|
বাহরাম খান
মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টে সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করা ও চুক্তি অনুযায়ী আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা না দেয়ার কারণে গুডলাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নকশা জালিয়াতিরও অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রথমে মোট ১১০টি এ্যাপার্টমেন্টের কথা ব্রুশিয়ারে উল্লেখ থাকলেও পরবর্তী সময়ে ঐ নকশা পাল্টিয়ে সেখানে ১৫০টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়। মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়েছে। মোতালিব প্লাজা ও মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স মূলত বাণিজ্যিক কাম আবাসিক প্রকল্প। ১৯৯৬ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে গুডলাক রিয়েল এস্টেট নামক একটি নবাগত কোম্পানি। পূর্ব কোনো কাজের অভিজ্ঞতাহীন গুডলাক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি প্রথমেই এমন একটি বড় কাজে হাত দিয়ে কোনো কিছুই ঠিকভাবে করতে পারেনি। মোতালিব প্লাজা বাণিজ্যিক কাম আবাসিক প্রকল্প শুরু হওয়ার সময় থেকে ২০০৪ সালের মধ্যেই কাজ শেষ করার কথা। এর মধ্যে কোনো কোনো ক্রেতাকে ২০০১ সালে এ্যাপার্টমেন্ট বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে ফ্ল্যাট বিক্রি করে গুডলাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারেনি। উপরন্তু এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির ওপর মামলার মাধ্যমে আইনি ঝামেলায় জড়িয়েছে কোম্পানিটি। মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের জন্য গুডলাক রিয়েল এস্টেটের তৈরি করা প্রথম ব্রুশিয়ারে ফ্ল্যাট সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে মোট ফ্ল্যাটের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ১১০টি। দুই ব্লকে ভাগ করা এই ফ্ল্যাটগুলোর মধ্যে ‘এ’ ব্লকে ৬০টি ও ‘বি’ ব্লকে ৫০টি ফ্ল্যাট হবে। প্রতি ব্লকে দুটি লিফট, দুটি সিঁড়ি ও একটি করে ময়লা নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়। সাত থেকে পনেরো তলা পর্যন্ত এ্যাপার্টমেন্টট। ছয়তলায় প্রেয়ার হল, শিশুদের খেলাধুলা, কমিউনিটি সেন্টার, এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির অফিসসহ কমিউনিটি সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু প্রকল্প শুরু হওয়ার সময় থেকে বর্তমানে ১৫ বছর চললেও গুডলাক রিয়েল এস্টেট কর্তৃক ঘোষিত সুযোগ-সুবিধার কোনোটিরই বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। এ বিষয়ে মোতালিব প্লাজা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এ. কে. এম মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘গুডলাক রিয়েল এস্টেট তাদের চুক্তি ভঙ্গ করেছে। আবার আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে। শুধু মামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি উপরন্তু আমাদের জীবনের ওপর হামলার হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে। এখন আমরা অনিশ্চতার মধ্যে সময় কাটাচ্ছি। ফ্ল্যাটে কোনোমতে উঠতে পেরেছি। কিন্তু এতে আমার নিজের অনেক টাকা পয়সা খরচ করতে হয়েছে। প্রথমে তারা ব্রুশিয়ার দেখিয়ে যে সুন্দর সুন্দর কথা বলেছিল তার কিছুই রক্ষা করেনি। এভাবেই রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারণা তৈরি হচ্ছে। আমার ভাগ্য খারাপ যে কোম্পানি চিনতে ভুল করেছি। আমি এখানে ফ্ল্যাট কেনার পর এক বন্ধুকেও কিনতে উৎসাহিত করেছি। পরে যখন এই অবস্থা দেখতে পারি তখন আরো অনেকে ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদেরকে না করে দিয়েছি। কারণ জেনেশুনে কাউকে বিপদে ফেলা যায় না। এই বিষয়গুলোতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আমরা এতগুলো লোক একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কাছে কেন জিম্মি থাকব। যেখানে আমরা উপযুক্ত দাম দিচ্ছি।’ মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আশ্রাফুল ইসলাম বাবু জানানÑ আমি এখানে একের অধিক ফ্ল্যাট কিনেছি। সবগুলো ফ্ল্যাটের টাকা একটি চেকের মাধ্যমে ডাউন পেমেন্ট করেছি। অথচ গুডলাক রিয়েল এস্টেট আমার সঙ্গে দেয়া কোনো কথাই রক্ষা করেনি। এখন আমরা অসহায়ভাবে দিনাতিপাত করছি। আমাদের ফ্ল্যাটে কোনো এসি ব্যবহার করতে পারি না। কারণ আমাদেরকে যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে সেটি আবাসিক সংযোগ না। অনাবাসিক সংযোগের কারণে একবারেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়া কোনো কিছু চালাতে পারছি না। ফলে ওভেন, এসি ইত্যাদি দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলো অকেজো হয়ে পড়ছে। তিনি আরো জানান আমরা যারা এখানে ফ্ল্যাট কিনেছি সবাই সমাজে নানান পেশায় প্রতিষ্ঠিত। অথচ একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আমাদের এমন ভোগান্তি ভোগাচ্ছে যা বলে শেষ করা যাবেন। সরকারের উচিত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া। আমরা যারা এখানে বাস করি সবাই সরকারকে কর দেই। তাই সরকারও আমাদের বিষয়ে সঠিক সহযোগিতা করুক। এটা আমাদের প্রার্থনা। গুডলাক রিয়েল এস্টেটের এই প্রকল্প বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় নকশা নিয়েও তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০০৮-এর পাঁচ নম্বর অধ্যায়ের ১৮ নম্বর ধারার ৫নং উপধারা অনুযায়ী ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত অনুমোদিত নকশার কোনোরূপ পরিবর্তন করা যাইবে না’। কিন্তু গুডলাক রিয়েল এস্টেট আইনের এই সুস্পষ্ট ঘোষণাকে লঙ্ঘন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই ১১০টির জায়গায় ১৫০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে। এতে একদিকে যেমন বিক্রীত ফ্ল্যাটের আয়তন কমে, অন্যদিকে ক্রেতাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়। সেই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০০৮ অনুযায়ী যেখানে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নকশা পরিবর্তনই শুধু করা হয়নি। উপরন্তু পরিবর্তিত নকশা সঠিক সময়ে রাজউকে উপস্থাপন না করে বিল্ডিংয়ের বাহ্যিক অবকাঠামো নির্মাণের পরে তা উপস্থাপন করায় রাজউকের অনুমোদন দেয়নি। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০০৮-এর ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো ডেভেলপার অনুমোদিত নকশাবহির্ভূতভাবে রিয়েল এস্টেট নির্মাণ করলে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বছর কারাদ অথবা অনূর্ধ্ব ২০ (বিশ) লাখ অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত হবে। এসব কারণে অনুমোদনহীন এই স্থাপনায় ডিপিডিসি থেকে আবাসিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই ডেভেলপার কোম্পানি সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক লাইন থেকে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আর চাহিদার তুলনায় অনেক কম পাওয়া বিদ্যুৎ লাইন থেকেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। গত ৩০ জুন ২০১০ তারিখে হঠাৎ করে নষ্ট হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ। তাৎক্ষণিকভাবে এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করা হয়। এ ছাড়াও এ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সেসব ইউটিলিটি সার্ভিসের সবগুলোই ডেভেলপার কর্তৃক সরবরাহের কথা থাকলেও কোনোটির বিষয়েই তাদের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে ১৩০২নং ফ্ল্যাটের মালিক আলহাজ্ব জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করে বলেন, ‘দুটি ব্লকে চারটি লিফটের কথা থাকলেও মাত্র দুটি লিফট লাগিয়েছে যেগুলোর গুণগত মান ভালো নয়। বিদ্যুতের কোনো সমাধান হয়নি। ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করার সময় প্রতিটি কার পার্কিংয়ের জন্য ২৩০ স্কয়ার ফিট জায়গা দেয়ার কথা থাকলেও তা বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। আমরা বেজমেন্টে গাড়ি রাখছি । ধুলো বালিতে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। সিকিউরিটি গার্ড, লিফটম্যানদের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করা হয়নি। পানির সমস্যা হয়, গার্বেজ ব্যবস্থাপনায় তাদের অঙ্গীকার থাকলেও আমরা তা পাচ্ছি না। কমিউনিটি সেন্টার, প্রেয়ার হল, শিশুদের খেলার জায়গা, এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির অফিস, ব্যায়ামাগার শিশুপার্ক এসব ইউটিলিটি সার্ভিসের কোনোকিছুই আমরা পাচ্ছি না।’ ১৪০২নং ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া গোলাম মাওলা বলেন, ‘এখানে ওঠার পর তিনি বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারণ এখনো প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ বাকি থাকার কারণে ধুলোবালি ও নানান ময়লা আবর্জনার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।’ মালিক সমিতির সভাপতি নাসিরুল হক খান অভিযোগ করেন এখন পর্যন্ত প্রায় বিশজন ফ্ল্যাটবাসী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। সাপ্তাহিক-এর অনুসন্ধানে দেখা যায় গুডলাক রিয়েল এস্টেট নতুন কোম্পানি হিসেবে মোতালিব প্লাজা বাণিজ্যিক কাম আবাসিক প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করে ১৯৯৬ সালে। এটি শাহনেওয়াজ গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তারা এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সেই সঙ্গে প্রথম প্রকল্পের কাজেই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলায় তারা আর কোনো প্রজেক্ট হাতে নেয়নি। মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির অভিযোগগুলোর সত্যতা সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, গুডলাক রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিকেরা তাদের নিজেদের বাড়িটি (গুলশান-১-এর রোড নং-১৩৬ এবং বাড়ি নং-৯) পর্যন্ত অন্য ডেভেলপার কোম্পানির হাতে দিয়েছে কাজ করার জন্য। গুডলাক রিয়েল এস্টেট রিহ্যাবের সদস্য। এ বিষয়ে রিহ্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জেনারেল ম্যানেজার কর্ণেল(অব.) তাফসির জানান- ‘গুডলাক সম্পর্কে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। সে অনুযায়ী তাদের সঙ্গে কথা বললে গুডলাকের পক্ষ থেকে জানানো হয় মালিক সমিতির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তারা বিষয়টির সুরাহা করবে। এরপর আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আবার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
গুডলাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড-এর বক্তব্য
মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বার বার চেষ্টা করেও গুডলাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের দুই পরিচালক আক্তার হোসেন শামীম এবং মোক্তার হোসেন পলাশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আক্তার হোসেন শামীম জানান এই বিষয়টি মোক্তার হোসেন পলাশ দেখেন। তাকে ফোন করলে সংবাদপত্রের কথা শুনে ফোন লাইন কেটে দেন। এর পরও অনেকবার তার সঙ্গে দেখা করার এবং ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও তা এড়িয়ে যান। পরবর্তী সময়ে গুডলাক রিয়েল এস্টেটের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে অফিসে কথা বলতে গেলে তিনিসহ আরো চারজন কথা বলেন। তাদের এক জনের সঙ্গে অন্যজনের কথার কোনো মিল খুজেঁ পাওয়া যায়নি। গুডলাক রিয়েল এস্টেটের চিফ কনসালট্যান্ট কাঞ্চিলাল দাস বলেন, ‘আমাদের প্রজেক্ট আমরা সঠিক সময়ে হস্তান্তর করেছি।’ অনুমোদিত নকশা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে রাজউকে সম্পূরক নকশার অনুমোদন না করিয়ে ১১০টির জায়গায় ১৫০টি ফ্ল্যাট তৈরির বিষয়টি জানতে চাইলে কাঞ্চি লাল দাস বলেন, ‘আমরা তো আমাদের জায়গামতো কাজ করেছি। অন্য কারো জায়গায় যাইনি। ভেতরে একটু পরিবর্তন যা হয়েছে সেটা আমরা ইচ্ছে করলে করতে পারি। এতে কোনো সমস্যা নেই। আর রাজউকের কাছ থেকে সম্পূরক নকশার অনুমোদন নিতে হয় প্রজেক্ট শেষ হওয়ার পর।’ এ বিষয়ে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০০৮-এর ১৮ নম্বর ধারার ৫ নম্বর উপধারার (যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত অনুমোদিত নকশার কোনোরূপ পরিবর্তন করা যাইবে না) বিষয়টি বলার পর তিনি বলেন, ‘আরে ভাই এত কিছু করে কি আর কোনো কাজ করা যায়। আমরা জানি আমরা বেআইনি কোনো কিছুই করিনি। অত্র প্রজেক্টের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্ল্যাট মালিকরা যা পাওয়ার কথাছিল তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছে। আমরা ইচ্ছে করলে এখনো অনেক কিছু করতে পারি। তাই তারা যদি আরো বেশি কিছু চায় তাহলে যা পেয়েছে তাও হারাতে হবে।’ ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী সাহেব বলেন ‘কোনো কাজই শতভাগ ঠিক হয় না। কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। আমরা সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি। তাদের সঙ্গে আমাদের একটি মামলাও চলছে।’ মামলা বিষয়ে কাঞ্চিলাল দাস বলেন, ‘আমরা মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতি ও সমিতির তিন কর্মকর্তার মামলা করেছি। আদালত আমাদের আর্জি আমলে নিয়ে প্রকল্পের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। তাই আপাদত কাজ বন্ধ থাকবে।’ আদালতের আদেশটির একটি কপি চাইলে তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি দেয়া যাবে না এমনকি দেখানো যাবে না। আমি পড়ছি আপনি শুনুন। কারণ এই রায়ের কপি দিলে আমাদের আদালত অবমাননা হবে।’ সেই সঙ্গে প্রকল্প ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এই স্থিতাবস্থা আর জীবনে উঠবে না। ফ্ল্যাট মালিকরা নিজেদেরকে বেশি বুদ্ধিমান মনে করে। এবার বুঝবে ঠেলা।’ সেই সঙ্গে তারা এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি নাসিরুল হক খানের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগ করেন এবং মামলাও করেন। কিন্তু ঐ মামলার কোনো নম্বর বা কপি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য মতিঝিলের শাহনেওয়াজ ভবনে অবস্থিত অফিসে গুডলাক রিয়েল এস্টেটের কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে কর্মকর্তারা জানাল আমাদের সাইনবোর্ড লাগে না। কাজ করতে পারলেই হলো।
‘আমাদের অধিকার আদায়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি’ মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাসিরুল হক খান সভাপতি, মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতি গুডলাক রিয়েল এস্টেটের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকৃষ্ট হয়ে যারা এখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা সবাই এখন চরম সমস্যায় দিন কাটাচ্ছেন। ২০০৪ সালে প্রজেক্টটি শেষ না হওয়ায় ২০০৫ সালে জমির মালিক, ডেভেলপার ও ফ্ল্যাট মালিকদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি করা হয়। নতুন চুক্তি সম্পর্কিত এই আলোচনায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমির মালিক জহির মোল্লা সাহেব। চুক্তি অনুযায়ী পুনরায় ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় নির্ধারণ করা হয় ১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে। চুক্তিতে গুডলাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষে স্বাক্ষর করেন পরিচালক মোক্তার হোসেন পলাশ এবং এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির পক্ষে সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষর করি আমি। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হলে ৩৪টি ফ্ল্যাট মালিককে মাসিক ভাড়া হিসেবে ১২ হাজার টাকা দেয়ার কথা। যা এখনো পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। দ্বিতীয়বার করা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ায় আবারো যখন অনিশ্চয়তা দেখা দেয় তখন এ্যাপার্টমেন্ট মালিকগণ আরেক দফা সময় বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করি। সর্বশেষ নির্ধারণ করা তারিখেও যখন এ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা ফ্ল্যাট বুঝে পাননি তখন আমরা নিজ উদ্যোগে এ্যাপার্টমেন্টের বাকি কাজ করে ফ্ল্যাটে উঠে পড়ি। কিন্তু পনেরো তলা পর্যন্ত এ্যাপার্টমেন্ট থাকলেও সেখানে লিফট না থাকায় ফ্ল্যাটবাসীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরবর্তী সময়ে আমাদের চাপের মুখে ও আর্থিক সহযোগিতায় একটি লিফটের ব্যবস্থা করা হয়। দুটি লিফটের কথা থাকলেও একটি লিফট লাগানো হয় যার মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন ফ্ল্যাবাসীরা। এমন অবস্থায় গত ৬ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে আমরা মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির ব্যনারে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করি। সেখানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরায় ও মিডিয়াতে প্রচার হওয়ার কারণে গুডলাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকে ৭ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে মোতালিব প্লাজা এ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতিসহ আমার বিরুদ্ধে, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এ. কে. এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব আশ্রাফুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে সরাসরি ৪র্থ সহকারী জজ আদালত, ঢাকায় মামলা দায়ের করেন। দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-১০/২০১০। এখন আমরা ইচ্ছে করলে উল্টো মামলা করতে পারি। কিন্তু আমরা মামলা করলে প্রজেক্টের স্টে অর্ডার হতে পারে। তাই আমরা মামলার মধ্যে যেতে চাচ্ছি না। এভাবে আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু গুডলাক রিয়েল এস্টেট আমাদেরকে কোনো সহযোগিতা করছে না। তারা সহযোগিতা করলে আমরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। কারণ আমরা চাই প্রজেক্টের কাজটা শেষ করে এ্যাপার্টমেন্টবাসীদের সকল অসুবিধা দূর করতে। |