আমিরুল ইসলাম
২৭ জুলাই সকাল ১১টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন শুরু হবে। দীর্ঘ ৮ বছর পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের এই সম্মেলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে লবিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। ফলে ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনেও গতির সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির ৮৭টি জেলা শাখার মধ্যে গুরুত্বের বিচারে এ দুটি শাখার অবস্থান যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক বছর মেয়াদি এসব জেলা শাখার কমিটি। কিন্তু দীর্ঘ আট বছরেও নতুন কোনো কমিটির মুখ দেখেননি ওইসব শাখার নেতাকর্মীরা। একটি সূত্র জানায়, সংগঠন দুটির শীর্ষ ৪ জনের কেউ ছাত্ররাজনীতি করতে আগ্রহী নয়। তারা জড়িয়ে পড়েছেন নানাবিধ ব্যবসা-বাণিজ্যে। আর এর ফলে সংশ্লিষ্ট শাখার সাংগঠনিক কর্মকা- একেবারেই ঝিমিয়ে পড়ে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নেতাকর্মীদের অনেকে টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসীসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় সংগঠন ভাবমূর্তি আর নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক জীবন রক্ষার দাবিতে জুনিয়র নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন মহলের কাছে বারংবার সম্মেলন চেয়ে আট বছর পর ভাগ্যের সেই শিঁকে ছিঁড়ল অবশেষে। ২০০২ সালের ১২ জুলাইয়ের পর মহানগরের নতুন সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ার পরপরই ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনেও গতির সঞ্চার হয়েছে। নেতৃত্ব প্রত্যাশীরাও লবিং-তদবির শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী, এমপি, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, বর্তমান প্রভাবশালী নেতা এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে পর্যন্ত ধরনা দিচ্ছেন কেউ কেউ। মহানগরের এবারের সম্মেলনটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনে বয়স একটি বড় ফ্যাক্টর। মহানগরের এই সম্মেলনের মাধ্যমে ২৯ বা তার চেয়ে কম বয়সীদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। এর ফলে সামনে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও নেতৃত্বে আনার ক্ষেত্রে ২৯ ছাড় দিয়ে ২ বছর বাড়ানো হতে পারে। আর ২৭ এর মধ্যে কমিটি করা গেলে কেন্দ্রীয় কমিটি হবে আগের মতোই ২৯ বাধ্যবাধকতায়। তাই এ সম্মেলন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি একটি মেসেজ বলে একটি সূত্র উল্লেখ করেছে। সূত্রটি আরও জানায়, আর মাত্র কয়েক মাস পরে সারাদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভর্তি শুরু হবে। প্রতিবছর সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন এই ভর্তি পরীক্ষায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। গত বছরও ছাত্রলীগ বিশেষত মহানগরকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতারা বিভিন্ন কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় নানা বিঘœ তৈরি করে। যার মাসুল দিতে হয় আওয়ামী লীগকে। তাই এবার অপেক্ষাকৃত তরুণ ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের কমিটিতে আনার চিন্তাভাবনা চলছে। কমিটি নির্বাচনের সময়ে ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। শুধু বয়সের বিবেচনা সামনে এনে কমিটি করা হলে রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত নবীনরা চলে আসবে। এখন যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কমিটি করে দিলে পরে আবার শিবির প্রসঙ্গ আলোচনায় আসতে পারে। আগেও দেখা গেছে কমিটি করার সময় শিবির মাথায় না রেখে কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো গ-গোল বাধলেই শিবির অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দেয়া হয়েছে। মহানগর কমিটি করার সময় তাই এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।
আলোচিত কাউন্সিল কাউন্সিল সম্পন্ন করতে উত্তর এবং দক্ষিণে পৃথকভাবে তিন সদস্যের দুটি নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। উত্তরের নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে রয়েছেন নগর ছাত্রলীগের উত্তর কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আউয়াল, গিয়াস উদ্দিন বাবু এবং ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টুটুল। দক্ষিণের দায়িত্বে আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইলিয়াসুজ্জামান ও মঞ্জুর আলম এবং কেন্দ্রীয় উপদপ্তর সম্পাদক ফরহাদ হোসেন। জানা গেছে, মহানগর ছাত্রলীগের (উত্তর ও দক্ষিণ) সভাপতি ও সম্পাদকের চারটি পদের জন্য ১৫৬ জন প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগর উত্তর ছাত্রলীগে ১০৮ জন ও দক্ষিণে ৪৮ জন। ছাত্রলীগের নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের সভাপতি পদের জন্য ৪৫ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৬৩ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণের সভাপতি পদে ২১ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২৭ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ২২ জুলাই মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। মহানগর দক্ষিণের ফরম ক্রেতাদের মধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর আহমেদ শাহীন, সোহ্রাওয়ার্দী কলেজের সাধারণ সম্পাদক গাজী সারওয়ার হোসেন বাবু, মহানগর দক্ষিণের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ, কামরাঙ্গীরচরের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ মামুন, সরকারি কবি নজরুল কলেজের সভাপতি মহিউদ্দিন সরকার, মতিঝিল থানা ইউনিটের সাধারন সম্পাদক সোহেল শাহরিয়ার, রমনা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম মাসুদ, নগর ক্রীড়া সম্পাদক এসএম আবদুর রহীম, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সভাপতি নুরুন্নবী অপু, ইউসুফ দেওয়ান সজীব, শাহাদাৎ হোসেন সাদু, আরিফুর রহমান রাসেল, রিয়াজউদ্দিন রিয়াজ, মহিবুল্লাহ মাহী, নাসরিন সুলতানা ঝরা প্রমুখ। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আমিনুল ইসলাম, জহিরউদ্দিন বাবর, মাজহারুল ইসলাম শাকিল মহানগর দক্ষিণের ছাত্রলীগের কমিটির পদপ্রত্যাশী। উত্তরের প্রার্থীর মধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বাঙলা কলেজের সাধারণ সম্পাদক শাহরুখ মিরাজ, ঢাকা কলেজের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অসীম সরকার, ধানম-ি থানার সাধারণ সম্পাদক নাসিরুল হাসান সজিব, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক কাজী সাজেদ হোসেন, বাঙলা কলেজের সহ-সভাপতি কবির আহমেদ জনি, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, কাফরুল থানা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান নাঈম, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ফারুখ, নগর যুগ্ম সম্পাদক আবু ইলিয়াস লিখন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুল ইসলাম নাইম, তেজগাঁও থানার আহ্বায়ক এসএম সায়েম, উজ্জল সরকার, আল মাহমুদ সরকার তারেক প্রমুখ। জানা গেছে, আলোচিত প্রার্থীদের অধিকাংশই গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এলাকার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সম্প্রতি সোহ্রাওয়ার্দী কলেজের ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন বাবুকে লক্ষ্য করে গুলি করে। হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজের সভাপতি নুরুন্নবী অপুর বিরুদ্ধেও রয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ। নিজেকে তিন তথ্য মন্ত্রীর ভাগ্নে বলে বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় দেন। পিআইডিভিত্তিক টেন্ডার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন অপু। এসএম আবদুর রহীম গুলিস্তান এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ বলে জানা গেছে। এছাড়া মাহবুবুর রহমান পলাশ, মহিউদ্দিন খন্দকারসহ অন্যদের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ। কবির আহমেদ জনি মিরপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। র্যাবের দেয়া তথ্যানুযায়ী, জনি বাঙলা কলেজ ও আশপাশের এলাকার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করে। দেলোয়ার হোসেন ফারুখ, আনিসুর রহমান নাঈম, আবু ইলিয়াস লিখনসহ অন্যদের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব আলোচিত প্রার্থীদের সবাই তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং গুজব বলে দাবি করেন।
সার্টিফিকেট জালিয়াতি এবারের সম্মেলনকে ঘিরে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে সার্টিফিকেট টেম্পারিং করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ যোগ্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীরা তাদের বয়স ২৯ অতিক্রম করে গেছেন। এই সমস্ত প্রার্থী তাদের সার্টিফিকেট নানাভাবে টেম্পারিং করে নগরের দায়িত্ব পেতে চাইছেন বলে জানা গেছে। বয়স ছাড়াও শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৈবাহিক অবস্থাসহ আনুষঙ্গিক নানা বিষয়ে টেম্পারিং করার অভিযোগ উঠেছে। আবু ইলিয়াস রব্বানী লিখন, নুরুন নবী অপু, আখীদ হোসেন সোহেল প্রমুখ হেভিওয়েট নেতারা সম্মেলনে বেঁধে দেয়া ২৯ বছর অতিক্রম করেছেন বেশ আগেই। তার পরও এদের কেউ কেউ জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে বয়স লুকিয়েছেন। হোমিওপ্যাথিক কলেজের সাধারণ সম্পাদক সুমন বিবাহিত বলে জানা গেছে। কিন্তু তিনি তা উল্লেখ করেন নাই। কেউ কেউ এমন জালিয়াতিও করেছেন যে নিজের রাজনৈতিক পদবি নিয়ে প্রতারণা করেছেন। মহানগর উত্তরের কয়েকজন প্রার্থী নিজেদের ঢাকা কলেজের নেতা দাবি করেছেন, অথচ তাদের মনোনয়ন ফরমে কোথাও ঢাকা কলেজে পড়ার রেকর্ড নেই। ঢাকা কলেজের ছাত্র না হয়েও তারা ঢাকা কলেজের নেতা!
চলছে সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাই জানা গেছে, সার্টিফিকেট টেম্পারিং করার বিষয়টি ছাত্রলীগ নেতারা ওয়াকিবহাল। যার ফলে তারাও এ ব্যাপারে সতর্ক। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন জানান, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কমকর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক চলছে। প্রার্থীদের প্রদত্ত সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাই চলছে। তিনি বলেন, যদি তাদের কাছে প্রতীয়মান হয় কোন প্রার্থী তাদের সার্টিফিকেট টেম্পারিং করেছেন তবে তৎক্ষণিকভাবে তাকে সম্মেলনের জন্য অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হবে।
সক্রিয় আন্ডারওয়ার্ল্ড জানা গেছে, মহানগরের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও জেলের ভেতরে থাকা সন্ত্রাসীরা। ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত, খোরশেদ, সুইডেন আসলাম, জেলে থাকা বিকাশ, প্রকাশসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ ঘরানার লোকদের নেতা বানানোর জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নেতাদের তারা মোবাইল ফোনে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। হুমকির পাশাপাশি আর্থিক সুযোগ-সুবিধার কথা বলেও তারা নানাভাবে প্রলোভন দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে মহানগর উত্তরের সভাপতি ইসহাক সরকার বলেন, এবারের সম্মেলনে মাসলম্যানদের কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যারা ফ্রেশ রাজনীতি করে এসেছে তাদেরই এবার নেতৃত্বে আনা হবে। আসছে তরুণদের নেতৃত্ব ছাত্রলীগের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ২০০৬ সালের কেন্দ্রীয় কমিটির মতো এবারের মহানগর কমিটিতেও চমক আসছে। ২০০২ সালে কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগে যেভাবে ছুরি-কাঁচি চালিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী হেভিওয়েট নেতাদের বাদ দিয়ে তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে আনা হয়েছিল এবারও তেমনি একেবারে তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে আনা হবে। সূত্রটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কর্মীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রলীগে পূর্বে যত অবদান থাকুক না কেন যাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার, তদ্বিরসহ বিভিন্ন বাণিজ্যেও সঙ্গে যাদের ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদের কমিটিতে আনা হবে না। এবার সম্মেলনে প্রার্থীদের বয়স ২৯ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কঠোরভাবে মানা হবে বলে ছাত্রলীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রার্থীদের অবশ্যই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। এ ছাড়াও যোগ্য এবং সংগঠনের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে ছাত্রলীগের মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক তাসভীরুল হক অনু জানান।
আলোচনার শীর্ষে দীর্ঘ আট বছর পর সম্মেলন হওয়ায় ছাত্রলীগ মহানগরে অধিকাংশ হেভিওয়েট নেতারা বয়সের করাতে কাটা পড়েছেন। এই সমস্ত নেতারা দীর্ঘ আট বছর ধরে দোর্দ- প্রতাপে স্বস্ব ইউনিটের দায়িত্ব পালন করলেও সম্মেলনের আগ মুহূর্তে এসে অসহায় হয়ে পড়েছেন। শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে ভবিষ্যতের রাজনীতির কথা চিন্তা করে চুপ মেরে আছেন। এদের মধ্যে অল্প কিছু সৌভাগ্যবান রয়েছে যারা তাদের বয়স ধরে রেখেছেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাই তাদের নামই উচ্চারিত হচ্ছে মুখে মুখে। ২৯ অনূর্ধ্ব এই সমস্ত ভাগ্যবান নেতারও সদর্পে ঘোষণা করছেন তাদের প্রার্থিতা।
শাহরুখ খান (মিরাজ) জন্ম তারিখ : ১৫.১১.১৯৮২ ঠিকানা : ১২/সি, ১/১পল্লবী, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২১৬। শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৮ সালে পঞ্চগ্রাম মাধ্যমিক স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি বাঙলা কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : সরকারী বাঙলা কলেজ থেকে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। প্রথমে কলেজ কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিছুদিনের মধ্যে কলেজের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকের মুত্যু হলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান শাহরুখ। কাউন্সিল সামনে রেখে আলোচনার শীর্ষে চলে এসেছেন শাহরুখ মিরাজ। বয়স বিবেচনা ও ছাত্রলীগের গ্রুপিং রাজনীতির কারণে মহানগর উত্তরের তিনিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হয়ে উঠেছেন। শোনা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতার আশীর্বাদে তার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি। অভিযোগনামা : একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মিরপুরে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রার্থীর বক্তব্য : আপনি যদি খোঁজ নেন তাহলে দেখতে পাবেন আমি রাজনীতি করে গাড়ি কিনিনি। পারিবারিকভাবেই আমার সে সামর্থ্য আছে। আমার নামে থানায় যে মামলা আছে তা রাজনৈতিকভাবে করা মামলা। ১৯৯৮ সালে মাধ্যমিক পাস করার পরও ছাত্র আছেন কিভাবে এ প্রশ্নের জবাবে মিরাজ জানান এসএসসি পাস করার পর কয়েক বছর পড়ালেখা গ্যাপ ছিল। বর্তমানে আমি ডিগ্রিতে পড়াশোনা করছি।
নাসিরুল হাসান সজীব জন্ম তারিখ : ৭.১২.১৯৮১ ঠিকানা : ৯/১, কদম মঞ্জিল, রোড নং-৪/এ, জিগাতলা, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫। শিক্ষাগত যোগ্যতা : মতিঝিল মডেল হাইস্কুল থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস করেন। ২০০২ সালে মোহাম্মদপুর সেন্ট্রাল কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে এমবিএ করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কলেজ আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্বে ছিলেন দুই বছর। পরবর্তীতে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে তিনি ধানম-ি থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগনামা : অনেকে অভিযোগ করছেন তার বয়স নেই। মহানগরের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের দরুন তিনি মূল নেতৃত্বে আসছেন। প্রার্থীর বক্তব্য : আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদগুলো ফর্মের সঙ্গেই জমা দেয়া আছে। পারিবারিকভাবেই আমরা আওয়ামী লীগ করি। আমি দীর্ঘ ১১ বছর ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে ধানম-ি থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্বরত।
মোঃ আনোয়ার হোসেন জন্ম তারিখ : ২২.১০.১৯৮১ ঠিকানা : ৯৮, সেকশন-১৩, টিনশেড কলোনি, কাফরুল, ঢাকা-১২১৬। শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৭ সালে কাজীরচর উচ্চ মাধ্যমিক থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : ১৯৯৮ সালে কাফরুল থানার শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক।
মোহাম্মদ আবু শাহাদত (সায়েম) জন্ম তারিখ : ১০.০২.১৯৮৪ ঠিকানা : ১৭০ পূর্ব তেজতুরী বাজার, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫। শিক্ষাগত যোগ্যতা : এমএইউএম বালক কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৯৮ সালে দাখিল পাস করেন। ২০০১ সালে ছিপাতলী গাউছিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন। বর্তমানে তিনি উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : মাদ্রাসা পড়াকালীন সময়ে ছ্ত্রালীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৩ সালে তেজগাঁও থানা মাদ্রাসা ওয়ার্ড লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে নানা পদ ধারণ করে বর্তমানে তিনি তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও মহানগর দক্ষিণের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। অভিযোগনামা : তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ফার্মগেট, কাওরান বাজার এলাকায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিকের সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত বলে অনেকে অভিযোগ করেন। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অজস্র মামলা হয়েছে। একাধিকবার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি আটক হয়েছেন। কাওরান বাজার এলাকার গার্মেন্টসগুলোতে একচ্ছত্র চাঁদাবাজি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রার্থীর বক্তব্য : সাপ্তাহিক-এর সঙ্গে আলোচনাকালে সায়েম সমস্ত কিছুই অস্বীকার করেন। তেজগাঁও-এর মতো ইউনিটে নেতৃত্ব দেন বলে শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিকসহ অপরাধ জগতের অনেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে নিজস্ব রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তিনি এই সমস্ত সন্ত্রাসীদের থেকে দূরে থাকেন বলে জানান। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালু, তার প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত একাধিক মামলা দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল ও বর্তমান সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান কামালের হস্তক্ষেপে এই সমস্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি জানান। কাওরান বাজার এলাকার গার্মেন্টস এলাকার চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সৌজন্যে তিনি এই গার্মেন্টসগুলোতে বিভিন্ন এক্সেসরিজ সরবরাহ করেন। কোনো চাঁদাবাজি করেন না।
দেলোয়ার হোসাইন ফারুক জন্ম তারিখ : ০২.১০.১৯৮১ ঠিকানা : রয়েল গার্ডেন, বি-৩ ৩২০ শেরে বাংলা নগর রোড, ধানম-ি, ঢাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা : তিনি ১৯৯৫ সালে আশির পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টার্স অব হেলথ ইকোনমিক্সে পড়াশোনা করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : ১৯৯৯ সালে কুমিল্লার নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগর উত্তর কমিটির সদস্য। অভিযোগনামা : তিনি মনোনয়নপত্রে তার বয়স উল্লেখ করেছেন, তার বয়স ২৮ বছর ১০ মাস ২৬ দিন। কিন্তু ফরমে তিনি যে জন্ম তারিখ লিখেছেন সে অনুযায়ী তার বয়স ২৯ বছর ৭ মাস ২৫ দিন। অবশ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি অনুসারে তার বয়স ২৯ এর কম। প্রার্থীর বক্তব্য : তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে মনোনয়ন ফরমে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানান ফারুখ। তিনি বলেন, তার মূল সার্টিফিকেটেই তার বয়স উল্লেখ আছে। আনিসুর রহমান জন্ম তারিখ : ২০.০১.১৯৮২ ঠিকানা : ৪৭৯, দ: গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৬ সালে আলী আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি আবুজর গিফারী কলেজ থেকে মাস্টার্স করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : ১৯৯৭ সালে ২৫ নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু। বর্তমানে তিনি মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক। অভিযোগনামা : তার বিরুদ্ধে গোড়ান এলাকায় বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ১৫টির অধিক মামলা রয়েছে। জেল খেটেছেন ৭ বার। প্রার্থীর বক্তব্য : আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল মামলাই রাজনৈতিক কারণে দেয়া হয়েছে। এ সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। ১৫/১৬ বছর ধরে রাজনীতি করছি কখনো এ ধরনের অভিযোগ ওঠেনি। এখন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সাগর আহমেদ শাহীন জন্ম তারিখ : ১.০৩.১৯৮২ ঠিকানা : ২৫ বড় কাটরা, লালবাগ, ঢাকা-১২১১ শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৬ সাল থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে দাখিল পাস করেন। বর্তমানে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী সাগর আহমেদ। ১৯৯৬ সালে মহানগর দক্ষিণের সাবেক উপ ক্রীড়া সম্পাদক থেকে শুরু বর্তমানে লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি। তার নামে ঢাকা ও দোহারের বিভিন্ন থানায় ৪৭টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে কারাবরণ করেন ১৬ বার। অভিযোগনামা : লালবাগের সভাপতি সাগর আহম্মেদ শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তার ইশারা ছাড়া এখন লালবাগে কিছুই হয় না। চকবাজারের ট্যাম্পোস্ট্যান্ড, আলিয়া মাদ্রাসা, বকশী বাজারসহ বিভিন্নস্থানে তার কথাই আইন। হাজী সেলিমের একনিষ্ঠ সমর্থক শাহীনই এখন লালবাগের একচ্ছত্র কর্তা। প্রার্থীর বক্তব্য : আমার বিরুদ্ধে যত মামলা আছে তার সবগুলোই জোট সরকারের আমলে। অধিকাংশ মামলারই কেস পার্টনার হাজী সেলিম ও লিয়াকত শিকদার এবং মামলাগুলোর সবই শাহবাগ, রমনা কিংবা চকবাজার থানাতে করা হয়েছিল। যতবার জেল খেটেছি তাও জোট সরকারের আমলে। ২০০৮ সালে নাজমুল হুদার ক্যাডার মিলকান খন্দকারের ক্যাডাররা আমার ওপর হামলা করে সেখানে আমি গুলিবিদ্ধ হই। ১৯৯৬ সালে দাখিল পাস করার পর ২০০২ সালে কামেল পরীক্ষায় উইথেল থাকার কারণে সে বছর পাস করতে পারিনি। বর্তমান আমি দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি করছি।
ট্রাম্প কার্ড প্রার্থী ছাত্রলীগের মহানগরের এর আগের সম্মেলন হয়েছিল ২০০২ সালের ১২ জুলাই। এরপর পানি গড়িয়েছে অনেক। দীর্ঘ ৮ বছর নানা কারণে সম্মেলন করা হয়নি। ৮ বছর পর যখন সম্মেলন করার তারিখ ঘোষিত হচ্ছে তখন বেশির ভাগ হেভিওয়েট প্রার্থীর আর বয়স নেই। বয়সের কারণে তারা নেতৃত্বে আসতে পারছে না। আবার অনেকের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, টেন্ডারবাজি, তদবির, ভর্তি বাণিজ্যসহ নানাবিধ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নেতিবাচক মনোভাব জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগ সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলের সঙ্গে কথা বলে তাই এবার তারা তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে আনতে যাচ্ছেন। এই সব নেতারা মহানগরের রাজনীতিতে অনেকটাই অপরিচিত মুখ। তারপরও নানা সমীকরণে এবারের সম্মেলনে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন এই সমস্ত উদীয়মান তরুণ নেতারা।
শাহাদত হোসেন সাদু মহানগর দক্ষিণের রাজনীতিতে একটি যথার্থ ট্রাম্প কার্ড শাহাদত হোসেন সাদু। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি থেকে তিনি সরাসরি মহানগরের প্রার্থী। জানা গেছে, দক্ষিণের সভাপতি মামুনুর রশীদ শুভ্রর ঘনিষ্ঠজনদের অধিকাংশের বয়স ২৯ পার হয়ে গেছে। এ অবস্থায় শুভ্র ও অন্যরা সাদুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উপরন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় কিছু উদীয়মান নেতা সরাসরি তার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় মহানগরের রাজনীতিতে তার নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। জন্ম তারিখ : ০১.০৩.১৯৮২ ঠিকানা : ২৯৫/সি, খিলগাঁও, চেীধুরীপাড়া, ঢাকা-১২১৯। শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা পাস করেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে এলএলবি করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : ২৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি। অভিযোগনামা : রাজনীতিতে একেবারে নতুন। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তার তেমন কোনো ভূমিকা নেই বলে জানান অনেকে। গ্র“পিং রাজনীতি ও পারিবারিক কল্যাণে তিনি এবারের কাউন্সিলে অন্যতম প্রার্থী। প্রার্থীর বক্তব্য : ৮ বছর ধরে মহানগরের কোনো সম্মেলন হয় নাই। যে কারণে আমরা ওয়ার্ডে পড়ে আছি। যদি সময়মতো সম্মেলন হতো তবে আমরা আরো বড় পদ ধারণ করতাম। আন্দোলন-সংগ্রামে তার কোনো ভূমিকা নেই বলে যে প্রচারণা আছে তা পুরোপুরি মিথ্যা বলে জানান তিনি।
আনিসুর রহমান নাইম ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইসহাক সরকারের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন আনিসুর রহমান নাইম। নাইম বিমানবন্দর থানা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। সভাপতি ইসহাক সরকারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন হেভিওয়েট প্রার্থীদের বয়স না থাকার কারণে ইসহাক সরকার তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইসহাক ঘরানার বয়স উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও অবস্থান নিয়েছে নাইমের পক্ষে। ফলে মহানগর উত্তরের শীর্ষ পদে চলে আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে নাইমের। তবে মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য পিছিয়ে পড়তে পারেন তিনি। জন্ম তারিখ : ৩১.১২.১৯৮১ ঠিকানা : ৩২৭ কাওলার বেপারী বাড়ি, দক্ষিণ খান, ঢাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৫ সালে কাওলার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। ২০০২ সালে তিতুমীর কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি ১৯৯৫ সালে কাওলার ২ নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারি হিসেবে। পরবর্তীতে ওয়ার্ড সভাপতি। বর্তমানে তিনি বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত থানার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর উত্তরের সদস্য। অভিযোগনামা : ১/১১ পরবর্তী সময়ে রাজনীতি ছেড়ে দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ আমলে তার বিরুদ্ধে জমি দখলসহ চাঁদাবাজির বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিমানবন্দর সংলগ্ন আশিয়ান সিটি থেকে চাঁদা দাবি ও পূরণ না হওয়ায় এর ম্যানেজারকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রার্থীর বক্তব্য : সাপ্তাহিক-এর সঙ্গে আলোচনাকালে এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। আশিয়ান সিটির মহাব্যবস্থাপক তার নিকট আত্মীয় দাবি করে তিনি বলেন, আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে চাঁদা দাবি করার কোনো প্রশ্নই আসে না।
আনিসুর রহমান রাজীব আনিসুর রহমান রাজীব এআর রাজীব হিসেবে পরিচিত। তিনি সরকারি বাঙলা কলেজের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আর রাজীবের বাবা ১৯৬৯ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। বাবার সেই পরিচয়ে এআর রাজীবকে এবারের সম্মেলনে উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রভাবশালী একটি শিক্ষক মহলসহ ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া তৎকালীন ছাত্রলীগের বেশ কয়েক নেতা রাজীবের পক্ষে লবিং করছেন বলে জানা গেছে। জন্ম তারিখ : ০১.০১.১৯৮৪ ঠিকানা : বাসা-৩৬, রোড-৪, ব্লক-এফ, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬। শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৯ সালে মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি মিরপুর ল’ কলেজে পড়াশোনা করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : তিনি সরকারি বাঙলা কলেজের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু। অভিযোগনামা : রাজনীতিতে অতটা সক্রিয় নয়, বিভিন্ন থানায় তার নামে ৮/১০টি মামলা রয়েছে। প্রার্থীর বক্তব্য : আমার নামে এখন কোনো মামলা নেই। বিগত সরকারের আমলে কিছু মামলা ছিল সেগুলো মিটে গেছে। বর্তমানে সরকারি বাঙলা কলেজে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছি।
আহসান হাবিব আহসান হাবিব তিতুমীর কলেজের শহীদ আঁখি হলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত। এর আগে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। মহানগরের রাজনীতিতে একেবারে নতুন এই নেতা বর্তমানে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশের আশীর্বাদপুষ্ট বলে জানা গেছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির শীর্ষ এক ছাত্রলীগ নেতাসহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক সাংগঠনিক সম্পাদক তার পক্ষে সরাসরি মাঠে নেমেছে। জন্ম তারিখ : ১৫.০৮.১৯৮১. ঠিকানা : শহীদ আঁখি হল, তিতুমীর কলেজ, ঢাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৬ সালে ভাইলার হাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে তিতুমীর কলেজে মাস্টার্স করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : তিতুমীর কলেজের শহীদ আঁখি হলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত। এর আগে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। অভিযোগনামা : রাজনীতিতে তিনি অপরিচিত। এ কারণে তার সম্পর্কে তেমন জানা যায়নি। তবে মহানগরের রাজনীতিতে তিনি কতটুকু ভালো করবেন তা নিয়ে তার ঘনিষ্ঠজনরাও সন্দিহান। তার নামে গুলশান থানায় দুটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আছে বলে জানা যায়। প্রার্থীর বক্তব্য : রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য এই মামলা দুটি দেয়া হয়।
নাসরীন সুলতানা ঝরা এই প্রথমবারের মতো মহানগরের রাজনীতির মূল নেতৃত্বে আসতে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন বদরুনন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সভাপতি নাসরীন সুলতানা ঝরা। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নাসরীন সুলতানা ঝরা এবারের সম্মেলনে গোলাম সারোয়ার কবিরের ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন। গোলাম সারোয়ার কবিরের প্রার্থীরা যদি বয়সের কারণে বাদ পড়ে তবে ঝরা হতে পারেন মহানগরের অন্যতম প্রার্থী। জন্ম তারিখ : ৩০.১২.১৯৮১ ঠিকানা : বদরুননেসা কলেজ হোস্টেল, বকশী বাজার, ঢাকা-১২১১ শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৬ সালে জিআর ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০০৮ সালে তিনি বদরুননেসা কলেজ থেকে এমএসএস করেছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : ১৯৯৭ সালে বদরুননেসা সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি কলেজের সভাপতি। রাজনৈতিক কারণে এ পর্যন্ত ৬ বার কারাবরণ করেছে। অভিযোগনামা : কলেজে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম ও কলেজের শিক্ষকদের মাইক্রোবাস নিজের কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। প্রার্থীর বক্তব্য : তিনি জানান, মহানগর তথা ছাত্ররাজনীতিতে বরাবরই ছেলেদের প্রাধান্য থাকে। শেখ হাসিনা দিনবদলের ডাক দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের একটি বৃহৎ ইউনিট সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। এ অবস্থায় ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও মূল নেতৃত্বে আনা হলে আরো বেশি মেধাবী মেয়েরা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আগ্রহী হবে।
সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল জন্ম তারিখ : ৩১.১২.১৯৮১ ঠিকানা : শিক্ষাগত যোগ্যতা : ১৯৯৭ সালে বারুয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন। বর্তমানে অতীশ দীপংকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা : অভিযোগনামা : সাপ্তাহিকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তিনি যে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তা ত্র“টিপূর্ণ। তিনি দাবি করেছেন ছাত্রলীগ উত্তরের ১৯৯৮ সালের কমিটির সদস্য এবং বর্তমান কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ অব হেলথ টেকনোলজি (প্যারামেডিকেল) শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু তার প্রদত্ত বৃত্তান্তে কোথাও হেলথ টেকনোলজির ছাত্র বলে প্রমাণ নেই। উপরন্তু ১৯৯৯৮ সালের সাইফুল-আঁখির পরিষদের সদস্য থাকলে তার বয়স ২৯ এর বেশি হওয়ার কথা। প্রার্থীর বক্তব্য : অভিযোগ শুনে বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি। একটু পরে আপনাকে ফোন দেব। পরে বেশ কয়েকবার ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। সহযোগিতায় : মুনীর মম্তাজ |