 |
সাপ্তাহিক গত ২২ জুলাই সংখ্যায় নোবেল বিজয় ব্যক্তিত্ব ড. ইউনূসের বেশ বড় একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। আমার মনে হয়, মাত্র এই একটি কারণে সংখ্যাটি বেশ আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ড. ইউনূস এখন শুধু বাংলাদেশের নন, সারা বিশ্বের। এ দেশের মানুষ যতই তার বিরূপ সমালোচনা করুক না কেন, তিনি এখন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের। বিশ্বের যেখানে যান সবাই তার সঙ্গে এ দেশের নামও সমান ভাবে উচ্চারণ করেন। এত বড় একটি সাক্ষাৎকার ছাপানোর জন্য সাপ্তাহিক কর্তৃপক্ষকে নিশ্চয়ই অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। কারণ, এখন তিনি এতই ব্যস্ত যে, সময় দিতে পারেন না সহজে। সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূসের একটা কথা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। কথাটি তার সামাজিকি ব্যবসা সম্পর্কেও প্রযোজ্য বটে। যেমন ‘যে কোনো নতুন জিনিস আসলে লোকে হাসবে, ঠাট্টা করবে, বেকুব বলবে এটাই স্বাভাবিক। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। দ্বিতীয় বলবে যে, এটা অবাস্তব, এটা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’ আমাদের দেশের মানুষদের মধ্যে এর প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। কারণ, তার নোবেল পাওয়াটাকেও অনেকে যে ভালো চোখে দেখেনি! সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি কেউ কেউ। সেটা অবশ্য কোনো বিষয় না। কারণ, সমালোচকরা যুগে যুগেই নাক উঁচু করে থাকে। সাক্ষাৎকারটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তার প্রতি থাকল অনেক অনেক শ্রদ্ধা। আনোয়ার হোসেন চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
প্রসঙ্গ : উন্মাদনা নয় উন্মাদ সাপ্তাহিক-এর বিগত সংখ্যায় গোলাম মোর্তোজার লিখিত ‘উন্মাদনা নয় উন্মাদ’ প্রবন্ধটি পড়ে বড়ই মুগ্ধ হয়েছি। আর আত্মতৃপ্তি লাভ করেছি এ ভেবে যে এখনো এ দেশে কোনো বিষয়কে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণের লোক বিদ্যমান আছে। সত্যি সত্যিই খেলা নিয়ে কারোও মনের আনন্দ বেদনা থাকতেই পারে। তবে একে উপলক্ষ করে যে মারামারি, ভাঙচুর ইত্যাদি কোনো সভ্য সমাজের কাম্য নয়। তবে লেখকের একটি বক্তব্যের সঙ্গে আমার দ্বিমতও রয়েছে। তিনি লিখেছেন ‘আমি পতাকা ওড়ানোর বিরোধী নই’। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ভিনদেশি পতাকা ওড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ বিধায় তার সঙ্গে একমত পোষণ করাটা মনে হয় ঠিক হবে না। যাক পরিশেষে গোলাম মোর্তোজা ভাইকে ধন্যবাদ। মীম, ঢাকা ঃঁষঃঁষৎু@ুধযড়ড়.পড়স
নারী-পুরুষ সমঅধিকার প্রসঙ্গে লিঙ্গভেদে ভিন্ন হলেও নারী এবং পুরুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো সবাই মানুষ। নারী-পুরুষ সমান অধিকার নয়, আমাদের বলা উচিত প্রতিটি মানুষের সমঅধিকার। আমরা নারীদের সমঅধিকার বিষয়ে আন্দোলন করছি অনেক আগে থেকেই। নারীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অনেক সমাবেশ, সেমিনার করছি আমরা। কোন অধিকারের কথা বলছি আমরা? কর্ম, শিক্ষা, স্বাধীনভাবে চলাফেরা, সম্পত্তি নাকি অন্য কিছু? আমরা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব নারীরা তাদের অধিকার পাচ্ছে না। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও আজ কর্মক্ষম। এমন অনেক পরিবার আছে যে পরিবারে নারীর কর্মের অর্থ দ্বারাই সংসার চলে। বিজ্ঞানের এই যুগে নারীরাও আজ লেখাপড়া করছে। একজন নারীর শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। একজন শিক্ষিত নারীই পারে সমাজকে বদলে দিতে। বর্তমানে পুরুষের সমপরিমাণ সম্পত্তির ভাগ পাবে একজন নারী। তবে এটুকু বলতে পারি কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামে আজো নারীরা সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার পায়নি। কারণ ঐ সব গ্রামের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিম্ন পর্যায়ের। ঐ সব গ্রামে সমঅধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রয়োজন শিক্ষা কার্যক্রম। যা আজো পৌঁছায়নি ঐ সব গ্রামে। কিন্তু আজকাল নারী অধিকার নিয়ে এত মাতামাতি করি যা দেখে মনে হয় পুরুষরাই এই দেশে উচ্ছিষ্ট। নারীরা বাড়িতে অনেক কাজ করে বলে আমরা বলি কোনো অধিকারই নেই নারীর। দাসীর মতো খাটে। ঘরের কাজ করেই নারীরা যদি দাসী হয়ে যায় তাহলে পুরুষরাও দাস। পুরুষদের অন্যের অধীনে বাইরে কাজ করতে হয়। নারী নির্যাতনের কথা বেশ ফলাও করে মিডিয়ায় প্রকাশ হয় অথচ পুরুষ নির্যাতনের কোনো খবরই আসে না। নারী-পুরুষ সমান অধিকার, অথচ বাসে নারীদের জন্য আলাদা আসন। প্রতিটি টিকেট কাউন্টারে নারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার। এমন কেন হবে? লেডিস ফার্স্ট বলে আমরা নারীদের সর্বক্ষেত্রে মূল্যায়ন করি আগে। এটাই কি নারী-পুরুষ সমঅধিকারের নমুনা? আমরা নারীদের নিয়ে এতই উচ্চবাচ্য করি যে মাঝেমধ্যে মনে হয় পুরুষতান্ত্রিক নয়, এটা নারীতান্ত্রিক সমাজ। মোঃ মাসুদ রানা আশিক সান্তাহার, ইয়ার্ড কলোনি, বগুড়া
নতুন রেমিটেন্স বাজার আমাদের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার সৌদি আরব, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ আমাদের দেশ থেকে জনশক্তি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। কুয়েত-মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশ জনশক্তি নেয়া বন্ধ রেখেছে। জনশক্তি রপ্তানির এমন দুঃসময়ে ‘জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’ আমাদের একটি সুসংবাদ দিয়েছে। ব্যুরো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুইডেন ফল আহরণের জন্য, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র খনির কাজের জন্য এবং পাপুয়া নিউগিনি নির্মাণ শিল্পের জন্য বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেবে। সুইডেন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং পাপুয়া নিউগিনিতে জনশক্তি রপ্তানির ভালো দিক হচ্ছে, বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানির নতুন ক্ষেত্র পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে দশজন শ্রমিক মিলে যে বেতন পায় উপরোক্ত তিনটি দেশে একজন শ্রমিকই সে বেতন পাবে। সবচেয়ে বড় কথা জনশক্তি রপ্তানিতে আমরা মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে শুরু করলাম। সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করলাম। সম্প্রতি প্রবাসীদের জন্য একটি নতুন বিশেষায়িত ব্যাংক খোলার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। বলা হচ্ছে যারা বিদেশে কাজ করতে যাবে তাদের খুবই স্বল্প সুদে বিনা জামানতে এই ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হবে। এটা একটি খুব ভালো উদ্যোগ। দেশে কিছু খারাপ রিক্রুটিং এজেন্সি এবং দালাল আছে যারা বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের সর্বস্বান্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। মনে রাখা দরকার, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির নিয়ামক শক্তি। তাদের কষ্টার্জিত প্রেরিত রেমিটেন্সই বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছিল এবং এখনো রাখছে। জুনিয়র হাসান, ব্যাংক এশিয়া, বগুড়া
এনজিও নয়, চাই সরকারি উন্নয়নের ধারা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় এনজিওগুলো নানারকমের কর্মকা- পরিচালনা করে। এই উন্নয়ন কর্মকা- কতটা সেবামূলক আর কতটা ব্যবসার উদ্দেশ্যে তা ভুক্তভোগী গ্রামীণ জনগোষ্ঠীই ভালো জানে। ওপর দিয়ে নানা উপায়ে তারা জনসেবার সিলমোহর লাগিয়ে নিচ্ছে নিজেদের এনজিওর গায়ে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা ব্যবসা করে যাচ্ছে। সুদভিত্তিক সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধের শর্তে তারা ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাধারণ মানুষ এসব ঋণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে না। অথচ এই অবস্থা হওয়ার কথা ছিল না। যদি আমাদের সরকার সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নিত। এটা তো পরিষ্কার এনজিওগুলো আমাদের দারিদ্র্য নিয়ে ব্যবসা করতে এসেছে, কিন্তু সরকারি উদ্যোগ কখনো ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না। সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করছে। সে অবস্থা না হয়ে যদি মনে করে এনজিওসমূহ দেশ উদ্ধার করে দেবে তবে তা সরকারের ব্যর্থতা। এনজিওসমূহের বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ থাকায় তদন্তের মাধ্যমে এনজিও নিবন্ধন বাতিল করে দিচ্ছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। আমরা আশা করব এনজিও অপতৎপরতা বন্ধ করে সরকার নিজের উদ্যোগে আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এস এম মাহবুবুর রহমান সুমন, মাইজদী, নোয়াখালী
এ সংখ্যার নির্বাচিত চিঠি জুনিয়র হাসান প্রযতেœ নূরে আলম সিদ্দিকী, সিনিয়র অফিসার, ব্যাংক এশিয়া, বগুড়া |