূপ মিডিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ তিনি নিতে পারেননি।
চার. অনেকের মতে, তারেক জিয়া এখন জামায়াতের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং জঙ্গি অংশটির প্রতি সহানুভূতিশীল। জামায়াত কৌশলে তারেক জিয়াকে ব্যবহার করছে বলেও দলের ভেতরে এবং বাহিরে গুঞ্জন আছে।
পাঁচ. তারেক জিয়ার ওপর একাধিক মামলা ঝুলছে। তারেক জিয়া যে বিএনপির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি এটা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই বলেই, সরকার তাকে চাপে রাখতে মরিয়া। তার ব্যাপারে সরকারের হাইকমান্ড অত্যন্ত কঠোর।
এরকম বিপত্তি ও বিপদ মাথায় নিয়েই তারেক জিয়াকে চলতে হচ্ছে। দলের মূলধারার নেতাকর্মী এমনকি বেগম জিয়ার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন, প্রবাস জীবনযাপনকারী তারেক জিয়ার জন্য রাজনীতি তাই আগের চেয়েও কঠিন হয়ে গেছে। আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নানামুখী রাজনীতির চাপ মোকাবেলা করে বিএনপিকে ভবিষ্যৎমুখীন জনস্বার্থের রাজনীতির দিকে চালিত করা খুব সহজ কাজ নয়। এই কঠিন, বিপদসঙ্কুল এবং অসাধ্য কাজটি সঠিকভাবে সাহসের সঙ্গে করতে না পারলে তারেক জিয়া দলের জন্য ভরসা না হয়ে অধিকতর বিপদের কারণও হয়ে উঠতে পারেন। বিএনপির জন্য এটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রসঙ্গ জামায়াত ও জোট রাজনীতি
বিএনপির ভবিষ্যতের আন্দোলন ও রাজনীতির জন্য জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গটি খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে জামায়াত যেভাবে সক্রিয় ছিল, ভবিষ্যতে সেভাবে সক্রিয় থাকবে কিনা, তা নির্ভর করছে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর।
এক. জামায়াতের বিশ্লেষণ হচ্ছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে দেশব্যাপী যে আন্দোলন হয়েছিল তা সফলতা পায়নি বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে। ১৮ বা ১৯ দলীয় জোটকে নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার জন্য যে সমন্বয়ময়ী, কৌশলী, দক্ষ, নির্দেশনা দিতে সক্ষম নেতৃত্ব প্রয়োজন ছিল, বিএনপির হাইকমান্ড সেটা পারেনি। ফলে, জামায়াতের রক্তক্ষয় যতটা হয়েছে বিএনপি তার সুফল ততটা ঘরে আনতে পারেনি। ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো আত্মত্যাগী রাজনীতির দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেনি। তারা মাঠে নামেনি। কিংবা নেতারা কর্মীদের মাঠে নামাতে পারেননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণের মুখে যে জনঢাল তৈরি করার দরকার ছিল বিএনপি তা করতে পারেনি।
দুই. ভবিষ্যতে আন্দোলনের প্রশ্নে বিএনপিকে এই দুর্বলতা কাটাতে হবে বলে জামায়াতের দাবি। জামায়াত প্রশ্নে বিএনপির মধ্যে সুস্পষ্ট দুটি ধারা বিদ্যমান। একদল জামায়াতকে সঙ্গী করে, জামায়াতের দুর্নাম মাথায় নিয়েই সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামতে চায়। অন্য ধারাটি জামায়াত প্রশ্নে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতি অবলম্বন করতে চায়। যখন দরকার তখন জামায়াতকে টানো। প্রয়োজনে দূরে রাখোÑ এই হচ্ছে তাদের চিন্তা।
তিন. জামায়াত সরকারের সঙ্গে ভেতরে ভেতরে আপস করছে। নানাভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর বিলম্বিত করতে সক্ষম হচ্ছে- এ রকম বিশ্বাস বিএনপির হাইকমান্ডের একাংশের।
ফলে জামায়াত-বিএনপি টানাপড়েন চলছে। সরকার এটিকে খুব সাফল্যের সঙ্গে জিইয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতে আন্দোলনে জামায়াতের দাবি তাই পাল্টেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে কঠোরভাবে, নিবিষ্টমনে কর্মসূচি পালন করলেই জামায়াত তাদের কর্মীদের মাঠে নামাবে। নচেৎ তারাও বিএনপির সঙ্গে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতিতে জোট রাজনীতির পাল্টা কৌশল ছাড়বে। আন্দোলনের মাঠে জামায়াতকে পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া বিএনপির জন্য এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে।

অর্থবল ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক প্রভাব যে এতটা প্রকট হয়ে উঠবে, সেটা ঠাওর করতে ব্যর্থ হয় বিএনপির হাইকমান্ড। ফলে, ভারত প্রশ্নে কোনো সঠিক অবস্থানে আসতে পারেনি বিএনপি। যে কারণে বাংলাদেশ সফররত ভারতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বেগম জিয়া নির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করেন রাজনৈতিক অপরিণামদর্শিতায়। ভারতের সঙ্গে সেই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে মরিয়া এখন বিএনপি। কিন্তু, সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের চাইতে সুবিধালোভী, অনির্ভরযোগ্য, রাজনৈতিক কমিটমেন্টবিহীন আমলাচক্রই বিএনপি রাজনীতিতে এগিয়ে থেকেছে। ফলে, বিএনপি সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের কৌশল বিশ্লেষণ করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সমর্থ হয়নি। এখনো সে সঙ্কট চলছে। বিএনপির রাজনীতির জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় রাজনৈতিক অর্থায়নের ক্ষমতা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে বিএনপির। একটি সফল আন্দোলন পরিচালনা করতে দেশের ভেতরে ও বাইরে যে আর্থিক সোর্স সক্রিয় থাকা দরকার, তা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বিএনপির জন্য। এটিও বিএনপির  রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

বিএনপি এখন কী করবে?
রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনকে সংগঠিত করা ছাড়া বিএনপির সামনে এখন কোনো খোলা সহজ পথ নেই। কিন্তু একটি শক্তিশালী আন্দোলন করতে হলে চাই সাহসী নেতৃত্ব। চাই যে কোনো আত্মত্যাগ স্বীকারের দ্বিধাহীন চিত্ত। চাই দলের ভেতরে সুসমন্বয়। জোটের ভেতরে আস্থা অর্জন। চাই লোকবল এবং অর্থবলের সুনিশ্চিত জোগান। চাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যারা প্রভাবক তাদের সুদৃষ্টি এবং শক্তিমান আস্থা অর্জন। আগামী দিনে বিএনপির রাজনৈতিক অস্তিত্ব সুদৃঢ় হবে, না ভঙ্গুর হবে, তা নির্ভর করছে বিরাজমান পরিস্থিতিকে বিএনপি নেতৃত্ব কীভাবে ব্যবহার করছে তার ওপর।
এক. সরকার মুখে যতই বাগাড়ম্বর করুক তার নিজের আস্থাহীনতার সঙ্কট আছে। সরকার যে সন্ত্রস্ত তা বোঝা যায় তার সর্বগ্রাসী আক্রমণাত্মক চরিত্রের ওপর। সে আইন করে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা দলের সংসদ সদস্যদের হাতে ফেরত দিতে চায়। সে চায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরঙ্কুশ তুষ্টি। দলের রাজনীতির চেয়ে সামরিক-বেসামরিক সংগঠনগুলোর প্রতিই তার নির্ভরতা বেশি। এখনও সরকার আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি ভারতের নিরঙ্কুশ আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়নি।  তাই সর্বক্ষণ অদেখা জুজুর ভয় তাকে তাড়া করছে। ফলে, গাছের পাতা নড়ে উঠলেই সে ঝড়ের কথা ভাবছে।
দুই. জনআস্থা অর্জনে সরকার নির্ভার নয়। ফলে জনব্যালটে তার ভরসা নেই। গায়ের জোরের নির্বাচনই তার ভরসা। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন তার প্রমাণ। যে কোনো সঙ্কট এলেই সে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ আবিষ্কার করে পশ্চিমি ‘ওয়ার অন টেরর’ প্রকল্পের সুবিধা নিতে চায়। এটাও সরকারের ভীষণতর দুর্বলতার প্রমাণ।
তিন. দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনসুনাম অর্জন করতে পারেনি। নির্বাহী ক্ষমতায় কোনো সমস্যার জনআস্থাভাজন সুরাহা দেখাতে পারেনি সরকার। বরং সর্বক্ষেত্রেই একটা ভয়ঙ্কর আত্মম্ভরী, ডেমকেয়ার, জনগণকে উপেক্ষা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের প্রবণতা সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কাজ ও কথায় সুস্পষ্ট। সংসদ একটি একক পার্টির চেহারায় অভিষিক্ত। অন্যদিকে সরকার এবং আওয়ামী লীগ ক্রমশ একব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রবণতার দিকে ধাবমান।
চার. বিরাজমান এসব পরিস্থিতিতে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায়ের সক্ষমতা অর্জনের জন্য জন-আন্দোলনের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি অপেক্ষমাণ। বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সেই সুযোগ গ্রহণ করা। বিএনপি যদি দ্বিধাচিত্তে, আপস ও লড়াই এ ফর্মুলায় এগুতে থাকে, তবে অচিরেই সরকার অধিকতর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। মামলা, জেল, নিপীড়ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড অধিকতর সবল হয়ে উঠবে। সরকার চাইবে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে সমূলে উৎপাটিত করতে। বিএনপির চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
পাঁচ. বিএনপির জন্মলগ্নের পর এটিই হচ্ছে তার রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বড় বৈরী পরিস্থিতি। এবং সঙ্কটকালীন সময়। সঙ্কট এবং বৈরিতা, সব সময় অধিকতর সৃষ্টিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এক অর্থে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার এটা একটা সুযোগও বটে।
সম্পদ আঁকড়ে ঘরে বসে থেকে মিডিয়ায় গর্জন করে জনগণকে ডাকলে, কাক-পক্ষীও মাঠে নামবে না। বিএনপির প্রথম সারির নেতাকর্মীদের মাঠে নেমে প্রমাণ করতে হবে দলের স্বার্থে তারা যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এই ত্যাগী এবং সর্বস্ব দেবার প্রবণতা না থাকলে, বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলন পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ নেই।
ছয়. এরকম বিপদাপন্ন পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপি নেত্রী আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন। এই ডাক কখনো কখনো কম্পিউটার রিস্টার্টের মতো শোনাচ্ছে। কখনো মনে হচ্ছে কম্পিউটার হ্যাঙ্ হলে যে দশা হয়, বিএনপির অবস্থাও সেরকম। এরকম দ্বিধাময়, সমন্বয়হীন, মিডিয়ায় আওয়াজ তোলা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি কতদূর সামনে এগুতে পারে, দেখার বিষয় সেটাই।
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
  • পাকিস্তানি গোয়েন্দার চোখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -শুভ কিবরিয়া
  • যেভাবে বইটি রচিত হলো -শেখ হাসিনা
  • কোন খণ্ডে কি আছে
  • শ্রমিক আন্দোলন : মজুরি বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়! -আনিস রায়হান
  •  মতামত সমূহ
    Author : Prof. Ahsan Habib
    First thing BNP needs to do is to come clean to public and put forward a simple clean plan. They must apologize to the people for their past roles. Create a new pro people philosophy. In that philosophy some simple points like SIX POINT OF BAL, should spelt out and sold to public. They should swear to enact each of those commitments. These should include free election under CTG, independent ACC, independent judiciary, term limits, democracy within the party.
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive