‘নরসিংদী ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ নং ইউনিটটি হঠাৎ বিকল হয়ে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আজ রবিবার সকাল ৯টার দিকে ওই ইউনিটটি বিকল হয়। এর আগে সম্প্রতি অগ্নিকা-ে ৬ নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। তারও আগে আগুন লেগে ২ নং ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছয়টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে তিনটি ইউনিটই বিকল হয়ে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।’ (শীর্ষ নিউজ ডটকম) (২৫ জুলাই ২০১০, রবিবার ১২.৩৮ মিনিট)
২. ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরকারের মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি’র বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এখানে ৬টি ইউনিট আছে। দুটি ইউনিটের প্রতিটি ৫৫ মেগাওয়াট এবং চারটি ইউনিট প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। এর সর্বমোট ক্ষমতা ৯৫০ মেগাওয়াট। সরকার যখন দেশব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ বা চাহিদার ফারাক ঘোচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে তখন সরকারি মালিকানার এই পাবলিক সেক্টরে ঘটছে একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের ঘটনা। ইতোমধ্যে ৬ নং ইউনিট (২১০ মেগাওয়াট), ৪ নং ইউনিট (২১০ মেগাওয়াট), ২ নং ইউনিট (৫৫ মেগাওয়াট) বিকল অথবা অগ্নিকা-জনিত নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এই সময় ৯৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন বন্ধ হলো সেই প্রশ্নও জাগা স্বাভাবিক। কেন এখানেই বার বার আগুন ধরছে? কেন বিকল হচ্ছে এখানকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র? তাহলে কি সন্দেহ জাগতে পারে না, যারা বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে চায়, যারা দরপত্রবিহীন অধিক দামের চড়া ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায়Ñ তারা কোনো অপতৎপরতায় জড়িত থাকতে পারে?
৩. দেশের প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হচ্ছে, বিকল হচ্ছে। জনগণের মালিকানায়, জনগণের অর্থের এসব জাতীয় প্রতিষ্ঠানে একের পর এক বড় দুর্ঘটনা ঘটছেÑ বার বার। সুতরাং এসব বিষয়ে দ্রুত দৃষ্টি দেয়া দরকার। উচ্চ ক্ষমতার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দরকার। সংসদ সদস্য, বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে অবিলম্বে এসব জনস্বার্থ হানিকর ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা দরকার। দরকার সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। নইলে বার বার সরকারি সম্পদ ধ্বংস হবে। জনস্বার্থ বিঘিœত হবে। সরকারের সকল সু-প্রচেষ্টা বিফলে যাবে।
|