Logo
 বর্ষ ৩ সংখ্যা ১৮ ১লা আশ্বিন, ১৪১৭ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
 
iforning
[সম্পাদকীয়] গার্মেন্টসে আগুন, লাশ এবং শাস্তিহীন বাণিজ্য  

গাজীপুরের গরিব এ্যান্ড গরিব সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে মারা গেল ২১ জন গার্মেন্টসকর্মী। যথারীতি মন্ত্রী, এমপি, বিজিএমই নেতাদের পরিচিত মুখ টেলিভিশনে দেখলাম আমরা। কথা বললেন, সান্ত্বনা দিলেন, হয়ত আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেবেন।
বিজিএমই নেতা হয়ত বলবেন, গার্মেন্টস চললে এ রকম দু-একটি দুর্ঘটনা তো ঘটতেই পারে! মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা বাণিজ্যে এ রকম দু-চারটে আগুনে পোড়া গরিবের লাশ কতটাই বা দামি?
হয়ত মন্দা কাটাতে, পোড়া লাশের বিনিময়ে দেয়া অর্থের ক্ষতিপূরণ কাটাতে সরকারের কাছে আর্থিক প্যাকেজও দাবি করতে পারেন বিজিএমই নেতৃবৃন্দ।
২.
মৃত্যুর বহর চলছে। একটি হিসেব দেখা যাক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার জানাচ্ছে ১৯৯০ সাল থেকে গার্মেন্টসে আগুনে পুড়ে মারা গেছে কতজন। ১৯৯০ সালে সারাকা গার্মেন্টসে ৩২ জন, ১৯৯৬ সালে লুসাকা গার্মেন্টসে ২২ জন, ১৯৯৭ সালে নারায়ণগঞ্জের জাহানারা ফ্যাশনে ২০ জন, ঢাকার সাংহাই এ্যাপারেলসে ২৪ জন, ২০০০ সালে ম্যাক্রো সোয়েটারে ২৩ জন, গ্লোব নিটিংয়ে ১২ জন, ২০০৪ সালে চৌধুরী নিটওয়্যারে ২২ জন, ২০০৫-এ নারায়ণগঞ্জের শান নিটওয়্যারে ২৩ জন, ২০০৬-এ কেটিএস গার্মেন্টসে (চট্টগ্রাম) ৬২ জন।  সর্বশেষ ঘটল ২০১০ সালে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনা।
৩.
এই মৃত্যুর কারণ কি?
আগুন ধরলে তা নেভানোর ব্যবস্থা নেই কেন?
আগুন ধরলে মানুষগুলোর নিরাপদে প্রস্থানের ব্যবস্থা নেই কেন?
যে পথ দিয়ে এ রকম ইমার্জেন্সি প্রস্থান সম্ভব সেই পথে থাকে বড় তালা। এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।
গার্মেন্টসগুলোর শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক ‘দাস এবং প্রভুর’। মানুষরূপী ‘দাস’কে খাঁচায় বন্দি করে আগুনে পুড়িয়ে মারার তাবৎ ব্যবস্থা যারা করেছে এ যাবৎ তাদের কারো শাস্তি হয়নি।
রাষ্ট্র সবসময় এই অর্থবান-ক্ষমতাগোষ্ঠীর পাশে থেকেছে।
৪.
কিন্তু এই মৃত্যুর মিছিল তো থামানো দরকার। দরকার এই অন্যায্য মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের কঠোর শাস্তির।
রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা যানচালকের শাস্তি বাড়াতে চাই। আমরা বলি প্রচলিত আইনে এদের যে শাস্তি দেয়া আছে তা পর্যাপ্ত নয়।
কিন্তু আমরা কি কখনো প্রশ্ন তুলেছি, গার্মেন্টসে নিয়মিত হত্যাকা- আর মৃত্যুর বদলা শাস্তি কি?
মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজ কখনো কি এই প্রশ্ন তুলেছে?
৫.
এবারের এই হত্যাকা-ের পর, নির্মমভাবে আগুনে পোড়া মানুষদের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা চাই এই ঘটনার একটা ন্যায্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক। কেন আগুন ধরে, কেন মানুষ খাঁচায় আটকা পড়ে বারংবার মরে তার কারণটা নির্ণীত হোক।
এই মৃত্যু মিছিল ঠেকাতে গার্মেন্টস মালিকদের ক্ষেত্রে সরকার কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সেই ব্যবস্থার সুপারিশও করা হোক।
যারা অপরাধী তাদের শাস্তিও নিশ্চিত হোক।

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
নিয়মিত বিভাগ
  • স ম্পা দ কী য়
  • [ডাকবন্ধু] এভাবে কি দেশ চলতে পারে?
  • জয়পুরহাট : ১ম পর্ব- শহীদ আবুল কাসেম ময়দান
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive