|
শরিফুল ইসলাম পলাশ
নদী ভাঙন কবলিত উত্তরের জেলা লালমনিরহাট। জেলার রাজপুর ইউনিয়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশ অধিবাসী তিস্তা নদী ভাঙ্গণের শিকার। নদীতে বাড়িঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রতিটি পরিবার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নদী ভাঙন আর দারিদ্র্যতার শিকার রাজপুর চরবাসীকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে প্রভাবশালী শিল্পপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। লাঠিয়াল বাহিনী, অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাব আর রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে নানা কৌশলে চরের জমি দখল করেছেন। এখন বীরদর্পে চাষাবাদ করছেন। দেশের আইনে নিষিদ্ধ হলেও চরের জমি কেনাবেচা হচ্ছে ঐ শিল্পপতির নামে। ঐ ভূমিদস্যুর চাপ আর প্রভাবের কারণে নিজেদের দখলে থাকা জমি বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত চরবাসীরা পানির দরে। কৃষকের নিরক্ষরতা, তথ্যের অভাব ও ভূমি সংস্কার প্রক্রিয়ার সঠিক বাস্তবায়নের অভাবে সচ্ছল কৃষককে ভূমিহীনে পরিণত করা হচ্ছে। ভূমি আইনের সঠিক বাস্তবায়নের অভাবে একদিকে যেমন নানা ভাবে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি অকৃষক ও বিত্তবান মায়া ঐ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। অসাধু কিছূু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ যোগসাজশে লালমনিরহাটের রাজপুর চরের প্রায় ৫০০ বিঘা জমি দখল করেছেন অকৃষিজীবী শিল্পপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার দখলদারিত্ব আর পেশীশক্তির কারণে জমির প্রকৃত মালিক ও প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে এর সুফল থেকে। রাজপুর চরের প্রায় পাঁচ শতাধিক ভূমিহীন সরকারি খাস জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অধিকার ফিরে পাবার জন্য আন্দোলনে এখন রাজপুরের কৃষকরা। সেই আন্দোলন সম্পর্কে অবগত দেশের বরণ্য ব্যক্তিরাও। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও অবগত এ বিষয়ে। কিন্তু কোনো কিছুতেই সুফল মিলছে না। কেবল হয়রানি আর ক্ষোভ বাড়ছে ভূমিহীনদের। অন্যদিকে সবকিছু নিজের আয়ত্তে ধাকার কারণে ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন ঐ আওয়ামী লীগ নেতা। মামলা, নির্যাতন আর অর্থের মাধ্যমে রাজপুরের ঐ ঘটনার আন্দোলন দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
জবর দখল ৫০০ বিঘা জমি অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল এক জনপদ রাজপুর। বর্তমানে তিস্তা নদীর কারণে দ্বিখ-িত লালমনিরহাটের এ প্রত্যন্ত ইউনিয়নটি। তিস্তা নদীর এক তীরে কিশামত চিনাতুলী, আরাজী চিনাতুলী, খলাইঘাটসহ রয়েছে ৮টি মৌজা। এক সময় মৌজাগুলো ছিল জনবসতিপূর্ণ। বেশ সম্পদশালী এলাকা। ১৯৮৫ সালে তিস্তা নদীর ব্যাপক ভাঙনে এলাকাটি পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। চাষবাসের জমিজমা-বাড়িঘর সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো আশ্রয় নেয় সরকারি রাস্তার ধারে। কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। নিরুপায় হয়ে কিছু সংখ্যালঘু পরিবার দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে পরিণত হয় আবাদযোগ্য জমিতে। জমিগুলো জেগে ওঠার পরই জেগে ওঠে আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার আগ্রাসী মনোভাব। নিজের ব্যক্তিস্বার্থের কারণে স্থানীয় একটি লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন তিনি। তারপর ২০০৫ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দখল করে নেয় তিস্তার চরে জেগে ওঠা কয়েকশ বিঘা আবাদযোগ্য জমি। ২০০৭ সালে প্রায় ১০০ বিঘার ওপর খনন করে এক বিশাল আকৃতির পুকুর। ঐ পুকুরে ৭০ থেকে ৮০টি পরিবারের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া চরের জমি দখল হয়ে যায়। এভাবে সে প্রায় ৫০০ বিঘা জমি বিভিন্নভাবে দখল করে নেয়। কেবলমাত্র রাজপুর চর এলাকায় ভূমিহীনদের প্রায় ৩০০ বিঘা জমি আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার নামের ক্রয় করা হয়েছে। তার পরিবারের অন্যদের নামে আরো ২০০ বিঘা জমি রেকর্ডপত্র রয়েছে। সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভূমিহীন কৃষকদের অমানুষিক নির্যাতন, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকির মাধ্যমে চর থেকে তাড়িয়ে দেয়। এই বাহিনী দিনে দুপুরে নিজ ক্ষেতে কর্মরত একাধিক কৃষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। কৃষকদের পরাস্ত করতে নানা কূট-কৌশলের পথ বেছে নেয়। শুরু করে কৃষকের ওপর শোষণ, নির্যাতন ও দমন-নিপীড়ন। কৃষক ও কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করে একের পর এক মিথ্যা মামলা। কয়েকটি চাঁদাবাজির মামলাসহ বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা মামলায় ৯০ জন নিরীহ কৃষককে জড়ানো হয়। এসব মামলায় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সাংবাদিক, কলেজ শিক্ষক, স্কুল শিক্ষক এমনকি ৮ বছরের পিতৃমাতৃহীন এতিম শিশু সন্তানও বাদ যায়নি। মিথ্যা মামলায় কৃষককে দীর্ঘদিন হাজতবাস করতে হয়।
অভিযোগ প্রমাণের পরও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৭ সালে লালমনিরহাটের সহকারী ভূমি কমিশনার ৫ নবেম্বর ২০০৭-এর স্মারক নং ২২২২ মোতাবেক ভূমিদস্যুদের জবর দখলসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করেন। এরপর ২০০৮ সালের ১০ মার্চ তারিখে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ৩৭৮ নং স্মারক পত্রের নির্দেশে ভূমিদস্যুর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এক নির্দেশ জেলা প্রসাশক বরাবরে প্রেরণ করেন। একই বছরের ৮ এপ্রিল সেনা ক্যাম্প লালমনিরহাট-এর ৩৩৯ নং স্মারক পত্রের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জবর দখল সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত করেন। এসব তদন্তে ভূমিদস্যু মায়ার বিরুদ্ধে ভূমি জবর দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আনোয়ারুল ইসলাম মায়া ২০০৫ সাল হতে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০০টি দলিলের মাধ্যমে শত শত বিঘা জমি নিজ নামে দলিল করে নেয়। এ সকল দলিলের দু’টি দলিলের মাধ্যমে জালিয়াতি মাত্রা ছাড়া। যার ১টি দলিলের মাধ্যমে ২৬ একর জমি ক্রয় দেখানো হয়। ২০০৫ সালের ২৮ এপ্রিল সম্পাদিত ঐ দলিলে ২৬ একর জমি ক্রয় করাকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন না ভূমি কর্মকর্তারা। এর পেছনের মূল আমমোক্তারনামা হলো ৫২ একরের। জনৈক অম্বরীশ চন্দ্র রায় নামের একজনের নামে ঐ ৫২ একর ৫৫ শতাংশ জমির মালিকানা দেখানো হয়। পরে মায়ার কর্মচারী গণেশের নামে ঐ জমির আমমোক্তারনামা তৈরি করা হয়। ঐ আমমোক্তারনামার ভিত্তিতেই মাত্র তিনদিন পরই ২৬ একর জমি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও ভুয়া খারিজ তৈরি করে করায়ত্ত করে। আলোচিত ঐ দু’টি দলিলের অধীনে ক্রয়-বিক্রয় করা জমিগুলো উপজেলা ভূমি অফিসের ০১/৯৪-৯৫ নম্বর মিস কেসের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের ১৮ মার্চ এক আদেশে শিকস্তি মূলে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লালমনিরহাটের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে নিয়মানুযায়ী জমিগুলো খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাবার পর গত ২০০৮ সালের ০৬ ফেব্র“য়ারি ১৪৮ নং স্মারকে দাখিল করা প্রতিবেদনে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জমিগুলো শিকস্তি মূলে খাস খতিয়ানভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। খাস সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, ভূমিদস্যুদের অবৈধ দলিল তৈরি এবং ও জবর দখলের জন্য আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ২০০৭ সালে ৪ নবেম্বর লালমনিরহাট জেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বাক্ষরিত ২২২২ নং স্মারকে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আনোয়ারুল ইসলাম মায়া একই দলিলে ২৬ একর জমি ক্রয় করে ভূমির সর্বোচ্চ সীমা নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পি.ও৯৮/৭২ ও ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ ৮৪’র বিধান অমান্য করেছেন। খাস জমি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আনোয়ারুল ইসলাম গং ও বিক্রেতা গনেশ রায়-এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। একইভাবে ভূমির সর্বোচ্চ সীমা নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পি.ও৯৮/৭২ ও ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ ৮৪’র বিধান অনুযায়ী আনোয়ারুল ইসলাম মায়া গংয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আন্দোলনে কৃষকরা জমিগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য চরাঞ্চলের অসহায় মানুষগুলো নিরন্তর সংগ্রাম করে আসছে। কৃষকদের অব্যাহত চাপের মুখে অবশেষে জেলা প্রশাসক ২০০৭ সালের ১২ আগস্ট কৃষকদের নোটিস প্রদানের মাধ্যমে জবর দখল বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে কৃষকগণ তাদের ন্যায্য দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক তদন্ত বাতিল ঘোষণা করে আদালতে মামলা করে জমিগুলো উদ্ধারের পরামর্শ দেন। ভূমিগ্রাসীদের নির্যাতন ও নিপীড়ন ছিল বহুমাত্রিক। চরাঞ্চলে নিরীহ কৃষকদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। তার ও লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর অসংখ্য মামলা এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পুলিশি হয়রানি করে ভূমিহীনদের। ধারাবাহিকভাবে এসব মামলায় ভূমিহীনরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিদস্যু ও তার পোষ্য বাহিনীর অপতৎপরতার বিষয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হলে তিনি কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি ভূমিদস্যুর সঙ্গেই আপোস রফার প্রস্তাব করেছেন। জেলা প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা কৃষকদের মায়ার অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিত দেয়। মামলার দায়, দারিদ্র্যতা আর নির্যাতনের মাঝেও টিকে আছে অসহায় ভূমিহীনরা। আন্দোলেন ঠেকাতে আনোয়ারুল ইসলামের দেয়া ৪টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। ১টি মামলা চলছে। কৃষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করার কারণে লালমনিরহাটে কর্মরত সাংবাদিক, লেখক এবং বেসরকারি সংস্থা একশন এইডের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মামলা করেছে মায়া। আন্দোলনের ওপর প্রামাণ্য দলিল ‘রক্তাক্ত রাজপুর’ সম্পাদনার কারণে ২০০৮ সালের ১৩ নবেম্বর সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে উচ্চ আদালতে মামলা করেছে মায়া। মামলায় বেসরকারি সংস্থা এ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর, শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশকসহ ১০ জনকে জড়ানো হয়েছে। মামলাটি চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
ভূমি আইন অসহায় যেখানে ১৯৭২ সালের ২৮ জুন মহামান্য রাষ্ট্রপতির ১৩৫ নং আদেশ অনুযায়ী, নদীতে ভেঙ্গে জমি যখনই জেগে উঠুক না কেন এটি সরকারি বলে বিবেচিত হবে। তবে বরাদ্দ বা বন্দোবস্ত দেয়ার সময় প্রাক্তন মালিককে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে বরাদ্দ প্রত্যাশী ঐ পরিবারের জমির পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৫ বিঘার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এরপর ১৯৮৪ সালে ল্যান্ড রিফর্ম অর্ডিন্যান্স জারি করে আইনের অন্য বিষয়গুলোকে ঠিক রেখে পরিবার প্রতি জমির সর্বোচ্চ পরিমাণ বা সিলিং ৬০ বিঘা নির্ধারণ করা হয়। ঐ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ৬০ বিঘার অধিক জমি কোনোভাবেই অর্জন করতে পারবে না। ১৯৯৪ সালের ১৩ জুলাই ল্যান্ড একুইজিশন ও ট্যানেন্সি এ্যাক্ট-এর সংশোধনী অনুযায়ী পরবর্তী আইনকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম অংশে বলা হয়, নদীতে ভেঙ্গে যাওয়া জমি ভেঙ্গে যাবার পরবর্তী ৩০ বছরের মধ্যে জেগে উঠলে ঐ জমির আদি মালিকরাই জেগে ওঠা জমির মালিকানা পাবেন। দ্বিতীয় অংশে বলা হয়, নদীর জেগে ওঠা জমি প্রথমে জেলা প্রশাসক বা অধীনস্থ সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা বুঝে নেবেন। সরকারি কর্তৃপক্ষ বুঝে নেয়ার পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে ঐ জমির সীমানা নির্ধারণ করবে। পরবর্তী এক বছরের মধ্যে জমির প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা বুঝিয়ে দেবেন। সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই মালিকের মোট জমির সর্বোচ্চ সীমা ৬০ বিঘার অধিক হবে না। একই সঙ্গে সংরক্ষিত চরের সম্পত্তির মৌলিক অধিকার লাভের বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানেও রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। আছে ভূমি আইন ও ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশের সুস্পষ্ট বিধিবিধান। এর পরও প্রভাবশালী ঐ ভূমিদস্যুর হাতে দখল হওয়া জমি উদ্ধার করতে বেগ পাচ্ছে বঞ্চিত নিরীহ ভূমিহীনরা। রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ আর পেশীশক্তির কাছে নিরুপায় সবকিছুই। রাজপুর চরাঞ্চলে ঐ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো বিপুল পরিমাণ জমি দখলে রয়েছে তার। কেবলমাত্র রাজপুর চর এলাকায় আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার নিজ নামেই প্রায় ৩০০ বিঘা জমি রয়েছে। পরিবারের অন্যদের নামে রয়েছে বাকি প্রায় ২০০ বিঘা জমি। জমিগুলো দখল করার জন্য পেশীশক্তির সঙ্গেই কাজে লাগিয়েছেন কৌশল। ভারতে চলে গিয়ে আর ফিরে আসেননি এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি করে জমিগুলো আয়ত্তে এনেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ভুয়া দাগ নম্বরের মাধ্যমে দলিল তৈরির অভিযোগও আছে। এত কিছুর পরও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে। নির্বাচনে কমিশনের কাছে ২০০৮ সালের ২২ নবেম্বর দাখিল করা হলফনামায় দেয়া স্থাবর সম্পত্তির স্থানে তিনি লিখেছেন তার নিজ নামে ২৮ একর ৪১ শতাংশ জমি রয়েছে। বাংলাদেশ ভূমি আইনে যেখানে বলা হয়েছে কোনো ব্যক্তির নিজ নামে ৬০ বিঘার বেশি জমি থাকবে না। সেখানে প্রভাবশালী ঐ ব্যক্তির নিজ নামে প্রায় ৩০০ বিঘা জমি থাকার পরও তার বিরুদ্ধে নির্বাচন বা সরকারি কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সংশ্লিষ্টরা যা বললেন আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার রাজত্বে অসহায় ভূমিহীনরা। বসতভিটা হারিয়ে এখন নিদারুণ কষ্টে দিনযাপন করছেন অনেকেই। তার ওপর বইতে হচ্ছে মামলার বোঝা। এমনই একজন হতদরিদ্র ভূমিহীন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ষাটোর্ধ্ব শচীন চন্দ্র। পৈত্রিক সূত্রে তিনি পেয়েছিলেন ৭ একর ১৯ শতক জমি। ঐ জমিগুলো জেগে ওঠার পর সম্পূর্ণই দখল করেছে মায়া। মায়ার খনন করা বিশালাকার পুকুরে শচীন চন্দ্রের জমি আছে ১ একর ৫৬ শতক। অবশিষ্ট জমিগুলো একই কায়দায় জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করেছে ঐ। এ কাজে মায়ার সহযোগী কর্মচারী গণেশ চন্দ্র। তার নামেই জমিগুলো বিক্রয় দেখানো হয়েছে। অথচ জমির মূল মালিক শচীন চন্দ্র এখনো বেঁচে আছেন। তার শেষ ইচ্ছা জমি ফিরে পাওয়া। সেই আশায় অন্যের জমিতে ঘর তুলে দু’মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে দিনযাপন করছেন। জমি ফিরে পাবার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে একাধিক আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রমাণ পাবার পরও জেলা প্রশাসক পরামর্শ দিয়েছেন মামলা করার। মামলা করার মতো সক্ষমতা আর চলাফেরার শক্তি নেই শচীন চন্দ্রের। শচীন চন্দ্র সাপ্তাহিক-কে বলেন, ‘হামরা গবির মানুষ বাপু। সউগ সম্পত্তি মায়া নেকি নিছে। এখন মাইনষের জমিত ঘর করি আছি। ঘরে দুটো মেয়ে আছে। নেখাপড়া করাইব্যার পারছি না। খ্যায়া না খ্যায়া আছি। সরকার ব্যবস্থা করে না। কিছু কইলে মায়ার লোকেরা আইসে। মারি ফ্যালার ভয় দেখায়। ঘরবাড়ি সারে নিগব্যার কয়।’ রাজপুর চরে শচীনেরা একা নয়। ধরণী কান্ত, রমেশ চন্দ্র, নির্মলেন্দু, সন্তোষ কুমার, কনক চন্দ্রসহ আরো ক’টি শহীদ পরিবারের জমিও দখলে রয়েছে মায়ার। সেই সঙ্গে মোট প্রায় ৮০টি পরিবারের জমি একইভাবে দখলে নিয়েছে ঐ ভূমিদস্যু। তারা অধিকার হারিয়েছে। লড়ছেন অধিকার ফিরে পাবার জন্য। সরকারের আন্তরিকতার অভাব, প্রশাসনের অসহযোগিতা, ভূমি আইনের কার্যকারিতা না থাকা এবং পেশীশক্তির কারণে মায়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং যারা মায়ার বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। এমনই এক মিথ্যা মামলার শিকার লালমনিরহাটের মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কানু। তিনি সাপ্তাহিক-কে বলেন, ‘লালমনিরহাটের রাজপুরের ঐ ঘটনার কারণে আমিও বিরাগভাজন হয়েছি। আমাকেও মানহানির মামলায় জড়ানো হয়েছে। সমস্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরই আমরা ভূমিহীনদের সঙ্গে একাত্মতা করেছি। একাধিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। প্রশাসনের পরোক্ষ সহযোগিতা, অর্থ আর রাজনৈতিক কারণেই আনোয়ারুল মায়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’ রাজপুর চরের আন্দোলনের সামনের সারির নেতা কলেজ শিক্ষক বিশ্বজিৎ মোহন্ত সাপ্তাহিক-এর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘রাজপুরের ভূমিহীনদের পক্ষে আইন আছে। প্রমাণও আছে। আছে দেশের সুশীল সমাজের কর্ণধারদের সমর্থন। তার পরও রাজনৈতিক কারণেই আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মামলা,হামলার মাধ্যমে আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এভাবে চলতে থাকলে সারাদেশের আলোচিত ভূমিদস্যু হবে মায়া। কারণ সে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছে। প্রশাসনের সবাই তার সুরে কথা বলে। আমরা বর্তমান সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ রাজপুরের চরের বিষয় নিয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোখলেছার রহমান সাপ্তাহিক-কে বলেন, ‘আমি লালমনিরহাট জেলায় অল্পদিন হলো এসেছি। আমি এখনো এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার কাছে কেউ আসেনি। আপনার কাছেই প্রথম শুনছি। এক অনুষ্ঠানে একজন এ কথা আমাকে মৌখিকভাবে বলেছিল। পরে আর দেখা করেনি। কোনো কাগজও দেয়নি। আমি অভিযোগ পেলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’
‘আনোয়ারুল ইসলামের প্রভাবের কাছে দেশের ভূমি আইন, প্রশাসন সবকিছু অসহায়’ খুশি কবির সমন্বয়ক, নিজেরা করি সাপ্তাহিক : রাজপুর চরে জমি দখল করা, কৃষকদের ওপর নির্যাতন করেও এখনো টিকে আছে ঐ অভিযুক্ত ভূমিদস্যু। এর পেছনের কারণ কী? খুশি কবির : আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। রংপুরের শিল্পপতি। সে এখন কাউনিয়া উপজেলার উপজেলার চেয়ারম্যান। ২০০৫ সাল থেকে সে জমি দখল শুরু করেছে। রাজপুরের চরে প্রায় ৫০০ বিঘা জমি সে দখল নিয়েছে। কৃষকদের নামে সে এ পর্যন্ত ৪টি মামলা করেছে। যার তিনটি মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়েছে। একটি মামলার দায় বয়ে বেড়াচ্ছে কৃষকরা। তার লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় ১৭টি জিডি করা হয়েছিল। মামলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জেলা প্রশাসনও তদন্ত করেছে। তদন্তে প্রমাণ পাবার পর জেলা প্রশাসন তাদের বলেছে আদালতে মামলা করতে। প্রশাসনের ভূমিকা ভালো ছিল না। মূলত অর্থ আর প্রভাবের জোরেই পার পেয়ে গেছে মায়া। সাপ্তাহিক : নিরীহ লোকজনের ওপর হামলার অভিযোগে মায়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ভূমিহীনরা। কিন্তু তদন্তে প্রমাণ হবার পরও মামলাটি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন? খুশি কবির : ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর নিরীহ কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগে লালমনিরহাট সদর থানায় আনোয়ারুল ইসলাম মায়াসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪২, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬, ১০৯ এবং ১১৪ ধারায় চরের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে মামলা করেছিল। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০০৯ সালের ৯ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। যার নম্বর ৪। লালমনিরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাটির জি আর নম্বর ২৫৪/০৮। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণেই ঐ মামলার দায় হতে অব্যাহতি পেয়েছে মায়া। সম্প্রতি রাজনৈতিক মামলা হিসেবে প্রত্যাহার করা হয়েছে আলোচিত ঐ মামলাটিও। মামলাটি কেন প্রত্যাহার করা হলো এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে আমরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।
‘ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে আইন থাকার পরও আইনের প্রয়োগ নেই’ ফারাহ কবীর কান্ট্রি ডিরেক্টর, এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ সাপ্তাহিক : ভূমি আইনের মাধ্যমে জমির সিলিং নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ বিঘা। অথচ মায়ার নিজের নামেই ২৮ একরের বেশি সম্পত্তি আছে বলে তিনি নির্বাচনী হলফনামায় বলেছেন। তিনি ভূমি আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে আপনি মনে করেন কী? ফারাহ কবীর : নির্দিষ্ট সীমার বাইরে জমি থাকাটা অবশ্যই ভূমি আইনের লঙ্ঘন। ঐ আইনে সিলিংয়ের অতিরিক্ত জমি সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করার কথা বলা আছে। আইনের মাধ্যমে সরকার সিলিং নির্ধারিত করে দেয়ার পরও অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করছে না। কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না সরকারিভাবে। বরং আনোয়ারুল ইসলাম মায়া পার পেয়ে যাচ্ছে। দেশে যেহেতু আইন আছে কাজেই ঐ আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে ভূমিহীনদের অধিকার ফিরয়ে দেয়া সম্ভব। আইন থাকার পরও লালমনিরহাটের ভূমিহীনরা অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। অর্থ আর প্রভাবের জোরেই সবকিছু নিজের আয়ত্তে রেখেছে মায়া। দেশে মাঠ পর্যায়ে মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে যে এত বাধা থাকে, সেটা ভূমিহীনদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি। আমরা কেবলমাত্র ভূমিহীনদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। আমরা অধিকার ফিরিয়ে দিতেই কাজ করছি। সাপ্তাহিক : ভূমিহীনদের পক্ষে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে আপনার নামেও মানহানির মামলা করেছে আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। ফারাহ কবীর : আমি আগেই বললাম আমরা ভূমিহীনদের অধিকার আদায়ের পক্ষে। এভাবে ভূমিহীনদের জমি প্রভাবশালীরা দখল নেয়। তারা আইন লঙ্ঘন করে। ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে মামলা হয়েছে। মামলা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। আমি মনে করি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা পেলে ঐ অধিকার ফিরে পাবার পথটা সহজ হতো। ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে আইন থাকার পরও আইনের প্রয়োগ নেই। যে কারণে তারা আস্ফালন করার সুযোগ পায়। সরকারকে এখনই এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।
‘বরেণ্য ব্যক্তিরা অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু কেউই আমার একটা চুলও সোজা করতে পারেনি’ আনোয়ারুল ইসলাম মায়া উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউনিয়া, রংপুর সাপ্তাহিক : ভূমি আইনের মাধ্যমে জমির সিলিং নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ বিঘা। অথচ মায়ার নিজের নামেই ২৮ একরের বেশি সম্পত্তি আছে বলে তিনি নির্বাচনী হলফনামায় বলেছেন। তিনি ভূমি আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে আপনি মনে করেন কী? ফারাহ কবীর : নির্দিষ্ট সীমার বাইরে জমি থাকাটা অবশ্যই ভূমি আইনের লঙ্ঘন। ঐ আইনে সিলিংয়ের অতিরিক্ত জমি সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করার কথা বলা আছে। আইনের মাধ্যমে সরকার সিলিং নির্ধারিত করে দেয়ার পরও অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করছে না। কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না সরকারিভাবে। বরং আনোয়ারুল ইসলাম মায়া পার পেয়ে যাচ্ছে। দেশে যেহেতু আইন আছে কাজেই ঐ আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে ভূমিহীনদের অধিকার ফিরয়ে দেয়া সম্ভব। আইন থাকার পরও লালমনিরহাটের ভূমিহীনরা অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। অর্থ আর প্রভাবের জোরেই সবকিছু নিজের আয়ত্তে রেখেছে মায়া। দেশে মাঠ পর্যায়ে মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে যে এত বাধা থাকে, সেটা ভূমিহীনদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি। আমরা কেবলমাত্র ভূমিহীনদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। আমরা অধিকার ফিরিয়ে দিতেই কাজ করছি। সাপ্তাহিক : ভূমিহীনদের পক্ষে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে আপনার নামেও মানহানির মামলা করেছে আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। ফারাহ কবীর : আমি আগেই বললাম আমরা ভূমিহীনদের অধিকার আদায়ের পক্ষে। এভাবে ভূমিহীনদের জমি প্রভাবশালীরা দখল নেয়। তারা আইন লঙ্ঘন করে। ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে মামলা হয়েছে। মামলা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। আমি মনে করি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা পেলে ঐ অধিকার ফিরে পাবার পথটা সহজ হতো। ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে আইন থাকার পরও আইনের প্রয়োগ নেই। যে কারণে তারা আস্ফালন করার সুযোগ পায়। সরকারকে এখনই এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। |