‘সরকার বার বার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে’ -জয়নাল আবেদীন ফারুক
জয়নাল আবেদীন ফারুক। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক। এ পর্যন্ত পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর কোনো সংসদ নির্বাচনেই হারেননি তিনি। রাজনীতির শুরু পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের মাধ্যমে। এরপর দীর্ঘদিন রাজনীতি বিচ্ছিন্ন থেকে ১৯৮৮ সালে যোগ দেন বিএনপিতে। বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা, আন্দোলনের প্রস্তুতি, সংসদ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের কর্মকা-, আদিবাসী-বাঙালি সংঘর্ষসহ জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সাপ্তাহিক কথা বলেছে তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাহরাম খান সাপ্তাহিক : পাহাড়ে আদিবাসী-বাঙালি সংঘর্ষ হলো। এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কি? জয়নাল আবেদীন ফারুক : সন্তু লারমার সঙ্গে প্রথম যখন আওয়ামী লীগ সরকার শান্তি চুক্তি করে তখনই আমরা এ চুক্তির বিরোধিতা করছিলাম। আওয়ামী লীগ আমাদের বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে চুক্তি করেছে শান্তি আনার জন্য। কিন্তু সেই শান্তিকে কি এসেছে? আসেনি। এবার তারা ক্ষমতায় এসে পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করেছে। আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম পাহাড় থেকে যেন সেনা প্রত্যাহার না করা হয়। তারা আমাদের কথা রাখেনি। বিরোধী দলের কথাও যে সরকারকে শুনতে হবে, বিবেচনায় নিতে হবে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমাদের দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। সংস্কৃতিটা গড়ে ওঠা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টা নিয়ে অনেকে বলছেন এটা পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ। এমনটা হতে পারে না। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি বলে কোনো কথা আসতে পারে না। সেখানে যারা আছে সবাই বাংলাদেশি। তাই কেউ যেন পাহাড়ি-বাঙালি দ্বন্দ্ব এমন কথা না বলে। কারণ এটা বললে ভুল হবে বলে আমি মনে করি। এখানে বিভিন্ন ধর্মের লোক থাকতে পারে, বিভিন্ন ভাষার লোক থাকতে পারে বা গোত্রের পার্থক্য হতে পারে। কিন্তু দেশের ব্যাপারে সবাই বাংলাদেশি। আর একজন বাংলাদেশি হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে যেখানেই আমার জায়গা হয় সেখানেই আমি থাকব। এ বিদ্বেষটা ছড়িয়েছে সন্তু লারমা গং। সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য অঞ্চলকে দ্বিধাবিভক্ত করার একটি বিদেশি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সাপ্তাহিক : আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন এই চুক্তি বাতিল করলেন না কেন? জ. আ. ফারুক : তখন পরিস্থিতি এমন অশান্ত ছিল না। আমাদের সরকার পাহাড়ি-বাঙালি হিসেবে কাউকে সুবিধা বা অসুবিধা দিতে চায়নি। সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ওই অঞ্চলে আমাদের সময়ে ঘটেনি। আর চুক্তির বিরোধিতা করা সত্ত্বেও ঈর্ষান্বিত হয়ে তা বাতিল করিনি। কারণ আমরা সময় নিয়ে বিষয়টিকে বোঝার অপেক্ষায় ছিলাম। ফলে এখনকার পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। যেহেতু এখন আমরা ক্ষমতায় নেই সেহেতু আওয়ামী লীগ যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমরা স্বাগত জানাব। সাপ্তাহিক : সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিসে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? জ. আ. ফারুক : আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এর আগেও ম্যাডামের অফিসের কাছ থেকে বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর বোমা বিস্ফোরণ। বিষয়গুলো যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে সরকার বার বার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এটি একটি ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, মইন উ আহমেদসহ দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র পরিচালনাকারী কুচক্রী মহলের সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে এ সরকার ক্ষমতায় আসে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা তা মেনে নেই। গণতন্ত্র, সংসদ ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী সংসদে যোগ দিয়েছেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চেয়ারপার্সনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের গেট থেকে দুটি বোমা উদ্ধার করা হয়। মাত্র ৭-৮ দিনের ব্যবধানে আবারো ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় একই জায়গায় একটি চলন্ত গাড়ি থেকে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তাই আমি মনে করি আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে এটি তারই অংশ। একইসাথে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার প্রমাণ বহন করে। সাপ্তাহিক : বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিএনপি বার বার আন্দোলনে যাওয়ার কথা বললেও পল্টনের প্রতিবাদ সমাবেশ ছাড়া নতুন কোনো কর্মসূচি তো আসছে না। জ. আ. ফারুক : জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে তারা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। এটি সঙ্কীর্ণ মনের কাজ। ত্রিশ বছর আগে সারা বিশ্বের বুকে যে নামটি পরিচিতি পায় তাকে এভাবে পরিবর্তন করা যায় না। সব মানুষই তাদের প্রতিক্রিয়ায় এই কাজের অসমর্থন করবে বলে আমার বিশ্বাস। তাছাড়া এ কাজটি পরিবর্তন করতে গেলে প্রায় ১২শ কোটি টাকার ওপরে খরচ হবে। আমাদের মতো একটি গরিব দেশে সম্পূর্ণ অনুন্নয়ন খাতে কোটি টাকার অপচয় গ্রহণযোগ্য নয়। আর আন্দোলনের কথা যদি বলেন তাহলে বলতে হয় তথাকথিত ১/১১ সমগ্র বিএনপিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, কৃষক দল শ্রমিক দলসহ সকল শ্রেণীর নেতা-কর্মীদেরকে দেশব্যাপী গ্রেপ্তার ও মামলায় জড়ানো হয়। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে। তৃণমূল থেকে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তাতে সহজে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। তার পরও বিএনপি অল্প সময়ে অনেক বেশি সংগঠিত হয়েছে। ৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিলে আমরা সফল হয়েছি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির অল্প সময়ে এ ঘুরে দাঁড়ানোকে ভালোভাবে নিতে পারেনি। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেয়া মামলাগুলো তাদের কোথায় তুলে নেয়া হচ্ছে অথচ আমাদের কারো মামলা এখনো তুলেনি। ফলে নেতা-কর্মীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা এ হয়রানি করে আমাদের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। কিন্তু তারা জানে না দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে মামলা হামলার হয়রানি করে দমিয়ে রাখা যাবে না। জাতীয় প্রয়োজনে তারা রাজপথ কাঁপাবেই। বিএনপি নতুন করে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হতে দেবে না। প্রয়োজনে নিজের জীবন দেবে তবু জাতীয়তাবাদী শক্তির আদর্শকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে কোনো আপোস করা হবে না। তাই আমরা ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছি। ইনশাল্লাহ অল্পদিনের মধ্যেই এ সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যাপারে কর্মসূচি দেব। প্রথমে চারটি বিভাগীয় সদরে বৃহৎ জনসমাবেশ করে নেত্রী দেশ সফর করবেন। পরবর্তীতে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। সাপ্তাহিক : তার মানে এখনো আন্দোলনে যাবার মতো সাংগঠনিক শক্তি বিএনপি অর্জন করতে পারেনি। জ. আ. ফারুক : সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে তা বলতে পারেন। তবে আমি বিষয়টিকে এভাবে দেখতে চাই না। আমাদের সমর্থকদের আমরা সংগঠিত করতে পারছি না। এর মূল কারণ হলো বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যাচার। ঠিক ১-১১-এর সময় যেমন আমাদের নেতাকর্মীদের অত্যাচার অবিচার করে দল ধ্বংসের চক্রান্ত চলছিল, এখনো ঠিক সেই একই কায়দায় আমাদেরকে দমনের প্রক্রিয়া চলছে। আগেরটা ছিল দৃশ্যমান। এখন চলছে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান উভয়ভাবে। তাই আন্দোলনে যেতে আমাদের কিছুদিন সময় লাগবে। সাপ্তাহিক : শুধু কি সরকারের দমন-পীড়নই মূল সমস্যা। দলীয় কোন্দল কি কিছুটা হলেও দায়ী নয়? জ. আ. ফারুক : বিএনপি একটি বিশাল দল। সেখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা তো থাকবেই। এই প্রতিযোগিতাকে আপনারা কোন্দল হিসেবে দেখতে পারেন। এটা আপনাদের ভাষা। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তা মনে করি না। রাজনৈতিক দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকা অবশ্যম্ভাবী। সাপ্তাহিক : প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের দমন-পীড়ন বিরোধীদেরকে আরো বেশি করে সংগঠিত করার কথা। কিন্তু অন্তর্কোন্দল তো ঐক্যের জন্য সর্বনাশা। জ. আ. ফারুক : দেখুন কিছু জেলা-উপজেলায় সামান্য সমস্যা আছে তা আমরা অস্বীকার করি না। আবার নগর মহানগরে এক আধটু সমস্যাও হয়তো আছে। এ নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। কারণ জাতীয়তাবাদী শক্তির ধারক ও বাহক নেতৃবৃন্দের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও, দলীয় ও জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ভিন্নতা তারা দেখাবে না বলেই আমার বিশ্বাস। তাই এসব সমস্যা বৃহত্তর ঐক্যের ক্ষেত্রে সমস্যা হিসেবে গণ্য হতে পারে না। সাপ্তাহিক : সংসদের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে হতাশা রয়েছে। বিরোধী দল যোগ দিলেও কার্যকর সংসদ দেখা যাচ্ছে না। কারণ কি? জ. আ. ফারুক : যে সরকার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে তাদের কাছে সংসদই বা কি, দেশই বা কি, জাতীয় পতাকাও কি গণতন্ত্রও কি, সংবিধান কি...। তারা তো এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান না। ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে আঁতাত করে মইন-ফখরুদ্দীনকে দিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছে। বাংলাদেশ তাদের কাছে বড় না। তাদের কাছে সবচেয়ে বড় জিনিস হলো ক্ষমতা। যারা সংসদকে মাছের বাজারের সঙ্গে তুলনা করে। সরকারি দলের মন্ত্রী যখন স্পিকারকে সংসদের চাকর বলে, সংসদকে চিড়িয়াখানা বলে। তাদের দ্বারা সংসদ কার্যকর হবে বলে অন্তত আমি বিশ্বাস করি না। সাপ্তাহিক : আপনি কি মনে করেন বিরোধী দল হিসেবে আপনারা আপনাদের ভূমিকা পালন করতে পারছেন? জ. আ. ফারুক : আমরা আমাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করছি। সরকারের একতরফা আচরণ, অত্যাচার, নিপীড়ন, নাম বদল, কবর বিতর্ক, খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার না করা, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে অপপ্রচার এতসব বিতর্কিত ইস্যু থাকা সত্ত্বেও আমরা সংসদে যাচ্ছি এবং যাব। কারণ আমাদের কাছে ব্যক্তি ও দলের চেয়ে দেশ বড়। সংসদে আমরা জনগণের কথা, দেশের কথা বলতে চাই। তারা আমাদেরকে যে সমর্থন দিয়েছেন তার অপব্যবহার করতে চাই না। যে শপথ নিয়েছি সেগুলোর খেলাপ করতে চাই না। সাপ্তাহিক : তাহলে কি আপনারা সংসদে থাকবেন। এমনটি আশা করা যায়? জ. আ. ফারুক : আমরা মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য সব সময় সংসদে থাকতে ইচ্ছুক। সরকার যদি সংসদে থাকার পরিবেশ রাখে তাহলে অবশ্যই আমরা সংসদে থাকব। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ দিলে অবশ্যই আমরা সেগুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। সংসদে যাওয়া তো আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সাপ্তাহিক : জায়ামাত-বিএনপি নির্বাচনী জোট। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য জামায়াতের সঙ্গে কোনো জোট হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? জ. আ. ফারুক : জামায়াত আমাদের নির্বাচনী মোর্চা। নির্বাচনী মোর্চা একটি গণতান্ত্রিক দেশের যে কোনো দলের সঙ্গেও হতে পারে। নির্বাচনী জোট হলেও জামায়াত ও বিএনপির আদর্শের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে অনেক। এই মুহূর্তে আন্দোলনের জোট হওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে জামায়াতকে আওয়ামী লীগ রাজনীতির বাইরে নিয়ে যেতে চাইছে। এটা সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ গণতান্ত্রিক দেশে সবার রাজনীতি করার অধিকার আছে। আর যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি হলো, জামায়াতের সবাই তো যুদ্ধাপরাধী না। সাপ্তাহিক : জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনে সিট নিয়ে দরকষাকষির কারণে বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল। তারই জের ধরে জামায়াতের এই দুঃসময়ে বিএনপি পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলে আলোচনা শোনা যায়Ñ জ. আ. ফারুক : হাতের পাঁচটি আঙ্গুল কি সমান? তাই নির্বাচনের সময় যারা জোট করে তারা পরিবারের মতো মিলেমিশে কাজ করে। যেখানে বিএনপির মতো বড় দলের কাছে জামায়াত বেশি বেশি সিট চাইবে এটাই তো স্বাভাবিক। বেশি চাইলে বেশি দিতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। এটা আলোচনার মাধ্যমে আন্তরিকতার সঙ্গে ফয়সালা হয়। এখন সেসব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করার বিষয়টি অলীক। সাপ্তাহিক : ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে বিএনপির অবস্থান কি? জ. আ. ফারুক : পৃথিবীর কোথাও এখন নিরেট সমাজতন্ত্র আছে তা বলা যাবে না। তাই আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করে যদি আগের সংবিধানে ফিরে যাওয়া হয় তাহলে সেটা বাস্তব সম্মত হবে না। সংবিধানে রক্ষিত রাজনৈতিক অধিকার সকল দলকে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব সময় সংবিধানসম্মত কাজে বিশ্বাস করে। সরকার আবার বাকশালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে চায়। সীমিত রাজনৈতিক দল করে নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি করতে চায়। সে সবের মাধ্যমে প্রকান্তরে বাকশালের প্রক্রিয়াতেই তাদের যাত্রা। এটা বোঝা যাচ্ছে। সে কারণেই সরকার ধর্মীয় দলগুলোকে ভয় পাচ্ছে। সাপ্তাহিক : এ বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা কি? জ. আ. ফারুক : জাতীয়তাবাদী দল ধর্মীয় বিশ্বাসী দলগুলোতে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। কারণ ধর্মীয় বিশ্বাস আমাদের সংবিধান স্বীকৃতি। তাই তাদের সঙ্গে কাজ করতে বিএনপি অসমর্থন করে না। সাপ্তাহিক : প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা দেয়ার কথা বলেছেন। আপনাদের বক্তব্য কি জ. আ. ফারুক : কে শিক্ষা দেবে আর কে নেবে এসব আলোচনা করে লাভ নেই। কারণ সকল শিক্ষার উৎস জনগণ। ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ। আমরা জনগণের কাছে যাব। তারা যদি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ মুহূর্তে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার প্রয়োজন অনুভব করে তাহলে তাই হবে। জনগণ সকল কিছুর চালিকাশক্তি। তারা আমাদেরকে যে শিক্ষার কথা বলছে সে শিক্ষার সঠিক জবাব আমরা জনগণকে নিয়ে দেব।