Logo
 বর্ষ ২ সংখ্যা ৩৪ ২৪শে পৌষ, ১৪১৬ ০৭ জানুয়ারী, ২০১০ 
আপনি এখন পুরোনো সংখ্যায় আছেন ! তারিখ : ০৭ জানুয়ারী, ২০১০
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
 
iforning
[সরেজমিন] পাহাড়ে অসন্তোস নেপথ্যে...  

রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ির দানবীয় ঘটনার পর সেখানে গিয়েছিলেন সাংবাদিক শওকত মিল্টন, তার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নেপথ্য কাহিনী....


ঘটনার অঘটন যেখানে শুরু
গঙ্গারামমুখ এলাকার বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের প্রত্যাহার এবং আদিবাসীদের জমি তাদেরকে ফেরত দেয়ার দাবিতে বছরের শুরুতেই আন্দোলনে নামে সাজেক ও বঙ্গলতলী ইউনিয়নের আদিবাসী মানুষরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা বাঘাইহাট বাজার বর্জন এবং সড়ক অবরোধ করে আসছিল। বাঘাইছড়ির সীমান্ত এলাকার সবচেয়ে বড় বাজার বাঘাইহাট বাজারের চালিকাশক্তি আদিবাসীরা। বিশেষ করে নানা সবজি, ফল মূল, মসলার জন্য। বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন এ সমস্যা সমাধানে বেশ কয়েক বার চেষ্টা চালায়। তবে সে সব চেষ্টা ছিল বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের প্রত্যাহারের বিষয়টি ছাড়া। ফলে এসব চেষ্টা আদিবাসীদের ঘরে ফেরাতে পারেনি। তাই আন্দোলনের কারণে ওই এলাকায় এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

অঘটনের বিস্তার এবং দুই আদিবাসীর লাশ
উনিশে ফেব্র“য়ারি বাঘাইছড়ির এই প্রত্যন্ত এলাকায় হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠার মতো এমন কি ঘটেছিল? সে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিশে ফেব্র“য়ারি রাত একটায় রওনা হয়ে আমরা খাগড়াছড়ি হয়ে বাজাইছড়ি পৌঁছি সকাল দশটায়। সাজেক এবং বঙ্গলতলীতে ঢুকে চারপাশের দৃশ্য দেখে রীতিমতো গা শিউরে ওঠে। পথের দুপাশে শুধু পোড়া বাড়িঘর, ভস্মীভূত আসবাব এমনকি গাছ পালাÑশস্য ক্ষেত কিছুই রক্ষা পায়নি। দেখে যে কারো মনে হতে পারে যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো এলাকা। এমনকি কোনো পাখি পর্যন্ত আমাদের নজরে আসেনি। আগেরদিনের গোলাগুলি আর অগ্নি কু-লীতে ভয়ার্ত পশু পাখিরাও যেন এই এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। তবে কোথাও বাঙালি বা আদিবাসী কেউ নজরে আসেনি। সেনা ছাউনির একশ গজের মধ্যে থাকা আদিবাসী বাড়িঘরও রক্ষা পায়নি। দেখেছি সেনা টহল। যথারীতি এই এলাকায় তখন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গঙ্গারামমুখ এলাকার বসতি স্থাপনকারী বাঙালিরা বাঘাইহাটের সেনা ক্যাম্পের আশপাশে আশ্রয় নিলেও আদিবাসীরা আশ্রয় নিয়েছে জঙ্গলে। সাজেক থেকে আরো দশ কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গলতলী এলাকার স্পটে বেশ কিছু আদিবাসীদের দেখা মেলে। তবে সেখানে যেতে বাঙালিরা আমাদের বারবার নিরুৎসাহিত করছিল। বলছিল আমাদের ওপর আদিবাসীরা হামলা করতে পারে। যেতে যেতেই ভস্মীভূত বাড়ির মধ্যেই কয়েকটি বাড়ি চোখে পড়ে অক্ষত।  এই বাড়িগুলো বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের বলে জানতে পারি। আরো জানতে পারি, আগের দিন গুলিতে নিহত হয়েছে দুই আদিবাসী। তাদের একজনের লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। অন্যজনের লাশ আছে আদিবাসীদের কাছে। বঙ্গলতলীর নির্ধারিত স্পটে গিয়ে কয়েকশ মানুষের ভিড়। যে ভয় আমাদের দেখানো হয়েছিল সে রকম কিছুই করেনি ভুখাÑনাঙ্গা, নিজ ভূমে পরবাসী মানুষরা। এই হামলার পেছনের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যে গল্প শোনা যায়, বাস্তবে সে গল্পের নায়কদের খুঁজে পাওয়া যায় না। গল্পটি হচ্ছে দুই আদিবাসী অথবা বাঙালি মোটর বাইক যাত্রীকে ধরে মারধরের গল্প। এই কথা যেমন বাঙালিরা বলেছেন তেমনি বলেছেন আদিবাসীরা। অর্থাৎ গুজব থেকেই এই ঘটনার ডালপালা মেলেছে। বাঘাইহাট গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা স্নেহ কুমার চাকমা অভিযোগ করেন, সেনা সহায়তায় শুক্রবার (উনিশে ফেব্র“য়ারি) আদিবাসীদের ওপর বাঙালিরা হামলা চালায়। তারপরের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে দ্রুত। সকালেই তা-বলীলা শুরু হয়। একদল বসতি স্থাপনকারী বাঙালিরা বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করতে শুরু করে। এমএসএফ পাড়ার সমর রঞ্জন চাকমা প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন। তিনি বলেন, সকাল নয়টার দিকে বাঙালিরা বাড়িঘরে আগুন দেয়। তাদের পেছনে পেছনে সেনাবাহিনী ছিল। দুপুর বারোটার দিকে আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। খোঁজখবর নিতে গেলে বসতি স্থাপনকারী বাঙালিরা জানান, শনিবার আদিবাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ব্যাপক গুলিবিনিময় হয় বলে তাদের দাবি। আদিবাসীদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের অভিযোগ তাদের বাড়িঘরে আদিবাসীরা আগুন দিয়েছে। তবে আদিবাসীদের বাড়িঘরে কারা আগুন দিয়েছে এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি। বঙ্গলতলীর দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে থাকা রেতা খাবা পাড়ার বাসিন্দা জ্ঞানেন্দ্র চাকমা দাবি করেন, এমএসএফ পাড়া, গঙ্গারাম দুয়ার, পূর্বপাড়া, দিপুপাড়া, হাদা ছড়া, রেত খাবা, গুচ্ছগ্রাম, বামে বাইবা সড়া, ডানে বাইবা সড়া, দারো সুরে নামের আদিবাসী পাড়াগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কোনো বাড়িই রক্ষা পায়নি। দুটি বৌদ্ধ মন্দির ও একটি ব্যাপ্টিস্ট চার্চেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সাজেক ইউপির মহিলা কাউন্সিলর স্মরণিকা চাকমা জানান, পেট্্েরাল দিয়ে বাড়ি ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে। লুটপাট করে নিয়ে গেছে সব। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তিনিও বঙ্গলতলীতে যান। ক্ষুব্ধ আদিবাসীরা তাকে ঘেরাও করে রাখে। পরে মন্ত্রীর কাছে তুলে দেয়া হয় গুলিতে নিহত লক্ষ্মী বিজয় চাকমার লাশ। লক্ষ্মী বিজয়ের স্ত্রী মাথুরা বাংলায় কথা বলতে জানেন না। মাতৃভাষায় চেঁচিয়ে বললেন, আমার স্বামীকে আর্মির লোকেরা গুলি করে মেরেছে। আমি এখন সাতটা বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব? মন্ত্রী ফেরার পথে হাজারছড়া এলাকায় বহরে হামলা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ভাঙচুর করে ক্ষুব্ধ আদিবাসীরা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে আসছিল আদিবাসীরা। সাজেক ও বঙ্গলতলী ইউনিয়নে প্রায় চারশর মতো বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়েছে। বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের হিসাব অনুযায়ী তাদের অন্তত ৪০/৫০টি বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়েছে।

সাংবাদিকরা যা দেখেছিলেন
বিশে ফেব্র“য়ারি বাঘাইছড়ি ঘটনার বেশ কয়েকজন সাংবাদিক প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তাদের কয়েকজন আমাদের জানিয়েছেন, বিশে ফেব্র“য়ারি সকাল পৌনে দশটায় তারা সেখানে পৌঁছে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করতে দেখেন। সেখানে পৌঁছার আগে পথিমধ্যে রেতা খাবা পাড়ার কাছে বেশ কিছু আদিবাসীকে লাঠি সোটা হাতে দেখতে পান। তারা তাদের গতিরোধ করে। পরে সাংবাদিক জানতে পেরে ছেড়ে দেয়। বাঘাইহাটে তখন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, ব্যাপক পুলিশ এবং সেনা উপস্থিতি তাদের নজরে আসে। বেশ কিছু বসতি স্থাপনকারী বাঙালিকে তেলের কনটেইনার নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। তবে এসব বিষয়ে পুলিশ বা অন্য কারো কোনো খেয়াল করতে দেখেনি সাংবাদিকরা। সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তারা জানান, এক পর্যায়ে সেনা সদস্যরা জঙ্গলে ঢুকে যান। এসময় তারা ব্যাপক গুলির শব্দ শুনেছেন। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পজিশন নিলেও তাদের দিকে কোনো গুলি আসেনি। পরে পুলিশ বুদ্ধ জ্যোতি চাকমা নামে এক আদিবাসীর লাশ উদ্ধার করে। সাংবাদিকরা জানান, সেনা কর্মকর্তারা তাদের কাছে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের কথা বলেছেন। সেনা কর্মকর্তারা তাদের আরো জানিয়েছিলেন কয়েকজন আহত হবার কথা। তবে সার্জেন্ট রেজাউল নামে একজন সেনা কর্মকর্তাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত অবস্থায় তারা দেখেছিলেন। পুরো ঘটনায় তারা যখন আতঙ্কিত তখন তারা জানতে পারেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের প্রধান যিনি একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদ মর্যাদার কর্মকর্তা, তিনি গঙ্গারামমুখ থেকে আরো সামনে আটকে গেছেন। পরে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি গিয়ে নিয়ে আসে। সাংবাদিকরা ওই গাড়ি বহরেই খাগড়াছড়ি ফেরার পথে জোন কমান্ডার তাদেরকে সেনাবাহিনীর একটি গুলিবিদ্ধ জিপ দেখান।

প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তর তো জানা
বাঘাইছড়ির ঘটনায় বেশ কিছু প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই অনেক কিছুর রহস্য উন্মোচিত হবে। সেনা ছাউনির একশ গজের মধ্যে থাকা আদিবাসীদের বাড়িঘর রক্ষা পায়নি। কেন পায়নি? এর অর্থ কি এই যে, সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। অভিযোগ, অগ্নিসংযোগের ক্ষেত্রে পেট্রোল ব্যবহার করা হয়েছে। পেট্্েরাল সাজেকে কিভাবে গেল? আগেই বলেছি, সাজেক যেতে অন্তত পাঁচটি সেনা চৌকি পার হয়ে যেতে হয়। যেখানে পাহাড়িÑবাঙালি নির্বিশেষে সবাইকে থামতে হয়। তাহলে এত বিপুল পরিমাণ পেট্রোল গেল কিভাবে চৌকি পেড়িয়ে? সেনা বাহিনীর সঙ্গে আদিবাসী সন্ত্রাসীদের শত শত রাউন্ড গুলিবিনিময়ের বিষয়টিও নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। ঘটনার পর সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলিবিনিময় হলেও একজন মাত্র সেনা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে। অন্যদিকে গুলিতে মারা গেছেন দুই আদিবাসী। বসতিস্থাপনকারী বাঙালিদের কথা সত্যি হলে আদিবাসীরা তাদের বাড়ি পোড়ানোর সময় কিংবা আদিবাসীদের বাড়ি পোড়ার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন? কেন ছিলেন? তাদের ভূমিকা কি? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া বেশ জরুরি।

অশান্তি খাগড়াছড়িতে যেভাবে ছড়িয়ে পড়ল
শান্তি চুক্তি বিরোধী আদিবাসীদের সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টÑইউপিডিএফ বাঘাইছড়ির ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয় বাইশে ফেব্র“য়ারি। খাগড়াছড়িতে দুপুর বারোটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল কর্মসূচি। দুপুর সোয়া বারোটার দিকে ইউপিডিএফ-এর একটি মিছিল বাজারে দিকে গেলে বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের সংগঠন বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও স্থানীয় কিছু লোকজন উস্কানি দেয় মিছিলকারীদের। মুহূর্তের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় সংঘর্ষের ছবি তুলতে গিয়ে এনটিভির রিপোর্টার তালাত মামুনের উপর হামলা করে বাঙালি ছাত্র পরিষদের ক্যাডাররা। তারা ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ক্যাসেট ছাড়া ক্যামেরা ফেরত দেয়। আহত হয় তালাত মামুন। একই সময় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের ক্যামেরা ভেঙে ফেলে তারা। আদিবাসীরা অভিযোগ করেন, বাঙালি ছাত্র পরিষদ মহাজনপাড়ায় ঢুকে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে শহরময় তা-ব শুরু করে দুপক্ষ। বেশ কয়েকটি এলাকার বাড়িঘরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে ১৪৪ ধারা জারি করার পরেও বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ অব্যাহত থাকে। ইতোমধ্যে শালবন এলাকা থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নৈশপ্রহরি  আনোয়ারের লাশ উদ্ধার করে বাঙালিরা। তারা এক আদিবাসী মারমা যুবককে তার হত্যাকারী সন্দেহে পিটিয়ে মুমূর্ষু বানিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। দাঙ্গাকারীরা শহরময় ছড়িয়ে আদিবাসী পাড়াগুলোতেই বেশি আক্রমণ চালায়। তবে আদিবাসীরাও পুড়িয়ে দেয় বেশ কিছু এলাকার বাঙালিদের বাড়িঘর। খাগড়াছড়ি শহরে যথেষ্ট পরিমাণে সেনা, এপিবিএন, আনসার ও পুলিশ সদস্য রয়েছে। তারপরও কেন দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। রাত নয়টা থেকে ভোর সাতটা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে। আস্তে আস্তে খাগড়াছড়ি পরিণত হয় ভুতুড়ে নগরীতে। সেনা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং পুলিশের টহল চলতে থাকে। রাতেই চলে অভিযান। দাঙ্গার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক হয় ৩৫ জন। পুলিশ বুধবার সকালে আরো ৪২ জনকে আটক করে। কারফিউ প্রত্যাহার হলেও থমথমে ভাব বিরাজ করতে থাকে শহরময়। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ জানান, শহরে অগ্নিকা-ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ও ভস্মীভূত বাড়ির সংখ্যা ৯২টি। যদিও বাঙালি ও আদিবাসী উভয়পক্ষের দাবি এই সংখ্যা আরো বেশি। এদিন খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় বাঙালি ছাত্র পরিষদ বাঙালিদের ওপর হামলা, নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার তারা সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয়।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বুধবার সকালেই বাঘাইছড়ির বাঘাইহাটের সাজেক ও বঙ্গলতলী এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সমস্ত তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরে তিনি সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী ভবনে স্থানীয় বাঙালিÑআদিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নিহত আনোয়ারের লাশ দেখতে যান এবং তার পরিবারকে সমবেদনা জানান। এক সুধী সসমাবেশে বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি এ ঘটনার জন্য যুদ্ধাপরাধী ও শান্তি চুক্তি বিরোধীদের দায়ী করে, জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাহিনীর প্রতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এত সদস্য থাকার পরেও কিভাবে এসব ঘটনা ঘটছে তাতে  তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে মন্ত্রী কোনো তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে মুখ খোলেননি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের সঙ্গে আমরা কথা বলি খাগড়াছড়িতে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায়। তিনি তখন সবে বাঘাইছড়ির ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সেখানে গিয়েছিলেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ওই ঘটনার সঙ্গে সেনাবাহিনীর স¤পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার জন্য একটি মহল সক্রিয়। দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য তারা নানা নীল নকশা আঁকছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তারা গ-গোল পাকানোর চেষ্টা করছে। পার্বত্য এলাকায় হয়ত ভিন্ন ইস্যু। তবে একটা জায়গায় তারা এক। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। তবে যা ঘটেছে তা মর্মান্তিক। এমন ঘটনা ঘটা উচিত নয়। আমরা মর্মাহত। যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগগুলোর সত্যতা আমরা খতিয়ে দেখব।

তদন্ত কমিটি কেন নয়?
সমতলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্ত কমিটি গঠিত হতোÑ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু পার্বত্য বাঘাইছড়ি বা খাগড়াছড়ির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কেন এড়িয়ে গেলেনÑ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে কি তারা এমন কাউকে ছাড় দিতে চাচ্ছেন বা কাউকে ঘাটাতে চাইছেন না? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে।

 

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রতিবেদন
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :
বর্তমান সংথ্যা
পুরানো সংথ্যা
Click to see Archive
 
 
 
Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive