Logo
 বর্ষ ৩ সংখ্যা ৯ ১লা শ্রাবণ, ১৪১৭ ১৪ জুলাই, ২০১০ 
আপনি এখন পুরোনো সংখ্যায় আছেন ! তারিখ : ১৪ জুলাই, ২০১০
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
 
iforning
প্রসঙ্গ বিআরটিসি : শেখ হাসিনার কল্যাণমুখী কর্মপরিকল্পনার বিপরীতে দুই মন্ত্রী  

মহিউদ্দিন আহমদ

মাস খানেক আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঢাকা মহানগরের জন্য ১০০টি নতুন বাসের উদ্বোধন করলেন, তখন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য তার দরদের আর একটি উদাহরণ দেখলাম। ঢাকা শহরের তীব্র যানজটে সাধারণ মানুষজন কিভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচল করে তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যদের বোঝার কথা নয়। এই ভুক্তভোগীদের মধ্যে আমিও একজন। ঢাকা শহরে আমার বাহন হচ্ছে বাস, সিএনজি, টেম্পো এবং ভাঙাচোরা ট্যাক্সি নামের আজব জিনিসগুলো। এই বাহনগুলো আবার বৃষ্টিবাদলের দিনে হাওয়া হয়ে যায়। বিপন্ন মানুষ দেখলে তাদের ভাড়ার চাহিদাও বেড়ে যায়। তখন দোয়া-দরুদ পড়তে হয় আল্লাহর রহমত কামনা করে; দু’-একটি দেখা গেলেও এসব বাহনের চালকদের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তখন অনুনয়Ñবিনয় করতে হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা, বিআরটিসিকে সদ্য আমদানি করা এ বাসগুলো চালাতে দায়িত্ব দেয়া হয়। বস্তুত বিআরটিসিই এ বাসগুলো চীন থেকে আমদানি করেছিল বলে তখন পত্রপত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলের খবরে জেনেছিলাম।
ঢাকা শহরে চলাচলকারী এসব বাহনের ওপর আমাকে নির্ভর করতে হয়। কারণ আমার কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। চেষ্টা করলে হয়ত একটি গাড়ির মালিক হতে পারতাম। কিন্তু গাড়িওয়ালা বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনদের যখন ড্রাইভারসৃষ্ট সমস্যায় ভুগতে দেখি তখন গাড়ি কেনার সাহসটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারি না। ঢাকা শহরে আমি যে গাড়ি চালাব তার সাহসও পাই না। বিদেশে আমি যতগুলো দেশে কাজ করেছি তার প্রত্যেকটির ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে আমার কাছে। সব মিলিয়ে আট-নয়টি হবে। এর মধ্যে ব্রিটিশ এবং সুইস লাইসেন্স দুটো হচ্ছে ‘ফর লাইফ’। মানে যতদিন জীবিত থাকব ততদিন এই লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাতে পারব। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের কোথাও গাড়ি চালানোর সাহস আমি রাখি না, ঢাকা শহরে তো নয়ই। ওসব দেশে রাস্তায় চলাচলকারী সকলেই আইন-কানুন মেনে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। পথচারী, বাসচালক, ট্যাক্সি ড্রাইভারÑ সকলকেই আইন মনে রেখেই রাস্তায় নামতে হয়। ওই সব দেশে বিনা প্রয়োজনে একটিবারের জন্যও হর্ন বাজানো একটি ট্রাফিক অপরাধ। তাদের যুক্তি, সকলেই যদি আইনকানুন মানবেন তাহলে হর্ন বাজাতে হবে কেন?
ঢাকা শহরে যে গাড়ি চালাতে সাহস করি না তার আর একটি বড় কারণ গাড়ি যে চালাবে, ঢাকা শহরে রাস্তা কোথায়? যে কোনো আধুনিক শহরের মোট এরিয়ার ২২Ñ২৫ শতাংশ রাস্তার জন্য রাখতে হয়। এর বিপরীতে ঢাকা শহরে রাস্তার জন্য জায়গা আছে মাত্র ৮ শতাংশ। এ ৮ শতাংশ রাস্তার সবগুলো আবার গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। অনেক রাস্তার ফুটপাথ নেই, ফুটপাথ থাকলেও তা হকারদের দখলে। রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী, দোকানের সামনের রাস্তা দখল করে সেখানে বিক্রয় সামগ্রীর ‘স্টোরেজ’,Ñরাস্তার যেখানে সেখানে বাস-ট্রাক পার্ক করে রাখা। এসব কারণে ঢাকা শহরে যে ৮ শতাংশ এরিয়ায় রাস্তাঘাট আছে বলে দাবি করা হয় তাÑও পুরো সত্য নয়। এই ৮ শতাংশের অনেকটুকু বেদখলে। তার ওপর ঢাকার রাস্তায় চলে ১২ রকমের যানবাহন, একেবারে কমগতির ঠেলাগাড়ি থেকে দ্রুত গতির বাস-ট্রাক। দুনিয়ার আর কোনো দেশেই একই রাস্তায় এত রকমের যানবাহন চলতে দেয়া হয় না।

২.
শেখ হাসিনার জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির সিরিজে ঢাকার রাস্তায় বিআরটিসির আরো একশটি বাস নামানোটা ঢাকাবাসীর কাছে নন্দিত হয়েছে। কোনো কোনো পত্রিকায় তখন বাসগুলোর গুণগত মান নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু কথা হলো, ভারতীয় টাটা কোম্পানির বা সুইডিশ কোম্পানির ভলভো বাস আমদানি করলে তখনো সমালোচনা হতো। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ‘হারু পার্টি’কে প্রায় সময় দেখা যায়, কিছু রিপোর্টারকে হাত করে এ ধরনের ‘ক্যাম্পেন’ চালাতে। এই ‘ক্যাম্পেন’ এ যদি ‘হারু পার্টি’র লাখ লাখ টাকাও খরচ হয়, তাতে ‘লস’ নেই। ভবিষ্যতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যেন ‘হারু পার্টি’র কথাটা মনে রাখা হয়, সেই ‘মেসেজটি’ দেয়ার জন্যই সাধারণত এই ধরনের ‘ক্যাম্পেন’।
এসব নোংরা ‘ক্যাম্পেন’-এর পরও শেখ হাসিনা যে এই একশটি বাসের নতুন সার্ভিস নিজে উদ্বোধন করলেন, সে জন্য তাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ছাত্র-শিক্ষকের চলাচলের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তিনি আমাদের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজেও কয়েকটি করে বাস উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।
শেখ হাসিনার এসব জনকল্যাণমূলক কাজের বিপরীতে দেখা যাচ্ছে এ দেশেরই একটি ধান্দাবাজ শ্রেণী এই বিআরটিসি বাস সার্ভিসটাকে বন্ধ করে দিতে চাইছে। এই প্রসঙ্গে শুক্রবার ২৫ জুন দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত দুই কলামের খবরের শিরোনামটির প্রতি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ শিরোনামটি হচ্ছে ‘বিআরটিসির বাস সেবা সংকুচিত হচ্ছে : বেসরকারি মালিকদের চাপে ৪৩টি রুট বন্ধ।’ একই দিন ওই একই পত্রিকার দুই নম্বর পৃষ্ঠায় এ বিষয়ের ওপর আরো একটি খবর আছে। এ দীর্ঘ প্রতিবেদনটির শিরোনাম হচ্ছে ‘বিআরটিসির সেবা সংকোচন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার।’ এ খবরটির কয়েকটি প্যারাগ্রাফ খুবই প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করে নিচে উদ্ধৃত করছি।
‘মহাসড়ক থেকে নসিমন, করিমন, ভটভটি তুলে দেয়াসহ ১৬ দফা দাবিতে ঐক্য পরিষদ এই ধর্মঘটের ডাক দিলেও তাদের মূল টার্গেট ছিল সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাস বন্ধ করা। গত বুধবার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে তার দপ্তরে বৈঠকে তাদের দাবির কিছুটা পূরণ হওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ঐক্য পরিষদের নেতারা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল আলোচনার বেশিরভাগ সময়ই বিআরটিসির বরিশালÑমাদারীপুর কাওরাকান্দি ফেরিঘাট পর্যন্ত চলাচলকারী বাস বন্ধের বিষয়েই সোচ্চার ছিলেন মালিক শ্রমিকেরা। বিআরটিসি  কর্তৃপক্ষ তাদের বাসরুট বন্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও এক পর্যায়ে এর থামার স্থান কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন মন্ত্রী। এরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।
বিআরটিসি সূত্র জানায়, গত ১০ বছরে বেসরকারি বাস মালিক শ্রমিকদের চাপে সংস্থাটির অন্তত ৪৩টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বেশ কিছু রুট বন্ধ করে দেয়ার জন্য বেসরকারি বাস মালিকেরা চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
বিআরটিসির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা সদরে ওঠানোÑনামানো না গেলে বিআরটিসির যাত্রী কমে যাবে। তাতে আপনা-আপনিই বাস সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। এর আগেও বিভিন্ন জেলায় এভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বিআরটিসির বাস বন্ধ হয়ে গেছে। এবারো সেই পুরনো কৌশল নেয়া হয়েছে।
গতকালের বৈঠকে অংশ নেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, যোগাযোগ সচিব মোজাম্মেল হক খান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান মেজর (অব) এমএম ইকবাল। মন্ত্রী শাহজাহান খান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনেরও কার্যকরী সভাপতি।’
এই সভায় মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এ রুটে বিআরটিসির বাস কোনো উপজেলা সদরেও থাকতে পারবে না। বিআরটিসির বাস থামবে শুধুমাত্র জেলা শহরে। ‘এ্যাবজেক্ট সারেন্ডার’ আর কারে কয়?

৩.
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন ‘ফুল কেবিনেট মিনিস্টার’। ফুল কেবিনেট মিনিস্টার সৈয়দ আবুল হোসেনও। এই নৌপরিবহনমন্ত্রী সম্পর্কে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে কয়েকটি দৈনিকে যে খবরগুলো প্রকাশিত হয়েছিল তার শিরোনামগুলো এখন লক্ষ্য করুন। দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত শিরোনামটি ছিল ‘নৌমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সংসদীয় কমিটির।’ আর দৈনিক নয়া দিগন্তে ছিল এ শিরোনামÑ ‘নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সংসদীয় কমিটির’
দৈনিক ‘সংবাদ’-এর সংসদীয় বার্তা পরিবেশকের বরাতে প্রকাশিত এই খবরের প্রথম কয়েকটি লাইন ছিল এমনÑ ‘বর্তমান সরকারের কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।’ একটু পর এ খবরের আর কয়েকটি লাইন হচ্ছে এমনÑ ‘সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও কমিটির সদস্যরা বলেছেন, মন্ত্রী শাহজাহান খানের দুর্নীতি কারো অজানা নয়। মন্ত্রীর অত্যাচারে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কাজ করতে পারছে না।
কমিটির বৈঠকে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন, বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি অবহিত নই। বিষয়গুলো দেখার পর আগামী বৈঠকে আলোচনা করব।’
এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর আবছা মনে পড়ছে মন্ত্রী শাহজাহান খান তখন বিআরটিএ সম্পর্কে বলেন, বিআরটিএ তো তারাই চালু করেছেন। সুতরাং বিআরটিএ সম্পর্কে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। কিন্তু তার অত্যাচারে বিআরটিসি কাজ করতে পারছে না। এ অভিযোগের জবাবে তিনি কিছু বলেছেন কি না মনে করতে পারছি না। বিআরটিসি সম্পর্কে কিছু না বললেও এখন কাজে তা দেখিয়ে দিলেন এই ‘পাওয়ারফুল’ মন্ত্রী।
মন্ত্রী শাহজাহান খানকে অবশ্যই একটি গুরুতর প্রশ্ন করা যায়, আপনি কি সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী প্রথম? নাকি প্রথম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি? আপনি যে একই সঙ্গে এমন দুটো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, তাতে কি ‘কনফ্লিকট অব ইন্টারেস্ট’ হচ্ছে না? দেশের মানুষ দেখতে পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে বিআরটিসির সার্ভিস সম্প্রসারিত করে মানুষজনকে সেবা দিতে চাইছেন, সেখানে তারই এক মন্ত্রী এই শাহজাহান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন; তিনি বিআরটিসির সেবা বন্ধ করে দিতে বদ্ধ পরিকর। কয়েক বছর ধরেই তিনি বিআরটিসির বিরুদ্ধে তার এই ‘জেহাদ’ চালিয়ে যাচ্ছেন।
যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেখতে পাচ্ছি, তিনিও সাবেক জামায়াতÑজাতীয়তাবাদীদের জোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ভূমিকায় নেমেছেন। নাজমুল হুদাও বেসরকারি বাস মালিকদের চাপে বিআরটিসিকে বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। রাজশাহী থেকে মানুষজন ঢাকায় যেন ট্রেনে না আসতে পারে, সেজন্য বাস মালিকদের চাপে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি মেল ট্রেনের সময় নাজমুল হুদা ঠিক করে দিলেন রাত ৩টায়। রাজশাহীতে যারা গেছেন তারা দেখেছেন রাজশাহী রেল স্টেশনের ঠিক পাশেই রাজশাহীÑঢাকা বড় সড়কটির ওপরেই হচ্ছে বাস কাউন্টারগুলো। এখান থেকেই দূরপাল্লার সবগুলো বাস ছাড়ে।
সকাল ৭টাÑ৮টার দিকে ঢাকাগামী বাস পাওয়া গেলে রাত ৩টায় রাজশাহীÑঢাকা  মেলট্রেনে ভ্রমণ করার জন্য কে রাত ২টায় ঘুম থেকে উঠবে? সুতরাং প্রাইভেট বাস মালিকদের বিজয় এবং সাধারণ মানুষজনের পরাজয়, এমনটিই ঘটালেন বিএনপি সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী। কিন্তু ঠিক একই রকমের কাজ করলেন আওয়ামী লীগের এক মন্ত্রীও? শেখ হাসিনার এক মন্ত্রী? তাহলে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে ফারাকটা কি থাকল? এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা তো আওয়ামী লীগের কাছে সঙ্গতকারণেই অনেক বেশি। কিন্তু সৈয়দ আবুল হোসেন আর শাহজাহান খান যে বাম মালিকদের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী শক্তিকেই বাতাস দিচ্ছেন।
 সেই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজশাহীর তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বিআরটিসির বিরুদ্ধে কি ভূমিকায় নামলেন, তার কথাও একটু বলি এখন। রাজশাহীর এই বিএনপি দলীয় মেয়র বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে তখন চিঠি লিখে দাবি জানালেন যে, রাজশাহী এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী  বিআরটিসির বাস সার্ভিস বন্ধ করে দিতে হবে; কারণ বিআরটিসির এই সার্ভিসের কারণে প্রাইভেট বাস মালিকদের ‘লস’ হচ্ছে। এই মেয়রের দাবি বিআরটিসিতে মানতেই হলো; কারণ বিআরটিসির ‘আলটিমেট’ মালিক নাজমুল হুদা যে বাস মালিকদের পক্ষে।
এখানে রাজশাহী বিএনপির এক ‘খাম্বা’Ñমেয়র মিজানুর রহমান মিনু এবং আওয়ামী লীগের মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মধ্যে কি কোনো তফাৎ দেখা যায়? দেখা যায় না; কারণ সেই বিএনপির দুঃশাসন অপশাসনের জমানায় সড়ক পরিবহনের সর্দার শাহজাহান খান, এমপি যেমন বিআরটিসি বন্ধে তৎপর ছিলেন, এখনো তিনি তাই আছেন। বিএনপির সেই আমলে তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ প্রাইভেট বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি, বগুড়ার জিএম সিরাজ, এমপি। আর এখন এই সর্দারের সঙ্গে আছেন আওয়ামী মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। বিআরটিসি বন্ধের দাবিতে তখন শাহজাহান খানের শ্রমিকরা দেশের কতসব জায়গায় বিআরটিসির  বাস ভাঙচুর করেছে, বিআরটিসি বাসকে আটকে রেখেছে, বিআরটিসি বাস থেকে যাত্রীদেরকে নামিয়ে দিয়েছে তার তালিকা করতে হলে মোটা খাতা লাগবে। মন্ত্রী শাহজাহান খান সেই জামানা ফিরিয়ে আনতে এখন মহড়া দিচ্ছেন।
সৈয়দ আবুল হোসেন গত বৃহস্পতিবার প্রাইভেট বাস মালিক শ্রমিকদের কাছে যেমন আত্মসমর্পণ করেছেন, তা এই সরকারের একটি কলঙ্ক। এই সৈয়দ সাহেবের বিপরীতে তুলনা করুন গৃহ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানকে। ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে এই প্রতিমন্ত্রীর সাহসী ভূমিকা এখন সারাদেশে নন্দিত হচ্ছে। অথচ সৈয়দ আবুল হোসেন প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের বিপরীতে একজন ‘ফুল’ মন্ত্রী। তারপরও দেখি তিনি নেতিয়ে পড়ছেন সংঘবদ্ধ শক্তির চাপের কাছে। তারপর প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের তুলনায় সৈয়দ আবুল হোসেনের বিত্তÑবৈভবও অনেক, অনেক বেশি। প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান ভূমিদস্যুদের যে প্রশ্নটি দুই মাস আগে করেছিলেন, তা সৈয়দ আবুল হোসেনকেও করা যায়। আপনারা মাত্র তিরিশ বছর আগে কে কি ছিলেন তা এ দেশের মানুষ জানে।  সাহসী উচ্চারণ তো বটেই। ‘ফুলমন্ত্রী’ যা পারছেন না।
মন্ত্রী সৈয়দ সাহেবকে একটি প্রশ্ন, মন্ত্রী শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে যখন আপনাদের দলেরই কিছু সংসদ সদস্য দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন যে মন্ত্রী শাহজাহান খানের অত্যাচারে বিআরটিসি এবং বিআরটিএ কাজ করতে পারছে না, তখন আপনি বলেছিলেন যে আপনি বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত নন, বিষয়গুলো দেখার পর পরের বৈঠকে আলোচনা করবেন।
সৈয়দ আবুল হোসেন কেমন মন্ত্রী যে তার মন্ত্রণালয়ের দুটো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি অবহিত নন? এসব মন্ত্রী কি পত্রপত্রিকা পড়াও ছেড়ে দিয়েছেন? তারপর  সেই প্রস্তাবিত ‘আগামী বৈঠকে’ কি অভিযোগগুলো সম্পর্কে কিছু আলোচনা হয়েছিল? চার মাস তো হয়ে গেল ইতোমধ্যে; প্রতি মাসে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির অন্তত একটি করে মিটিং তো হওয়ার কথা। কিন্তু হয়েছে কি?

৪.
বৃহস্পতিবার ২৪ জুন তারিখের দৈনিক জনকণ্ঠের শেষ পৃষ্ঠায় একটি সচিত্র খবরের শিরোনাম হচ্ছে, ‘শাহীন-শম্পার ঘাতক বাস চালকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন’। এ খবরটির সাবহেডিংগুলো হচ্ছে ‘দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম অথচ ঠেকানোর ব্যবস্থা নেই, নির্বিকার প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগসহ বিআরটিএ’। তারপর শনিবার ২৬ জুন তারিখের জনকণ্ঠের ১৩ নম্বর পাতার উপরের দিকে ৬ কলামের বিরাট আর এক শিরোনাম, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীসহ হত ১৫’। এই শিরোনামটির নিচে ছোট হরফে একটি সাবহেডিং, ‘সীতাকুণ্ডু, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা, ফরিদপুর, নওগাঁ, ই.বি.।’ বাস-ট্রাক ড্রাইভারদের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল দেখছি আমরা।
এখন এ খবর দুটোর বিপরীতে শনিবার ২৬ জুন তারিখের দৈনিক প্রথম আলোর পেছনের পাতায় প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম, দেখুন, Ñ ‘একটি সেমিনার, ইলিয়াস কাঞ্চন ও দুঃখ প্রকাশ।’ এই খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ২৫ জুন সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সচেতন করতে এক সেমিনারে অংশ নিতে মাদারীপুরে গিয়েছিলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ওখানকার সড়ক পরিবহন শ্রমিকরা স্লোগান দিতে থাকে। ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ, ইলিয়াস কাঞ্চন ঘাতক বাস ড্রাইভারদের প্রাণদণ্ড দাবি করেছেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন সড়ক পরিবহন শ্রমিক নেতা শাহজাহান খানের বাড়িও মাদারীপুরে এবং ওখানকার দুই নম্বর আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে গত সাধারণ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন, আর সৈয়দ আবুল হোসেনও নির্বাচিত হয়েছেন মাদারীপুরÑ৩ আসন থেকে।
শাহীনÑশম্পার ঘাতক বাস চালকের ফাঁসির দাবি করেছেন সেদিনের মানববন্ধনে সাংবাদিক এবং শাহীনÑশম্পার আত্মীয়স্বজনেরা; কিন্তু ইলিয়াস কাঞ্চনকে যেমন নাজেহাল করা হয়েছে, তাতে কি ভরসা জাগে যে তাদের দু’বছরের জেলদণ্ডও দেয়া যাবে? সরকারি সম্পত্তি বিআরটিসির এতগুলো বাস ভাঙচুর তারা করেছে, কিন্তু তাদের কোনোই বিচার হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো মামলা হয়েছে? তাদের ঔদ্ধত্য বাড়তে বাড়তে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তা গত শুক্রবার মাদারীপুরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আবার দেখা গেল। মনে রাখতে হবে তাদের এই ঔদ্ধত্যের উদাহরণটি হচ্ছে সর্বসাম্প্রতিক, তবে সর্বশেষ উদাহরণ কোনো মতেই নয়।
বিশেষভাবে মন্ত্রী শাহজাহান খান এবং মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন তাদের পক্ষে থাকলে তাদের ‘টাচ’, স্পর্শ করে কে?
৫.
সবশেষে এই প্রাইভেট বাস মালিকদের দৌরাত্ম্য এবং ঔদ্ধত্য সম্পর্কে তিনটি কথা।
প্রথম কথা, বিআরটিসিকে তারা সহ্য করতে পারছে না। কারণ বিআরটিসি যাত্রীদের উন্নতমানের সেবা দিয়ে থাকে। দেশের এতগুলো সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিআরটিসির ওপর মানুষজনের আস্থা, ভরসা, বিশ্বাস প্রত্যাশিতভাবেই বেশি। বিআরটিসি কথায় কথায় ভাড়া বাড়ায় না, ভাড়া বাড়াতে পারেও না; কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠান বলে তাদেরকে আইন-কানুন মেনে চলতে হয়। ঈদ-পূজা এবং বিশ্ব ইজতেমার সময় বাস মালিকদের দাপট প্রতাপের ওপর তখন প্রতিদিন খবরের কাগজে পাঁচ-দশটা নেতিবাচক খবর থাকে। কিন্তু এমন সব খবরকে তারা পরোয়া করে না।
দ্বিতীয়ত, বিআরটিসির বাসের জবাবদিহিতা আছে। কোনো চালক বা ‘হেলপার’ অসদাচরণ করলে বা ভাড়া বেশি নিলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যায়। প্রাইভেট বাস মালিকদের এসবের বালাই নেই, বাস যাত্রীদের কাছে তারা কোনোভাবেই দায়বদ্ধ নয়। তাদের ইচ্ছাই আইন, তাদের হুমকিই বিধান। গত বৃহস্পতিবার এদের কাছে মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের আত্মসমর্পণের উদহারণটি আবার স্মরণ করুন।
আমাদের দেশের উঠতি লুণ্ঠনকারীরা ক্যাপিটালিজমের পূজারী; কিন্তু তারা প্রতিযোগিতা চায় না। কিন্তু প্রতিযোগিতাই হচ্ছে ক্যাপিটালিজমের মূলমন্ত্র। ক্যাপিটালিজমের মূল কথা হলো এখানে প্রতিযোগিতায় ‘সারভাইবাল অব দি ফিটেস্ট’ টিকে থাকবে; যারা ‘ফিটেস্ট’ নয় তারা ধুলায় মিশে যাবে, হারিয়ে যাবে। মাত্র ৩০ বছর আগে যে ‘প্যান এ্যামেরিকান এয়ারলাইন্স দুনিয়ার এক নম্বর বিমান সংস্থা ছিল, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের আমলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এ বিমান সংস্থাটি একেবারে হারিয়েই গেল। একটি বিমান সংস্থা হারিয়ে গেছে তো কি হয়েছে, আরো কয়েকটি বিমান সংস্থা তার জায়গায় এসে গেছে।
আমাদের এসব উঠতি ‘ক্যাপিটালিস্ট’ শুধু লাভ করে সন্তুষ্ট থাকতে চায় না; তারা যে লুণ্ঠন করতে চায়। দুর্ভাগ্য আমাদের এই লুণ্ঠনকারীদের পক্ষেই সরাসরি এবং প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন শাহজাহান খান এবং সৈয়দ আবুল হোসেন। শেখ হাসিনার মন্ত্রী হয়েও অবস্থান নিয়েছেন তারা শেখ হাসিনারই ঘোষিত এবং অনুসৃত নীতি ও আদর্শের বিরুদ্ধে।
লেখক : সাবেক পররাষ্ট্র সচিব

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রতিবেদন
  • তারেকের সম্পূরক ক্রেডিট কার্ড
  • [ঐতিহ্য] চার শ বছরের অচিন গাছ
  • কক্সবাজারে প্লট বাতিল ও পর্যটন বিনিয়োগে ঝুঁকি
  • ‘ফোরাম ফর ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ’ : স্বপ্ন বাস্তবায়নের নবযাত্রা
  •  মতামত সমূহ
    Author : best life insurance companies
    Author : best life insurance companies
    Author : home insurance quotes online
    used to deny payment of the claims or to prosecute fraudsters if the violation is serious enough., home owners insurance, 065834, florida health insurance, =(((, homeowners insurance nj, xzan, insurance rates, 73970, insurance business insurance, 3279, home insurance new jersey, krdh, home business insurance, %]], insurance health, fcpc, insurance policy india, =-D, geico insurance, =-]]], insurance companies usa, =-(((, insurance brokers health, 112594, insurance software, 22380, insurance claims home, btji, insurance life license, >:-P, insurance life mortgage, hzpu, homeowners insurance massachusetts, 509288, florida home owner insurance, 3153, insurance quotes, >:)), florida home insurance quotes, isu, cheap home insurance quotes, 9681, insurance quotes allstate, yxnzb, free insurance quotes canada, 7594, cincinnati insurance company, 25570,
    Author : home insurance quotes online
    used to deny payment of the claims or to prosecute fraudsters if the violation is serious enough., home owners insurance, 065834, florida health insurance, =(((, homeowners insurance nj, xzan, insurance rates, 73970, insurance business insurance, 3279, home insurance new jersey, krdh, home business insurance, %]], insurance health, fcpc, insurance policy india, =-D, geico insurance, =-]]], insurance companies usa, =-(((, insurance brokers health, 112594, insurance software, 22380, insurance claims home, btji, insurance life license, >:-P, insurance life mortgage, hzpu, homeowners insurance massachusetts, 509288, florida home owner insurance, 3153, insurance quotes, >:)), florida home insurance quotes, isu, cheap home insurance quotes, 9681, insurance quotes allstate, yxnzb, free insurance quotes canada, 7594, cincinnati insurance company, 25570,
    Author : home insurance quotes online
    used to deny payment of the claims or to prosecute fraudsters if the violation is serious enough., home owners insurance, 065834, florida health insurance, =(((, homeowners insurance nj, xzan, insurance rates, 73970, insurance business insurance, 3279, home insurance new jersey, krdh, home business insurance, %]], insurance health, fcpc, insurance policy india, =-D, geico insurance, =-]]], insurance companies usa, =-(((, insurance brokers health, 112594, insurance software, 22380, insurance claims home, btji, insurance life license, >:-P, insurance life mortgage, hzpu, homeowners insurance massachusetts, 509288, florida home owner insurance, 3153, insurance quotes, >:)), florida home insurance quotes, isu, cheap home insurance quotes, 9681, insurance quotes allstate, yxnzb, free insurance quotes canada, 7594, cincinnati insurance company, 25570,
    Author : insurance brokers association
    Author : insurance brokers association
    Author : insurance brokers association
    Author : insurance brokers association
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive