Logo
 বর্ষ ৩ সংখ্যা ১৮ ১লা আশ্বিন, ১৪১৭ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
 
iforning
ভেনেজুয়েলা ও চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ-৩ : সম্পদ ও দারিদ্র্য  

আনু মুহাম্মদ

বিলম্বে গিয়ে সম্মেলনের যে অধিবেশনে আমি প্রবেশ করলাম তার মূল বিষয় ছিল ভেনেজুয়েলা। বিলম্বের অস্বস্তি কেটে খুশিই হলাম, কারণ আমার মূল আগ্রহ তো ভেনেজুয়েলাই। অধিবেশনে প্রধানত ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিরাই কথা বলেছেন, প্রশ্নোত্তরে অনেক বিষয় পরিষ্কার করেছেন। 
কারাকাস শহরে আমি যে সময়ে গেছি তার প্রায় তিনবছর আগে আমার সুযোগ হয়েছিল হাভানায় যাবার, আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপলক্ষে। সেটি ছিল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিপীড়িত এশিয়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের জন্য চে গুয়েভারার উদ্যোগের ধারাবাহিকতা, ত্রিমহাদেশীয় সম্মেলন। দুটোরই মূল লক্ষ্য একই। হাভানায় আমি যতদিন ছিলাম কখনোই আমাকে কেউ আমার চলাফেরায় কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি, কোথাও আমার যাবার ইচ্ছা হলে কেউ আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকেনি। পুলিশ সঙ্গে থাকা তো দূরের কথা। পুরো সময়কালে পুলিশ দেখেছি হাতেগোনা কয়েকজন। কোনো সতর্কবাণীও শুনিনি কখনো।

কিন্তু কারাকাসে এই সমস্যা হয়েছে। প্রথম রাতেই উদ্যোক্তারা আমাকে জানালেন, সাবধানে চলাফেরা করতে হবে, কেননা বিপ্লব বিরোধী শক্তি যে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। ক্রমে উপলব্ধি করলাম হুগো শ্যাভেজ সরকার দেশের মধ্যেই সম্পূর্ণ শত্র“ পরিবেষ্টিত। কিউবার মতো মার্কিনি আগ্রাসনের অব্যাহত হুমকি তো আছেই, তার ওপর দেশের ভেতর সর্বত্রই প্রতিপক্ষ সক্রিয়। দেশের গ্রাম শহর প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশাল ক্ষমতাধর এই শক্তিসমূহ সরাসরি এই সরকারের বিরুদ্ধে, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তারা তাদের সবরকম কার্যক্রম চালাচ্ছে। এটা তাদেরও অস্তিত্বের প্রশ্ন। বহুজাতিক সংস্থা ও বৃহৎ ব্যবসায়ী তো বটেই বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, পুলিশ, সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রায় সবখানেই বিপ্লবী রূপান্তরকামী সরকার বিরোধী ঘাঁটি আছে।
১৯৯৮ সালে শ্যাভেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পূর্ব পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা ছিল দুই দলের দেশ। একজনের পর আরেকজন, বাংলাদেশের মতোই। একটির নাম একসন ডেমোক্রেসিকা (এডি), বাংলায় বলা যায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আরেকটির নাম ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যালিস্ট পার্টি (কপেই)। ৪০ বছর ধরে এই দুই দলই একের পর এক দেশ শাসন করেছে। মানুষ একবার একজনের শাসনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে অন্যজনকে ভোট দিয়েছে, আবার তার সব প্রতিশ্র“তি ভঙ্গের কারণে হতাশ হয়ে আবার আরেকজনকে দিয়েছে ভোট। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। অভিজ্ঞতার কারণেই এই বিষচক্র বুঝতে আমাদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই দুই এর প্রবল আধিপত্যের মধ্যে কীভাবে জনগণের ভিন্ন শক্তি তৈরি হলো সেটা আমাদের জন্য তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয়। আমি ক্রমে এই বিষয় বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাব।
ভেনেজুয়েলার দুই বৃহৎ দলের শাসনকালে যে ধনিক শ্রেণী তৈরি হয়েছে তারা ছাড়াও এদের প্রভাবাধীন সংগঠনগুলো এখনো নানাভাবে শ্যাভেজ সরকার এবং তাদের নানারকম সংস্কার কর্মসূচির বিরুদ্ধে সক্রিয় আছে। আর সীমান্তসহ নানাভাবে তাতে পুষ্টি যোগাচ্ছে মার্কিনি নানা আয়োজন, প্রতিষ্ঠান ও ডলার। এক কথায় বলা যায় শ্যাভেজ সরকার ও ভেনেজুয়েলা রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো বৈরী অবস্থানে। শ্যাভেজ সরকার একের পর এক তাদের আক্রমণ মোকাবিলা করে করে অগ্রসর হচ্ছে। গরিব সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে নিয়ে ক্রমান্বয়ে পাল্টা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। যার কিছু কিছু প্রত্যক্ষ করবার সুযোগ আমারও হয়েছে।         
সম্পদ এবং দারিদ্র্য কীভাবে পাশাপাশি থাকে তার উদাহরণ বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। বাংলাদেশও তার একটি দৃষ্টান্ত। কিন্তু ভেনেজুয়েলাতে এটি আরো প্রকট হয়ে উঠেছিল। বিশ্বজোড়া ভেনেজুয়েলা তেল সমৃদ্ধ দেশ হিসেবেই পরিচিত। তেল সম্পদের দিক থেকে ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধি তার বার্ষিক জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয়, রফতানি বাণিজ্য সবকিছুকে অনেক উজ্জ্বল চেহারা দান করলেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তার সুফল আসেনি। সুফল আনার চেষ্টা করা হয়েছে বিভিন্নসময়, কিন্তু বারবার তা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকার এই ব্যর্থতার অবসান ঘটাতে চেষ্টা করছে।
পশ্চিম গোলার্ধে ভেনেজুয়েলারই প্রমাণিত তেল মজুদ সবচাইতে বেশি। তেল উৎপাদনে ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম, তেল রফতানিতে অষ্টম বৃহত্তম। এছাড়া ভারি তেলের মজুদও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই দেশের তেলসম্পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা তার চাহিদার শতকরা প্রায় ২০ ভাগ আসে ভেনেজুয়েলা থেকেই। গ্যাস সম্পদেও এই দেশ অনেক সমৃদ্ধ, বিশ্বের নবম বৃহত্তম প্রমাণিত গ্যাস মজুদ আছে এদেশেই, দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে এটি বৃহত্তম। কয়লা সম্পদ তুলনায় কম হলেও তার মজুদও উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আছে লোহা, বক্সনাইট, সোনা, নিকেল এবং হীরা।
খনিজসম্পদ সমৃদ্ধ এই দেশে শ্যাভেজ সরকার ক্ষমতার আসার পূর্বে ‘দারিদ্র্য সীমা’ বলে পরিচিত প্রচলিত হিসাবে প্রতি ১০০ জনে ৬৬ জনই এই সীমার নিচে পড়ে ছিলেন। বাংলাদেশের শতকরা হারের চাইতেও এটি বেশি ছিল। অথচ মাথাপিছু আয়, জাতীয় আয়, রফতানি আয় সবকিছুতেই ভেনেজুয়েলা বাংলাদেশের চাইতে অনেক উপরে। কারাকাস শহরে প্রাচুর্য ও দারিদ্র্য পাশাপাশি বিস্তারলাভ করেছে। এখনো তার রেশ আছে, যদিও দারিদ্র্য অনুপাত একই পদ্ধতির হিসাবে ৬৬ থেকে কমে এখন তা ৩১ ভাগে নেমে এসেছে।
ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলো প্রধানত চারটি এলাকায় কেন্দ্রীভূত। এগুলো হলো মারাকাইবু, ফ্যালকন, এপুরে এবং অরিয়েন্টাল।  প্রথম তেল আবিষ্কৃত হয় মারাকাইবুতে ১৯২২ সালে। এই অঞ্চলটিও আটলান্টিকের পাড়ে, কারাকাস থেকে পশ্চিমে, দেশের আরেক প্রান্তে। সে সময় ভেনেজুয়েলা ছিল এক স্বৈরশাসনের অধীনে, যথারীতি যুক্তরাষ্ট্রের অধীনতাই ছিল যার অস্তিত্বের অংশ। সুতরাং ভেনেজুয়েলার প্রথম পেট্রোলিয়াম আইন প্রণয়ন করে মার্কিনি তেল কোম্পানিগুলোই। আমাদের দেশের উৎপাদন বণ্টন চুক্তির কাঠামো তৈরিতেও যেমন তাদের হাত থাকে। ভেনেজুয়েলার তেলকেন্দ্রিক অর্থনীতির বিস্তার ঘটে ৫০ দশকে এবং এর পর থেকে ৮০ দশক পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অর্থনীতির জৌলুস দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এই সময়েই বিদেশি তেল কোম্পানিকেন্দ্রিক একটি ধনিক শ্রেণীরও সৃষ্টি হয়। এই শ্রেণী এখনো তার ক্ষমতা ও প্রভাব পুরোপুরি হারায়নি। তার মধ্যে এখন ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক এবং ক্ষমতা ফিরে পাবার অস্থিরতা।
১৯২২ এ তেল আবিষ্কারের পর সরকারের বেশ কয়েকদফা পরিবর্তন হয়। সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যেও বিস্তর উঠানামা ঘটে। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন ভেনেজুয়েলা সরকার তেল শিল্প জাতীয়করণ করে, যা কার্যকর হয় ১৯৭৬ সালে। এ সময়েই গঠিত হয় ভেনেজুয়েলা পেট্রোলিয়াম সংস্থা (পেট্রোভেন) নামে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের পেট্রোবাংলার মতোই, বয়সও কাছাকাছি। ৭০ দশকে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তেলসম্পদের উপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে তেল বিক্রির অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সামাজিক খাত যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন ও খাদ্য ভর্তুকিতে ব্যয় হয়। তাতে এই সময়ে দারিদ্র্য পরিস্থিতির কিছু উন্নতিও হয়।  কিন্তু ’৮০ দশকে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয় যখন তেলের দামে পতন ঘটে এবং বিশ্বব্যাংক আইএমএফ এর কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচির নির্দেশিত পথে অর্থনীতি চলতে থাকে।
পেট্রোভেন ততদিনে ভেনেজুয়েলার সবচাইতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটি ততদিনে এই দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠান, জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ গঠিত হয় তার মাধ্যমে, রফতানি আয়ের শতকরা ৮০ ভাগ এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংঘটিত হয় এবং সরকারি রাজস্বেরও শতকরা ৫০ ভাগ তাদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। সুতরাং এই সংস্থার হাতেই ক্রমে অর্থনৈতিক ও সেই সূত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতাও কেন্দ্রীভূত হয়। সুতরাং নতুন কৌশল হিসেবে মার্কিনি ও অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এই সংস্থাকে ঘিরেই জড়ো হয়, তাদের প্রভাব বলয় তৈরি করে। রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে কেন্দ্র করে ৮০/৯০ দশকে বহুজাতিক সংস্থাসমূহ বিশেষত মার্কিনি সংস্থাগুলো যে তেলক্ষেত্রগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান করে, তা সম্ভব হয় তাদের অনুকূলে প্রণীত নতুন পেট্রোলিয়াম নীতির কারণে।
তবে উল্লেখ করা দরকার যে, ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ উৎপাদন তেল গ্যাস বা কয়লার ওপর অতটা নির্ভরশীল নয়। এদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস হচ্ছে পানি বিদ্যুৎ। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের শতকরা প্রায় ৭১ ভাগই আসে এই উৎস থেকে। এটি মূলত কেন্দ্রীভূত কারোনি নদীতে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই এখন মোট বিদ্যুতের শতকরা ৯০ ভাগ উৎপাদন করে থাকে। আমি যখন কারাকাসে তার কয়েকমাস আগেই শ্যাভেজ সরকার মার্কিন কোম্পানির এইএস-এর শতকরা ৮২.১৪ ভাগ সম্পদ অধিগ্রহণ করেছে পুনঃজাতীয়করণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে। এই প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উৎপাদন করত ভেনেজুয়েলার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের শতকরা ১১ ভাগের মতো।
অধিবেশন শেষেও আনা এলিসা এবং গুস্তাভো ফার্নান্দেজের সঙ্গে আলোচনা চলতেই থাকল। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন অর্থশাস্ত্র অন্যজন সাহিত্য। কীভাবে তেল নির্ভরতা ভেনেজুয়েলার কৃষির বিকাশ উপেক্ষা করেছে, কীভাবে গাড়ির বাজার তৈরি করতে গিয়ে রেলওয়ের বিকাশ থামিয়ে দেয়া হয়েছে সেই কাহিনীও শুনলাম। এগুলো নানাভাবে আমাদের দেশেও ঘটছে এখন। লাতিন আমেরিকা সবকিছুতেই আমাদের আগে আগে হাঁটছে। বহুজাতিক তেল কোম্পানির পক্ষে নানা তৎপরতা আমাদের জন্য দুই দশকের বিষয় হলেও এসব কথা ভেনেজুয়েলার মানুষ শুনেছে প্রায় ৯০ বছর আগে থেকে। আমরা যেমন আমাদের দেশে শুনতে থাকি, এসব বহুজাতিক কোম্পানি আমাদের উন্নয়নের জন্য কত টাকা নিয়ে আসছে, এত টাকা আমরা পাবো কোথায়, কিংবা ওরা এত প্রযুক্তি নিয়ে আসছে, আমরা কী করে এগুলো পারব, কিংবা আমাদের দক্ষ মানুষ কই, এগুলোও ভেনেজুয়েলার শিক্ষিত সমাজে বহু আগে থেকেই কথিত। তারা বরং এগুলোর ফাঁস থেকে মুক্ত হতেই ভিন্নপথ নিয়েছে এখন।
তাদের কাছ থেকে আরো শুনলাম কীভাবে বিশ্বের দুই প্রান্তের আমাদের দুই দেশের পাঠ্যপুস্তকে, গবেষণায় কিংবা মিডিয়াতে একই যুক্তিবিন্যাস খুব গুছিয়ে তৈরি করা হয়। এরকম কথাবার্তা তো আমরা গত ১৫/২০ বছর ধরে শুনতে অভ্যস্ত যে, তেলগ্যাস কয়লা বিদ্যুৎসহ জ্বালানিখাতে বিদেশি বিনিয়োগ হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। যাতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ হয় এবং বহুজাতিক তেল কোম্পানি আসে সেজন্য তারা যা চায় তাই করতে হবে, নইলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাগবিস্তার এবং প্রচার এমন একটা পর্যায়ে যায় যে, মানুষ শুনতে শুনতে বিশ্বাস করতে থাকে যে, বিদেশি কোম্পানি দয়া করে আসে, বিদেশি বিনিয়োগ অনুনয় করে নিয়ে আসতে হয়। আমরা প্রতিদিনই শুনি, ওরাও শুনেছে, বহুজাতিক পুঁজি বা সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের সহযোগী সংস্থাগুলো যেমন বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ইত্যাদি হলো ‘দাতা সংস্থা’ ; তারা দয়া করে ঋণ দেয়, সাহায্য করাটাই তাদের মূলমন্ত্র ! সেজন্য তারা যেসব শর্ত দেয়, ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ সেগুলো মান্য করা অপরিহার্য। তার মধ্যে মালিকানা ব্যক্তিকরণ, তাদের স্বার্থে অর্থনীতির অগ্রাধিকার, মুনাফা স্থানান্তর এবং অতি অবশ্যই রফতানি নিশ্চিতকরণ। এগুলো নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলাই উন্নয়ন বিরোধিতা।
এই কথাগুলো খুব নিরীহ নয়, এগুলো বহুজাতিক কোম্পানির জনসংযোগ তৎপরতার অংশ। এই তৎপরতার অংশ হিসেবে সরকারের মধ্যে, মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বসানো হয় কিছু সরকারি পরিচয়ের লোক, যাদের আসল মালিক ঐসব কোম্পানি। তারা কোম্পানির লোক হিসেবেই সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে, লোক দেখানো ‘দরকষাকষি’ করে। এরা সরকারের পক্ষ থেকে কোম্পানিগুলোকে ‘অনুরোধ’ করে বিনিয়োগ নামে দখলসহ সেসব কাজ করতে যেগুলো করবার জন্যই তারা এসব লোক বসিয়েছে।
বাংলাদেশের পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা দেখে এসব নাটক বোঝা এখন আমাদের পক্ষে সহজ। কিন্তু এর প্রচারশক্তি যেভাবে মধ্যবিত্তের মগজ দখল করে রাখে, তার অর্থের জৌলুস কনসালট্যান্ট সাংবাদিক আমলা মন্ত্রী রাজনীতিবিদদের একাংশকে যেভাবে বশ্য করে তোলে, যেভাবে মানুষের মধ্যে ‘উন্নয়নের’ ঘোর তৈরি করে তাদের পকেট কাটার জোরদার ব্যবস্থা হয়, তার মোকাবিলা সহজ নয়। ভেনেজুয়েলা এ ক্ষেত্রে আমাদের পূর্বসূরি।
(চলবে)

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
ডায়রি/ধারাবাহিক
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :
বর্তমান সংথ্যা
পুরানো সংথ্যা
Click to see Archive
 
 
 
Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive