Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২৫ ১৪ই অগ্রহায়ন, ১৪২৫ ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
নামেই বিমানবন্দর : উড়ছে না উড়োজাহাজ  

অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ছে। তাই বিমানবন্দরগুলোর উপযোগিতার প্রশ্নও সামনে চলে আসছে। এই পরিস্থিতি সামনে রেখে অনুসন্ধান চালায় সাপ্তাহিক। দেশে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহনের জন্য রয়েছে ৭টি বিমানবন্দর। এ ছাড়াও আছে ৫টি স্টল বিমানবন্দর। এই ১২টি বিমানবন্দর সরকারি কার্যক্রমের আওতায় সচল আছে। কিন্তু সাপ্তাহিক-এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকাংশ বিমানবন্দরের রানওয়ে অচল, জীর্ণদশা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। তাই স্বাভাবিকভাবেই উড়ছে না উড়োজাহাজ। কোনো কোনো বিমানবন্দর দেখে বোঝার উপায় নেই। এটা কি সবুজ বিরানভূমি না বিস্তৃত ধানক্ষেত? বন্দরে বন্দরে ঘুরে দেখা যায়, কোনো কর্মচঞ্চলতা নেই। কিন্তু কর্মী আছে। এরা মাসে মাসে সরকার থেকে মাইনে পায়। কিন্তু তাদের কোনো কাজ নেই। এই কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যাও কম নয়। দেশজুড়ে অভ্যন্তরীন বিমানবন্দরগুলোর চালচিত্রের অনুসন্ধান করেছেন শরিফুল ইসলাম পলাশ, সৈয়দ রুমী, দেবাশীষ দেবু, সায়েম সাবু, আল মামুন খান, আ ফ ম আব্দুল হাই এবং মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন

 

তেজগাঁও বিমানবন্দর
আটকে আছে সিদ্ধান্তহীনতায়
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে তেজগাঁও বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি এখন আর উড়োজাহাজ ওঠানামার  উপযোগী নেই। বিমান নয়, মাঝেমধ্যে কিছু হেলিকপ্টার ওঠানামা করে। কিন্তু সরকারি হিসাবে  অর্থাৎ কাগজে-কলমে এখনো বিমানবন্দর হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তেজগাঁওকে। যে কারণে তেজগাঁও, শুলশান এলাকায় নিয়ম অনুযায়ী ছয় তলার বেশি উঁচু ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। সুবিধা ভোগ করতে না পারলেও মানতে হচ্ছে বিধিনিষেধ।
১৯৪১ সালে এই বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৪৩ সালে নির্মাণাধীন তেজগাঁও বিমানবন্দরে একটি হালকা যুদ্ধবিমান অবতরণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকরা আকাশপথে যুদ্ধের জন্য এই বিমানবন্দর নির্মাণ করে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি বেসামরিক বিমান পরিবহন বন্দর হিসেবে চালু হয়। ১৯৮১ সালে বর্তমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি দেশের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ১৯৮১ সালে নতুন বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তেজগাঁও বিমানবন্দরটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।
তেজগাঁও বিমানবন্দরটি এখনো সরকারিভাবে বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃত হলেও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ওঠানামার কাজেই এটি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া দু’-একটি বেসরকারি উড়োজাহাজ প্রশিক্ষণ কোম্পানি এটিকে ব্যবহার করে থাকে। 
সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বিমানবন্দরটিকে শুধুমাত্র হেলিপ্যাড হিসেবে ঘোষণা করে ঐ বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নিতে বলেছে। তবে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন ঐতিহ্য আর জরুরি অবস্থার কথা মাথায় রেখে তেজগাঁও বিমানবন্দরটিকে টিকিয়ে রাখা দরকার।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর (অব.) ইকবাল হোসাইন সাপ্তাহিক-কে বলেন, ‘একটি বিমানবন্দরকে কখনোই নষ্ট করে ফেলা ঠিক নয়। তেজগাঁও বিমানবন্দরের টেক অব ফানেল, এ্যাপ্রোচ ফানেল এলাকায় অনেক ভবন তৈরি হওয়ায় বর্তমানে উড়োজাহাজ অবতরণ কিংবা উড্ডয়ন ঝুঁকিপূর্ণ। তবে জরুরি ভিত্তিতে কোনো উড়োজাহাজ নামার জন্য বিমানবন্দরটি রাখা যেতে পারে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো উড়োজাহাজ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পারে কিংবা কাছাকাছি বিমানবন্দরে যাওয়ার মতো জ্বালানি না থাকলে সেটি এই বিমানবন্দরকে ব্যবহার করতে পারে। 
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী বিমানবন্দরটির বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

শমসেরনগর বিমানবন্দর
চালু হয়নি তিন যুগেও
১৯৪২ সালে ব্রিটিশরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বৃহৎ যে দুটি বিমানবন্দর নির্মাণ করেছিল তার একটি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমসেরনগর বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটির নামকরণ করা হয় ‘দিলজান্দ বন্দর’। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে নামটি পরিবর্তন করা হয়। ৬২২ একর ভূমিতে স্থাপিত এ বিমানবন্দরটি ‘শমসেরনগর বিমানবন্দর’ হিসেবে পরিচিত। ৩ হাজার ৮ ফুট দৈর্ঘ্যরে রানওয়ের এ বিমানবন্দরে প্রথমে ওরিয়েন্টাল এয়ার সার্ভিস এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হয়। স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (চওঅ)-এর নিয়মিত বিমান ফ্লাইট ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে ওঠানামা করত এখানে।
১৯৬৮ সালে বিমান চলাচল বন্ধ হয়। এরপর থেকে ৪৩ বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে ঐতিহাসিক  বিমানবন্দরটি। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন নিদর্শন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
১৯৭৫ সালে এখানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি ইউনিট খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে চালু করা হয় বার্ষিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বর্তমানে শুধুমাত্র বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টার ওঠানামা করছে। বিমান বাহিনী বন্দরের জমিতে গড়ে তুলেছে কৃষি খামার। বিমান বাহিনীর রিক্রুটমেন্ট অফিস খোলা হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে রানওয়ের অল্প কিছু অংশ।
১৯৯৫ সালে বেসরকারিভাবে এ্যারো বেঙ্গল এয়ার সার্ভিসের ফ্লাইট চালু করা হয়। শমসেরনগর থেকে ঢাকা তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দরে অবতরণ করত। বিমান চলাচলের জন্য শমসেরনগর বিমান বন্দরটিকে সংস্কার করা হয়। বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার পর অঞ্চলের মানুষ সহজে ঢাকা যাতায়াত করত। শমসেরনগর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া ছিল ১২০০ টাকা। কিন্তু শমসেরনগর বিমানবন্দর থেকে পুরনো বিমান চালুর পর যাত্রীদের মাঝে দেখা দেয় অসন্তোষ। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে এ ফ্লাইট সার্ভিসটি যাত্রী আকৃষ্ট করতে পারেনি। বিমান বন্দরটি চালুর ব্যাপারে আর কোনো  উদ্যোগ নেয়নি সরকার।
মৌলভীবাজার ডেপুটি কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সাপ্তাহিক-কে বলেন, শমসেরনগর এয়ারপোর্টে বর্তমানে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ চলছে, পরিত্যক্ত নয় বলে দাবি করেন। এটিকে সংস্কার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এয়ারপোর্টের কোনো কাগজপত্র নেই। কর্র্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে সংস্কার করে এটি চালু করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, বিমানবন্দরটি লাভজনক হলে সরকার এটি চালু করবে। তিনি মনে করেন, প্রাচীন বিমানবন্দরটি চালু করা প্রয়োজন।


খানজাহান আলী বিমানবন্দর
মাটি ভরাট করতেই ১৫ বছর

১৫ বছর পূর্বে জমিগ্রহণ করে মাটি ভরাট করা হয়। বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দরের কাজের বাস্তবায়ন হয়েছে ঐ পর্যন্তই। চালু হয়নি পুরো দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিতীয় এই বন্দরটি। বাগেরহাটে বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ কেন সম্পন্ন হচ্ছে নাÑ সে প্রশ্নের সদুত্তর এক দশকেও মেলেনি।
পাকিস্তান আমলে খুলনায় প্রথম বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৬১ সালে খুলনা মহানগরীর ১৭ কিলোমিটার দূরে ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালীতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা জরিপ করা হয়। ১৯৬৮ সালে সে উদ্যোগ বদলে তেলিগাতিতে বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। জমি অধিগ্রহণ করার পরও রহস্যজনক কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। আশির দশকে তৃতীয় দফায় বাগেরহাটের কাটাখালীতে স্টল বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
১৯৯৫ সালে খুলনা-মংলা মহাসড়কের মধ্যবর্তী রামপাল উপজেলার ধলদাহ-ঝালবাড়ি মৌজায় প্রাথমিকভাবে সরকার ৯৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ১৯৯৬ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘খানজাহান আলী স্টল বিমানবন্দর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেই বছর জুন মাসে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে জমি হস্তান্তর করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় টাকার যোগান না থাকায় সে সময় নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি।
১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মাটি ভরাট শুরু করে। ঐ সময় স্টল বিমানবন্দর নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তৎকালীন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের তদারকিতে ফয়লা নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি তুলে বিমানবন্দরের মাটি ভরাট কাজ আংশিক সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে স্টল বিমানবন্দরের চিন্তা বাদ দিয়ে মাঝারি আকারের বিমান ওঠানামার পরিকল্পনা নেয়। এ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারিত হয় ৮৩ কোটি টাকা। প্রাক্কলন অনুযায়ী অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের কাজ আবার শুরু হয়। মাত্র সাড়ে ১০ কোটি টাকার মাটির কাজ করেই সার্বিক উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে।
দীর্ঘ এক যুগ সময় পার হলেও বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ আজো শেষ হয়নি। ২০০০ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গণমানুষের প্রাণের দাবি ‘খানজাহান আলী বিমানবন্দর’ নির্মাণে কোনো বরাদ্দ দেননি দেশের নীতিনির্ধারকরা।
২০০৫ সালের ২২ এপ্রিল বিএনপি-জোট সরকারের কাছে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ শেষ করতে আবেদন জানায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা চলতি বছরে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে তাদের রিপোর্ট জমা দেন। রিপোর্ট পাবার পর এ নিয়ে সচিবালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নতুন করে প্রকল্প তৈরি করে প্লানিং কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এরপর সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে এই বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশার পালে এখনো হাওয়া লাগেনি।

 

রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর
হচ্ছে-হবে’র বৃত্তে
রাজশাহীতে রয়েছে হযরত শাহ মখদুম (রহঃ) বিমানবন্দর। রাজশাহী শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই বিমানবন্দর। রাজশাহীর নওহাটায় ১৯৮৪ সালের ১ অক্টোবর রাজশাহী বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিভিন্ন সঙ্কট আর সীমাবদ্ধবতার মাঝেও দু’দশক ধরে বিমান উড়েছে ঐ বন্দরে। বিমানবন্দরটি ভূমিকা রাখতে পেরেছে ঐ অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়নে। বিমানের আধুনিকায়নের অভাব ও সময়মতো চলাচল করতে না পারার কারণে যাত্রী কমতে থাকে। ২০০৭ সালের ২০ জানুয়ারি যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকেই অনেকটা পরিত্যক্ত বিমান বন্দরটি। আকাশপথে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় চলাচল সহজ করার জন্য ঐ বিমান বন্দরটি পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে। কিন্তু ঐ রুটে বিমান চালাতে বেসরকারি সংস্থাগুলোর আগ্রহ না থাকার কারণে বিমান উড়ছে না। সরকারিভাবে এ বিমান বন্দরটিকে পূর্ণতা দিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
প্রায় সাড়ে তিন বছর বন্ধ থাকার পর রাজশাহী বিমানবন্দর আবার সচল হবার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। বেসরকারি বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমী লিমিটেড আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিমান চালানোর জন্য। আগামী বছর থেকে পুরোদমে শুরু হবে ঐ রুটে বিমান চলাচলÑ এমন আশার বাণী শোনা যাচ্ছে।
গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান সাপ্তাহিক-কে বলেন, ‘গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমীর উদ্যোগে রাজশাহী-ঢাকা বিমান সার্ভিস শিগগিরই শুরু হচ্ছে। প্রথমদিকে আমেরিকার তৈরি উন্নতমানের পাঁচটি আধুনিক বিমান এ সার্ভিসে নিয়োজিত থাকবে। বিমানগুলো দেশি- বিদেশি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ করবে। সেই সঙ্গে রাজশাহী-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন করবে। আগামী বছর একটি এভিয়েশন কলেজ এবং মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতায় বিমানের যন্ত্রাংশ মেরামতের একটি কারখানা স্থাপন করা হবে।’
রাজশাহীর সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সাপ্তাহিক-কে বলেন, ‘জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা শুরুতে ৬ টি প্রশিক্ষণ বিমান থাকবে পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য। এখানে প্রতিবছর গড়ে একশ দেশি ও বিদেশি বৈমানিককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে সম্ভাব্যতা যাচাই করে ২টি ছোট্ট যাত্রীবাহী বিমান ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল  করবে। যাতে করে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীসহ অন্যরা অল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। বিমান রাখার জন্য ইতোমধ্যে বন্দরে হ্যাঙ্গার নির্মাণের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শাহ মখদুম বিমানবন্দর পূর্ণতা পাবে আগামী বছর।’

 

সৈয়দপুর বিমানবন্দর
বন্ধ চলাচল

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্ত্র ও সৈন্যবাহিনী বিমানে ওঠানামার জন্য পাকিস্তানি সরকার সৈয়দপুর বিমানবন্দর নির্মাণ করে। ১৯৭৯ সালের ৫ জুলাই সৈয়দপুর বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৮০০ ফিটে সম্প্রসারণ করা হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে এটিকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর হতে দুই যুগের বেশি সময় ধরে বিমান ওঠানামা করেছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের ৮৩ সিটের একটি এফ-২৮ এয়ারক্রাফট সপ্তাহে একদিন ঢাকা-সৈয়দপুর-রাজশাহী রুটে চলাচল করে। পরে চলাচল সপ্তাহে দু’দিন এবং পরবর্তীতে সাতদিন করা হয়। ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি লোকসানের অজুহাতে উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জনপদের একমাত্র চালু বিমানবন্দরে বন্ধ করে দেয়া হয় বিমান চলাচল। বিমানের সব কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়া হয় ।
বেসরকারি এয়ারলাইন্স রয়েল বেঙ্গল এয়ারওয়েজ ২০০৮ সালের ২৬ আগস্ট ৩৬ সিটের একটি ড্যাসএইচ এয়ারক্রাফট চালু করে এই রুটে। পরবর্তীতে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একই ধরনের আরেকটি এয়ারক্রাফট এই রুটে যুক্ত হয়।
২০০৯ সালের ২৮ জানুয়ারি বন্ধ হয়ে যায় উড়ালপথের শেষ বাহনটিও। প্রায় দেড় বছর ধরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামা করছে না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কিছু বিমান, সেনা ও বিমানবাহিনীর এয়ারক্রাফট ওঠানামা করছে ও নেপালের বিমানকে সংকেত দেয়া হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ব্যয় হচ্ছে সরকারি অর্থ।
বিমানবন্দর ম্যানেজার শহীদুল আলম চৌধুরী সাপ্তাহিক-কে জানান, সরকার উদ্যোগ নিলে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো বিমান বন্দরটি ব্যবহার করতে পারে। প্রায়শই বিশেষ কিছু বিমান, সেনা ও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন এয়ারক্রাফট ওঠানামা করছে। সিভিল এভিয়েশনের ৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো এখানে কাজ করছে।’


ঈশ্বরদী বিমানবন্দর
বন্ধ ১৩ বছর ধরে

প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা থাকার পরও ১৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। বিমান চলাচলের রানওয়ে দিয়ে চলত গরু-মহিষের গাড়ি। গরু-ছাগল চরে বেড়াত রানওয়েতে। বর্তমানে বিমান বন্দরটি বাংলাদেশ মিলিটারি ফার্ম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। চালু হচ্ছে না বিমান বন্দরটি।
১৯৬০ সালে ৪১২ একর জমির ওপর শুরু হয় ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ। প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে রানওয়ে তৈরি করে ডাকোটা ডিসি-৩ বিমান চালু করা হয়। কংক্রিটের রানওয়ে তৈরির পর ডিসি-৩ বিমান বন্ধ করে ফকার-এফ-২৭ বিমান চালু করা হয় ১৯৬৬ সালে। প্রথমদিকে উত্তরবঙ্গে জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে আমেরিকান সি-১৩০ বিমানও ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ওঠানামা করত।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭২ সালে সংস্কারের পর  বিমানবন্দরটি ঈশ্বরদী-ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটে প্রথমে ডাকোটা ডিসি-৩ এবং পরে ফকার-এফ-২৭ বিমান নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৪ সালে এরশাদ আমলে পার্শ্ববর্তী রাজশাহী বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর অল্পসংখ্যক আসন দিয়ে ঢাকা-রাজশাহী-ঈশ্বরদী রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট চালু রাখা হয়। ১৯৮৭ সালে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয় লোকসানের নানা অজুহাতে।
প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর ঈশ্বরদীসহ উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দাবির মুখে বিএনপি সরকার প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আবার বিমানবন্দরটি ১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই চালু করে। সপ্তাহে দু’দিন ঢাকা-রাজশাহী-ঈশ্বরদী রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল করত। এভাবে স্যালাইন দিয়ে এই রুটে বিমান চলাচল অব্যাহত রাখা হয় প্রায় তিন বছর। ১৯৯৬ সালের ৩ নবেম্বর লোকসানের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঈশ্বরদীতে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকায় এবং বন্দরের জমি স্থানীয়ভাবে চাষাবাদ হওয়ায় কৃষকরা রানওয়েতে ধান মাড়াই, শুকানোসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছে।
প্রায় ১৩ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর আবারো চালুর দাবি উঠেছে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। ঈশ্বরদী ইপিজেডের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাপ্তাহিক-কে জানান, ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি চালু করা হলে দেশি ও বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তারা এ ইপিজেডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন। আকাশপথের অভাবে তাদের সড়কপথে আসতে অনেক সময় লাগে বলে এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন।


ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর
সচল তবে সাধারণের জন্য নয়

১৯৩৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর স্থাপন করা হয়। জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে পীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও রোডের মাদারগঞ্জে ১৮৮ একর জমিতে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর স্থাপিত হয়। সেই সময় ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরে একসঙ্গে ১০টি যুদ্ধবিমান লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর যাত্রী স্বল্পতা ও লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবার কারণে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ঐ অঞ্চলের জনগণের দাবির মুখে ১৯৯৪ সালে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ে, অফিস ভবন, কাঁটাতারের বেড়া ও বৈদ্যুতিক তারের লাইন মেরামত করা হয়। বিমান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয় ঐ স্টল বিমানবন্দরকে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সরকারি অর্থ ব্যয় করার পরও  বিমান বন্দরটি আর চালু করা হয়নি।
২০০৭ সালের ২ ফেব্র“য়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রংপুর সার্কিট হাউজে উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠকে ঠাকুরগাঁও, সৈয়দপুরসহ উত্তরবঙ্গের বন্ধ থাকা সকল বিমানবন্দর চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গৃহীত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তব রূপ পায়নি। যে কারণে বর্তমানে অনেকটাই পরিত্যক্ত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর। ঠাকুরগাঁওয়ের আকাশে শুভ্র বলাকার মতো ডানা মেলবে বিমান। এমনটি এখন শুধুই স্বপ্ন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পরিত্যক্ত থাকার পর ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর ফের চালু হয়েছে। তবে যাত্রী পরিবহনের জন্য নয়। সামরিক বাহিনীর নিজেদের প্রয়োজনে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আপদকালীন মুহূর্তের উপযোগিতা বিবেচনা করে পুনরায় চালু করেছে।
বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর মঞ্জুর আলম সাপ্তাহিক-কে বলেন, ইতোপূর্বে সংস্কার করা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরে সামরিক বাহিনীর বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করা হবে। তবে বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় বিমান চলাচল শুরু করতে পারে। বিমানবন্দরটি বিমান চলাচলের উপযোগী রয়েছে।


বরিশাল বিমানবন্দর
বসে বসে গুনছে বেতন

২০০৬ সালের ১১ নবেম্বর বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে বিমান চলাচল। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গুটিয়ে নেয়া হয় এখানকার কার্যক্রম। বন্ধ করে দেয়া হয় বিমানের বরিশাল অফিস। সেই থেকে অলস পড়ে আছে বরিশাল বিমানবন্দর। নেই যাত্রী, ব্যস্ততা আর প্রাণচাঞ্চল্য। ফের কবে বরিশাল বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হবে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ । বর্তমানে কোনো আয় নেই। অথচ প্রতিবছর বসে বসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন গুনছেন প্রায় কোটি টাকা। অন্যদিকে অব্যবহৃত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রানওয়েসহ বিমানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
১৯৭৯ সালের ২৩ নবেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্টল পোর্ট থেকে উন্নীত করে বরিশালে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর স্থাপনের ঘোষণা দেন। বিএনপির শাসনামলে ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে একনেকের বৈঠকে অনুমোদন পায় বরিশাল বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প। সম্পূর্র্ণ দেশীয় অর্থে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চলাচল উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন শুরু করে বেসরকারি জিএমজি, এয়ার পারাবত ও এ্যারো বেঙ্গল। বিমানবন্দরটি চালুর পরই বিএনপি সরকারের সময় যাত্রী সঙ্কটে সাময়িকভাবে বন্ধ হয় বিমান চলাচল। প্রথম ধাক্কা সামলে উঠলেও ১৯৯৬ সালে পরপর দু’বার বন্ধ হয় বিমান চলাচল। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলেছে আরো দু’বছর। ১৯৯৮ সালের ২১ আগস্ট লোকসানের কারণে আরেক বন্ধ হয়েছে ঢাকা-বরিশাল রুট।
২০০৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিমানের ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। বিমান চলাচল শুরুর সঙ্গেই রানওয়ে ১ হাজার ফুট বাড়িয়ে ৬ হাজার ফুট করা হয়। এতে এটিপি এবং এফ-২৮ বিমান চলে। কিন্তু বার বার টালবাহানা করা হয় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নিয়ে। ২০০৬ সালে ১৬ নবেম্বর বাংলাদেশ বিমানের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন)-এর নির্দেশে বিমানের সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়। পরে গুটিয়ে নেয়া হয় বিমানের আঞ্চলিক অফিসও।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রানওয়ে। শ্যাওলা আর ঝোপঝাড় বেড়ে ঢেকে ফেলেছে রানওয়ের বিভিন্ন অংশ। প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা রানওয়ের চারপাশে জঙ্গল। বন্দরের মূল ভবন ও ভিআইপি বিশ্রামাগারের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন্দরের চারপাশের কাঁটাতারের বেড়া উধাও হয়ে যাচ্ছে। গরু-ছাগল আর বহিরাগতদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র এখন ঐ বিমানবন্দর।
বিমানবন্দরে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কর্মরত ৩৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ১৫ বছর ধরে সুবিধা বঞ্চিত। দৈনন্দিন কাজের মজুরি ছাড়া তাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না।
বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হানিফ গাজী সাপ্তাহিক-কে বলেছেন, বরিশাল বিমানবন্দরে শুরু হচ্ছে ফ্লাইং ক্লাবের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। ঐ প্রশিক্ষণ শুরু হলে বরিশাল বিমানবন্দর কিছুদিনের জন্য প্রাণ ফিরে পাবে। সিভিল এ্যাভিয়েশন থেকে ফ্লাইং ক্লাবকে প্রশিক্ষণের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

কুমিল্লা বিমানবন্দর
কাজ শুধু সংকেত প্রেরণ

কেবলমাত্র রানওয়ে সংস্কার করে চালু করা যেত অভ্যন্তরীণ রুটে স্টল বিমান চলাচল। কলকাতা ও আগরতলাসহ রুটেও বিমান চালনোর সম্ভাবনা ছিল। যাত্রীরা নির্বিঘেœ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচলের সুযোগ পেত। নবগঠিত কুমিল্লা ইপিজেড ও জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও বিমানবন্দরটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারত। তার পরও প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে আছে কুমিল্লা বিমানবন্দর।
সূত্র জানায়, দেশের সাতটি স্টল বিমানবন্দরের মধ্যে অন্যতম কুমিল্লা বিমানবন্দর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত হয় কুমিল্লা বিমানবন্দর। সেই থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে নিয়মিত বিমান চলাচল করত। ১৯৮৬ সালের পর শুরুতেই বন্ধ ঘোষণা করা কুমিল্লা বিমানবন্দর।
কুমিল্লা বিমানবন্দরে কন্ট্রোল টাওয়ার, নেভিগেশন ফ্যাসিলিটিজ, এয়ার কমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি, ভিএইচএফ সেট, ফায়ার স্টেশন, ফায়ার সার্ভিসসহ প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। রয়েছে প্রয়োজনীয় জনবল। বিমান চলাচলের জন্য সংকেত দেয়ার কাজ করা হচ্ছে। আরো আট কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বাধুনিক বিমান পথনির্দেশক (ভিউআর) এবং বিমানের দূরত্ব মাপক ডিএনই স্থাপন করা হচ্ছে। দায়িত্বরতদের বেতন আর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গচ্চা যাচ্ছে টাকা। উড়ছে না কেবল বিমান। সরকারিভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেই বলে কুমিল্লা বিমানবন্দরে বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচল কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। গত ১৪ বছরে পরিপূর্ণ রূপ নিয়েও এই বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা করেনি।
সাপ্তাহিক-এর সঙ্গে আলাপকালে কুমিল্লা বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন যোগাযোগ প্রকৌশলী আবদুল গনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ, আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল বন্ধ হয়েছে। কিন্তু কাজের পরিধি কমেনি। বর্তমানে কুমিল্লা বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী সব বিমানকে আকাশপথের সঙ্কেত পাঠানো হয়। কুমিল্লা বিমানবন্দরের পথনির্দেশক সংকেত নিয়ে ভারতের আগরতলা ও গৌহাটি বিমানবন্দরে চলাচল করে। ঐ খাত থেকে কুমিল্লা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসে আয় করে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। বিমানবন্দরকে লাভজনক করতে এবং বন্ধ রুট চালু করতে শুধু রানওয়ে মেরামত করতে হবে। তাহলেই ৩০ থেকে ৮০ সিটের বিমান ওঠানামা করা সম্ভব হবে। এখানে জনবলও রয়েছে।’

 

কক্সবাজার বিমানবন্দর
শুধু নেই আর নেই

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার প্রথম বিমানবন্দরটি নির্মাণ করেছিল। যুদ্ধের পর এটি পরিত্যক্ত ছিল। সংস্কার করে বাণিজ্যিকভাবে ১৯৫৬ সালে আবার চালু করা হয়। ওই সময় পিআইএর বিমান আসত। এরপর আবার বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৭২ সাল থেকে আবার ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়। ওই সময় বিমানের ফ্লাইট যাতায়াত করত সপ্তাহে একদিন। পর্যটনের অফ সিজনে যাতায়াত করত না। গত আটত্রিশ বছরে বিমানের ফ্লাইট বেড়েছে একটি। এখন দুটি ফ্লাইট যাতায়াত করছে। ৫ থেকে ৬ বছর ধরে বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা আবার নিয়মিত হয়েছে জিএমজি চালু হওয়ার পর। সাত বছর ধরে কার্গো চলছে। এখন নতুন আরো একটি এসেছে।

স্ক্যানার মেশিন নেই
যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশির জন্য এখানে কোনো স্ক্যানার মেশিন নেই। এতে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা আতঙ্কিত থাকে। স্ক্যানার মেশিন না থাকায় তাদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। যাত্রীদের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে প্রায় সব লাগেজ পরীক্ষা করতে হয়। এতে স্বল্পসংখ্যক কর্মী নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় বিমান উড্ডয়নও বিলম্বিত হয়।
বর্তমানে ৩টি পরিবহন সংস্থা কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন করছে। বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। জিএমজি এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ৩টি এবং ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ সপ্তাহে ৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন। স্ক্যানার মেশিনের অভাবে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাত্রীবাহী বিমান ছাড়াও কক্সবাজার বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৫টি এয়ার কার্গো মালামাল পরিবহন করে। এয়ারপোর্টে স্ক্যানার মেশিন না থাকায় এসব মাল স্ক্যান করা যাচ্ছে না। এতে যে কোনো অবৈধ মালামাল পরিবহনের ঝুঁকি থেকে যায়।

নিরাপত্তার অভাব
কক্সবাজার বিমানবন্দরের বেশিরভাগ এলাকা এখনো অরক্ষিত। রানওয়ের অধিকাংশ এলাকায় সীমানা বেষ্টনী নেই। বিমানবন্দরে ঢুকে পড়ছে গরু-ছাগল। অবাঞ্ছিত লোকজনের যাতায়াতও চলে রানওয়ের ভেতর দিয়ে। বিমানবন্দরের প্রায় ৪০ একর ভূমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। এ ভূমি উদ্ধারেও নেই কোনো উদ্যোগ।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার জন্য ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটির কাজেও বিলম্ব হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০২ কেটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। প্রকল্পটির জন্য এখন কনসালটেন্ট নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কোরিয়ার একটি কোম্পানিকে কনসালটেন্ট নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। সূত্র জানায়, এ প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কার্গো বিমান নিয়ে বিপাকে
কক্সবাজার বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত দুটি কার্গো বিমান নিয়ে বিপাকে পড়েছে সিভিল এ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। ৫ বছর ধরে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের দু’দিকে কার্গো বিমান দুটি পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এই কার্গো বিমান দুটি বিমানবন্দরে অবস্থানের জন্য মোটা অঙ্কের চার্জও বাড়ছে। পরিত্যক্ত এই কার্গো বিমান দুটির বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজার থেকে যশোর বিমানবন্দর হয়ে খুলনায় চিংড়িপোনা বহনের জন্য ওটিএল এ্যারো টেকনোলজি লি. ও সুপার এ্যারো লি. নামের দুটি কোম্পানি ইউক্রেন থেকে এই কার্গো বিমান দুটি এনেছিল। কোম্পানি দুটি দেউলিয়া হয়ে কার্গো বিমান ফেলে রেখেই উধাও হয়ে যায়। বর্তমানে ওটি এল এ্যারো টেকনোলজি লি.-এর কার্গো বিমানটি ২০০৫ সালের জুন এবং সুপার এ্যারো লি.-এর মালিকানাধীন বিমানটি ২০০৬ সালের জুন থেকে বিমানবন্দরে পড়ে রয়েছে। বেসরকারি মালিকানাধীন বিমানের অবস্থানের জন্য দৈনিক ২৯০ টাকা করে নাইট স্টে চার্জ হিসেবে এই কার্গো বিমান দুটির নাইট স্টে চার্জ হিসেবে সিভিল এ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের পাওনা ১২ লাখ টাকারও বেশি। কার্গো বিমান দুটির মালিক না পাওয়ায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই টাকা আদায় করতে পারছে না।
বিমান দুটিকে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করলেও ১০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে না বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনাল ভবনের পাশে বিমান দুটি পড়ে থাকায় বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামাসহ নানা প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি হচ্ছে।

বরাদ্দ ৩শ কোটি টাকা
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ, অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের জন্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত এগিয়ে চলছে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজও। ২০১২ সালের মধ্যে এ বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং একই বছর বিমানবন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে আরো আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ৩০২ কোটি টাকার প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। এর মধ্যে সরকার ৫০ ভাগ ব্যয় বহন করবে। বাকি ৫০ ভাগ বহন করবে সিভিল এ্যাভিয়েশন। দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজের জন্য প্রয়োজন হবে আরও ৩/৪শ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, ৩০২ কোটি টাকার কাজ অনুমোদন দেয়া হলেও একবারেই এসব কাজ শেষ হবে না। এটি দুটি পর্যায়ে করা হবে। প্রথম পর্যায়ে করা হবে রানওয়েসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন। এরপর করা হবে টার্মিনাল ভবনের উন্নয়ন। বর্তমানে টার্মিনাল ভবনটি সরিয়ে নেয়া হবে পশ্চিম দিকে। সেখানে আধুনিক টার্মিনাল ভবন করা হবে।
 প্রথম পর্যায়ের কাজ করার জন্য কনসালটেন্সি ফার্ম নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হয়েছে। সেখানে ১৯টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। এখন ওইসব প্রতিষ্ঠানের দরপত্রের মূল্যায়নের জন্য তা বুয়েটের কাছে রয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা যে কনসালটেন্সি ফার্মকে নিয়োগ দেয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করবে, তাদেরই কাজ দেয়া হবে। সূত্র জানায়, কনসালটেন্সি ফার্মই ঠিক করবে বিমানবন্দরের কাজ কেমন করে হবে। তারা উন্নয়নের জন্য কেমন করে কাজ করতে হবে সে ব্যাপারে পরামর্শ দেবে। ডিজাইন ড্রইং করবে। এস্টিমেট দেবে, গুণগত মান রক্ষার ব্যাপারে পরামর্শ দেবে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে গেলে স্থাপনা নির্মাণের জন্য নিয়োগ করা হবে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। এ জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। এই প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে সময় লাগবে কয়েক মাস। চলতি বছরের মধ্যে সরকার বিমানবন্দরের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, ওই কাজ সম্পন্ন হলে এটি হবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
 
জনবল সঙ্কট
বন্দরে এখন ফ্লাইট বাড়লেও জনবল বাড়ছে না। জনবল সঙ্কটের কারণে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনুমোদিত জনবল সেখানে ৬৯ জন। আছে মাত্র ৩০ জন। ৩৯ জনই নেই। সকাল সাতটায় বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয়। এক শিফটের কর্মীরাই আরেক শিফটে কাজ করে। মাঝে মাঝেই ফ্লাইট শিডিউলে সমস্যা দেখা দেয়। তখন কর্মীদের কাজ করা আরো কঠিন হয়ে যায়।

আয় কম, ব্যয় বেশি 
প্রতিদিন ওই বিমানবন্দর থেকে মোট ৮ থেকে ১০টি কার্গো ফ্লাইট চলাচল করে। বিস্মিল্লাহ এ্যাভিয়েশন, ইজি, জুম, বেস্ট এয়ার কার্গো ফ্লাইট অপারেট করছে। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পোনা যায়। অন্য সময়ে বিমানবন্দর তেমন ব্যবহার হয় না। কক্সবাজার বিমানবন্দর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় করার সুযোগ থাকলেও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে তা হচ্ছে না। এখন প্রতিবছর আয় করছে ৬০-৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা খরচ হয় উন্নয়ন কাজে। বিমানবন্দরের আয় থেকে মাসিক ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না। বিমানবন্দরটিতে লোকসান হচ্ছে। সিভিল এ্যাভিয়েশন কেন্দ্রীয় আয় থেকে বিমানবন্দরের খরচ মেটাচ্ছে।

 

ফেনী বিমানবন্দর
দখলদারদের দৌরাত্মের অবসান হয়নি
ফেনী পৌর এলাকার ও পার্শ্ববর্তী ধর্মপুর ইউনিয়নের বিশাল এলাকা জুড়ে স্থাপিত বিমানবন্দরের প্রায় ৩২৫ একর জায়গা পড়ে আছে অরক্ষিত অবস্থায়। ঐ স্থানে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) স্থাপনের ঘোষণা দিলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের বাঁধার মুখে সরকার পিছু হটেছে। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর।
জানা গেছে, পৌরসভার সোনাপুর, সুলতানপুর ও ধর্মপুর ইউনিয়নের বারাহিপুর ও আশপাশের এলাকায় স্থাপিত হয়েছিল ফেনী বিমানবন্দর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ছিল এশিয়ার বৃহত্তম বিমানবন্দর। অবশ্য যুদ্ধপরবর্তী সময় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিমানবন্দরটি ভারত সীমান্তের অতি নিকটে হওবার কারণে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মালিকীয় ঐ জমি পড়ে আছে অরক্ষিত অবস্থায়। আশপাশের ভূমিদস্যুরা এখানে বাড়িঘর নির্মাণ, রাইচ মিল, কৃষি আবাদ ও খামার গড়ে তুলে শত শত একর জমি জবর দখল করে রাখে। বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সড়কের ইট খুলেও লুটপাট করে নিয়ে যায়। এখনো দখলদারদের দৌরাত্মের অবসান হয়নি।
বিগত ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী ৪৯ একর জমির ওপর ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে দেশের দ্বিতীয় গার্লস ক্যাডেট কলেজ। ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণে বেগম খালেদা জিয়া এখানে ইপিজেড করার কথা কয়েক দফা ঘোষণা দিলেও তার সরকারের আমলে তা বাস্তবায়ন হয়নি। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ফেব্র“য়ারিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ আহমেদ ফেনী সফরে এলে তিনি ঐ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রাথমিকভাবে বিমানবন্দরের তথা এমইএস (মিলিটারি এস্টেট)-এর জায়গা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকার জমি অধিগ্রহণ করে ৫১৬ একর জায়গায় ইপিজেড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। জমি জবরদখলকারী প্রভাবশালী মহল সরকারের ঐ পদক্ষেপ ঠেকাতে উঠেপড়ে লাগে। এক পর্যায়ে ইপিজেডের পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলন শুরু হয়। ঐ দাবিতে ফেনীতে হরতাল, মানববন্ধনসহ পাল্টাপাল্টি অনেক কর্মসূচি পালিত হয়। ঐ ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা এমনকি পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। এক পর্যায়ে আয়তন কমিয়ে মাত্র ৩৭৫ একর জায়গা ইপিজেডের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। সীমানা নির্ধারণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নিলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ইপিজেড বাস্তবায়ন করা যায়নি।
ফলে ভূমিদস্যুদের দখলেই থেকে যায় বিমানবন্দরের শত শত একর জায়গা। ইতোমধ্যে সরকার দেশে আর কোনো ইপিজেড করা হবে না বলে ঘোষণা দেয়ায় জবর দখলকারীরা স্বস্তিতে রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া চলতি বছরের শুরুতে ফেনী সফরে আসলে ফেনীবাসীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত স্থানে ইপিজেড বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়। ঐ সভায় তিনি ইপিজেডের পরিবর্তে স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এসইজেড) স্থাপনের প্রতিশ্র“তি দেন। তারপরও উল্লিখিত ভূমি উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
ফেনী চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জামাল উদ্দিন সরকারকে পেছনে না সরে প্রস্তাবিত ইপিজেড প্রকল্প বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে সাপ্তাহিক-কে বলেন, উল্লিখিত স্থানে ইপিজেড করা হলে একদিকে যেমন সরকারি ভূমি উদ্ধার হবে, অপরদিকে ফেনীসহ আশপাশের এলাকায় শিল্পায়নে ও বেকারত্ব দূরীকরণের নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।


‘বিমানবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় বিমানের সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে’
মইন উদ্দীন খান বাদল
সদস্য
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

সাপ্তাহিক : দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানবন্দরগুলো এভাবে বন্ধ হয়ে যাবার কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?
মইন উদ্দীন খান বাদল :  দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো যাত্রী সঙ্কটে বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের ঐ রুটগুলো গ্রোথ সেন্টারভিত্তিক। যাত্রী কম হয়। যে কারণে এসব রুটে বড় বড় বিমান চালানো যায় না। তাই সেগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় বিমানের সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রতিবছর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
সাপ্তাহিক : বিমানবন্দরগুলো চালু করার জন্য দাবি উঠছে। বলা হচ্ছে ইপিজেডগুলোকে পূর্ণতা  এনে দিতে বিমানবন্দরগুলো চালু করা দরকার।
মইন উদ্দীন খান বাদল : আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বন্ধ বিমানবন্দরগুলো চালু করা হলে দেশের শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। যাত্রী সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে ছোট বা মাঝারি আকারের ২০-২৫ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ারবাস চালু করা যেতে পারে।
সাপ্তাহিক : অদূর ভবিষ্যতে বিমানবন্দর চালু করার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?
মইন উদ্দীন খান বাদল : আমি আশা করছি পরীক্ষামূলকভাবে হলেও বিমানবন্দরগুলো চালু করার চেষ্টা করা হবে। যেসব বিমানবন্দর চলাচলের উপযোগী রয়েছে সেই রুটগুলোর ব্যাপারে চিন্তা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি যদি বেসরকারি সংস্থাগুলো ঐ রুটগুলোতে বিমান চালাতে চায় তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা করা হবে।


‘শুধু শিল্প বাণিজ্য নয় দেশের পর্যটনের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে’
শফিক আলম মেহেদী
সচিব
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

সাপ্তাহিক : দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দরগুলো চালু করার জন্য সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা?
শফিক আলম মেহেদী : দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো চালু করতে মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। বেসরকারি বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আমরা ঐ রুটগুলো চালু করতে সবরকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সাপ্তাহিক : অনেকদিন ধরে পড়ে থাকায় বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার উপযোগী আছে কিনা?
শফিক আলম মেহেদী : বিমানবন্দর ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে। রানওয়ে সংস্কার, জনবল বৃদ্ধি করেই প্রাথমিকভাবে কিছু বিমানবন্দর চালু করা সম্ভব। কারণ বন্ধ হলেও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিমানগুলোকে সিগন্যাল দেয়ার কাজ করা হচ্ছে। আমি মনে করি না যে বিমানবন্দর পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী।
সাপ্তাহিক : বিমান চলাচল শুরু হলে সেটা দেশের শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আপনি মনে করেন কী?
শফিক আলম মেহেদী : দেশের ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে বিমানবন্দর চালুর কোনো বিকল্প দেখছি না। সেই অনুযায়ী দেশের ব্যবসায়ীরা এ জন্য দাবি তুলছেন। শুধু শিল্প-বাণিজ্য নয়, দেশের পর্যটনের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রস্তুতি এবং আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা আশাবাদী এ জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
  • নির্বাচন ২০১৮ -শুভ কিবরিয়া
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive