|
দেবাশীষ দেবু
বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করতে গিয়েছিলেন আম্বিয়া বিবি। পঁচাত্তর বছরের জীবনের প্রায় পঞ্চাশ বছর এ নদীতেই গোসল করেছেন। অথচ শেষ বয়সে এসে এই নদীতে গোসল করতে যাওয়াই কাল হলো তার। গোসল শেষে বাড়ি ফেরার পথে আচমকা একটা গুলি এসে লাগল তার কোমরে। সঙ্গে সঙ্গেই চিৎপটাং। জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা থেকে সরাসরি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই আম্বিয়া বিবি বললেন, ‘আমার দেশের সীমানার ভেতরে আমি গোসল করছি। তারা (বিএসএফ) আমারে গুলি করব কেনে?’ সেদিনকার বিডিআর-বিএসএফর মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনার কথা আগে জানতেন না বলে জানান আম্বিয়া বিবি। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ সম্প্রতি পারস্পরিক সৌহার্দ্যরে উন্নতিকল্পে নানা চুক্তিও করেছেন। কিন্তু সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে আসলে দেখা যাবে ভিন্ন চিত্র। এখন কেউ জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় আসলে নিশ্চিতভাবেই ধরে নেবে দুই দেশের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছে। যেন জন্মের শত্র“ দুই দেশ। এখানে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রণসজ্জায় প্রস্তুত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বড় বড় ব্যাঙ্কার করে তার ভেতরে অবস্থান নিয়েছে বিডিআর ও বিএসএফ। বিডিআর তো স্থানীয় বাংলাদেশিদের ঘরের ভেতরেও দুর্গ তৈরি করেছে। সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় দুই বাহিনী। স্ট্রিগারে আঙুল। যেন শুধু যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সেনাপতির নির্দেশের অপেক্ষা! প্রায় নিয়মিতই বিডিআর-বিএসএফ জড়িয়ে পড়ছে গুলিবিনিময়ে। এত গেল দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থা। তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থায় আছেন জৈন্তাপুরের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। দুই বাহিনীর এই রণসজ্জা আর গোলাগুলিতে চরম আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাদের। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন অন্যত্র। যাওয়ার কোন জায়গা না পেয়ে এখনো যারা আঁকড়ে আছেন তাদের রাত কাটছে নির্ঘুম আর দিন কাটছে অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে। দুর্ভাবনার দিন আর দুঃস্বপ্নের রাত কাটাচ্ছেন জৈন্তাপুর সীমান্তের বাসিন্দারা। উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ৭০ কিলোমিটার এলাকার সীমান্ত জুড়ে। হাজার হাজার লোক ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ফরিদ আহমদ নিজেদের আতঙ্কের কথা বলতে গিয়ে বলেন, রাত হলে ঘুমাতে পারি না। কখন গোলাগুলি শুরু হয় এই আতঙ্কে সবসময় থাকতে হয়। দিন হলে বাসার বাইরে বেরোতেও ভয় করে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে এই এলাকার শিশুদের স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে নিজ নিজ শিশুদের স্কুলে যেতে বারণ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছেন ডলুয়ার হাওর এলাকার বাসিন্দারা। গোলাগুলি শুরু হয়ে গেলেই পার্শ্ববর্তী টিলায় গিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে এখানকার বাসিন্দাদের। রাতও কাটাতে হচ্ছে এই টিলার ওপর। তার ওপর রয়েছে নানা গুজব। হঠাৎই শোনা যায় গুলাগুলি শুরু হয়ে গেছে। অমনি সবকিছু ফেলে পালাতে শুরু করেন সাধারণ নাগরিককরা। এরপর শোনা যায় এই গোলাগুলির সংবাদ স্রেফ গুজব। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই রণপ্রস্তুতি সংক্রমিত হয়ে পড়েছে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও। সাধারণ নাগরিকরাও প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন সংঘর্ষে। জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিডিআর-বিএসএফর পাশাপাশি দুই দেশের স্থানীয় বাসিন্দারাও লাঠিসোটা নিয়ে পরস্পরকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত। কখনো বাংলাদেশিরা লাঠিসোঠা নিয়ে দৌড়িয়ে দিচ্ছেন ভারতীয় নাগরিকদের আবার কখনো বা ভারতীয় নাগরিকরা তেড়ে আসছেন বাংলাদেশিদের দিকে। আবার একদল আরেক দলের সাহসিকতা নিয়ে অশ্লীল রকমভাবে বিদ্রƒপ, কটাক্ষ করে সম্মুখ যুদ্ধের জন্য আহ্বান করছেন। ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি হিংসা, ক্রোধ ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে দুই দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও। অভিযোগ রয়েছে, দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে কোন উদ্যোগ না নিয়ে স্থানীয় বিডিআর ও বিএসএফ সদস্যরা প্রয়াশই তাতে উস্কানি যোগাচ্ছে। এমনকি নিজেরাই জড়িয়ে পড়েছে গোলাগুলিতে। অবশ্য বিডিআরের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে সমস্যা সমাধানে ভারতীয় বাহিনীর অনাগ্রহকে দায়ী করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা দেশবিভাগ থেকেই শুরু। একটি বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে আসাম প্রদেশ থেকে ভাগ করে যুক্ত করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে। আরো বিতর্কিত ছিল নবসৃষ্ট দুই রাষ্ট্রের সীমানা বিভাজন। এবং তা ছিল সম্পূর্ণই আরোপিত। ইংরেজ শাসকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো সীমানা বিভাজন করে তা চাপিয়ে দেয়। এই বিতর্কিত বিভাজনের ফলে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের অনেকের বাড়ি পড়েছে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) Ñএর ভেতরে আর পুকুর পড়েছে ভারতের ভেতরে। অনেক ব্ংালাদেশিদের ধানী জমি পড়েছে ভারতীয় সীমানায়। সিলেটের সীমান্ত এলাকায় এমনও দেখা যায়, একটি পরিবারের রান্নাঘর ভারতীয় সীমানায় আর বসত ঘর বাংলাদেশি সীমানায়। এর ফলে প্রথম থেকেই এই বিভাজন নিয়ে দেখা দেয় অসন্তোষ। এই অসন্তোষ প্রয়াশই রূপ নেয় ক্ষোভ ও বিক্ষোভে। রয়েছে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যর্থতাও। স্বাধীনতার এত বছর পরও ভারতÑবাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যার সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। উল্টো বাড়ানো হয়েছে বিভক্তি। ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলো যখন অভিন্ন মুদ্রা চালু করছে তখন আমাদের সীমান্তে নতুন করে লাগানো হচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া। এছাড়া দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বাড়াবাড়িও রয়েছে। সৌহার্দ্যরে বদলে পরস্পরের বিরুদ্ধে বন্দুক তাক করে আছে তারা। এই বন্দুক থেকে প্রয়াশই বেরুচ্ছে গুলি। সম্প্রতি সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে যা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দেখা দিয়েছে। সীমান্তে এই উত্তেজনা প্রশমনের বদলে তা উসকে দিতে এবং এই উত্তেজনা থেকে ফায়দা লুটতেও সচেষ্ট অনেকে। একটি গোষ্ঠী সমস্যা সমাধানে উদ্যোগের বদলে সীমান্তের এই উত্তেজনাকে ব্যবহার করছে স্বভাবজাত ভারতবিরোধী প্রচারণার নতুন রসদ হিসেবে। এই গোষ্ঠীর স্থানীয় প্রতিনিধিরা বিরোধ মীমাংসার বদলে এই উত্তেজনার বিষয়টি ফলাও করে মিডিয়ায় প্রচারের ব্যাপারে পালন করছেন অতিউৎসাহী ভূমিকা। ফলে স্বভাবতই বিরোধ কমার বদলে বেড়েই চলছে। এছাড়া, চোরাকারবারি আর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কারণেও অনেক ক্ষেত্রে বাধে সংঘর্ষ। অনেক সময়ই চোরাকারবারি অভিযোগ তুলে বাংলাদেশি সাধারণ নাগরিককে বিএসএফ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থার সূত্র মতে ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফ কর্তৃক নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৪৪ জন। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর পরিসংখ্যান মতে, ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ জুলাই ২০০৯ পর্যন্ত মোট ৭৮৯ জনকে হত্যা, ৮৪৬ জনকে নির্যাতন এবং ৮৯৫ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। অধিকার’র তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালে ৬২ জন, ২০০৭ সালে ১২০ জন, ২০০৬ সালে ১৪৬ জন, ২০০৫ সালে ১২০ জন, ২০০৪ সালে ৭৬ জন, ২০০৩ সালে ৪৩ জন, ২০০২ সালে ১০৫ জন, ২০০১ সালে ৯৪ জন ও ২০০০ সালে ৩৯ জন বাংলাদেশী নিহত হয়। এই সংস্থা তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ জুলাই ’০৯ পর্যন্ত বিএসএফর হাতে নিহত হয়েছে ৫৯ জন বাংলাদেশি। বিএসএফ’র হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৩ জন বাংলাদেশী নারী। ধরে নিয়ে যাওয়ার পর হদিস পাওয়া যায়নি এমন সংখ্যা ৭৪ জন। সিলেটের জৈন্তাপুরের সীমান্ত সংলগ্ন ডিবির হাওর ও কেন্দ্রীয় হাওরের মালিকানা নিয়ে গত ৪ ফেব্র“য়ারি থেকে কয়েক দফা উত্তেজনা ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। গত ১৪ ফেব্র“য়ারি বিএসএফ ও বিডিআরের মধ্যে শত শত রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। বিএসএফ’র গুলিতে আহত হন ৩ বাংলাদেশি। আহতরা হচ্ছেনÑ শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে থাকা গুচ্ছগ্রামের আম্বিয়া বিবি (৭৫), আলু বাগানের বাসিন্দা হোটেল শ্রমিক রাশেদ মিয়া (২৫) ও ট্রাক চালক আব্দুর রহমান (৩০)। এদিন বেলা আড়াইটার দিকে তামাবিল স্থল বন্দরের ওপারে ডাউকী পাহাড়ের উপর থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করে বিএসএফ। পরদিন ১৫ ফেব্র“য়ারি তামাবিল সীমান্তে বিডিআর-বিএসএফ কোম্পানি পর্যায়ে বৈঠক হয়। এরপর ১৭ ফেব্র“য়ারি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয় শ্রীপুর সীমান্ত এলাকায় সিলেট জেলা পরিষদের ডাক বাংলোয়। বৈঠকের শুরুতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি অস্থায়ীভাবে স্থাপিত চৌকিগুলো সরিয়ে নেয়ার বিষয়েও সম্মত। এছাড়া অমীমাংসিত ভূমির বিষয়ে স্থিতাবস্থা রক্ষায় সম্মত হয় উভয়পক্ষ। বৈঠকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিডিআরর পক্ষে নেৃতত্ব দেন উপ মহাপরিচালক ব্রি. জে. মোঃ ওবায়দুল হক এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন মেঘালয় রাজ্যের আই জি এস পৃথ্বীরাজ। অথচ বৈঠকের ৩ দিন পার হতে না হতে ফের গত ২১ ফেব্র“য়ারি আবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এদিনের গোলাগুলির পেছনে বিএসএফর উস্কানিকে দায়ী করে বিডিআর। বিডিআর ও স্থায়ীন বাংলাদেশিদের ভাষ্যমতে, বিএসএফ বাংলাদেশের জৈন্তাপুর সীমান্তের অভ্যন্তরে থাকা ডিবি ও কেন্দ্রীয় হাওরের একাংশের ওপর দাবি চালায়। খাসিয়াদের নামিয়ে দেয় ডিবি হাওরে। বিডিআরের বাধার মুখে খাসিয়ারা সরে গেলেও পরদিন ফের খাসিয়াদের মাছ ধরতে নামায় বিএসএফ। এনিয়ে উভয়পক্ষে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। এর আগে গত ২ ফেব্র“য়ারি জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মুক্তাপুর, নলজুড়ী, শ্রীপুর, তামাবিল সীমান্তে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঐদিন সকাল ১০টায় সীমান্তবর্তী বিবির হাওর এলাকায় টহলরত জৈন্তাপুর সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েক মুজিবুরকে বিএসএফ সদস্যরা গুলি করে এক পর্যায়ে অপহরণ করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে আটটায় গুলিবিদ্ধ বিডিআর সদস্যকে ফেরত আনা হয়। তবে ঠিক কি কারণে বিডিআর সদস্যকে গুলি ও অপরহণ করা হয় তা জানা যায়নি। তবে বিডিআর ও স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানায়, জৈন্তাপুর উপজেলার মুক্তাপুর ১২৮৪ নং পিলার পাশে প্রতিদিনের ন্যায় সকাল ১০টায় জৈন্তাপুর সীমান্ত ফাঁড়ির ৪ বিডিআর সদস্য মুক্তাপুর এলাকায় টহল কাজে যান। এ সময় ভারতের মুক্তাপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে ১২৮৪ নং পিলার অতিক্রম করে প্রায় ৩০ গজ বাংলাদেশের ভিতরে এসে বিডিআর জোয়ানদের অস্ত্র ফেলে দিতে বলে। এ সময় বিডিআর নায়েক মুজিবুর রহমান ও বিএসএফ‘র মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভারতীয় বাহিনী তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে টহলরত বিডিআর‘র নায়েক মুজিবুর রহমানের পায়ে গুলি লাগলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
স র্ব শে ষ এই প্রতিবেদন যখন প্রকাশিত হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্র“য়ারি রবিবার জৈন্তাপর সীমান্তে ফের গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এক মাসের মধ্যে ৪র্থ বারের মতো গোলাগুলির ঘটনা ঘটল। ডিবির হাওরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে হাজার হাজার রাউন্ড গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে সীমান্তের ১০টি গ্রামের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে বিডিআর। জানা যায়, ২৮ ফেব্র“য়ারি সকালে সীমান্তবর্তী ডিবির হাওরে মাছ ধরতে নামে ভারতীয় খাসিয়ারা। তারা মাছ ধরতে ধরতে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় বাংলাদেশের জেলেরা তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর বিএসএফের মদদে আবারো বাংলাদেশ সীমান্তে মাছ ধরতে আসে ভারতীয় খাসিয়ারা। এবারো বাংলাদেশিদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা। বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশি নাগরিকরা যখন ডিবির হাওরের বাংলাদেশ অংশে মাছ ধরছিল তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বিএসএফ। আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্ত লক্ষ্য করে অবিরাম গুলিবর্ষণ শুরু করে বিএসএফ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিডিআরও গুলি ছুড়ে পাল্টা জবাব দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে গুলিবিনিময় চলছিল। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, বিকেল পর্যন্ত তারা কয়েক হাজার গুলির শব্দ শুনেছেন। তবে গোলাগুলিতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সীমান্তে অতিরিক্ত বিডিআর সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। |