|
বাংলালিংক বাংলারপথে। চ্যানেল আই-এর একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। ধারাবাহিক এ অনুষ্ঠানের এক একটি পর্বে তুলে ধরা হয় দেশের একটি স্থান। তুলে ধরা হয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন বিবরণ। ব্যাপক দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় রয়েছেন হাসান ইমাম চৌধুরী টিংকু। তার চিত্রনাট্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানটির পর্ব অবলম্বনে সাপ্তাহিক-এর পাঠকদের জন্য এই স্পট ফিচার। এবারে থাকছে ‘মৌলভীবাজার’।
বাংলালিংক বাংলারপথে অনুষ্ঠানটিতে এই পর্বে তুলে ধরা হয়েছে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন স্থান। সব স্থান একসঙ্গে উপস্থাপন সম্ভব নয়। তাই পর্ব ভাগ করে মৌলভীবাজারের স্পটগুলোকে তুলে ধরা হলো... আরিফুর রহমান
১৯৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর জমিদারদের সুবিধার্থে বিভিন্ন এলাকার নাম দেয়া হয়। পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এই এলাকা অনেক বড় হওয়ায় তখন একে বড় এলাকা বলে ডাকা হতো। ক্রমে এই বড় এলাকাই হয়ে গেল বড়লেখা। মৌলভীবাজার শহর থেকে বড়লেখা ৬৮ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। ১৯৪০ সালে এখানে থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বড়লেখার আয়তন ৫০১.৬৫ বর্গকিলোমিটার। লোক সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। সদর থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে দাসের বাজার ইউনিয়নের লঘাটি গ্রামে রয়েছে ৩০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক খোয়াজা মসজিদ। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে তৈরি হয় এই মসজিদ। এই লঘাটি এলাকার মতলিব আলী মাস্টারের ঘরে রক্ষিত একটি বাদশাহী ফরমান অনুযায়ী জানা যায়, সম্রাট আলমগীর আওরঙ্গজেবের শাসন আমলে বাংলার জায়গির নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আর তখনই তিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে ধারণা করা হয়। মৌলভীবাজার তথা বৃহত্তর সিলেটে পর্যটনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্পট হচ্ছে মাধবকুণ্ডু জলপ্রপাত। মাধবকুণ্ডুর সঙ্গেই ইকোপার্ক। বর্তমানে এখানে রেস্টুরেন্ট, সুভিনিয়র শপসহ অনেক দোকানপাট এমনকি জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আপনি থাকতেও পারবেন। ১৯৯৯ সালে মাধবকুণ্ডুকে ইকোপার্ক ঘোষণা করা হয়। এই ইকোপার্কে অনেক কিছু দেখার আছে তার মধ্যে প্রথমেই যেটি চোখে পড়বে তা হলো খাসিয়াপুঞ্জি। আদিবাসী খাসিয়ারা যেসব পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে সেসব পাহাড়ি গ্রামগুলোকে পুঞ্জি বলা হয়। আদি মঙ্গলীয় গোষ্ঠীর খাসিয়ারা ভাষাতাত্ত্বিক বিচারে অস্ট্রিক ভাষা গোষ্ঠীর। এদের নিজস্ব ভাষা আছে আর তা হলো খাসি। খাসিয়াদের আয়ের প্রধান উৎস খাসিয়া পান-সুপারি। এদের বিচিত্র জীবনযাপন এখানে দেখতে পাবেন। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখায় খাসিয়ারা রয়েছে। এরা বর্তমানে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। মৌলভীবাজারে খাসিয়াদের পাশাপাশি মণিপুরী, ত্রিপুরা-গারোসহ বেশ কিছু আদিবাসীর বসবাস আছে। মাধবকুণ্ডু ইকোপার্কে পর্যটনের কিছু সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা আছে। পর্যটন রেস্তরাঁ ছাড়িয়ে আরেকটু সামনে এগুলেই হাতের বামে পড়বে ১৮৬৭ সালে নির্মিত মাধবকুণ্ডু শিবমন্দির। মাধবকুণ্ডু যেমন প্রকৃতিপ্রেমিকদের তীর্থস্থান, তেমনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান এই মাধবকুণ্ডু। প্রতিবছর এই শিবমন্দিরকে ঘিরেই যত আয়োজন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই তীর্থস্থানের সৌন্দর্য/ পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষ দেখতে আসা শুরু করলে এটি একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়। আপনারা এখানে আসলে সব সময়ই কেউ না কেউ পূর্ণস্নান করছে তা দেখতে পাবেন। মাধবকুণ্ডু ইকোপার্কের গেট থেকে মাধবকুণ্ডু জলপ্রপাত প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে। এই সামান্য হাঁটার কষ্ট সহ্য করলেই আপনারাও দেখতে পাবেন প্রকৃতির এক দারুণ ব্যঞ্জনা পাথারিয়া পাহাড়ের প্রায় ২০০ ফিট ওপর থেকে গড়িয়ে পড়া মাধবকুণ্ডু জলপ্রপাত। বাংলাদেশে যতগুলো পর্যটন আকর্ষণ আছে তার মধ্যে এটি অন্যতম একটি। বাংলাদেশের পর্যটন-আকর্ষণের অন্যতম মাধবকুণ্ডু জলপ্রপাত। মাধবকুণ্ডু আসলে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের একটি তীর্থস্থান, যা বর্তমানে ভ্রমণপিপাসুদেরও একটি অন্যতম তীর্থস্থান। অনেক অনেক দিন আগের কথা। শ্রীহট্টের রাজা গঙ্গাদ্বজ ওরফে গোবর্ধন এই পাথারিয়া পাহাড়ে একটি বিশ্রামাগার তৈরি শুরু করলে সেখানে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মাটির নিচে একজন সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। তখন রাজা সন্ন্যাসীদের পায়ে পুজো এবং তাকে ভক্তি করা শুরু করেন। সন্ন্যাসী খুশি হয়ে রাজাকে নানা উপদেশসহ এই কুণ্ডে মানে জলপ্রপাতের নিচে যেখানে পানি জমে আছে সেখানে ত্রৈয়দশী তিথিতে মধুকৃষ্ণা বিসর্জন দিতে বলেন। মধুকৃষ্ণ বিসর্জনের পর তিন বার মাধব মাধব মাধব বলে দৈব বাণী হয়। সেই থেকে এই কুণ্ডের নাম হয়ে যায় মাধবকুণ্ডু। আবার কেউ কেউ বলেন মহাদেব বা শিবের পূর্ব নাম মাধব। তার নামেই এই কুণ্ডের নাম রাখা হয়েছে মাধবকুণ্ডু। রাজা গোবর্ধনের খুঁজে পাওয়া সন্ন্যাসীদের সঙ্গে একজন সন্ন্যাসিনী ছিলেন। তার নাম ছিল পরী। সেই সন্ন্যাসিনী পরীর নামেই এই ঝরনার নামকরণ হয়েছে পরীকুণ্ডু। বর্ষায় ১৭৫ ফুট উঁচু থেকে গড়িয়ে পড়া পরীকুণ্ডু ঝরনাটি দেখতে অপরূপ। মাধবকুণ্ডু দেখতে এলে এই পরীকুণ্ডুও ঘুরে যেতে পারেন। পাথারিয়া পাহাড়। যারা মাধবকুণ্ডে এসে পাথারিয়া পাহাড়ে উঠবেন তারা খুব সাবধানে খাড়া দেয়াল পার হয়েই উপরে উঠবেন। কারণ এখানে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে বাঁচানোর মানুষ নেই। সাধারণভাবে পাথারিয়া পাহাড়ে ওঠাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। পাথারিয়া পাহাড়ের চূড়ায় মানে মাধবকুণ্ডু জলপ্রপাত। এখানে যে ছড়াটি আছে সেটির নাম গঙ্গামারা। গঙ্গামারা ছড়া ধরে হাঁটলেই চমৎকার সৌন্দর্য দেখতে পাবেন। এ পথে ১০ কিলোমিটার দূরেই ভারতের সীমান্ত।
এখন থেকে বাংলালিংক বাংলার পথে প্রচারিত হয় চ্যানেল আইতে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে
অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে যে কোনো তথ্য ও মতামত জানাতে ই-মেইল করুন : tinkutravelar@gmail.com |