|
চতুর্থ খ- (১৯৫২) প্রকাশিত
বাহরাম খান
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয় ২৩ জুলাই ২০১০। এ উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল অডিটরিয়ামে তাজউদ্দীন আহমদের লিখিত ডায়েরির প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল তাজউদ্দীন আহমদের লিখিত ডায়েরির ৪র্থ খণ্ড (১৯৫২)। প্রতিভাস আয়োজিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ। অন্য আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, কবি বেলাল চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এ ছাড়াও তাজউদ্দীন আহমদের সরকার প্রবাসে কাজ করার সময়ে যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সহকর্মী ছিলেন তাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানের আলোচনায় তাজউদ্দীন আহমদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেনÑ তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তার কথা, কাজ, চিন্তা-চেতনা এসব ছিল অত্যন্ত উচ্চমার্গের। তার ধ্যান-ধারণা ছিল অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। সাধারণ কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাকে তুলনা করলে ভুল হবে। কারণ তাজউদ্দীন আহমদ স্কুলে পড়ার সময় থেকে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন। কাজ করেছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে। সর্বদা নিয়োজিত থেকেছেন মানুষের সেবায়, রাজনৈতিক দল গড়া ও পরিচালনায়। দেশের উন্নয়নে মানুষের উন্নয়নেই নিবেদিত ছিল তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। বাংলাদেশের গর্ব তাজউদ্দীনের মতো মানুষ তার গর্ভে ধারণ করেছিল। আবার লজ্জাও প্রাপ্য কারণ তার মতো মানুষকে আমরা বাংলাদেশিরাই হত্যা করেছি। তারা আরো বলেন, যে কোনো ইতিহাস সৃষ্টির জন্য নিখুঁত উপাদানের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের ইতিহাস সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ উপাদান হলো তাজউদ্দীন আহমদ। অথচ আজ আমরা তার যোগ্য মূল্যায়নটুকু পর্যন্ত করতে পারি না। তার মতো নেতা বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্যই তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ গড়ার কাজেও তিনি হাত দিয়েছিলেন। সেই কাজ আমরা তাকে করতে দেইনি। এখন আমাদের দেশের যে অবস্থা তার জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই। তাই বলে হতাশ হলে চলবে না। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জননেতা তাজউদ্দীন আদর্শকে সমুন্নত করে নতুন তরুণ সমাজ বিনির্মাণে কাজ করার সময় এসেছে। এর জন্য প্রয়োজন তাজউদ্দীনকে জানা। আর তাজউদ্দীনকে জানতে হলে তার সম্পর্কিত যেসব বই আছে সেগুলো পড়তে হবে। বিশেষ করে তার ডায়েরিগুলো পড়া আবশ্যক। কারণ তাজউদ্দীনের ডায়েরিগুলোতে শুধু তার কাজকর্মকেই পাওয়া যায় না। পুরো বাংলাদেশকেই পাওয়া যায়। পাওয়া যায় তার স্বপ্ন, আদর্শ ও দেশপ্রেমের চরম নিদর্শন। অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ সভাপতির বক্তব্যে বলেনÑ ডায়েরি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সময়কে ধারণ করে। আর সেই ডায়েরি যদি হয় তাজউদ্দীন আহমদের তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে ইতিহাসেরই অংশ। এই ইতিহাসকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বিলিয়ে দিতে হবে তরুণদের মধ্যে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেনÑ‘ ‘তাজউদ্দীন আহমদ তার ডায়েরিতে যেভাবে নানারকম ঘটনার বর্ণনা করেছেন তা সত্যিই বিরল। প্রকাশিত এসব ডায়েরি অবশ্যই মূল্যবান। তবে তার আরো কিছু মূল্যবান ডায়েরি ছিল যেগুলো পেলে হয়ত ইতিহাসের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উন্মোচিত হতো।’ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন-‘আমরা তার কাছে অনেক ঋণী। তার রাজনীতি ও স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য, তার নিষ্কলুষ দেশপ্রেমের জন্য। অথচ তাজউদ্দীনকে যেভাবে বিদায় নিতে হলো সেটা আমাদের ঋণের বোঝাটা আরো ভারি করেছে।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেনÑ ‘তার চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা আজ আমাদের পাথেয়। আমরা যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিÑ সেটা তাজউদ্দীন আহমদ দেশ স্বাধীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা করেছিলেন।’ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেনÑ‘ তাজউদ্দীন আহমদ তার ডায়েরিতে নিজের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তৎকালীন সমাজ বাস্তবতাকে। তার ডায়েরি পড়লে সেই সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।’ |