|
সম্পাদনা : সিমিন হোসেন রিমি ১ সেপ্টেম্বর, সোমবার ঈদুল আজহা ভোর ৫টায় উঠেছি। নাস্তার পর ঈদের জামাতে গেলাম। আমাদের উপস্থিতির পর সকাল ১০টায় দিকে নামাজ অনুষ্ঠিত হলো। বেলা ১টার দিকে কোরবানির মাঠে গেলাম। ২৪টি গরু, ১টি মহিষ ও ১টি ছাগল কোরবানি দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সবাই মাঠ ত্যাগ করল। আবু মোড়ল তার জীবনে প্রথমবারের মতো সমস্ত লোকজনের সঙ্গে কোরবানির মাঠে হাজির ছিলেন। আবদুল খান, সবেদ আলী দফাদার, জব্বার ও আমি আক্কাস আলীর সঙ্গে তার বাবার বাড়ি গেলাম। আক্কাস আলী ও তার বাবার মধ্যে চলা বিরোধের নিষ্পত্তি করার জন্য। আমার জীবনে এবারই প্রথম আমি ওই বাড়িতে গিয়েছি। এমনকি এ পাড়াতে আমি কখনো হাঁটতে হাঁটতেও আসিনি। তবে শুধুমাত্র একবার চৌরাপাড়ার মেহের আলী ও অন্যান্য লোকজনের সঙ্গে এসেছিলাম, যেদিন বাঘকে তাড়া করা হয়েছিল। ওইদিন বৃষ্টির কারণে বাঘ হুট করে মাজির বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়িতে ফিরলাম। বিছানায় গেলাম রাত ১০টায়। আবহাওয়া : দিন ও রাতে প্রচ- গরম। বিকেলে হালকা বৃষ্টি হলো। আকাশ আংশিক মেঘলা। বাতাসে জলীয়বাষ্প।
বি. দ্র.- সকালে নজু মামা, বরু প্রমুখ এবং জামাতের পর খেয়া ঘাটের মাঝি, ওয়ারিস আলী প্রমুখ খাবার খেল। রাতে বৈঠকখানায় আমাদের ভৃত্য সেকেন্দার ও সোবহানসহ আমরা সবাই একসঙ্গে বসে খাবার খেলাম। ২.৯.৫২ সকাল সাড়ে ৬টায় উঠেছি। সকালে তুফানিয়া, রজব আলী, বরু, ওয়ারিস আলী, মন্নাফ প্রমুখ এলেন। গোসিঙ্গার আসমত এবং ওয়ারিস আলী ও মন্নাফ আমার সঙ্গে নাস্তা করলেন এবং তারপর চলে গেলেন। কোটেরটেকের তাহের আলী, হাইলজোরের মমতাজ আলী, বরু প্রমুখ আমাদের বাড়িতে দুপুরে খেলেন। সন্ধ্যায় বক্তারবাড়ির ধানখেতে বসলাম ওখানে হাফি ঘাসের ওপর দিয়ে মই দিচ্ছিল। আহমেদ বেপারি সেখানে আমার সঙ্গে যোগ দিলেন এবং ঘণ্টাখানেক কথা বললেন। রাত ৮টার দিকে ওয়ারিস আলী, জব্বার আলী, আমির ও সাহারকে সঙ্গে নিয়ে তুফানিয়ার বাড়িতে গেলাম। খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরলাম রাত ১১টার দিকে। তারপর বিছানায় গেলাম। আবহাওয়া : সারাক্ষণ গরম পরিবেশ। সারাদিন ও রাতে বৃষ্টির কোনো চিহ্ন দেখা গেল না।
৩.৯.৫২ ভোর ৬টায় উঠেছি। সকাল ৯টার দিকে হাকিম মিয়া এলেন। তিনি আমার সঙ্গে নাস্তা করলেন। আমি তাকে ফরেস্টার অসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার বিষয়টি বললাম। তিনি মামলার ঝক্কি-ঝামেলায় যেতে অরাজি। সকাল ১১টার দিকে তিনি চলে গেলেন। হারা জোগাল আমাদের জমিতে চারা রোপণ করল। কোটেরটেকের জব্বার ও তার লোকেরা এল না, তবে গফুর আলী এল। আজ দুপুরে আমাদের ভৃত্য ইয়াকুব আলী রুটি ও মহিষের রান্না করা মাংস নিয়ে আড়ালে গেল। বিছানায় গেলাম রাত ১০টায়। আবহাওয়া : পুরোপুরি শুকনো আবহাওয়া। আকাশে কোনো মেঘ নেই। গরম পরিবেশ।
৪.৯.৫২ ভোর ৫টায় উঠেছি। সকালে আবদুল খানের বাড়ি গেলাম। তার সঙ্গে বর্তমান রাজনীতি নিয়ে আলাপ করলাম। নাস্তা খেলাম এবং সকাল ১০টার দিকে বেরিয়ে এলাম। চৌকিদার বাড়ি ঘুরে ওয়ারিস আলীর বাড়ি পর্যন্ত গেলাম। তবে ওয়ারিস বাড়িতে ছিল না। আক্কাস আলী আমার সঙ্গে দেখা করে জানাল, কোটেরটেকের জব্বার আকবর আলীর গ্রুপে যোগ দিতে যাচ্ছে। বাড়িতে ফিরে দেওনার সাইদ আলীকে পেলাম। তাকে তার ভাড়া ৬১৩ টাকা, এমও রিসিট নং ৪১৮ শ্রীপুর, তারিখ ০২-৮-৫২-এর মাধ্যমে দিলাম। তারপর তিনি চলে গেলেন। বিকেলে আমার কাছে সবেদ আলী দফাদার এলেন। তিনি গ্রামের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে কথা বললেন। বিশেষ করে আশরাফ আলী মৌলবী ও আবদুল খান প্রসঙ্গে। এর কিছুক্ষণ পর কোটেরটেকের কুদ্দুস, হাইলজোরের আনসার আলী ও আবদুল খান এসে আমাদের সঙ্গে বসলেন। সন্ধ্যায় সবাই চলে গেলেন। রাতে এলেন জব্বার, জাহের আলী মাঝি, আক্কাস আলী, ওয়ারিস আলী, আবদুল খান ও গফুর আলী। তারা গ্রামের বর্তমান ঘটনাবলি নিয়ে আলাপ করলেন। এই প্রসঙ্গে আবদুল খানের সঙ্গে টুকুর চরের জমি নিয়ে বিরোধ, জুম্মা মসজিদের নির্মাণ এবং লোকজনের মধ্যে চলা নানা গুঞ্জন নিয়েও কথা বললেন। রাতের শেষভাগে তারা চলে গেলেন। আমি তাদেরকে করম আলী ও মৌলবী আশরাফ আলী প্রমুখের মধ্যে আপোসরফায় পৌঁছাতে কাজ করার জন্য বললাম। বিছানায় গেলাম রাত ২টায়। আবহাওয়া : বিকেলে হালকা এক পশলা বৃষ্টি। সন্ধ্যায় মাঝারি বৃষ্টিপাত। ভোর রাত থেকে ভালো বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
৫.৯.৫২ ভোর সাড়ে ৫টায় উঠেছি। বেপারি বাড়ি মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিলাম। ওয়ারিস আলীর বাড়িতে দুপুরে খেলাম। ওয়ারিস আলীর চেষ্টা সত্ত্বেও দুপুরের খাবারের জন্য আবদুল খানকে খুঁজে পাওয়া গেল না। খাবারের পর বাড়িতে এলাম। বড়হরের মিয়ার উদ্দিনকে আমি ডেকে পাঠিয়েছিলাম তিনি এলেন বিকেলে। আমি তাকে রমিজার মার আচরণের ব্যাপারে জানালাম এবং তাকে অনুরোধ করলাম বিষয়টির সুরাহা করার জন্য। তিনি রমিজার মাকে তার ব্যবহারের জন্য কড়াভাবে সতর্ক করলেন এবং তাকে বললেন, আমাদের বাড়ি ছেড়ে যাবার জন্যÑ যদি সে একেই সর্বোত্তম মনে করে। সন্ধ্যায় হাকিম মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে জাফর মোড়লের বাড়িতে একটি সভায় যোগ দিলাম। সাহাবিদ্যারকোটে একটি প্রাইমারি স্কুল চালু করা প্রসঙ্গে এই মিটিং ডাকা হয়েছে। সবেদ আলী দফাদার, চৌরাপাড়ার মজিদ, আলীমের ছেলে, ওয়ারিস আলী ও অন্য আরো ১০ জন লোক উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফিরলাম। আমসু ও আমি আবদুল খানের সঙ্গে তার বাড়িতে দেখা করলাম। মৌলভী ও অন্যদের বিরুদ্ধে করম আলীর মামলার ব্যাপারে আমি তাদের পরামর্শ দিলাম। আমি আমসু ও ওয়ারিস আলীকে আরো বললাম, মৌলবী প্রমুখকে বর্তমানে তারা যেভাবে সহায়তা করছে সেভাবে সহায়তা না করার জন্য । আমি তাদেরকে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করলাম। তারা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন আমার কথা মেনে চলার। সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে হেলাল মিয়া, দিঘধার ভাই সাহেব এসেছেন। এই দু’জন, হাকিম মিয়া ও আমি একসঙ্গে রাতের খাবার খেলাম। বিছানায় গেলাম রাত ১০টার দিকে। আবহাওয়া : সকাল ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টি হলো। বেশ ভালো বৃষ্টি। ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুত হলো। মধ্য দুপুরে বিরতিসহ খুব অল্প সময়ের জন্য হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছাড়া অবশিষ্ট দিন বৃষ্টিশূন্য। রাতের প্রথম ভাগে আকাশ পরিষ্কার। রাতের শেষভাগে মুষলধারে বৃষ্টি হলো এবং ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কম মাত্রায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকল। ৬.৯.৫২ -ঢাকা- ভোর সাড়ে ৪টায় উঠেছি। সকালে হাকিম মিয়াকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলাম। সকাল ৮টা ২২ মিনিটের ঢাকায় যাবার ট্রেন পেলাম। আদালতে যাওয়ার পথে কেমব্রিজ ফার্মেসিতে ডা. করিমের কাছে আমার শেরওয়ানি ধোয়ার জন্য রেখে, সোজা গেলাম আদালতে। আমার সঙ্গে ট্রেনের একই কামরায় ফরেস্টার জেড হক, ইদ্রিস গার্ড প্রমুখ এসেছেন। আমি কলা কিনেছিলাম এবং আমরা সবাই সেটা খেয়েছি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসডিও উত্তরের আদালতে ছিলাম। হাকিম মিয়ার মামলা সিদ্দিক সাহেবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমি ওখানে সকলের জন্য নতুন জামানতনামার আবেদন জানালাম। ফরেস্টার ফনী বাবু আমাকে ও হাকিম মিয়াকে মিষ্টি খাওয়ালেন। আমরা মুসলিম লীগের রাজনৈতিক ধারা, বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ভবিষ্যৎ, এর বিপরীতে অন্যান্য প্রদেশ, বিশেষ করে পূর্ব বাংলা এবং টঙ্গীর আবদুল হাকিমের সঙ্গে ফজলুর রহমান সাহেবের সম্ভাব্য ভূমিকা ও অবস্থানের ব্যাপারে কথা বললাম। বিকেল ৫টায় আদালত চত্বরে জয়দেবপুরের নবাব আলীকে পেলাম। তার সঙ্গে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ স্কুল ও নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আলাপ করলাম। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ৩০/১ পাতলা খান লেনে ইজ্জত আলী সরকারের বাড়িতে গেলাম। সেখানে গোসল করলাম। আমি আর বাইরে গেলাম না। এখানেই হাকিম মিয়া, মফিজউদ্দিন সিকদার, নারায়ণপুরের এ গনি ও ইজ্জত আলীর ছেলে শরাফতের সঙ্গে রাতে থেকে গেলাম। রাতে খাবার খেলাম না। বিছানায় গেলাম রাত সাড়ে ৮টায়। আবহাওয়া : উষ্ণ পরিবেশ। কোনো বৃষ্টি নেই।
৭.৯.৫২ -শ্রীপুর- গভীর রাত ৩ টায় উঠেছি। হাকিম মিয়া ও মফিজউদ্দিন সিকদারকে সঙ্গে নিয়ে ভোর ৫টা ৫ মিনিটের ট্রেনে শ্রীপুরের উদ্দেশে রওনা হলাম। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত স্কুলে ছিলাম। ঈদের ছুটির পর আজ থেকে স্কুল পুনরায় খুলেছে। সারাদিনে আমাকে কোনো খাবার দেয়া হলো না। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ক্লাবে ছিলাম। রাত ৯টায় হাকিম মিয়া আমাকে এস আহমেদ ম-লের বাড়িতে নিয়ে গেল। রাত ১০টার দিকে হাকিম, এস আহমেদ, নিয়ামতের বাবা ও অন্য আরেক জনকে নিয়ে রাতের খাবার খেলাম । ৩০ ঘণ্টা পর খাবার খেলাম। বিছানায় গেলাম রাত ১১টায়। আবহাওয়া : উষ্ণ ও শুষ্ক।
৮.৯.৫২ সকাল ৭টায় উঠেছি। সালেহ আহমেদ ম-লের বাড়িতে হাকিম মিয়ার সঙ্গে নাস্তা সেরে সকাল সাড়ে ৯টায় আমার আবাসস্থল, কালু ম-লের বাড়িতে ফিরলাম। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্কুলে। গোল্ড শিল্ড পুরস্কারে শ্রীপুর থানা টিম ও ফরেস্ট টিমের মধ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতা দেখলাম। ফরেস্ট টিম ৫-০ গোলে সহজ জয়লাভ করল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ক্লাবে ছিলাম। বোর্ডিং হাউসে রাতের খাবার খেয়ে রাত সাড়ে ৯টায় ফিরলাম। বিছানায় গেলাম রাত ১০টায়। আবহাওয়া : গরম এবং শুকনো পরিবেশ। আজ থেকে বোর্ডিং হাউসে আমার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৯.৯.৫২ সকাল সাড়ে ৬টায় উঠেছি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত স্কুলে ছিলাম। বেলা দেড়টায় স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হলো। স্কুলের অফিসে রইলাম বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, প্রাক্তন ইন্সপেক্টর, পোস্ট মাস্টার, স্টেশন মাস্টার, কাস্টম ও এক্সাইজের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট এ আর তালুকদারকে সঙ্গে নিয়ে রেলওয়ে প্লাটফর্মে হাঁটাহাঁটি করলাম প্রায় ৭টা পর্যন্ত। এরপর সবাইকে নিয়ে ক্লাবে রইলাম রাত ৮টা পর্যন্ত। পোস্টমাস্টার কালীপদ ও এ আর তালুকদার গান পরিবেশন করে আমাদের নির্মল আনন্দ দিলেন। বোর্ডিং হাউসে রাতের খাবার খেয়ে ফিরলাম রাত সাড়ে ৮টার দিকে। বিছানায় গেলাম রাত ৯টায়। আবহাওয়া : পরিষ্কার দিন। সমস্ত দিন ও রাতে ঘাম ঝরানো গরম। আজ বছরের উষ্ণতম দিনগুলোর একটি। রাত ৮টার দিক থেকে আকাশে বিদ্যুতের চমক। রাতের শেষভাগে ভারী বৃষ্টিপাত। মাঠ-ঘাট ডুবে গেছে। বৃষ্টি চলছে।
১০.৯.৫২ ভোর সাড়ে ৬টায় উঠেছি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত স্কুলে। বোর্ড সেক্রেটারির জবাব দিতে অফিসে রইলাম বিকেল ৫টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ক্লাবে রইলাম। স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের সঙ্গে পাশা খেললাম। রাতের খাবার খেয়ে ফিরলাম রাত ৯টার দিকে। বিছানায় গেলাম রাত সাড়ে ৯টায়। আবহাওয়া : সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হলো এবং আবার সূর্যাস্তের পর থেকে বৃষ্টি পড়ছে। সারাদিন আকাশ মেঘলা। ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে রাত আবির্ভূত হলো বিষণœ মূর্তি নিয়ে। রাতে ঠা-া পরিবেশ। বৃষ্টি পড়ছে।
১১.৯.৫২ ভোর সাড়ে ৫টায় উঠেছি। কায়েদে আজমের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্কুল বন্ধ। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১০টা এবং আবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত স্কুলের অফিসে বসে দ্বিতীয় টার্মিনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করলাম। বেলা ১১টার দিকে ইসমাইল খানের দোকানে বসে এখন সিডি হোমে থাকা এক শরণার্থীর জন্য একটি দরখাস্ত লিখলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্লাবে ছিলাম। কায়েদে আজমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমে ক্লাবে একটি সভা অনুষ্ঠিত হলো। এরপর প্রস্তাবিত বালিকা বিদ্যালয় নিয়ে আলোচনা হলো। এরপর দাবা খেললাম। সেকেন্ড এসআই, রেঞ্জার, ভ্যাটেনারি ডাক্তার, ফরেস্টার জেড হক, ঊষা, সুবোধ ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বোর্ডিং হাউসে রাতের খাবার খেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফিরলাম। বিছানায় গেলাম রাত ১১টায়। আবহাওয়া : আকাশ এখনো মেঘলা। মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে। তবে সকালের আগ পর্যন্ত কোনো বৃষ্টি হলো না। সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলো। নমনীয় পরিবেশ। (চলবে...) |