সাপ্তাহিক-এর ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনের চিঠি : প্রেমে-অভিজ্ঞতার বিজ্ঞপ্তি পড়ে ভাবলাম, জীবনে অনেক অনেক লিখেছি, কিন্তু কখনো আসেনি বসন্ত। আমার ৩৯ বছর আগে ঘটে যাওয়া বিয়োগান্ত প্রেমের কাহিনীটি প্রকাশ করলে কেমন হয়? একটু দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, সমাজ এরা কি ভাববে? কিন্তু লিখে ফেললাম একটি চিঠি, যা ঊনচল্লিশ বছর ধরে জমা ছিল আমার বদ্ধ স্মৃতির ঘরে। আমার মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বগাঁথা কাহিনীটি লিখে সাপ্তাহিক-এর ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলাম। হঠাৎ দেখি সেরা তিনের দ্বিতীয় স্থানে আমার নাম, তাও আবার ৩২২৬ জনের মধ্যে! এ যেন অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়! এর পর বিভিন্ন স্থান হতে অসংখ্য মোবাইল আসতে লাগল, শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনে আমার শূন্য হৃদয়টাকে ভরে দিল। প্রতিনিয়ত নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা, চিটাগং ভার্সিটি ও কুমিল্লা মেডিকেলের ছাত্ররা তো আমাকে বলেই ফেললেন, প্রথম স্থান অধিকারী রাসির লেখায় প্রথম হওয়ার মতো কোনো উপাদান, ঘটনা, নাটকীয়তা বা সৃজনশীলতা পায়নি। নিছক কিছু কথামালা ছাড়া। লন্ডনের নিউ ক্যাসেল থেকে সুসাহিত্যিক বন্ধুবর জিয়া বলল, তোর লেখায় সৃজনশীলতা, উপস্থাপনা, ঐতিহাসিক ঘটনার চমৎকার বর্ণনাশৈলী সত্যিই মনোমুগ্ধকর। একজন সার্থক লেখক সেই, যে পাঠকের হৃদয়কে ছুঁয়ে দিয়ে চোখের জল এনে দিতে পারে। মানিকগঞ্জের সাবরিনা বললেন, আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারলে খুশি হব। আপনার স্বাধীনতা যুদ্ধে যে কঠিন ত্যাগ-তিতিক্ষা, বীরত্ব, অবদান, সাহসিকতা ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন জাতি যুগ যুগ আপনাকে স্মরণ করবে। আপনার মর্মস্পর্শী লেখাটি একটি অনুপম দেশাত্মবোধক গান, একটি অমর প্রেমের কবিতা। আমি এটাকে কবিতায় রূপ দিয়ে বা নাটক করে প্রকাশ ও প্রচারের চেষ্টা করছি। রাজশাহী মেডিকেলের টুটুল তো উন্মাদনায় অস্থির হয়ে আমার জীর্ন কুটিরে হঠাৎ এসে হাজির। তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ আদর করলাম। তার দু’চোখে দেখি, সেকি আনন্দ অশ্রু! চট্টগ্রামের লালখানের ইভা আমার লেখাটিকে রচনায় রূপান্তরিত করে ক্লাসে ফাস্ট হওয়ার গৌরবের কথা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। বললাম, সবকিছুই সাপ্তাহিক-এর অবদান। তাদের সহযোগিতায় আমি ব্যাপক জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠতে সক্ষম হয়েছি। এর পুরো কৃতিত্বের দাবিদার সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা, প্রতিবেদক ও সাপ্তাহিক পরিবারের সদস্যবৃন্দ। এমনিভাবে মোবাইলে শুভেচ্ছা পেয়েছি কুমিল্লা, দিনাজপুর, নোয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, বরিশাল, টাঙ্গাইল থেকে। সেরা তিনের গাজীপুরের রাসি ও শুধাংষু শেখর হাওলাদারও আমাকে অভিনন্দিত করেছে এ হেন গৌরবগাঁথা লেখার জন্য। ঢাকা ভার্সিটির ইসলামিক স্টাডির ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র দুলাল বলল, আপনার লেখার প্রতিটি লাইন আমি বার বার পড়েছি আর চোখের জলে বালিশ ভিজিয়েছি। ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার মামুন বলল, শত শত বার পড়েছি আর ভেবেছি প্রেমের স্বরূপটা কি? আপনার প্রেমিকা বীরত্বের অবমূল্যায়ন করে অর্থ-বৈভবের কাছে আত্মসমর্পণ করল! মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রহিম নওদাপাড়া, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া
ট্রাফিক আইন মানুন ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে গাড়ি। তেমনি বাড়ছে জনগণের পথ চলাচলের ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অনিয়ম। ফলে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ঘটছে নানান দুর্ঘটনা। ইদানীং প্রশস্ত রাস্তার মাঝখানে যে সব আইল্যান্ড আছে তাতে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যে সব সারিবদ্ধ গাছ দাঁড়িয়ে আছে, জনসাধারণ রাস্তা পারাপারের জন্য তার ফাঁকে দাঁড়িয়ে থাকে এবং হুট করে অসাবধানতাবশত দৌড় দেয়। এতে করে গাড়ির চালকরা পড়েন কঠিন বিপাকে, ঘটে যায় ভয়ঙ্কর কোনো দুর্ঘটনা। এই অনিয়ম বন্ধ করতে যে সব আইল্যান্ডগুলো খোলা অবস্থায় আছে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে নির্দিষ্ট কিছু জায়গা পারাপারের জন্য খুলে দিয়ে সেখানে কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা উচিত। যাতে করে পারাপারের আগ থেকেই পথচারী আর চালক প্রস্তুতি নিতে পারে। আমাদের সকলেরই উচিত ট্রাফিক আইনকানুন যথাযথ জেনে তা মানা। দুর্ঘটনা রোধ করতে ড্রাইভারদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি বয়সসীমা নির্ধারণ করা যার আগে ও পরে কেউ ড্রাইভিং করতে পারবে না এবং তার ব্যক্তিগত আচরণ সম্পর্কেও অবগত হওয়া। অনভিজ্ঞ ড্রাইভার যেন কোনো উপায়েই বিআরটি-এ থেকে লাইসেন্স বের করতে না পারে সেদিকে কর্তৃপক্ষের আরো সজাগ হওয়া জরুরি। মাদকাসক্ত হয়ে কোনো ড্রাইভার গাড়ি চালালে বা তার হেলপার দ্বারা গাড়ি চালালে তাদের উভয়েরই শাস্তির ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি জনসাধারণকে আরো সচেতন হতে হবে। পথ পারাপারের সময় অমনোযোগী এবং মোবাইলে কথা বন্ধ করতে হবে। ওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং নির্দিষ্ট ফুটপাত ও আইল্যান্ড ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নূর খিলগাঁও, ঢাকা
আদিবাসীদের প্রাণের দাবি এ দেশের আদিবাসী সমাজ প্রত্যাশা করেছিল মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে তাদের ভূমি নিরাপত্তা। তাদের প্রত্যাশা ছিল নিজেদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য অক্ষুণœ রেখে তারা সর্বান্তকরণে অংশ নিতে পারবে দেশ গড়ার কাজে। কিন্তু এখনো আদিবাসীদের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে সব সরকারের ঢিলেমি আমাদের আদৌ কাম্য নয়। তীর্থক আহসান মেহেদী রায়পুরা কলেজ, নরসিংদী
ছাত্ররাজনীতিতে সংস্কার চাই এ কথা সত্য যে, ছাত্ররাজনীতির কল্যাণেই ২১শে ফেব্রুয়ারি হয়েছে অমর একুশে, পেয়েছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এর স্বীকৃতি। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ঐতিহ্য এখন ভূলণ্ঠিত। ইতিহাসের হীরকোজ্জ্বল দ্যুতিতে উদ্ভাসিত ছাত্ররাজনীতি এখন পথভ্রষ্ট। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সাহস ও সক্ষমতা তো নেই-ই অতিসম্প্রতি ছাত্র সংগঠনগুলোর উচ্ছৃঙ্খল ও বেপরোয়া কর্মকা- ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তাকেই অস্তিত্ব সংকটে ভোগাচ্ছে। হল দখলের মাধ্যমে সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা এখন ছাত্র সংগঠনগুলোর নিত্যনৈমিত্তিক কর্মকা-। ছাত্ররাজনীতির পৈশাচিকতার তা-বে অকালে ঝরে যেতে হয়েছে বুয়েটের সাবেকুন্নাহার সনি, ঢামেকের আবুল কালাম আসাদ, রাবির শরিফুজ্জামান নোমানী, রাজশাহী পলিটেকনিকের রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানির মতো অসংখ্য সনি-সানিদের। ছাত্ররাজনীতির নামে যা চলছে তাতে শিক্ষাঙ্গন শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ তো দূরের কথা শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই অসম্ভব। দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই ছাত্ররাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আর এ ক্ষেত্রে সংস্কার অতীব জরুরি। এমন সংস্কার হতে হবে যাতে ছাত্ররাজনীতি ফিরে পাবে অতীত ঐতিহ্য। টি আই এম তৌহিদ প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
কবে হবে শাস্তি আবু বকর একটি স্বপ্নের নাম, একটি নক্ষত্রের নাম, একটি আশার নাম। আবু বকর আর নেই! নোংরা ছাত্ররাজনীতির বলি হয়েছে সে, সঙ্গে সঙ্গে নিভে গেছে ঢাবির একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। ঈশ্বরদীর মেয়ে বৃষ্টি, ছোট্ট মেয়েটি সবেমাত্র সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। ক্লাসের ফাঁকে স্কুলের মাঠে বান্ধবীদের সঙ্গে খেলছিল বৃষ্টি। এমন সময় দুই বখাটে এসে খুঁজতে থাকে বৃষ্টিকে। আতঙ্কে বৃষ্টি স্কুলের একটি কক্ষে আশ্রয় নেয়। বখাটেরা সেখানে গিয়েই তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। লজ্জা-ক্ষোভে-অপমানে মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। ছোট্ট হামিম! উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের লিটল ফ্লাওয়ারই ছিল হামিম। স্কুল ছুটির পর স্কুলের সামনেই মায়ের আদরের ধন, মায়ের চোখের সামনে তারই সঙ্গে রাস্তাতে একটি বাস চাপা দেয় হামিমকে। জীবনের মানে বোঝার আগেই জীবন থেকে নিষ্কৃতি পেল সে। দেশবাসী অপেক্ষা করছে আবু বকর, বৃষ্টি আর হামিমের হত্যাকারীদের কী শাস্তি হয় তা দেখার জন্য। কবে হবে শাস্তি? নাকি আদৌ হবে না? জুনিয়র হাসান প্যারেন্টস্ ছাত্রাবাস, রুম নং- ১০২, শের-ই-বালা নগর, পুরান বগুড়া, বগুড়া |