Logo
 বর্ষ ২ সংখ্যা ৩৪ ২৪শে পৌষ, ১৪১৬ ০৭ জানুয়ারী, ২০১০ 
আপনি এখন পুরোনো সংখ্যায় আছেন ! তারিখ : ০৭ জানুয়ারী, ২০১০
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
 
iforning
[প্রযুক্তি] ওপেন সোর্স : সফ্টওয়্যার ব্যবহারের স্বাধীনতা  

জামিউল আলম

মাইক্রোসফ্ট ঘোষণা দিয়েছে ২০১৩ সালের পর কেউ উইন্ডোজের চোরাই কপি ব্যবহার করতে পারবে না। আমরা সবাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে কিছু একটা করার জন্য চেষ্টা করছি। এর জন্য প্রয়োজন একটি কম্পিউটার, সঙ্গে একটি অপারেটিং সিস্টেম এবং এর প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার। আমরা সবাই টাকা খরচ করে কম্পিউটার কিনেছি, কিন্তু যে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছি তা বেআইনি কপি যার পুরোটাই বিল গেটস মালিকানাধীন মাইক্রোসফ্টের।  অর্থাৎ আমরা ৯৯% কম্পিউটার ব্যবহারকারী বেআইনি অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছি। কয়েক বছর আগে বিল গেটস বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। যদি তিনি সব কিছু দেখে ঘোষণা করতেন বাংলাদেশের কেউ তার অপারেটিং সিস্টেম বেআইনিভাবে ব্যবহার করতে পারবে না, তাহলে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো পুরো ধসে পড়ত। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা ইচ্ছে করলেই চোরাইভাবে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার না করে মাথা উঁচু করে সসম্মানে থাকতে পারি। এমন একটি অপারেটিং  সফ্টওয়্যার রয়েছে, যা আমরা সবাই ব্যবহার করতে পারি এবং ইচ্ছে করলে এর ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারি, এর নাম ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার।
আজ থেকে প্রায় ২৭  বছর আগে ১৯৮৩ সালে ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। রিচার্ড স্টলম্যান নামের তরুণ জনগণের জন্য স্বাধীনভাবে সফ্টওয়্যার ব্যবহার করার জন্য তিনি এই আন্দোলনের সূচনা করেন। ফ্রি/ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার আমাদের মতো দারিদ্র্য দেশগুলোর জন্য নিয়ে এসেছে নতুন সম্ভাবনা।

ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার কি?
সব সফ্টওয়্যারই প্রোগ্রামিং কোড লিখে তৈরি করা হয়। ওই সফ্টওয়্যারের পরিবর্তন, পরিবর্তন বা পরিমার্জনা করার জন্য ওই কোডে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হয়। এ প্রোগ্রামিং কোডকে বলা হয় সোর্স কোড। কিন্তু অধিকাংশ সফ্টওয়্যার ডেভেলপাররা এসব নিজের আয়ত্তে রাখেন। যার জন্য সফ্টওয়্যার পরিবর্তন করার জন্য তাদের দ্বারস্থ হতে হয়। ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার বলতে আমরা সেসব সফ্টওয়্যারকে বুঝি, যেগুলোর সোর্স কোড ব্যবহার করার জন্য সবার স্বাধীনতা থাকে। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ওপন সোর্স সফ্টওয়্যারের জন্ম হয়। অর্থাৎ আপনি, আমি কিংবা যে কেউই সাধারণ নিয়ম মেনে ওই প্রোগ্রামের পরিবর্তন করতে পারি বা নিজের প্রয়োজন মতো কাস্টমাইজ করতে পারি। এর অর্থ হলো শুধু একটি মাত্র কোম্পানি ওই সফ্টওয়্যারের মালিক নয়। ওপেন সোর্সের সার্থকতা এখানেই।
ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার সারা পৃথিবীর অসংখ্য কম্পিউটার বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, শখের প্রযুক্তিবিদদের পুরোপুরি স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে উঠেছে। মাইক্রোসফট তাদের হটমেইল সার্ভার  গড়ে তুলেছে ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে।  
ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার ব্যবহারের সময় যে কয়েকটি স্বাধীনতা আমরা পাই :
ক্স যে কোনো কাজে ওই সফ্টওয়্যার ব্যবহারের স্বাধীনতা
ক্স সফ্টওয়্যারটি যেভাবে কাজ করছে তা বোঝা এবং নিজের মতো করে তা পরিবর্তন করার স্বাধীনতা। সোর্স কোড এক্সেস করতে পারা এই স্বাধীনতার পূর্বশর্ত
ক্স প্রতিবেশীকে সাহায্য করার জন্য ওই সফ্টওয়্যার পুনঃবিতরণের স্বাধীনতা
ক্স সফ্টওয়্যারের উন্নতি করে তা সর্বসাধারণের জন্য বিতরণ করার স্বাধীনতা, যাতে সম্পূর্ণ কমিউনিটি উপকৃত হয়।

কেন আমরা ওপেন সোর্সের পক্ষে :
আমরা যখন সফ্টওয়্যারের প্রয়োজন অনুভব করি তখন সেটি ফ্রিতে পেতে চাই। অনেক সফ্টওয়্যার ফ্রিতে প্রদান করা হলেও একেবারেই বিনামূল্যে নয়। কিন্তু ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার ব্যবহার করলে আমরা সেই স্বাধীনতা পাই। তাই ওপেন সোর্স শুধু ভালোমানের সফ্টওয়্যার সৃষ্টি করে না তা আমাদের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে। এক কোম্পানির সৃজনশীলতাকে আরেক কোম্পানি অসীম সম্ভাবনায় পরিণত করে।

ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার
অফুরন্ত সম্ভাবনার কারণ বলতে গেলে বিশ্বের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত সার্ভার প্রোগ্রামগুলোর বেশির ভাগই ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার। ওয়েব সার্ভার (এ্যাপাচি), মেইল সার্ভার (সেন্ড মেইল ও কিউমেইল), ব্রাউজার (মজিলা ফায়ার ফক্স), অফিস সুট (ওপেন অফিস) ইত্যাদি জনপ্রিয় প্রোগ্রামগুলো ওপেন সোর্সের। আর ওপেন সোর্সের পতাকাবাহী লিনাক্স তো আছেই।

আরো কয়েকটি জনপ্রিয় ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার হলো :

মাল্টিমিডিয়া
মিরো (MIRO) : সুন্দর ইন্টারফেসের এই ভিডিও প্লেয়ারটিতে যে কোনো ভিডিও ফাইল চালানো যাবে।
ভিএলসি (VLC) : কুইকটাইম, এভিআই, ডিআইভিএক্স ইত্যাদি এক্সটেনশনের ফাইল চালানোর জন্য উপযুক্ত।
মিডিয়া প্লেয়ার ক্লাসিক : জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ভিডিও প্লেয়ার। ইনস্টল করার ঝামেলা নেই।

ম্যাসেজিং
আইএম : একটি এপ্লিকেশন ব্যবহার করে চ্যাট করার জনপ্রিয় ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার।

ই-মেইল
মজিলা ঠা-ারবার্ড : সুন্দর গ্রাফিক্স ও স্পাম ফিল্টারের সুবিধাসহ মেইল করার জনপ্রিয় সফ্টওয়্যার।

ফাইল শেয়ারিং
ক্যাবস : লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে ফাইল শেয়ার করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

অফিস এপ্লিকেশন
মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ডের মতো সুবিধা সম্পন্ন এই সফ্টওয়্যারটি যে কোনো ফরমেটের ওয়ার্ড ফাইল সাপোর্ট করে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন
জিম্প : ফটো সম্পাদনা করার জন্য এ্যাডোব ফটোশপের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।
পেইন্ট ডট নেট : গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

এফটিপি 
ফাইলজিলা : জনপ্রিয় এফটিপি সফ্টওয়্যার

ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট :
SourceForge.net বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ওয়েব সাইট ও ফোরাম। এখানে ইউজারদের নির্দিষ্ট হোস্টিং স্পেস দেয়া হয় যেখানে তারা সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট-এর কাজ করতে পারে। কেউ ইচ্ছে করলে ফোরামের সাহায্য নিতে পারে কিংবা নিজেও অন্য কোন প্রজেক্টের সফ্টওয়্যার ডেভেল করতে পারে। এখানে যে সব টুলস ডেভেলপ করা হয় সেগুলো প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করা আছে। SourceForge.net- এ প্রায় ২,৫০,০০০ সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট রয়েছে এবং এই ফোরামের ইউজার সংখ্যা প্রায় ২০ মিলিয়ন। ফলে  SourceForge.net বিশাল  অনলাইন এপ্লিকেশন ভা-ারে পরিণত হয়েছে। আপনি এই ফোরামের সদস্য না হয়েও এসব এপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ও ওপেন সোর্স :
প্রযুক্তিতে আমরা পিছিয়ে আছি বটে কিন্তু একেবারে থেমে নেই। পৃথিবীর অন্য দেশের মতো আমাদের দেশের ওপেন সোর্সেও কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। এদের কেউ করছেন উন্নত ওয়েব ব্রাউজার তৈরির কাজ, কেউ বা বানাচ্ছেন বাংলা অপারেটিং সিস্টেম, কেউবা দলবেঁধে কাজ করছে। বাংলাদেশে বাংলাদেশে ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক www.bdosn.org নামের এই সংগঠনটি কয়েক বছর যাবৎ ওপেন সোর্স ডেভেলপমেন্টের জন্য কাজ করছে। জনপ্রিয় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টুরের বাংলা সংস্করণের জন্য এই ফোরামটি কাজ করে যাচ্ছে। আপনি ইচ্ছে করলে এই ফোরামের সদস্য হতে পারবেন। সদস্য হলে ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম এবং সফ্টওয়্যার ব্যবহারের জন্য অনেক সাহায্য পাবেন। প্রতিমাসে এই ফোরামটি ওপেন সোর্স বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে যেখানে আপনি অংশগ্রহণ করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে ওয়েব সাইট ভিজিট করুন।
বাংলাদেশে ওপেন সোর্স নিয়ে কাজ করছে সে রকম কয়েকটি সংস্থার ওয়েব সাইট :
www.ankurbangla.org
www.bios.org.bd
www.ekushey.org
www.linux.org
www.openoffice.org
www.bengulilinux.org
www.mozilla.org
 
বাংলা লিনাক্স
বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষা। সেই কবে থেকে বাংলায় কম্পিউটিং করার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সনাতনী সফ্টওয়্যার মডেলে যদি আমরা বাংলা ইন্টারফেস ব্যবহার করতে চাই তাহলে আমাদের ধরণা দিতে হবে সেসব সফ্টওয়্যার প্রতিষ্ঠানের কাছে যারা এসব সফ্টওয়্যার ডেভেলপ করেছে।
মাইক্রোসফট অনেকবার ঘোষণা দিয়েও উইন্ডোজে বাংলা যুক্ত না করায় হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ বেশ কয়েক ধরনের লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের ইন্টারফেসে বাংলা যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন তরুণের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা  www.ankurbangla.org ইতিমধ্যে জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন রেডহ্যাট, ফেডোরা এর বাংলা সংস্করণের কাজ শেষ করেছে। ইন্টারফেস বাংলা হওয়ার কারণে অপারেটিং সিস্টেমের সবটুকু হবে আমাদের নিজেদের আয়ত্তের মধ্যে। কারণ এই বাংলা অপারেটিং সিস্টেমের মালিক তো আমরাই। ইচ্ছে করলেই আমরা এর পরিবর্তন করতে পারব। ওপেন সোর্সের জনপ্রিয় অফিস এপ্লিকেশন ওপেন অফিসের বাংলা সংস্করণ এখন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা যদি তথ্যপ্রযুক্তিকে দেশের মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই তাহলে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সবকিছু বাংলায় করতে হবে।
দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হলে বাইরের কোম্পানির প্রতি নির্ভরশীল না হয়ে আমরা নিজেরাই সে কাজটি করতে পারি। সে জন্য ওপেন সোর্সের বিকল্প ওপেন সোর্সই।

 

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
ফিচার ও অন্যান্য
  • [অ্যাপার্টমেন্ট] মধ্যবিত্তের নাগাল এবং রিয়েল এস্টেটের বাজার
  • [নির্মাণ] বাড়ি নির্মাণে দেশীয় প্রযুক্তি
  • অনলাইনে এ্যাপার্টমেন্ট
  • ‘শুধু রিয়েল এস্টেট কেন সব ক্ষেত্রেই কোয়ালিটির প্রয়োজন’ -প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল
  • [ভোগান্তি] বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ : আছে আইন নেই কার্যকারিতা
  • [গণমাধ্যম] কৃষি সংবাদ : নতুন যাত্রা
  • ল্যাপটপ কেনার গাইড
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive