Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২৫ ১৪ই অগ্রহায়ন, ১৪২৫ ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
[বইপত্র] একটি ভিন্নধর্মী সম্পাদনা  

স্বকৃত নোমান

যশস্বী লেখক বদরুদ্দীন উমরের নাম দেশের অগ্রসর পাঠকদের কাছে বহুবিশ্রুত। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি লেখালেখিতে সক্রিয়। তিনি প্রথমত একজন রাজনীতিবিদ। ঐতিহাসিক হিসেবেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। রাজনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিষয়ে তার লেখালেখি দীর্ঘকাল আমাদেরকে সমৃদ্ধ করেছে এবং অদ্যাবধি করছে। এসবের পাশাপাশি একজন চিন্তক হিসেবে তিনি এখন সুপ্রতিষ্ঠিত।
গত শতকের পঞ্চাশের দশকের শেষের দিক থেকে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখার পর তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। ‘সাম্প্রদায়িকতা’ বইটি লেখার মধ্যদিয়ে তার বইয়ের জগতে আত্মপ্রকাশ। এমন একটি বিষয় নিয়ে তার প্রথম বই, যে বিষয়টি এ উপমহাদেশে কালে কালে বিষবাষ্প ছড়িয়েছে, মানুষে মানুষে বিভেদ ও দূরত্ব বাড়িয়েছে, অসহিষ্ণুতা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের রাজনীতিকে এই সাম্প্রদায়িকতা বারংবার কলুষিত করেছে। এই জটিল বিষয়ের ওপর গ্রন্থ রচনা করে তিনি তার অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানান দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। বইটির মাধ্যমে তিনি সাম্প্রদায়িকতার চরিত্রকে বিশ্লেষণ করেছিলেন। সাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমে পাক-ভারতীয় উপমহাদেশের অগণিত বিশ্বাসপ্রবণ, সৎ এবং দরিদ্র মানুষ শ্রেণীস্বার্থ উদ্ধারের কাজে কি জঘন্যভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং হচ্ছে সেকথা জনসাধারণকে উপলব্ধি করাতে তিনি জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বইটির মাধ্যমে। সেই থেকে শুরু, এরপর তিনি লিখে গেছেন একের পর এক বই। সৃষ্টি করেছেন তার বিশাল পাঠকগোষ্ঠী।
বদরুদ্দীন উমরের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ সংস্কৃতির সংকট, সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক, পূর্ব বাংলার সংস্কৃতির সংকট, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ, যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ, পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খ-), বাঙলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সমস্যা, ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, বাঙলাদেশে বুর্জোয়া রাজনীতির চালচিত্র, ভারতীয় জাতীয় আন্দোলন, মার্কসীয় দর্শন ও সংস্কৃতি, বাঙলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের ধারা, বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বাঙলাদেশে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার, বাঙলাদেশে মোল্লাদের জঙ্গী তৎপরতা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতা, বাঙলাদেশের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ, পরিবেশ বিপর্যয়ের পথে বাংলাদেশ ইত্যাদি। এছাড়া লিখেছেন আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘আমার জীবন’। এই বইটির মাধ্যমে তার শৈশব-কৈশোর, তারুণ্য ও যৌবনের সময়গুলোকে ধরা যায়। তার সর্বশেষ বই ২০১০-এর একুশে বইমেলায় আফসার ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত ‘কার দিন বদল হলো’। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের নবেম্বর পর্যন্ত লেখা তার প্রবন্ধগুলোর মধ্যে বাঙলাদেশের রাজনীতি বিষয়ক কিছু প্রবন্ধ এই সংকলনটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
গত শতকের ষাটের দশকের শেষপাদ থেকে শুরু করে চলতি শতকের প্রথম দশকের শেষপাদ পর্যন্ত বদরুদ্দীন উমরের বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৮৩টি। আমাদের সংস্কৃতির প্রগতিশীল ধারা এবং আমাদের জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রেও তার গ্রন্থাদি ও চিন্তাভাবনা এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ কথা প্রায় নিশ্চিত যে, বদরুদ্দীন উমর এখন এমন একটা স্তরে পৌঁছে গেছেন, আর কিছুদিন পর কিংবা তার প্রয়াণপরবর্তীকালে গবেষকগণ তাকে নিয়ে গবেষণা করবেন। তার বইয়ের খোঁজ-খবর লাগবে তখন। গবেষকদের জন্য তখন একটা বড় সমস্যা সামনে এসে দাঁড়াবে যে, বদরুদ্দীন উমরের কোন বইটি কোথা থেকে বেরিয়েছে, কী ছিল বইটির বিষয়, লেখার ধরন কেমন ছিল ইত্যাদি বিষয়ে জানার।
ভবিষ্যত গবেষকদের এ সমস্যাটির সমাধান দিয়েছেন গবেষক মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম। তার সম্পাদনায় একটি বই বেরিয়েছে। বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘বদরুদ্দীন উমর-এর গ্রন্থ পরিচয়’। আমাদের দেশের পাঠকদের জন্য এ ধরনের বই যে একেবারেই নতুন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সাইফুল ইসলামের এ কাজটি পরিশ্রমলব্ধ অবশ্যই। এর মাধ্যমে তিনি প্রকাশনা জগতে আমাদের একটি নতুন আঙ্গিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এর পাঠক সংখ্যা সীমিত হলেও কৌতূহলী ও উৎসাহী পাঠকদের জন্য বইটি গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এটি এক ধরনের কোষগ্রন্থ বলা চলে। বইটিতে বদরুদ্দীন উমরের মোট ৮৩টি বইয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। ‘সাম্প্রদায়িকতা’ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ‘কার দিন বদল হলো’ পর্যন্ত বইগুলোর প্রকাশক, প্রকাশনীর ঠিকানা, মুদ্রক, প্রকাশকাল, পৃষ্ঠা সংখ্যা, প্রচ্ছদ শিল্পী, স্বত্ব, মূল্য, উৎসর্গ ইত্যাদি বিষয়গুলো সন্নিবেশিত করা হয়েছে। বাড়তি পাওনা হিসেবে রয়েছে প্রতিটি বইয়ের মুখবন্ধ। বদরুদ্দীন উমর লিখিত সেইসব মুখবন্ধও একটি একটি সুখপাঠ্য, তথ্য ও তত্ত্ববহুল প্রবন্ধ। তাতে রয়েছে ইতিহাসেরও উপাদান। ৩৬৩ পৃষ্ঠার বৃহৎ কলেবরের এ বইটি প্রকাশ করেছে সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ‘শ্রাবণ’। এ ধরনের বই সাধারণত ব্যবসা-সফল হয় না, তবুও কাজটি করে শ্রাবণের প্রকাশক রবীন আহসান দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। বইটির প্রচ্ছদও এঁকেছেন প্রকাশক নিজেই। দাম রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা।
দেশের যারা প্রথম সারির লেখক, তাদের লেখালেখি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকা লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেকেরই আবশ্যক। কারণ তাদের সৃষ্টিশীল কাজগুলো ইতিহাসেরই উপাদান। সেই ধারণা পাওয়া সম্ভব সাইফুল ইসলাম সম্পাদিত এরকম একটি বইয়ের মাধ্যমে। তিনি ধারাটি শুরু করলেন। আশা করা যায়, অন্যরাও বিশিষ্ট্য লেখকদের বইপুস্তক তথা তাদের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে এরকম কোষগ্রন্থ প্রকাশ করবেন। তাতে উপকৃত হবে উৎসাহী, অনুসন্ধিৎসু গবেষক ও পাঠকবৃন্দ।

‘বইটি হচ্ছে আমাদের কালের একজন প্রধান লেখকের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে’
মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম, স¤পাদক
বিভিন্ন কারণে বদরুদ্দীন উমরের রচনাবলীর খোঁজখবর নেয়া দরকার। জাতীয় কর্তব্যবোধ থেকেও কোনো বড় লেখকের রচনাবলীর পরিচয় জানা আবশ্যক। কেননা জাতীয় মন একজন বড় লেখকের রচনাবলীতে যত গভীরভাবে প্রতিফলিত হয় অন্যত্র তা হয় না। এ জন্য বড় লেখকের রচনা বড় জাতি গঠনের সহায়ক। বদরুদ্দীন উমর নিজেই তাঁর অনেক গ্রন্থের কথা ভুলে গেছেন। কাজেই কাজটি সম্পন্ন করার ইচ্ছে আমার মধ্যে প্রবল হয়। আমার পরিকল্পনার কথা বললে তিনি প্রথমে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেননা এটা এক রকম গবেষণাধর্মী কাজ এবং এক্ষেত্রে এ পরিকল্পনাটি একেবারে নতুন। এরকম পরিকল্পনায় আগে বাংলা ভাষায় কেনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানি না। এই পরিকল্পনায় বদরুদ্দীন উমরের গ্রন্থাবলীর কুলের খবর পাওয়া যাবে। বইটি হচ্ছে আমাদের কালের একজন প্রধান লেখকের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে। গবেষক ছাড়াও উৎসাহী অনুসন্ধিৎসু সাধারণ পাঠকদেরও এই বইটি কাজে লাগতে পারে।


বদরুদ্দীন উমরের গ্রন্থ পরিচয়

সম্পাদনা : মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম
প্রকাশক  : শ্রাবণ
প্রচ্ছদ  : রবীন আহসান
পৃষ্ঠা  : ৩৬৩
মূল্য : ৪০০ টাকা

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
সাহিত্য সংস্কৃতি
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.
বর্তমান সংথ্যা
পুরানো সংথ্যা
Click to see Archive
Doshdik
 
 
 
Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive