Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ৩০ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
[ক্রোড়পত্র] অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ  

সাপ্তাহিক-এর উদ্যোগে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ শনিবার সকাল ১০টায় ধানমণ্ডির বিলিয়া অডিটরিয়ামে ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল আলোচনায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা।
আলোচনার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন সাপ্তাহিক-এর নির্বাহী সম্পাদক শুভ কিবরিয়া। গোলটেবিল আলোচনার
সারসংক্ষেপ নিয়ে প্রকাশিত হলো ক্রোড়পত্রটি

সূচনা বক্তব্য
আজকের আলোচনায় যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের সবাইকে স্বাগত। সম্প্রতি হলমার্কের কেলেঙ্কারির পর অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। শুধু এই একটি ঘটনা নয়, শেয়ারবাজার-ডেসটিনির মতো আরো কিছু বিষয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অর্থনীতির অস্থিরতা নিয়ে। আজকের আলোচনা থেকে এই অস্থিরতার নেপথ্যের কারণ কি এই প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করব। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অনেকেই সরাসরি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, হলমার্কের মতো ঘটনা যতটা অর্থনৈতিক তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। এমডি থেকে পরিচালক, ঋণ পাওয়ার জন্য উপদেষ্টার তদবিরÑ সব কিছুই হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। এখানে অর্থনৈতিক পদ্ধতি নিয়ে হয়ত কোনো বিতর্ক নেই। কাজটি যে শত ভাগ অন্যায় হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা একমত। অর্থনীতির ভাষায় কাজটি অনৈতিক সে ব্যাপারেও দ্বিমত নেই। ঋণ দেয়ার পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া নিয়ে যদি বিতর্ক থাকত তাহলে হয়ত বিষয়টি পুরোপুরি অর্থনৈতিক হতো। বিষয়টির সঙ্গে যা যা অন্যায়, অপকর্ম বা বেআইনি হয়েছে তার পুরোটাই রাজনৈতিক। এই জন্যই আইনজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ এবং প্রশাসনে থেকে যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আজকের এ গোলটেবিল বৈঠকে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আজকের এই আলোচনা থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় বেরিয়ে আসবে। আজকের এই আলোচনা ক্ষমতাসীন মহল গুরুত্ব দেবেন এটি আশা করতে পারি, তবে বিশ্বাস করতে পারি না। তারা না শুনলেও মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের জনগণ কিছু তথ্য পাবে বা জানতে পারবে যা পরবর্তী সময়ে একটি দল বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে যদি কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারি তবেই আজকের আলোচনার সার্থকতা বলে মনে করি।

আলোচনার প্রস্তাবনা
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন, এই প্রসঙ্গে আসলেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে বেশ বড় কটি অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে, ঈদ পর্বটি দেশবাসী ভালোভাবেই উদযাপন করেছে। কিন্তু তারপরও মানুষের মনে স্বস্তির পরিস্থিতি নেই। সুশাসনের নিশ্চয়তা সে পাচ্ছে না। কেন? কেননা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নানান রকম ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। সুশাসনের অনুপস্থিতিতে অনেক বড় বড় অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের সম্পৃক্ততার খবর আসছে। রাজনৈতিক প্রভাবে প্রশাসনিক বিচ্যুতির এই সুযোগ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নানান ঝুঁকির সম্ভাবনা তৈরি করছে। সেই সম্ভাবনা রাজনীতিকে দুর্ভাবনায় ফেলে দিতে পারে বলে জনমনে অস্বস্তি, আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এমনকি সরকারি দলের এক সাংসদের প্রশ্নের উত্তরে ৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীও বলছেন, ‘দেশে সুনীতির ঘাটতি আছে। এর কারণ তিনটি। এগুলো হলো : জনপ্রশাসনে দক্ষতার অভাব, মাঝেমধ্যেই দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম। সুশাসন ও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগুলো দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত ও শক্তিশালী প্রয়াস প্রয়োজন।’
সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য বিবেচনায় নিয়েই আমরা দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিতে চাই।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি
 হলমার্ককৃত সোনালী ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি।
 শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও বিচারহীনতা।
 পদ্মা সেতু নির্মাণ ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ: দুর্নীতির ষড়যন্ত্র।
 ডেসটিনির আর্থিক দুর্নীতি।
 বিদ্যুৎ খাতে  টেন্ডারবিহীন রেন্টাল কুইক রেন্টালের বিস্তৃতি।

কেন ঘটছে এসব
 সুশাসনের অনুপস্থিতি।
 ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি।
 প্রশাসনের সর্বত্র রাজনীতিকীকরণ।
 দূরদৃষ্টির অভাব।
 রাজনীতি-প্রশাসন মিলে অর্থনৈতিক সিন্ডিকেটের উপস্থিতি।
 দুর্নীতির বিচারহীনতা।
 দুর্নীতির পক্ষে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা।

উত্তরণের পথ
 এসব আর্থিক দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা।
 প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা।
 অপরাধীদের ন্যায়সঙ্গত সাজা দান।
 প্রশাসনকে রাজনীতি মুক্ত করা।

বিঘিœত জনস্বার্থ
দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্যে, রাজনৈতিক প্রভাবে সুশাসনের অনুপস্থিতি প্রকট হয়ে উঠছে। ফলে সর্বত্র জনস্বার্থ বিঘিœত হবার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
রাষ্ট্রের ওপর জনগণের নির্ভরতার যে জায়গা তা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
জনস্বার্থ নিশ্চিত করার স্বার্থে কার্যরত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিকতা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে। ফলে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে।
 
সুপারিশ
 ডেসটিনি, হলমার্ক- সোনালী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্তের জন্য একটি সর্বজনগ্রাহ্য নাগরিকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠন।
 এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবার ন্যায়ানুগ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।
 প্রয়োজনে বিশেষ আদালত গঠন করে এসব বিচার কাজ শুরু করা।
 দুর্নীতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্ষমতা দান।
 প্রশাসনের সর্বত্র রাজনীতিমুক্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ
শুভ কিবরিয়া আলোচনার শুরুতে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করার পাশাপাশি কিছু সুপারিশও করেছেন। তদন্ত কমিশন গঠন, বিচার এবং শাস্তির কথা উল্লেখ করলেন। আমি তার এই সুপারিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। একইভাবে বিচার বা শাস্তির ব্যবস্থা নিয়ে তিনি যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার সঙ্গেও আমি একমত পোষণ করছি। এগুলোর কোনোটিই যে হবে না তা সবারই জানা।
অনেকেই আলোচনা করতে গিয়ে বলছেন, শেয়ারবাজার বা সোনালী ব্যাংকের দুর্নীতি অদক্ষতার বিষয়। আমি মনে করি, আজকে লুণ্ঠন, অর্থ পাচার বা আত্মসাতের যে ঘটনা ঘটছে তা হঠাৎ কোনো বিষয় নয়। হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীরের দুর্নীতির বিষয়টি আমি অনেক চিন্তা করে দেখেছি, এখানে অদক্ষতা কোনো বিষয় নয়। বরং বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে কাজটি করা হয়েছে। যেহেতু বিশেষ ধরনের দক্ষতার মধ্য দিয়েই এই দুর্নীতি সংঘটিত করার কাজ ঘটেছে এবং বিশেষ ধরনের যোগাযোগ, পরস্পর সমঝোতা ও আয়োজন ছিল, সুতরাং এখানে বিচার বা শাস্তির কোনো সুযোগ নেই। যথাযথ তদন্ত হবে বলেও মনে করা ঠিক হবে না।
ক্ষমতাবান অংশ তথা সরকার যদি ধরে নেয় যে সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের মতো এই তদন্ত সঠিকভাবে করা যাবে না, অপরাধীদের বিচার করা যাবে না তাহলে এটি শুধু সুপারিশের মধ্যেই থেকে যাবে।
তা না হলে হলমার্কের ঘটনায় অনেক কিছু বেরিয়ে আসার পরেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না কেন? অনেকের নামই উঠে এসেছে। কোথায়, কীভাবে, কারা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবই এখন জানা। অনেক নিরীহ মানুষকে ধরে ধরে রিমান্ডে নেয়া হয়। অথচ এখানে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো না। এই দুর্নীতি তদন্তে সরকার যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে তাতে কেবল অপরাধীদের রক্ষা করাই হবে। সরকার এমনভাবে সুযোগ করে দিচ্ছে যাতে করে অপরাধীদের কাগজপত্র ঠিকঠাক হয়ে যায় এবং এর সঙ্গে আরো যারা জড়িত তারা যেন হাওয়া হয়ে যেতে পারে। এরকম যদি চলতে থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে এই সঙ্কটগুলোর সমাধান হবে তা আশা করার কোনো কারণ নেই।
আসলে বাংলাদেশে যে ধরনের ধনিক শ্রেণী দেখি, তারা রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন একাকার করে ফেলেছে। এই প্রক্রিয়া থেকেই এদের বেড়ে ওঠা।
আমরা যদি ঘরে অর্থ সঞ্চয় করি এবং সেই অর্থ যদি কেউ চুরি করে তাহলে তাকে আমরা চোর বলি। আবার সেই অর্থ যদি কেউ অস্ত্র ঠেকিয়ে নেয় তাহলে তাকে আমরা ডাকাত বলি। যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে তারা তো চোর-ডাকাতের চাইতেও বেশি ভয়ানক। তবে এখানে আরো একটি বিষয় যোগ হয়েছে তা হচ্ছে, ডাকাতির সঙ্গে জালিয়াতি। অর্থাৎ গরিবের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে ডাকাতি করে লুট করা যায়।
অনেকে আবার হলমার্কের ঘটনার পর পরামর্শ দিচ্ছেন যে, রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে দিয়ে দেয়া হোক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যাংক কিনবে কারা? কিনবে তো তানভীরের মতো লোকেরাই। যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। সাধারণ মানুষ তো কিনতে পারবে না। তাহলে সমাধান কী হলো? গত তিন চার দশক ধরে এইসব হয়ে আসছে।
আমি ১৯৮২ কি ১৯৮৩ সালে একটি লেখা লিখেছলাম যার শিরোনাম ছিল ‘কোটিপতি মেড ইন বাংলাদেশ’। তখন বাংলাদেশে কোটিপতি হওয়া শুরু হয়েছে। তখন তাদের প্রধান অবলম্বনই ছিল খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণ করতে করতে তারা কোটিপতি হন এবং বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে টাকা বাইরে পাচার করতে থাকেন। আশির দশকের মাঝামাঝিতে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে, টাকা পাচার করার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সমতা আসে।
একটি বিষয় লক্ষণীয়, ৭০ লাখ লোক বাইরে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। আবার দেশের ভিতরে ৭০ লাখ লোক পরিশ্রম করে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করে। দেশের বাইরে এবং ভিতরে প্রায় দেড় কোটি লোকের পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে এই ৩০ বিলিয়ন ডলার। দেড় কোটি মানুষের উপার্জিত অর্থ মাত্র কয়েক হাজার মানুষ লুট করে পাচার করছে। তারপর লুটেরা লুটকৃত অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় কনভার্ট করে বিদেশে পাচার করছে। এটিই হচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। দেশের পাঁচ কোটি মানুষের উপার্জিত অর্থ মাত্র পাঁচ হাজার মানুষের পকেটে ঢুকছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মধ্যে যে সমন্বয় হয় তা আমরা শেয়ারাবাজারের দুর্নীতির সময় দেখলাম। সালমান এফ রহমান দেশের বিশাল একজন মানুষ। যার বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় আছে। শেয়ারবাজারের কারসাজির সঙ্গে তার নামও শোনা গেল। কিন্তু তার কিছুই হলো না। পক্ষান্তরে তাকেই বাজারের দায়িত্ব দেয়া হলো। এমনকি তাকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ খাতের উপদেষ্টা করে পুরস্কৃত করা হলো।
আমরা দেখলাম, অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার নিয়ে সকাল বিকাল স্ববিরোধী মন্তব্য করা শুরু করলেন। তিনি প্রতিটি ঘটনা কথার ফানুস দিয়ে ধামাচাপা দিতে বেশ অভ্যস্ত। মহিউদ্দিন খান আলমগীর মন্ত্রী হলেন। মন্ত্রী হওয়ার আগে ব্যাংকের অনুমোদন পেলেন। চারশ কোটি টাকা মূলধন দেখিয়ে একটি ব্যাংকের অনুমোদন পেতে হয়। ওই সময় এই টাকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকলেও সরকার সায় দিয়ে গেলেন।
আজকে অর্থ উপদেষ্টাকে নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগের মধ্যে এক প্রকার তাৎপর্য খুঁজে পাই। অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বিশ্বব্যাংকের পছন্দসই ব্যক্তি হলেন। তিনি ট্রানজিট নিয়েও নানা উপদেশ শোনালেন। এখন পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগে তাকেও সরে যেতে হচ্ছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলছেন, চুক্তি না করেও আমরা তিস্তায় অনেক পানি পাচ্ছি। ড. মশিউর রহমান অস্বচ্ছভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি দেখলাম, তাকে সভাপতি করা হয়েছে এমন একটি কমিটির, যে কমিটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত জমি উদ্ধার করবে। এই উদ্ধারকৃত জমি মশিউর রহমানের নেতৃত্বে সরকারের পছন্দের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই বণ্টন করা হবে।
এরকম আরেকজন হলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বিদ্যুতে বিপ্লব এনেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু আমরা দেখছি, বিদ্যুতের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। সরকার বলছে, বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু রমজান মাসে বিশেষ ব্যবস্থায় উৎপাদন করে জনরোষ থেকে রেহাই পেয়েছে বলে আমরা জানি। এখন সেই আগের অবস্থাই বিরাজ করছে। লোডশেডিং নিয়ে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই। সরকার আছে কিভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যায়।
আমি মনে করি দুর্নীতি হচ্ছে ছোট একটি বিষয়। এটি হচ্ছে সরকারগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার ফলাফল। আমরা কয়েক দশকের চিত্রে দেখতে পাই, সরকারগুলো দুর্নীতি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময় থেকে দুর্নীতির বহুগামিতার শুরু। এখন এর মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। দেশের ভিতরের সম্পদ লুণ্ঠন করে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে আত্মসমর্পণ করতে কোনো রকম দ্বিধা বা সঙ্কোচ করছে না সরকার।
জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রথমেই তারা জনগণের মাথায় বাড়ি দেয়। জনগণের সঞ্চয়, সম্পদ লুট করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সুতরাং মূল সমস্যাটা হচ্ছে নেতাদের দুর্নীতিমুুখী নীতি। যে নীতির কারণেই বাংলাদেশে দখলদারিত্ব বেড়ে যাচ্ছে। সরকার এই দখলবাজদেরই প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এই প্রতিনিধিত্ব কত স্বচ্ছভাবে করতে পারে তারই প্রতিযোগিতা চলে এখন। দুর্নীতি হচ্ছে এই প্রতিযোগিতার ক্ষুদ্র প্রয়াস।

ফারাহ্ কবির
আজকে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের ভাষা প্রকাশ করতে পারছে না। অথচ দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানই বেশি। তারা বুঝতে পারছেন না যে, দেশে কী ঘটছে। হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে কেলেঙ্কারি। অথচ সাধারণ মানুষকে তার অতি প্রয়োজনে ঋণ দেয়া হয় না। যদিও কিছুটা দেয়া হয় সেখানে নানা শর্তের বেড়াজালে বেঁধে ফেলা হয়। একজন নারী ৫০ হাজার টাকার বেশি ঋণ প্রত্যাশা করতে পারে না। অথচ নানা কৌশলে একজন পুরুষকে শত শত কোটি টাকার ঋণ দেয়া হচ্ছে।
আমি সমাজের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে নিয়ে কাজ করি। খুব কাছে থেকে তাদের দুঃখদুর্দশা দেখার সুযোগ হয়। আমি দেখেছি, দক্ষিণ অঞ্চলের একজন সাধারণ কৃষক লোনা পানির কাছে কীভাবে অসহায়। তার জমিতে কখন লোনা পানি আর কখন মিষ্টি পানি লাগবে তা তার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। অথচ মাত্র ১৫ লাখ টাকায় একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করতে পারলে কয়েকজন কৃষক লোনা পানি থেকে তার ফসল রক্ষা করতে পারে। মাত্র ১৫ হাজার টাকায় একটি নৌকা তৈরি করতে পারলে একটি পরিবার মাছ ধরে জীবন চালাতে পারে। কথাগুলো আমাকে অতি সহজ ভাষায় বলতে হচ্ছে। এসব জায়গায় ঋণ দিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শত অজুহাত। সাধারণ মানুষের এই অসহাত্বের সুযোগ নিয়ে সমাজপতিরা দিনের পর দিন শোষণ করেই যাচ্ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার হাত আরো শক্তিশালী হচ্ছে।
আমরা দেখলাম, একজন কৃষককে দশ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দেয়ার ঘোষণা দিল সরকার। কিন্তু এই হিসাব খোলা নিয়ে কৃষকের সঙ্গে প্রহসন করা হলো মাত্র। কারণ, আমাদের নিয়মতান্ত্রিকতায় এ ধরনের বিষয়াদি হাস্যকরই হয় বটে। আমি দেখেছি, দশ টাকার হিসাব খুলতে গিয়ে একজন মানুষকে দুইশ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। তাদের জন্য কোনো সহজ ম্যাকানিজম নেই। কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকা উত্তোলন অতি সহজ হয়ে যাচ্ছে।
আজকে আরো একটি প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে তা হলো, রাষ্ট্র বা সরকার পরষ্পরায় যাদের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে তারা কি আদৌ সেই সহযোগিতার প্রাপ্য। নাকি বিশেষ অনুগত হওয়ার কারণেই তাদের বেলায় সরকার নমনীয়। আমরা শুনে থাকি, বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে ১৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণের অনুমোদন দিয়ে থাকে। কিন্তু আসলে কি সেই ঋণ কোনো ক্ষুদ্র কৃষক শ্রেণীর কাছে পৌঁছায়? নাকি মাঝখানে হারিয়ে যায়। এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নেই। দীর্ঘদিনেও এগুলোর জবাব পাওয়া যায় না। যেখানে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায় সেখানে একজন কৃষক মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা ঋণ পায় না।
একটি বিলাসবহুল গাড়ি বা বাড়ি কেনার জন্য অতি সহজেই এবং কম সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কৃষকের ঋণের বেলায় অধিক সুদের পাশাপাশি নানা শর্ত জুড়ে দেয়া হচ্ছে। এগুলো খুবই পরস্পরবিরোধী বৈষম্যমূলক আচরণ। আজ বলা হচ্ছে, খাদ্য উৎপাদন তিন গুণ বেড়েছে। অথচ এই উৎপাদন বৃদ্ধি একজন কৃষকের শ্রমনিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণেই। কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
এখন ভাবনার বিষয় হচ্ছে, এই অবস্থা থেকে বের হওয়া যায় কীভাবে। সবাই হয়ত বলবেন, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করা। আমি সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে দাবি রাখতে চাই এই ঘটনাগুলোর জন্য একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন গঠন করে তদন্ত চালানো দরকার। দরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা।

বদিউর রহমান
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। যে যে সেক্টরে কাজ করে সে ওই সেক্টরের ব্যাপারে জানার বা বোঝার চেষ্টা করে থাকেন। একজন মুচি মানুষের পায়ের দিকে তাকাবে এটাই স্বাভাবিক। জনস্বার্থ শব্দটি শুনলে চাকরি জীবনের কথা মনে পড়ে। চাকরির ক্ষেত্রে সব অর্ডারই জনস্বার্থ বলে বিবেচিত। কেউ বিয়ে করে বউয়ের কাছে থাকার জন্য চাকরির বদলির আবেদন করলে তাও জনস্বার্থ বলে মঞ্জুর করা হয়, আবার কেউ ঘুষ খাওয়ার কারণে বদলি হলে তাও জনস্বার্থ। জনস্বার্থ বলতে এখন যার যার স্বার্থকেই বুঝায়।
আগে আমরা বলতাম, টাকা পাকিস্তানের পাঞ্জাবে চলে যাচ্ছে। এখন তো টাকা পাঞ্জাবে যাবে না। যাবে বিদেশের ফান্ডে। কোনো প্রভাবশালী যদি দুর্নীতি করে এবং ক্ষমতাসীন সরকার যদি মনে করে যে, কিছু করা যাবে না তাহলে কিছু করাই যাবে না বটে। এটিই পরিষ্কার কথা।
ষাটের দশকে আমরা একজন লাখপতির উপরে রচনা লিখতাম। এখন লাখপতি কোটিপতি কিছুই না। যেমন, আমাদের অর্থমন্ত্রীর কাছে চার হাজার কোটি টাকা কিছুই না। আমি একটি বিষয় বার বার চিন্তা করছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে আমাদের যোগাযোগামন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি রেলের এক কর্মচারীকে গালে থাপ্পড় মেরেছেন। এখন আমার ভয় হয়, কোনো সাহসী ব্যক্তি যদি মন্ত্রীর গালে পাল্টা থাপ্পড় মারেন, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে! এই ছোট ছোট বিষয়গুলো এক করে দেখলে দেশের অপশাসন বা রাজনৈতিক অবক্ষয় কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তার নমুনা পাওয়া যায়।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। আমি প্রতি মাসে গ্রামে অন্তত একবার যাই। তুলনামূলকভাবে মানুষ সচ্ছল। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে আছে ওই পরিবারগুলো। কিন্তু বেকার বা কাজের লোকেরা কাজ পায় না, কৃষক ফসল ফলাতে পারছে না সেদিকে কোনো নজর নেই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, আখের গোছানোই এখন রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মূল লক্ষ্য।
রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকার সুবাদে প্রশাসনিক দুর্নীতি কাছ থেকে দেখার আমার সৌভাগ্য হয়েছে। একই কারণে মানুষের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধও অনেক কমেছে। আমি যেসব মানুষকে পূজনীয় ভাবতাম, আদর্শ ভাবতাম বা পত্রিকায় যাদের বক্তব্য পেলে গুরুত্ব দিয়ে পড়তাম তারাই যখন আমার কাছে এসে নিজেদের আসল চেহারা প্রকাশ করতেন তখন অবাক হতাম। এই পূজনীয় ব্যক্তিরাই ব্যাগে করে বা স্যুটকেস হাতে আমার মতো লোকের কানে কানে বলতেন, চেয়ারম্যান সাহেব মায়ের মৃত্যুর পর দেখি তার কোরান শরীফের ঝিলমের (কাভারের) ভিতর এই সামান্য কয়টি টাকা রেখে গেছেন। আপনি যদি দয়া করে পার করে দিতেন। খুব খারাপ লাগত। তার সম্মানের দিকে তাকিয়ে এবং দুই চার লাখ টাকা ভেবে পার করার জন্য রাজস্ব বোর্ডের সদস্যদের বলতাম। পরে সদস্যদের কাছ থেকে জানতে পারি, ওই স্যুটকেসে কয়েক কোটি টাকা ছিল। আমরা দেখি, একজন ডাক্তার বা আইনজীবী মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। কিন্তু ট্যাক্স ফাইলে তার নাম খুব সুবিধাজনক অবস্থায় দেখি না। জিজ্ঞেস করলে বলেন, অন্যের চাইতে তো বেশি দেই। এটি তো কোনো সমাধান হতে পারে না।
আমাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কিছু ব্যক্তির তালিকা ধরিয়ে দেয়া হয়। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার পর ওই ব্যক্তিদের ওপর শ্রদ্ধা কমতে থাকে। আপনি রাষ্ট্রপতি হবেন, মন্ত্রী হবেন আবার টাকা ধরা পড়লে বলবেন খাবেন কি? কিন্তু তাদের তো কাউকে টাকার অভাবে না খেয়ে মরতে দেখলাম না।
আমি দেখেছি, তুলনামূলকভাবে গরিবরাই কর বেশি দেয়। একজন স্ত্রীকে তার স্বামীর পকেট মেরে আত্মসম্মানের ভয়ে কর দিতে ব্যস্ত হতে দেখেছি। কিন্তু যারা বোঝেন, বড় জ্ঞানী তারা সারা জীবন ফাঁকির মধ্যেই থাকেন। তারা জানেন দুদক বলি আর জবাবদিহিতার জন্য ট্রুথ কমিশনই বলি পার পেয়েই যাবেন। তাদের আটকানোর ক্ষমতা কারো নেই। কারণ, যারা ক্ষমতায় থাকেন তারাই এই শ্রেণীকে রক্ষা করেন। যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমতাবানরা এদের রক্ষা করবেন, রাজনৈতিকভাবে শক্তি জোগাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে বলে বা চিৎকার করে কোনো লাভ হবে না। এই ক্ষমতাবানদের ওপর মানুষের আস্থা চরমভাবে কমে গেছে।
হলমার্কের ঘটনায় একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গিয়ে বললাম, এর সঙ্গে জালিয়াতি শব্দটি আসল। কিন্তু এখনও কাউকে ফৌজদারি মামলায় আটক করা হলো না কেন? আটক করে রিমান্ডে নেয়া হলো না কেন? সরকার কেন সকাল বিকাল একেক কথা বলছে? বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে। আমি তো এরকম হাজারো বিভাগীয় মামলা দেখে এসেছি। কিছুই তো হতে দেখিনি। বিভাগীয় সিদ্ধান্ত তো উপরের কারো নির্দেশেই নেয়া হয়। এখন কোনো সিদ্ধান্তের নোটিশে তো ওই উপরওয়ালার ফোন নম্বর দেয়া থাকে না। উপরওয়ালার নাম ঠিকানা বা ফোন নম্বর না থাকার কারণেই হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় রাঘববোয়ালদের ব্যাপারে বিভাগীয় সিদ্ধান্তে কিছু হবে না। ফাঁসবেন ব্যাংকের কতিপয় ছোট কর্মকর্তা-কর্মচারী। মোদ্দা কথা হচ্ছে, প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণেই সুযোগগুলো তৈরি হচ্ছে।
আমার চাকরির সুবাদে তিনজন রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। একবার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের সঙ্গে মিটিংয়ে বস্ত্রমন্ত্রী মুনসুর আলী সাহেব ২ মাসের হিসাব দিয়ে বললেন, পাটশিল্পে ২০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তখন সচিব ক্যালকুলেটর টিপে টিপে জিয়াউর রহমান সাহেবকে বললেন, স্যার শূন্য একটি বেশি হয়েছে। কেরানী হয়ত লিখতে ভুল করেছে। তখন জিয়াউর রহমান সাহেব ফাইল ছুড়ে দিয়ে বললেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে মিটিংয়ে আহ্বান করা হোক। এখন কিন্তু এরকম ঘটনা আপনি দেখতে পাবেন না। আমলাদের দক্ষতার উপরে যদি মন্ত্রীদের দক্ষতা না থাকে তাহলে আমলারা মন্ত্রীদের ঘুরাবে।
এখন লেখাপড়া না জানা একজন ব্যবসায়ী টাকার গরজে এমপি হয়েছেন, এমপি থেকে মন্ত্রী হয়েছেন তিনি কী করে আমলাদের ব্যবহার করবেন? তারা শুধু নিজেদের মধ্যে টাকার ভাগবাটোয়ারাটাই ভালো বুঝবেন। আমি এখন তাই পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি। মন খারাপ করে কোনো লাভ নেই।
যতক্ষণ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিরা জনস্বার্থ বিষয়টি না বুঝে শুধু নিজেদের স্বার্থকেই বুঝবেন ততক্ষণ পর্যন্ত জনস্বার্থ শব্দটি শুধু কাগজেকলমেই থাকবে। এর চাইতে বেশি কিছু হবে না।
এই জন্য যেখানে যে সিদ্ধান্ত দরকার, তাৎক্ষণিকভাবে তাই নিতে হবে, ভাগবাটোয়ারার পরিবর্তে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। একজন নিরীহ লিমনের পা পঙ্গু করার বেলায় আইন যদি অন্য রকম হয় তাহলে হলমার্ক, ডেসটিনি বা শেয়ারবাজারের দুর্নীতি রোধেও আইন উল্টিয়ে ব্যবস্থা নিলে জনগণের বাহ্বা পাওয়া যায়।    

মামুন রশীদ
আশির দশকের অর্থনীতির যে ধারণা ছিল এখন কিন্তু সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। তাত্ত্বিক বিষয়ের চাইতে এখন মানুষ প্রায়োগিক বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন কিছু মানুষ উদ্যমী হয়ে টাকা বানাচ্ছে। এই টাকাটা বাজেট পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষ তথা যারা পিছিয়ে আছে তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার চিন্তা করা হয়। এই কারণে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আজকে আমেরিকার অর্থনীতির যে নীতি সেখানেও পরিবর্তন এসেছে। সব জায়গায় দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আজ বাজার অর্থনীতির জন্য মিডিয়া এবং সুশীল সমাজ ব্যাপকভাবে ভূমিকা পালন করছে। এই জন্যই বলা হচ্ছে, উদ্যমী জনগোষ্ঠীই শিল্পপতি হবে, তারাই টাকা বানাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আজকে রাষ্ট্র এবং সরকারের মধ্যে মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে। যেই সরকার কারো বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে, অমনি সেখানে রাষ্ট্রও তার নিষ্ঠুর প্রতিচ্ছবি নিয়ে লেগে যাচ্ছে। ইতিহাস প্রমাণ করেছে সরকার নয়, কারো বিরুদ্ধে রাষ্ট্র অবস্থান নিলে তার পক্ষে বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। রাষ্ট্রের সেই নিষ্ঠুর মুখচ্ছবি সরকারের ওপর ভর করছে।
আমরা সরকারগুলোর অবস্থান থেকে দেখতে পাই ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে তারা ক্ষমতায় আসে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তারা সেই সমর্থন হারিয়ে ফেলে। তখন তাকে নিজ পার্টির ওপর নির্ভর করতে হয়। পার্টির অফিসগুলোই তখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। জনগণকে বাদ রেখে সরকারপ্রধান তখন পার্টিকেই অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তখন আবার পার্টি এবং সরকার একাকার হয়ে যায়।
শুভ কিবরিয়া তার প্রস্তাবনায়, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। আমিও তার কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলছি, প্রশাসনের সর্বত্র রাজনীতিকীকরণের কারণেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চেইন অব কমান্ড ভেঙে যাচ্ছে। চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া কোনোভাইে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সেটা অর্থনীতির মুক্তির লড়াই হোক আর গণতন্ত্রের লড়াই হোক। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে নয় শক্তির উৎস অন্য কোনো প্রাণভোমরায় রয়েছে। নিয়ম ভাঙ্গার কারণেই এই দুর্নীতির বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। অর্থনৈতিক বিপ্লব আমরা আর দেখতে পাব কিনা জানি না। তবে ব্যাংকিং খাতে যেসব দেশ এগিয়ে গেছে তাদের উদাহরণ নিয়ে উন্নয়ন করা যেতে পারে। দাতাগোষ্ঠীরা অনেক আগে থেকেই চেষ্টা করেছেন ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নের জন্য। সকলেরই প্রত্যাশা ছিল সৎ, দক্ষ এবং ভবিষ্যৎমুখী ব্যাংকিং খাত কীভাবে তৈরি করা যায় তার বন্দোবস্ত করা।
আজকে আমরা যখন দেখতে পাচ্ছি, স্বাক্ষর যাচাই না করে এবং এলসির কমিশন না নিয়ে হলমার্ক এলসি খুলেছিল। এটি জবাবদিহি না থাকার কারণেই সম্ভব হয়েছে। জবাবদিহিতা থাকলে কোনোভাবেই এই দুর্নীতি হতে পারত না। রাজনীতির জবাবদিহিতা নেই বলেই সর্বত্র এমন হচ্ছে। আজকে পাকিস্তান একটি প্রায় অকার্যকর রাষ্ট্র। কিন্তু তারা ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে অনেক দূর এগিয়েছে। ভারতের স্টেট ব্যাংক অতি দক্ষ ব্যাংক নামে খ্যাতি পেয়েছে। জবাবদিহিতার কারণেই তাদের এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। আজ গণচীনের ব্যাংক ব্যবস্থা বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে। সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছেও ব্যাংক মালিকানা ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে দিয়ে দিলে, ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আমি আরো মনে করছি, অর্থনৈতিক সক্ষমতার জন্য দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামো পরিবর্তন করা দরকার। সর্বোপরি বলব, সরকারের নিয়ন্ত্রণ রেখেই বেসরকারি খাতকে আরো উৎসাহিত করা যেতে পারে।

এবিএম মূসা
আমার মনে হয়, আজকের গোলটেবিল আলোচনার জন্য যে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা করা হয়েছে তার শিরোনামটি ভুল আছে। ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ’ বাক্যটির পরিবর্তে হওয়া উচিত ছিল, ‘অর্থনৈতিক দুর্নীতি এবং স্বার্থবানদের স্বার্থ’। তবেই আজকে আলোচনা সার্থকতা পেত।
আনু মুহাম্মদ সাহেব দক্ষতার কথা বললেন। আমি মনে করি, চুরি করতেও বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। প্রবাদ আছে ‘চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড় ধরা’। আজকে দক্ষতার অভাবে বেচারারা ধরা পড়ে গেছে বিধায় আমরা সমালোচনা করার সুযোগ পেয়েছি। দক্ষতার সঙ্গে চুরির কাজটি করতে পারলে কিন্তু সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। আমাদের আর কথা বলতে হতো না।
আমি সোজা কথায় বিশ্বাস করি। কিভাবে টাকা লুট হয়েছে সেটা বড় কথা নয়, চুরি হয়েছে এবং হচ্ছে সেটাই বড় কথা। সিঁদ কেটে বা গ্রিল কেটে চুরি হতে  দেখেছি কিন্তু এখন চুরির জন্য দারোয়ান নিজেই দরজা খুলে দিচ্ছে। সরকারের কাছে জনগণের সম্পদ আমানত হিসেবে রয়েছে কিন্তু সরকার নিজেই সুযোগ তৈরি করে দেয়ার পাশাপাশি এই সম্পদ চুরিতেও শরিক হচ্ছে।
আজকের আলোচনার শুরুতে যে প্রস্তাবনা পেশ করা হলো তা দেখে মনে হচ্ছে, সরকারের প্রতি মানুষের বেশ আস্থা রয়েছে। আস্থা থাকা ভালো। কিন্তু আদৌ কি আস্থা আছে?
বলা হচ্ছে, দুর্নীতির পক্ষে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা চলছে। কিন্তু আসলে হবে দুর্নীতির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। বলা হচ্ছে, সঠিকভাবে তদন্ত করা হোক। প্রশ্ন হচ্ছে, কে করবে তদন্ত? কার এত সাহস আছে? লিমনকে র‌্যাব গুলি করে পঙ্গু করেছে। এই ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। চোরে চোরে মাসতুত ভাই সবাই জানে। ফলে তদন্ত কি হবে তাও সকলের জানা। আবার বলা হচ্ছে, প্রকৃত ঘটনা চিহ্নিত করা হোক। এখানে চিহ্নিত করার কি আছে? সবাই জানে। সরকারও জানে। মিডিয়াও জানে। সরকারের অর্থমন্ত্রী নিজেই তো বলেছেন, চার হাজার কোটি টাকা তেমন বেশি কিছু নয়। সুতরাং চার হাজার কোটি টাকা চুরি হয়েছে এটি স্বয়ং অর্থমন্ত্রীরই সরল স্বীকারোক্তি। তিনিই ভালো বলতে পারবেন, কে কীভাবে চুরি করেছেন? আলোচনায় অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কে কার শাস্তি দিবে? যারা শাস্তি দেবে তারাই তো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রসঙ্গ উঠেছে, নাগরিকদের মধ্য থেকে তদন্ত কমিশন গঠন করে তদন্ত করা। আমি মনে করি, এটিই সব চাইতে ভালো প্রস্তাব। কারণ, আমরা প্রতিনিয়ত মিডিয়ার মাধ্যমে সুপারিশ করছি, আর দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতি করেই যাচ্ছে। তারা তো আমলে নেয়ার কোনো প্রয়োজনবোধ করে না।
আজকে দুটি দলের রাজনীতিতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমার মনে হয়, এই দুটি দলের মধ্যে দুর্নীতির ব্যাপারে বিশেষ সমঝোতা আছে। অর্থাৎ যারা ক্ষমতায় আসে তারা পূর্বের দলের দুর্নীতি ক্ষমা করে দেয়। দুর্নীতি থেকে রক্ষা পেতে বিনিময় প্রথা চলছে। আজ পর্যন্ত কি কোনো সরকারের দুর্নীতির সঠিক বিচার হয়েছে? যেখানে খুনির আসামি ক্ষমা পেয়ে যাচ্ছে সেখানে চার হাজার কোটি টাকার অপরাধীর ফাঁসি হবে এটি আশা করা ঠিক না। সরকার তো নিজের ফাঁসি নিজে দেবে না।
আরো বলা হয়, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। এর জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার দাবি ওঠে। কিন্তু আমরা তো দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা দেখছি। যদি তাদের ক্ষমতা থাকত তাহলে পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রয়োজন হতো না। এই সংশোধনী করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে বসিয়ে রেখে দুর্নীতিবাজদের নিয়ে নির্বাচন করার জন্য। আমি কিভাবে ক্ষমতায় যাব শুধু তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে এই সংশোধনীতে।
আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা সব চাইতে কম। কিন্তু এ দেশের মানুষ অন্য যে কোনো দেশের মানুষের চাইতে অধিক রাজনৈতিক সচেতন। জনগণ ঘাপটি মেরে বসে থাকে। সময় হলে ঠিকই জবাব দেবে। এরশাদের আমলে কিন্তু এমনই জবাব দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হামলা হবে তা  কি আমরা ২৪ মার্চ জেনেছিলাম? ২৬ মার্চই কিন্তু অস্ত্র হাতে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে। পশ্চিম বাংলার মানুষ বিশ্বাস করতে পারেনি। তারা বলেছে, বাঙালি যুদ্ধ করতে পারবে না বলে ব্রিটিশরা তাদের সেনাবাহিনীতে নেয় নি। একই কারণে নেয়া হয়নি পাকিস্তান আমলেও। এখন তারাই যুদ্ধ করছে। এই যুদ্ধ কারা করল? একেবারে রাস্তাঘাটের মানুষ। তবে বাহাদুরিটা নেয়া হয়েছে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে। আমরা দেখেছি, কৃষক হাল চাষ করছে। রাস্তা দিয়ে মানুষ অস্ত্র হাতে যুদ্ধে যাচ্ছে। তাই দেখে কৃষক লাঙল-গরু রেখে যুদ্ধে চলে গেছে। মানুষ যুদ্ধ করেছে নিজস্ব দায় থেকে। আবারো মানুষ জাগবে। এই জাগরণের মধ্য দিয়েই মুক্তি আসবে। সেই পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
হলমার্কের ঘটনা কমবেশি সবারই জানা। আমি একজন ব্যাংকার হিসেবে শুধু বলব, হলমার্ক কর্তৃপক্ষের যে ঋণ তা কোনো স্বাভাবিক ঋণের মতো নয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক, পরিচালক এবং ব্যাংক কর্মকর্তা সবাই ব্যর্থ। এই ঋণ যিনি নিয়েছেন এবং যারা ঋণ অনুমোদন করেছে তাদের মধ্যে দুর্নীতির একটি অপূর্ব যোগসাজশ রয়েছে। এই যোগসাজশে হয়ত বাইরের লোকের প্রভাব কাজ করেছে। কাজটি করা হয়েছিল বেশ নিখুঁতভাবেই।
আপনি দেখুন, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলার একটি ছোট ব্রাঞ্চকে বেছে নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কিন্তু মুন্সিয়ানা রয়েছে। কাওরানবাজার বা মৌলভীবাজার শাখা থেকে যদি কেউ ৫শ কোটি টাকা ঋণ নেয় তা কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই জেনে যাবে। এত বড় লেনদেন সবাই কোনো কোনোভাবে জেনে যাবে। কিন্তু রূপসী বাংলা এমন একটি শাখা যা আলোচনার বাইরে থাকাই স্বাভাবিক। এই নজিরবিহীন ঘটনার জন্য একেবারে প্রথম থেকেই খুব সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
হলমার্ক কেলেঙ্কারি একটি মাত্র ঘটনা। তবে আমি মনে করি অর্থনীতির সিস্টেমে চিড় ধরেছে। এখনই যদি এই চিড় সামাল দেয়া না যায় তাহলে কিন্তু বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে রোগ দেখা দিয়েছে তা গোটা জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত।
আমরা জানি, সোনালী ব্যাংকের মূলধন ১১শ কোটি টাকা। রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে ১১শ-১২শ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেয়ার সুযোগই নেই সোনালী ব্যাংকের। একেবারে সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে এত বড় কাজটি করা হলো তা কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। অবশ্যই উপর মহলের হাত আছে। এইভাবে ঋণ দেয়া মানেই পুরো সিস্টেম ভেঙে ফেলা। এখন ব্যাংকের সিস্টেমের মধ্যে যারা আছেন তারা সবাই কিন্তু এই ঘটনা জানার কথা।
হলমার্ক একটি ঘটনা মাত্র। আমাদের পুরো অর্থনীতিই কিন্তু চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, বেকারত্ব বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বদ্ধি এবং রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গত তিন বছরে এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সুষ্ঠু কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। সুসংগঠিতভাবে একটির সঙ্গে আরেকটির সম্পর্ক রেখে যে সমাধানের পথ বের করা তা আমরা দেখতে পাইনি।
আমি মনে করি, সাধারণ মানুষকে দশ টাকার হিসাব খোলার সুযোগ দিয়ে তাদেরকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় এনে খুব উপকৃত করা যাবে বলে মনে হয় না। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হলে প্রসারতা বাড়াতে হবে। আর এই প্রসারতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক খুব আন্তরিক বলে আমি এই মুহূর্তে বিশ্বাস করতে পারি না। সার্বিক চিত্র এই হতাশাই প্রমাণ করে। অর্থনীতির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে যদি দায়বদ্ধতা কাজ না করে তাহলে কোনো দিনই পরিবর্তন আসবে না। এই পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন আনতে হবে। সদিচ্ছা দেখাতে হবে।
আজকে হলমার্কের ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে চার হাজার কোটি টাকা কিন্তু অনেক বড় বিষয়। এখানে ফৌজদারি মামলা হতেই পারে। কিন্তু আমি মনে করি, ‘ল অব টর্ট’-এর আওতায় এনে বিষয়টি বিশেষভাবে সুরাহা করা যেতে পারে। যদিও আমাদের দেশে এই আইনের প্র্যাকটিস নেই। কেন নেই আমি তা জানি না। তবে ইংল্যান্ডে এই আইন বেশ জোরালোভাবে প্রয়োগ করা হয়। আমি এই আইনের কথা একটি পত্রিকায় লিখেছিলাম। তা পাঠকের মধ্য থেকে যে সাড়া পেলাম তা হচ্ছে, আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা। পাঠক মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, কিসের আইন, কার জন্য এই আইন? আইন তো বড় লোকের জন্য। আইন হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে শোষণ করার জন্য। সুতরাং আইন কার জন্য প্রয়োগ হবে এটিই এখন জনমনে বড় প্রশ্ন। এই শঙ্কা এবিএম মূসাও প্রকাশ করলেন। আইন নিয়ে যদি আমি কথা বলি তাহলে হয়ত আমার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা হয়ে যেতে পারে।
আজকে ব্যাংকের রেগুলেটরি বোর্ড সঠিকভাবে ভূমিকা পালন করতে পারছে না বলেই এই অনিয়ম ধরা পড়ার পরেও কোনো সমাধান নেই। হাজার হাজার কোটি টাকার ঘটনা। এখনও কাউকে আটক করা হলো না। এতে অপরাধীরা কেবল উৎসাহিতই হবে। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকার সময় র‌্যাব একবার জাল টাকাসহ এক চক্রকে আটক করে নিয়ে এলো। আমি বললাম, মামলা করেন। এর কয়েকদিন পর দেখি ওই অপরাধী জেল থেকে বেরিয়ে আসছে। তখন বুঝলাম উপর থেকেই এটি করা হলো। এখন সব কিছুতেই যদি রাজনৈতিক শক্তি কাজ করে তাহলে তো কোনো উপায় থাকে না।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই দুর্বল কাঠামো। এগুলো যে জনকল্যাণমুখী তা খুব  জোর দিয়ে বলা যায় না। এর উপর যদি রাজনৈতিক শক্তি নেতিবাচকভাবে কাজে করে তাহলে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
এমন অবস্থায় উপায় কি? উপায় হচ্ছে, সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে এক প্রকার প্রেসার গ্র“প তৈরি করতে হবে। আর এ কাজে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনেকেই রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা বলেন। আমি মনে করি, এটি একটি কঠিন বিষয়। ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় তারা তা করতে পারেন না বা করেন না। আমি একবার ভারতের হায়দরাবাদে সেমিনারে   গিয়েছিলাম।  ওই  সেমিনারে বক্তাদের বক্তব্য শুনে এক মন্ত্রী বললেন, তোমরা যে পরামর্শ দিলে তা আমি পালন করতে গেলে তো একটি ভোটও পাওয়া যাবে না। কিন্তু তোমরাই তো এটি পালন করতে পার। তাতে রাজনৈতিক প্রভাবটা থাকবে না। সুতরাং আমি মনে করি যে, যার যার জায়গায় যদি স্বচ্ছতা রেখে কাজ করা যায় তাহলে অন্যের ওপর চাপ কমে। সরকার না করলেও আমাদের রেগুলেটররা যদি স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তাহলে অন্ধকার অনেকাংশেই কেটে যাবে। এটি নিজেদের দায় থেকেই উপলব্ধি করতে হবে। ক্ষমতাবানরা তাদের অবস্থান ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক। দেখুন, ঘটনার ধারাবাহিকতায় মনে হচ্ছে সরকার একটি ঘটনা দিয়ে আরেকটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ দেখে মানুষ এখন তাই মনে করছে।
অনেকেই বেসরকারিকরণের পক্ষে মত দিচ্ছেন। ড. আকবর আলি খান সেদিন বললেন, ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে দিয়ে দেয়া হোক। আমি তা মনে করি না। সবকিছুই বেসরকারি হবে এটি কোনো কল্যাণকর সিদ্ধান্ত হতে পারে না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি যদি বেসরকারি খাতে দিয়ে দেয়া হয় তাহলে বৈষম্য আরো বাড়বে। জ্বালানির মতো বিষয় কোনোভাবেই বেসরকারি খাতে যেতে পারে না বলে আমি মনে করি।
সুতরাং আমি আবারো বলছি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের যথাযথ ব্যবহার এবং নিজ নিজ দায় যদি উপলব্ধি করতে না পারি তাহলে আপামর জনসাধারণের দুঃখ-কষ্ট কোনো দিনই লাঘব হবে না। 

সৈয়দ আবুল মকসুদ
প্রতিদিন রাষ্ট্রে যে সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে তা আলোচনা করে, গোলটেবিল বৈঠক করে বা সেমিনার করে তার সমাধান আসবে না। আমরা আজকে এই আলোচনা থেকে সরকারকে যে পরামর্শ দেব এবং সরকার যে সেটা গ্রাহ্য করবে তাও মনে করার কোনো কারণ নেই। সঙ্গত কারণে প্রশ্ন আসে, তাহলে কেন এই আলোচনা? আজকের আলোচনায় যারা অংশ নিয়েছেন তাদের অনেকেই রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা দেশের সার্বিক বিষয় ভালো বোঝেন। কিন্তু এরপরেও তাদের কথা যে পাঠকদের কাছে খুব গুরুত্ব পাবে ব্যাপারটা তাও নয়। তারপরেও কিছু কথা থেকে যায়।
এই আলাচনার গুরুত্ব এই যে, একজন মানুষের সব কিছুই হরণ করা যায়। যখন একটি রাষ্ট্র প্রবলভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে ওঠে তখন ব্যক্তি, সমষ্টি বা গোষ্ঠীর সব কিছুই হরণ করে। একজন মানুষের সবকিছুই হরণ করা সম্ভব। এমনকি বাকস্বাধীনতা পর্যন্ত হরণ করা হয়। আপনারা তা বেশ ভালো করেই দেখছেন।
কিন্তু মানুষের চিন্তা করা স্বাধীনতা হরণ করা কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের নেই। এমনকি বিশ্ববিধাতাও মানুষের চিন্তা হরণ করেন না। যদি তাই হতো তাহলে মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা অনেক আগেই হরণ করা হতো। কারণ, বিধার অবাধ্য হয়ে অনেকেই চিন্তা করে থাকেন।
আজকে সাপ্তাহিক-এর উদ্যোগে যে আলোচনা তা হচ্ছে, আমাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার জায়গাটা কোনোভাবে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা মাত্র। এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়। এই চিন্তার চর্চা করতে করতেই হয়ত যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন তাদের মধ্যে বোধোদয় হবে। সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রেসার গ্র“প তৈরি করার কথা। এই প্রেসার গ্র“পের কারণেই সরকার হয়ত একশটি মন্দ কাজে শত ভাগ সফল হতে পারে না। চাপে রেখেও যে ঠেকানো যায় তা তেল-গ্যাস কমিটির আন্দোলন প্রমাণ করেছে। এইভাবে ঠেকানোর জন্যই আলোচনা হওয়া জরুরি বলে মনে করি।
সম্প্রতি হলমার্ক নিয়ে যা ঘটল, তা কেবল রাষ্ট্রের সামগ্রিক চিত্র। মন্ত্রিসভা নিয়ে দেখুন। একজন তৃষ্ণার্ত মানুষ চাইল জল, তাকে দেয়া হলো বেল। মন্ত্রিসভার প্রতি অনস্থা প্রকাশ করে প্রতিদিন মানুষ বক্তব্য, সভা, সেমিনার করছে। অদক্ষ, দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মিডিয়ায় প্রতিদিন সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় দু-একজন ভালো মানুষ থাকলেও অদক্ষতার কারণে পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ছে। মানুষ ভেবেছিল এই অদক্ষ-দুর্নীতিবাজদের সরিয়ে দিয়ে ভালোদের হয়ত জায়গা করে দেবে। কিন্তু হলো উল্টো। সরিয়ে তো দিলই না বরং বিতর্কিতদের যোগ করা হলো। অর্থাৎ জনগণের দাবিতে অগ্রাহ্য করা হলো।
আমার মনে হয়, বাংলাদেশ অতি দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ। তা না হলে তো অন্তত ডজনখানেক মন্ত্রী-সচিব নাজিমউদ্দিন রোডের বাড়িতে (কারাগার) বা কাশিমপুরের বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন। এই আতিথেয়তা গ্রহণ করলে বুঝতাম দেশে আইনের শাসন আছে। অন্যায় কেউ করতেই পারে। কিন্তু অন্যায় করলে অন্তত শাস্তি হয় তা জানা যেত।
রাষ্ট্র আজ এমন পরিণত অবস্থায় দাঁড়িয়েছেÑ যেখানে হলমার্ক বা ডেসটিনির সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা জানেন যে তাদের কিছুই হবে না। এই কারণেই তারা করতে পারেন এবং ধৃষ্টতা দেখান। গত চল্লিশ বছরে রাষ্ট্রকে সুপরিকল্পিতভাবে এই জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। তারা জানেন অপরাধ করলে রাষ্ট্রই তাদের রক্ষা করবে। এসব খামাখা হচ্ছে না। হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতার বাপ-দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠীর সাহস নেই যে হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়ে পার পেয়ে যাবে, যদি না রাষ্ট্র তাদের রক্ষা না করত। দুর্নীতি করলে কিছুই হয় না এটি রাষ্ট্রেরই তৈরি করা ধারণা। হলমার্কের মালিক তানভীরের চরিত্রে রাষ্ট্রের চরিত্রই ফুটে উঠেছে।
টেলিভিশনে আমাদের রাষ্ট্রীয় নেতারা সবসময় ঘোষণা দিচ্ছেন বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে। নেতাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমেরিকাও বাহবা দিচ্ছে। তো প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের মধ্য আয়ের দেশে যেতে হবে কেন? কে বলেছে, মধ্য আয়ের দেশে যাওয়ার জন্য। স্বল্প আয়ের দেশেই যখন এত দুর্নীতি তখন মধ্য আয়ের দেশ হলে তো দুর্নীতির কোনো সীমা থাকবে না। আমার সেই দেশ চাই, যেখানে আয় কম হলো না বেশি- সেটা বড় কথা নয়, মানুষ সুখ-শান্তিতে থাকতে পারছে কিনা সেটাই বড় কথা?

ড. কামাল হোসেন
সাপ্তাহিক-এর আজকের যে আয়োজন তা খুবই সময়োপয়োগী বলে মনে করছি। সৈয়দ আবুল মকসুদ  বললেন,  আর  কত গোলটেবিল আলোচনা। মাঝে মাঝে আমারও তাই মনে হয়। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবি, চুপ থাকলে তো হবে না। কাউকে না কাউকে তো কথা বলতেই হবে। সেই জায়গা থেকে আজকের এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব রাখে।
প্রশ্ন উঠেছে, আমাদের এই দাবি বা প্রতিবাদ কার জন্য? কাকে আমরা বলছি? হয়ত আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা সবাইকে বলতে পারি। কিন্তু লাভ কি? একবার নয়, সরকারকে হাজারবার বলা হয়েছে। সরকার কোনো কর্ণপাত করে না। সরকার ইচ্ছে করলে আগামীকালই করতে পারে। সরকার চার মিনিটে ঢাকা শহরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। তিন মিনিট করে সময় নিয়ে একদিনের মধ্যেই সরকার সকল বিষয়ে আইন পাস করতে পারে। পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করতে কয় মিনিট সময় লেগেছে? সরকার সব কিছুই করার ক্ষমতা রাখে। তারা তো ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসেছে। সরকার করছে ঠিকই শুধু নিজেদের স্বার্থে।
গত নির্বাচনে মহাজোট সরকার যে সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছে তাও কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করা। আবার এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার যে অনিয়ম-দুর্নীতি করছে তাও অসম্ভবকে সম্ভব করা। এটিকেও পাল্টানো সম্ভব। কারণ, যারা পাল্টায় তাদের প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে। আজকে জনগণের যে আকাক্সক্ষা তা বাস্তবায়ন করতে হয়ত কৌশল অবলম্বন করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, কে করবে?
এই দেশের আসল শক্তি কে? বার বার বিজয় ছিনিয়ে এনেছে কে? সাধারণ মানুষ। আর তাদের সংগঠিত করেছে সচেতন মানুষরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীরাই তাদের সচেতন করে তুলেছিল। যে কারণে ’৭১-এর ২৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহীদ মিনারে ট্যাঙ্ক ঢুকেছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, শহীদ মিনারের শক্তি কি? শহীদ মিনারের শক্তিই হচ্ছে জনগণের শক্তি। যে শক্তি নিয়েই জিন্নাহর মুখের ওপর না না বলে প্রতিবাদ করা যেত। এই শক্তি থেকেই ৫৪-এর নির্বাচন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে জয়লাভ করেছি।
কিন্তু আজকে তো সব উল্টো। আজ যে রাজনীতি চলছে তা হচ্ছে অভিশপ্ত রাজনীতি। একজন চিহ্নিত অপরাধীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক নেতা থানা পুলিশকে শাসিয়ে বলে সে আমার লোক। তাকে ছেড়ে দাও। এটি অভিশপ্ত রাজনীতিই বটে। আমি আগে রুগ্ন রাজনীতি বলতাম। আজ থেকে বলছি অভিশপ্ত রাজনীতি। যে রাজনীতি গণতন্ত্রের নামে পুলিশকে বলেন, এসপি সাহেব সে অপরাধ করেছে, কিন্তু আমার লোক। বিষয়টি বিবেচনা করেন। আমরা আজ পুলিশকে ঢালাও অভিযোগ করি। কিন্তু এই পুলিশকে ব্যবহার করেন কারা? আমি বাংলাভাইয়ের ঘটনায় নিজে বাগমারায় তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। দেখেছি, পুলিশের মধ্যে কীভাবে চেইন অব কমান্ড অমান্য করা হয়।
আজকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। এটি কি কোনো সুষ্ঠু রাজনৈতিক চিন্তা হতে পারে। এখানে ব্যাংক নিয়ন্ত্রকেরও ব্যর্থতা আছে বলে মনে করি। গভর্নররা বলেন, চাপের কারণে অনুমোদন দিতে বাধ্য হয়েছি। কিসের চাপ? কার চাপ? একবার পদত্যাগ করে চাপ কমিয়ে দেখান না কেন? দেখবেন জনগণ কত বাহবা দেয়।
আমি মনে করি, এখন গোলটেবিল আলোচনা করার সময় শেষ হয়েছে। জনগণের কাছে যাওয়া সময়ের দাবি। বাধা আসবেই। খুন বা গুম হওয়ার ভয় থাকবেই। কিন্তু দমে গেলে জনবিরোধীরাই সফল হবে। কিভাবে জয় করা সম্ভব তার কৌশল বের করাই এখন মোক্ষম সময়।
দিন বদলের জন্য জনগণ ভোট দিয়েছে। কিন্তু সেই ভোট কাজে লাগছে না কেন?। কারণ, যে রাজনীতি চলমান তা কেবল সাধারণ মানুষকে ক্ষমতাহীন করে। গণতন্ত্রের মূল কথাই হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন। হলমার্ক, ডেসটিনি, শেয়ারবজারের ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেছে বাংলাদেশ কতিপয় উচ্চাবিলাষী, জনবিরোধী ক্রিমিনালের কব্জায় আটকা পড়েছে। রাস্তায় মানুষ খুন হচ্ছে। ঘুমের ঘরে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। গুম এখন বড় আতঙ্ক। এটিই কি দিন বদল? মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে দু’জন অপারগতা প্রকাশ করেছে। আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বাকি যারা এই প্রতারণার শাসন ব্যবস্থায় হ্যাঁ বলেছে, তাদের ব্যাপারে আমি জনগণকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাই। আর এই সতর্ক হওয়ার মধ্য দিয়েই গণজাগরণ ঘটবে বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।

আলোচকবৃন্দ
(আলোচকবৃন্দ : আলোচনার ক্রমানুসারে)
 অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ
 অর্থনীতিবিদ
 সদস্য সচিব, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি
 ফারাহ্ কবীর
 কান্ট্রি ডিরেক্টর, একশনএইড বাংলদেশ
 বদিউর রহমান
 সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান
 মামুন রশীদ
 অর্থনীতি বিশ্লেøষক ও সাবেক ব্যাংকার
 এবিএম মূসা
 সাংবাদিক, কলামিস্ট
 ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
 সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
 সৈয়দ আবুল মকসুদ
 সাংবাদিক, কলামিস্ট
 ড. কামাল হোসেন
 আইনজীবি, সভাপতি, গণফোরাম

আলোচনার প্রস্তাবনা
শুভ কিবরিয়া
সঞ্চালক
গোলাম মোর্তোজা
সম্পাদক, সাপ্তাহিক

গ্রন্থণা  : সায়েম সাবু
সহযোগিতা  : আরিফুর রহমান 
ছবি  : কাজী তাইফুর

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
  • পাকিস্তানি গোয়েন্দার চোখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -শুভ কিবরিয়া
  • যেভাবে বইটি রচিত হলো -শেখ হাসিনা
  • কোন খণ্ডে কি আছে
  • শ্রমিক আন্দোলন : মজুরি বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়! -আনিস রায়হান
  •  মতামত সমূহ
    Author : WilliamTom
    check this top casinos online
    Author : ChrismaW
    Looking for casino online?Check out top free casino online bonus offers at sloto cash casino
    Author : EnriqueIngeP
    cap casino games and open no alluvium bonus offers
    Author : James
    online casino real money casino real money casino casino online casino games
    Author : Bernadine
    online loans direct lenders payday personal loan payday loans bad credit payday loans direct lenders
    Author : LarCubswads
    Achat Cialis 40mg levitra samples europe How To Mail Order Cheap Viagra Is There A Generic Equivalent Of Cialis Buy Kamagra Dublin
    Author : LarCubswads
    For Sale Progesterone Buy Zithromax Single Dose Canadian No Prescription Viagra cheep levitra Buy Cipro Overseas
    Author : LarCubswads
    Eolica Al Propecia Vardenafil 20 Ml Stendra Avanafil viagra Kamagra Sildenafil 100mg Tablets Viagra Super Active 100mg Pills
    Author : LarCubswads
    Amoxicillin Side Effects Bacteria Comprar Levitra Buy Generic Plavix India viagra Zithromax For Children
    Author : LarCubswads
    Viagra Rezeptfrei Bestellen Gunstig Kamagra Kautabletten online pharmacy 100mg Viagra For Sale Achat Levitra France
    Author : Chastoca
    Order Synthroid Online No Prescription Tadalafil Generic Viagra Prix Bas Amoxicillin And Alcohol Reaction Cheap Viagra Fast Provera Dysmenorrhea Cats Amoxil Cialis Pills Ceallas And Viag For Sale Keflex Warning Order Cialis Doxycyline No Rx Herbs Like Keflex cost of levitra at cvs 360 Amoxicillin Side Effects In Pets Preise Fur Viagra Levitra Usa Acheter Du Priligy Quebec Livitra Samples can you get levitra cheap Viagra No Hace Efecto Keflex Cures Giardia Levitra Online Forum Viagra Shop Kamagra Oral Jelly Vol.3 Cheap Cialis 20mg Buy Viagranext Day Delivery Acheter Cytotec Internet Cialis Online Prices Viagra Probepackung Kostenlos Zithromax Manufacturer Viagra Cialis Cod Only Bentyl Where To Purchase Urologo Priligy Viagra Pill Cialis 5 Mg Precio En Colombia Where To Purchase Provera In Usa Buy Accutane Viagra Kaufen Ohne Myco Rat Amoxicillin online pharmacy Precio Priligy Farmacias Espanolas Femara Online Orders Cheapest Prices Cialis 5mg Cephalexin 550 For Tooth Pain Belize Pharmacy Online Mail Order Levitra where to order isotretinoin
    Author : Chastoca
    Buy Generic Propecia No Prescription Accutane For Acne Riga Viagra Cialis Levitra Cephalexin Overdosage Amnesteem Baclofen Vente En France Universal Propecia Accutane Canada Cialis 5 20 Cialis Acheter Paris Order Cialis Online Cialis En Pharmacie Prix Generic Cialis Professional Propecia Low Price Alli Weight Pills Buy Super Viagra cialis online Viagra Sin Receta Valencia Levitra 10 cialis Keflex Low Glucose Generic Clomid levitra brand online Buy Generic Zithromax Online Defence Secretary Thanks Sajjan For Extra Iraq Trainers NOTE The secondmost popular choice was none of these. loans for people with bad credit How I turned my backpacking trip into a business spanning.Cheap Propecia Without Rx Order Lasix Pills Achetre Viagras En Ligne Au Quebec Cialis Acheter Pharmacie Comprar Priligy Original Viagara Generic Propecia 0.5 Mg Avodart order on line levitra Priligy Quanto Tempo Prima Propecia Vente Ligne cialis Sinus Infection Dosage Amoxicillin Viaga viagra Propecia Minoxidil Combined Levitra Order Online Levitra Plus Citalopram Zithromax Typhoid Fever Dapoxetine Priligy how to purchase accutane Cialis 5 Mg Funciona Generic Deltasone Pricing Viagra Per Impotenza Levitra Controindicazioni levitra 40 mga for sale mexico beach Generic Progesterone Ou Acheter Du Viagra Pharmacie cialis Zithromax Z Pak Cost Tadalafil 5mg Buy Online India viagra vs cialis vs levitra reviews Propecia Bayer Buy Now Isotretinoin Oral Jelly Kamagra Come Posso Comprare Il Viagra Buy Sleeping Pills Online Viagra Vardenafil Cheap Hydrochlorothiazide Order Online Buy Generic Viagra Acheter Propecia Canada Online Pharmacy Stock Order Viagra 301 Cialis Prices Online Medication No Prescription Viagra Schweiz Rezeptfrei Buy Kamagra Online 100mg Amoxicillin With Clavulanic Acid Oral Amoxicillin For Macaw no prescription needed for levitra Cialis Generico Sin Receta Generic Lasix Online viagra cialis How To Use Propecia Discount Zentel With Free Shipping Levitra Best Prices Cephalexin And Pregnancy Where Can I Buy Elocon Kamagra Soft Tablets Uk Kamagra Cuanto Vale Cialis viagra Cafergot Tablets Nz Amoxicillin Drug Reaction viagra online No Script Trimix Ed Meds Buy Cheap Viagra Uk Levitra Buy Online Mail Order Stendra Avanafil Kamagra Oral Gel Cheap Generic Clomid Viagra Libido Il Viagra Donne Prices For Propecia Generic Propecia 1 Ml No Prescretion My Canada Pharmecy Levitra Tablet Pastilla Cialis Que Es Misoprostol Over The Counter Cvs levitra samples overnight Propecia Dosage Hair Loss Finasteride Cialis 10 Mg Filmtabletten Viagra Online Prices Fast Shipping Zithromax Kamagra Dosis Maxima Cheap Kamagra No Rx Generic Cialis Rx Pharmacy Ciallis levitra wholesale no prescription Kamagra Oral Jelly Avis Cialis 5mg Osterreich generic levitra soft tabs Viagra Scadenza Brevetto Zithromax For Children Cialis Tadalafil Zithromax Cats
    Author : Chastoca
    Vermox No Prescription Antabuse Online Store 500 Amoxil Metamucil At Same Time Amoxicillin Generic Nolvadex Pct Kamagra Wiki Nederlands Cialis 10mg Online For Sale Cheap Lasix No Rx Can I Purchase Levaquin Medication Does Cephalexin Cause Yeast Infection Buy Propranolol 40mg Kamagra Gold Side Effects Discount Cheap Stendra Internet Ups Antabuse Usa Propecia Hair Alternative Al Viagra Cialis Cheap Kamagra Directions Of Use Calculations For Suspension Amoxicillin Buy Levitra 20mg Usa Overseas Prescription Drugs Online Levitra Foglietto Illustrativo Buy Lasix Pills Vegra Pills Acquisto Levitra Originale Italia Buying Accutane Online Safe Zithromax Skin Sensitivity Buy Zithromax 1.0 Gm Where To Buy Antabuse Buy Estrofem What Is The Quickest Way To Get Viagra Antabuse Online Fast Utilizzo Di Kamagra Viagra Berbere Antabuse Online Usa Canadian Cialis Sources Viagra Ohne Rezept In Hamburg Low Price Zoloft Zithromax And Amoxicillin Taken Together Levitra Forum Salute Shop Inderal Online Precio Viagra Autentica Kamagra Angebot Zithromax Online Usa Venta De Cialis Generico Por Internet Cheap Generic Cipro Prozac Drug Cialis Se Puede Tomar Todos Los Dias Viagra Rx Paypal Cialis To Buy Propecia Achat En Ligne Kamagra United Kingdom Buy Zithromax Online Cialis In Italia Cialis 20mg Prices Online Cytotec Cheep No Prescription Cialis Kamagra Oral Jelly How Long Achat Cytotec Cialis Senza Ricetta In Farmacia Amoxil Asthma How To Order Amoxil Amoxil Damages Gall Bladder Priligy Erfarenheter Zithromax Pill Kamagra Oral Jelly No Presc Propecia Ataxia Canadian Viagra Canadian Pharmacy Ordering Viagra Acquistare Levitra 20mg Where To Buy Deltasone Direct Secure Ordering Bentyl Saturday Delivery Kingston Pastillas Viagra Precio Accutane Tablets Buy Nexium From Mexico Keflex In Ge Neric Form Low Price Lasix Viagra A Roma Erectile Power Cheap Amoxil 500mg Finasteride 1 Mg Without Prescription Viagra Tadalafil Price Of Zithromax Propecia Sale Canadian Pharmacy Propecia En Parafarmacias How To Buy Strattera Meilleur Site Pour Commander Cialis Kamagra Customer Reviews Doxycycline Tablets Pfizer Viagra For Sale Cialis Comprar Por Internet Nolvadex Where To Buy Kamagra La Caixa Acheter Vrai Viagra Shop Antabuse Online Cialis Durata D'Azione Viagra Liquido Low Price Lasix Mode D'Utilisation Du Viagra Koflet Buy Generic Strattera Propecia Side Effects Blisters au we provide factual information and general advice. quick loans com does not provide any business loans.Any amount taken out must then be affordable for they will aim to give the potential borrower a decision more or less straight to be chosen.Us Pharmacy Prices For Cialis Priligy Buy Online Usa Bentyl Diciclomina Spastic Colon On Line Kamagra Quoka Buy Zithromax Levitra Best Prices How Much Is Levitra Zoloft Online No Viagra Nombre Farmaceutico Order Synthroid Without Rx Buy Vibramycin Online How To Purchase Propecia
    Author : JustPen
    Names Of Online Pharmacies Levitra Cost Cialis For Sale 40 Mg How Long For Amoxicillin To Work How To Order Zoloft Over The Counter Cialis Uk Suppliers Of Zyban Cost Of Cialis Cialis Durata Rapporto Farmacia Italiana Q Vende Cytotec Can I Buy Cialis Online Acquistare Viagra Online I Want To Buy Misoprostol Tablets Propecia Sale Alli Ordering In Canada Order Propecia No Prescription Buy Generic Cialis Online Puedo Tomar Cialis Alcohol Amoxicillin Without Prescription Viagra Cost Cialis Generico Contraindicaciones Viagra Et Fertilite Buy Zoloft Online Comprar Priligy Barcelona Cephalexin Uses Strep Throat Cheap Generic Kamagra Atarax Tabletsforsale Cialis Viagra Moins Cher Internet Order Kamagra Kamagra Australia Paypal Cialis With Priligy Pills Cheap Cialis Tablets Cvs Propecia Hair Growth Generic Viagra Canada Rx Order Zithromax Online Stendra For Sale Free Shipping No Script Needed Clobetasol Lichen Planus Buy Online Cialis Levaquin Vs Cephalexin Interaction Lisinopril Cheap Viagra Tablets Cheap Hydrochlorothiazide Medication Secure Cialis Donde Comprar Kamagra Gel Online Comprar Viagra Generico Por Telefono Cialis Como Tomarlo Low Cost Zoloft Online Birth Control Shipping I Need To Order Some Viagra Mail Order Viagra Can I Purchase Overnight Generic Progesterone Medicine Free Shipping Why Can'T You Crush Amoxicillin Low Cost Generic Kamagra Cialis Acquisto Farmacia Order Synthetic Viagra Buy Viagra How Much Is Viagra In Mexico Buy 1 Mg Prednisone Pills Online Buy Generic Zoloft Online Free Samples Of Viagra And Cialis Le Prix Du Viagra Pharmacie Cheap Viagra Pills Amoxil Dose Calculator Citralapram 10mg For Sale Cialis 40mg Tadalis Sx Naturel En Ligne
    Author : CesSirl
    Cephalexin In Cats generic viagra Levitra Generico Acquisto Cialis 20 Mg Confezione cialis Clomid Glucophage Effets Secondaires Viagra Et Forum cialis price Cialis Drogas La Rebaja Costco Price For Cialis 5mg viagra How Much Is Viagra Without Insurance Farmaco Cialis Tadalafil prozac from india Se Puede Comprar Cialis Sin Receta Buy Doxine viagra online Buy Generic Levitra Xenical Online Kaufen Ohne Rezept Buy Cialis Free Zoloft With Out Perscription Viagra Effetti Forum Cheap Cialis Drug Spironolactone For Cheap Best Online Cialis Reviews cialis Viagra Special Offers Levitra Tablet viagra Propecia He Infertilidad Zithromax Swollen Testicles cialis buy online Get Viagara Online Viagra Anbieter cialis Acquisto Levitra Originale 10mg Kamagra Sildenafil 300 Mg Cheap Viagra Oral Amoxicillin Versus Oral Penicillin Propecia Pvp pillule alli shop Buy Online Lasix Vidal Levitra cialis Viagra Tabletten Nebenwirkungen
    Author : Graham
    হ্যালো স্যার / ম্যাডাম, নতুন ঋণ বিজ্ঞপ্তি! আপনি, বৈধ দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য ঋণ চাইছেন? ফ্রি সমান্তরাল ঋণ / অ সমান্তরাল ঋণ, আমরা অধস্তন ঋণ শ্রেষ্ঠ আপনার জন্য ডিজাইন করা পূর্ণ ঋণ থেকে ক্ষণিকের বিভিন্ন ধরনের ঋণ পরিষেবার অফার দিই. ঋণের একটি 3% সুদের হারে দেওয়া হয়. আমরা বন্ধকী, কোম্পানি, ব্যবসা, ব্যক্তিগত, হাউজিং, জমি অধিগ্রহণ এবং আরো অনেক ঋণ প্রস্তাব. কোন সামাজিক নিরাপত্তা সংখ্যা প্রয়োজন বোধ করা হয় এবং কোন ক্রেডিট চেক প্রয়োজন জাতি / বিশ্বের 100% গ্যারান্টি. আমাদের মর্যাদা সম্মান করতে সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করার সময়, আমরা আপনার বিজ্ঞপ্তি যে আমরা আন্তরিক এবং গুরুতর সংস্কারমুক্ত গ্রাহকদের ঋণ / ঋণ সহায়তায় আর্থিকভাবে উদ্বর্তিত করা প্রয়োজন যে ঋণ অনুদান আনতে করতে ভুলবেন না হবে. মারফত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ এখন (azerbijankreditcompany@gmail.com)
    Author : Graham
    হ্যালো স্যার / ম্যাডাম, নতুন ঋণ বিজ্ঞপ্তি! আপনি, বৈধ দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য ঋণ চাইছেন? ফ্রি সমান্তরাল ঋণ / অ সমান্তরাল ঋণ, আমরা অধস্তন ঋণ শ্রেষ্ঠ আপনার জন্য ডিজাইন করা পূর্ণ ঋণ থেকে ক্ষণিকের বিভিন্ন ধরনের ঋণ পরিষেবার অফার দিই. ঋণের একটি 3% সুদের হারে দেওয়া হয়. আমরা বন্ধকী, কোম্পানি, ব্যবসা, ব্যক্তিগত, হাউজিং, জমি অধিগ্রহণ এবং আরো অনেক ঋণ প্রস্তাব. কোন সামাজিক নিরাপত্তা সংখ্যা প্রয়োজন বোধ করা হয় এবং কোন ক্রেডিট চেক প্রয়োজন জাতি / বিশ্বের 100% গ্যারান্টি. আমাদের মর্যাদা সম্মান করতে সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করার সময়, আমরা আপনার বিজ্ঞপ্তি যে আমরা আন্তরিক এবং গুরুতর সংস্কারমুক্ত গ্রাহকদের ঋণ / ঋণ সহায়তায় আর্থিকভাবে উদ্বর্তিত করা প্রয়োজন যে ঋণ অনুদান আনতে করতে ভুলবেন না হবে. মারফত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ এখন (azerbijankreditcompany@gmail.com)
    Author : রিচার্ড ডিন জোন্স.
    গুড ডে, রিচার্ড ডিন জোন্স ফাইন্যান্স Plc স্বাগতম, আমরা নির্বিশেষে আপনার পরিস্থিতিতে, তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত সুরক্ষিত ঋণ, ঋণ একীকরণ ঋণ এবং বন্ধকীগুলির প্রদান. তারা আমাদের প্রথম তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্তের জন্য পছন্দ, ঝগড়া বিনামূল্যে, কোন উদ্দেশ্যে, কম হারে ঋণ & বন্ধকীগুলির হয়. এখন, কোন বাধ্যবাধকতা উদ্ধৃতি প্রয়োগ করুন এবং রিচার্ড ডিন জোন্স ফাইন্যান্স Plc আপনার জন্য কঠিন কাজ করতে দেওয়া! rdj.1961@yandex.com: আগ্রহী আবেদনকারী আমাদের কোম্পানী ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা উচিত আগ্রহী আবেদনকারী এছাড়াও পূরণ করুন এবং নিচের ঋণ আবেদনপত্র ফেরত পাঠাবেন উচিত: পুরো নাম: ঠিকানা: দেশ: লোন পরিমাণ প্রয়োজন: ঋণ সময়কাল: লোন উদ্দেশ্য: ফোন নম্বর: আমরা আমাদের ঋণ লেনদেনের সাথে এগিয়ে সক্রিয় আপনার বিবরণ জন্য অপেক্ষা করুন. বিনীত. রিচার্ড ডিন জোন্স.
    Author : রিচার্ড ডিন জোন্স.
    গুড ডে, রিচার্ড ডিন জোন্স ফাইন্যান্স Plc স্বাগতম, আমরা নির্বিশেষে আপনার পরিস্থিতিতে, তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত সুরক্ষিত ঋণ, ঋণ একীকরণ ঋণ এবং বন্ধকীগুলির প্রদান. তারা আমাদের প্রথম তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্তের জন্য পছন্দ, ঝগড়া বিনামূল্যে, কোন উদ্দেশ্যে, কম হারে ঋণ & বন্ধকীগুলির হয়. এখন, কোন বাধ্যবাধকতা উদ্ধৃতি প্রয়োগ করুন এবং রিচার্ড ডিন জোন্স ফাইন্যান্স Plc আপনার জন্য কঠিন কাজ করতে দেওয়া! rdj.1961@yandex.com: আগ্রহী আবেদনকারী আমাদের কোম্পানী ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা উচিত আগ্রহী আবেদনকারী এছাড়াও পূরণ করুন এবং নিচের ঋণ আবেদনপত্র ফেরত পাঠাবেন উচিত: পুরো নাম: ঠিকানা: দেশ: লোন পরিমাণ প্রয়োজন: ঋণ সময়কাল: লোন উদ্দেশ্য: ফোন নম্বর: আমরা আমাদের ঋণ লেনদেনের সাথে এগিয়ে সক্রিয় আপনার বিবরণ জন্য অপেক্ষা করুন. বিনীত. রিচার্ড ডিন জোন্স.
    Author : mont blanc pens outlet
    That is a good tip particularly to http://www.ukmontblancmall.com/ those new to the blogosphere. Simple but very accurate information… Thank you for sharing http://www.ukmontblancmall.com/ this one. A must read article!
    Author : Fred Finns
    আমরা নগদ টাকা ঋণ অনুদান আমরা প্রদান একটি সুদের হার 3% থেকে ছোটো সঙ্গে নগদ টাকা ঋণ এবং ঋণের প্রতি অন্য ধরনের, - 5%. আমরা ঋণ প্রদান নেশন আউট ওয়াইড, যা ছোটো থেকে 1,000.00 100 মিলিয়ন মার্কিন ডলার / পাউন্ড / EURO যাও. আমরা 100% তহবিল এবং সঙ্গে LTV 75% -85% এর উপর সম্পত্তি অর্জন. আমরা হার্ড টাকার লোন নিম্নলিখিত ধরনের প্রস্তাব: হার্ড টাকার লোন; ক্রেডিট লাইন, বাণিজ্যিক হার্ড টাকার ঋণ ব্যক্তিগত হার্ড টাকার ঋণ ব্যবসা হার্ড টাকার ঋণ বিনিয়োগ হার্ড টাকার ঋণ ডেভেলপমেন্ট হার্ড টাকার ঋণ অধিগ্রহণ-ঋণ সরঞ্জাম লিজিং -শুরু আপ করতে এখানে ক্লিক বাণিজ্যিক সম্পত্তি লোন পরিসংখ্যা ঋণ অসুরক্ষিত ঋণ নির্মাণ ঋণ অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট গ্রহণযোগ্য ঋণ বাধাপ্রাপ্ত ফ্যাক্টরিং ওয়্যারহাউস ফাইন্যান্সিং যন্ত্রাদি লোন ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ মেঝের বাধাপ্রাপ্ত কৃষি ঋণ, আন্তর্জাতিক ঋণ ক্রয় আদেশ ফাইন্যান্সিং: কার্যত যে কোন প্রকারের ব্যবসা ঋণ E.T.C. .. যদি আগ্রহী ইমেলের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন; fredlenders01@gmail.com শুভেচ্ছাসহ Mr ফ্রেড ফিনস
    Author : Bader
    In terms of rolex replica watches design, quality, or the size of each aspect, Swiss Replica Watches are almost the same as the real ones and are very replica rolex difficult to distinguish. Much more than this, Swiss Replica Watches only spend a small amount of money compared with rolex replica genuine Swiss Watches. Therefore, we can say that the cheap rolex watches are cost-effective alternatives of Swiss Watches.
    Author : rolex replica
    Everyone desires that his replica watches remains reliable, top and well designed regardless of the environment where it happens to be employed; omega rolex replica offer users this.watches as accessories include some gust to ones putting. For most people, they be aware that their own outfit is incomplete devoid of the wristwatches. omega watches are a program Patek Philippe Watches of class and precise finish style and color.
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive