 |
ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে সাপ্তাহিক-এর বিশেষ সংখ্যায় পাঠকদের নির্বাচিত সব চিঠি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এ সংখ্যায় ছাপা হলো অবশিষ্ট নির্বাচিত চিঠির শেষ কিস্তি। Ñবিভাগীয় সম্পাদক কারণ আমি তোমাকে... ভালোবাসার প্রিয়তমা, আমি গোলাপের সুরভিত কাননসমূহকে শ্মশানের কয়লা খনিতে রূপান্তরিত করব। কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর আমার এ কথাটি তোমাকে বহুবার বলেছি। আজ আবারো বলছি। তবে জেনে রেখ আমার এই চিঠিটাই তোমাকে লেখা শেষ চিঠি। জানি না এর পর আমি কি করব। হয়ত আমি সূর্যের রক্তমুখে আলকাতরার প্রলেপ এঁকে দেব। সূর্যের আলো অমাবস্যার কাছে নিলামে বিক্রি করে দেব সস্তা দামে। আমি জ্যোৎস্নার রূপালী রশ্মিভেলা দীর্ঘশ্বাসের খাড়া বাতাসের এলোপাতাড়ি এবড়ো খেবড়ো করে ছাড়ব। আমি বলাকার পাখনার, প্রজাপতির রঙিন ডানায়, পাখির পালকে অভিশাপের রৌদ্রতীরে ক্ষত-বিক্ষত করব। যেন আর কোনো কবিতা মাথায় না আসে উদাসীন কবির ঘুনে ধরা মস্তিষ্কে। ধরিত্রীর সব সিনারি এভাবে এঁকে এঁকে বিলুপ্ত হবে ইহলোকের এ্যালবাম থেকে। মানুষের স্মৃতির ডায়েরি হবে শূন্য। বাসা বাঁধবে উইপোকা যত লাইব্রেরির দৌরাত্ম্যে মেছুয়া বাজারের জটাধারী পাগলির মতো ঘৃণ্য; তার এলোমেলো কেশ বানাব। আমি আষাঢ়ের ভরা তটিনী তেপান্তরের কার্পাস তুলার শুভ্র তোষাক করব। দেখাব পৃথিবীকে জলস্রোতের অভয়ারণ্য। শ্রাবণের মুষল ধারার তুমুল বৃষ্টিকে অগ্নির লাল স্ফুলিঙ্গের বিনা শীতের মৃত্যুযজ্ঞের হত্যাকে পরিণত করব। কিয়ামত গোধূলি বিকেল মানবের মনে দানবের হিংস্র থাবার মরণ ছোবল মারব। আমি জলপ্রপাতের জলের খেলা; ঝর্ণার সুললিত বারিধারা বন্ধ করে দেব চিরকালের জন্য। পাহাড়ের পাদদেশে পাথরের স্তূপ, গড়ে উঠবে কঠিন প্রাচীর দর্শন। পর্যটক, সভ্যতা, আধুনিকতা ও নারী। আমি জোনাকী বাঁশ বাগান আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেব। আলোর মশাল মিছিল নিয়ে অথবা ভ্রান্তের ওড়াউড়ি অসহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পতন হোক নিয়মের মরীচিকার। আমি আকাশের সব নীল কালো মেঘের ছেড়া-ছেড়া পাহাড়ে আড়াল করে দেব। দৃষ্টির ঢের দূরে নিয়ে তাকে বিশ্বলোকের ঊর্ধ্ব চক্ষুকে। নীল মানে যেখানে বেদনা যেখানে অত সখ্যতা কিসের? আমি সাগরের সব ঢেউ বালির স্তূপে ধামাচাপা দেব। নয়নের পুতুলী কাব্য ‘ঝিনুক আচড়ায় রাজকুমারীর শর্তপূরণ’ এরপর থেকে শুধু উপহাস। লোকের মুখের হাস্যকর সব গল্প পাগলের বিলাপ বলেও চালাতে আমার কাছে দুষ্কর হবে না। আমি সুন্দর সমস্তকে বিশ্রী করে, ভালোকে মন্দের ভারে, উচিতকে অন্যায়ের ধারে, ভালো লাগাকে ঘৃণার বদৌলতে রদবদল করব। আমি মাছি ফুঁ দেয়ার মতো করে ঈষৎ ফুতকারে সাজানো গোছানো সব মনোহরকে আবর্জনার দিব্য করব। বড় বড় প্রসাদ থেকে কড়া মাটি পোড়া ইটগুলো আপনা আপনি এক নিমেষে সহসা খুলে খুলে হাঁটা দেবে ভাঙ্গনের আহ্বানে, ধ্বংসের সমাবেশে। এই আমি নিজেকে অদৃশ্য অনলে পুড়ে তুস পোড়া ছাই করে দিগি¦দিগ আপন অস্তিত্ব বিলিয়ে দেব। আকাশের নীল, বাতাসের শীতলতায়, স্রোতস্বিনীর নীড়ে, সাগরের গর্জনে অগ্নিপ্রবাহে, পুষ্প পুঞ্জকায়, বর্ষা ঘোলাজলে... আমার মনও তনুর ছায়া বিভীষিকার আরেক নাম। এত কিছুর করার পরও যদি আমাকে ভালো না বাস তবে মনে রেখ। প্রথম গুলিটা তোমার মাথায় এবং দ্বিতীয়টা আমার মগজে। রঙের তরঙ্গে ভেসে যাবে তোমার আমার লাশ শকুনের পাহারায়Ñ যদি তুমি আমাকে ভালো না বাস। তোমার কেউ এস এম নাজমুল হক ইমন সান্তাহার (চা-বাগান), বগুড়া ০১৭১৬-৫০৫২০১
ভালোবাসা মানে ত্যাগ প্রিয় শুভ, আমার এই খোলা চিঠির মাধ্যমে শুভেচ্ছা নিও। কেমন আছ তুমি? জানি ভালো নেই। আমিও ভালো নেই। তুমি কি জান, আমাদের এই ভালো না থাকার পেছনে কারণ কিন্তু একটাই। কারণটা হলো তুমি যাকে ভালোবাস সে তোমাকে ভালোবাসে না, আবার আমি তোমাকে ভালোবাসি, তুমি আমাকে ভালোবাস না। আর এই সমস্যার সমাধান করতে পার শুধুই তুমি। আচ্ছা শুভ, দুনিয়াটা এত বিচিত্র কেন? বিচিত্র এই দুনিয়ার মাঝে একটি বিচিত্রতার সাক্ষী বোধ হয় আমরা। এই যেমন আমি তোমাকে এত ভালোবাসি কিন্তু তুমি আমাকে ভালোবাস না। তুমি কাকে ভালোবাস? তুমি ভালোবাস এমন একজনকে, যে কিনা আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আবার আমার বন্ধু তোমাকে ভালোবাসে না। সে ভালোবাসে অন্য একটা মেয়েকে। এখন বলত, তোমার মনে আমার বন্ধুর প্রতি ভালোবাসাটা কখন জন্মিল? আমি তোমাকে সেই ছোট্ট শুভ থেকে ছায়ার মতো ঢেকে রেখে মনে, প্রাণে, কল্পনাতে আমার করে নিয়েছি। আর তুমি কিনা ভালোবাস তাকে। এটা কি মেনে নেয়া যায়? যায় না। কারণ আমি পারব না আমার এতদিনের ভালোবাসা ফিরিয়ে নিতে। সেই ছোট থেকেই আমরা এক সঙ্গে পড়তাম। মনে পড়ে শুভ, তোমাদের বাড়ি স্কুলের পাশে থাকার কারণে গ্রীষ্মকালের প্রায় দিনই তুমি স্কুলের পুকুরটিতে মধ্য বিরতির সময় এপাশ থেকে ওপাশ সাঁতার কাটতে। আর আমি পুকুরের এক কোণে বসে তোমাকে মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। আমার এই দেখার মাঝে তুমি আমার ভালোবাসা খুঁজে পাওনি? পেয়েছ। না পেলে তুমি আমার পাশে এসে এমন করে তাকিয়ে থাকতে না। আমরা তো এক সঙ্গেই স্কুলে আসা-যাওয়া করতাম। আমি যে তোমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম কিংবা তোমার সঙ্গে কথা বলার সময় কথা ওলটপালট করে ফেলতাম কিংবা আমাদের বন্ধুরা যখন আমাদেরকে নিয়ে নানা দুষ্টুমি করত, তখন আমি চুপ থেকে যে সম্মতি জানাতাম তার মাঝে তুমি কি আমার ভালোবাসা খুঁজে পাওনি? পেয়েছ। বোকামি করেই হোক বা ভুল করে হোক তোমাকে তো আমি বলেছিলাম আমার ভালোবাসার কথা। তখন তুমি বলেছিলে, পরীক্ষার পরে দেখা যাবে। আর তুমি এখন বলছ, আমি যে তোমাকে ভালোবাসি তা তুমি জানই না। আমাদের প্রিয় বন্ধুটি তোমার সামনেই আমাকে যখন জিজ্ঞেস করেছিল আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি কিনা? তখন আমি স্পষ্ট করেই বলেছিলাম ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ আমার মনে হচ্ছে তখন তুমিও আমায় ভালোবাসতে। আর যদি আমায় তুমি ভালো নাই বাসতে তাহলে কেন তুমি বলেছিলে পরীক্ষার আগে ভালোবাসা নয়, পরীক্ষার পরে। পরীক্ষার পর যখন তোমাকে জানালাম, তখন আমাকে তুমি বল, আমাকে নয় তুমি ভালোবাস আমার বন্ধুকে। আমি যেন অন্য কাউকে নিয়ে সুখী হই। হ্যাঁ শুভ, এটাই। এটাই তুমি আমাকে আগে বলতে। তাহলেই তো আমি এত কষ্ট পেতাম না। তোমাকেও হওয়া লাগত না কারো কষ্টের কারণ। তুমি হয়ত বলতে পার আমি স্বার্থপর। তুমি আমার বন্ধুকে ভালোবাস, তার পরও আমি তোমাকে চাইছি। হ্যাঁ, আমি তোমাকে চাই। চাই তোমাকে সুখী দেখতে। তোমাকে নিয়ে কেউ হাতের পুতুলের মতো খেলবে তা আমি মানতে পারি না। আমি চাই না, কেউ তোমার সঙ্গে কিছু দিন প্রেম করুক। তারপর তোমাকে ছেড়ে অন্য কারো সঙ্গে...। আর এদিকে তুমি কষ্ট পাও। আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং ভালোবাসব, এমনকি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভালোবেসে যাব। তুমি চাইলে আমাকে ভালোবাসতে পার, আবার নাও বাসতে পার। আমি মনে করি ভালোবাসা মানে ত্যাগ, পাওয়া নয়। সাইফুল
শুধু তোমার অপেক্ষায় হৃদয়ের মণিকোঠায় থাকা ‘বৃষ্টি’, সত্যিই বৃষ্টির সঙ্গে তোমার অনেক মিল। তীব্র তাপদহের পর যখন বৃষ্টি নামে, বৃষ্টির স্পর্শে সকলের মন তখন আনন্দে ভরে ওঠে। যেমন ভরে ওঠে আমার মন তোমার স্পর্শে, তোমার গন্ধ পেয়ে। বিশ্বাস করবে? যখন তোমার সঙ্গ পাই, পৃথিবীর সবই তখন তুচ্ছ লাগে। মনে হয় কোনো দুঃখ-কষ্ট নেই, সবই তো আনন্দের। এই যে সামান্য সময়ের জন্য সব দুঃখ ভুলে থাকা, সবই তোমার জন্য। তুমি কি পার না, সারাজীবনের জন্য সব দুঃখ ভুলে দিতে? তুমি কি জান, বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গেও তোমার মিল? স্বাধীনতার ৩৮ বছরেও হবে হবে করে বিচার হয়নি রাজাকারদের। সব সরকারই তা এড়িয়ে চলছে। যেমন এড়িয়ে চলছ তুমি। প্রেমের তিন বছরেও আমাদের বিয়ে হবে হবে করে হচ্ছে না। বার বার এড়িয়ে যাচ্ছ। কিছুই খোলাসা করছ না। আবার এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাও অস্বীকার করছে। ঠিক যেন বাংলাদেশের রাজনীতি। তুমি তো জানই, বাংলা ছবির মতো এক ধাক্কায় তোমার সঙ্গে আমার প্রেম হয়নি। আমি ধাক্কা খেয়েছি বার বার। তবে তা দৈহিক না, মানসিক। কত জনের কত কথা শুনেছি, মার খেয়েছি বাবা-মা’র হাতে। তবুও যদি তোমায় পাই। তোমায় পেলে যে সব ভুলে যাব। তোমায় যে কতটুকু ভালোবাসি তার জন্য একটা প্রমাণই যথেষ্ট। তোমার সঙ্গে দেখা করব বলে সময়মতো থাকতে পারিনি ভাইয়ের বিয়েতে। কত কথা শুনেছি তার জন্য, হয়েছি অপমানিত। সত্যি বলছি, কষ্ট, রাগ কিছুই লাগেনি। কারণ তোমার জন্য যেখানে মরতেও রাজি, সেখানে এটা তো অত্যন্ত তুচ্ছ ব্যাপার। ভালোবাসা নাকি মানুষকে অন্ধ করে দেয়। না, আমি অন্ধ হইনি। হয়েছি পাগল। আর পাগল বলেই কিনা করেছি তোমার জন্য? মাঘের কনকনে শীতে যেখানে সকালে জীবজন্তুও বাহির হয় না, সেই কাক ডাকা ভোরে আমি বাহির হয়েছি, তোমায় কোচিংয়ে পৌঁছে দেব বলে। তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে থেকেছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা, শুধু তোমার অপেক্ষায়। কখন বের হবে স্কুল থেকে। ভুলে গেছ সবি? নাকি ভুলে না গিয়েও ভোলার ভান করছ? কিন্তু কেন? কি আমার দোষ? একবার শুধু খোলাসা করে বল, শুধু একবার। মোঃ সোহেল রানা (বাবু) ইয়ার্ড কলোনি, সান্তাহার, বগুড়া-৫৮৯১ ০১৭১৯-৩৪৫২৪৪ স্বপ্নপুরিকে লেখা চিঠি স্বপ্নপুরি, কেমন আছ তুমি? বসন্তের শিশির ভেজা সন্ধ্যাবেলায় আজ বড্ড বেশি মনে পড়ছে তোমায়। সেই শৈশবের স্মৃতি মাখা সময়গুলো জীবনের বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্ত তোমার ভালোবাসা মাছরাঙার মতো বাঁধা দেয় আমার অশ্রুভেজা চোখে। যেদিকে তাকাই শুধু তোমাকে দেখতে পাই। স্বপ্নপুরি, তুমি জান না তোমাকে না পাওয়ার ব্যাকুলতা আমাকে প্রতিনিয়তই কুরে কুরে খাচ্ছে। আর কুলভাঙা নদীর মতো আমি হাঁটছি অসম্ভব গন্তব্যে। তোমার দেয়া ভয়ঙ্কর স্মৃতিগুলো মাঝে মধ্যে উঁকি ঝুঁকি মেরে উপহাস করে যায়। তোমার মনে আছে, একদিন তোমার গোলাপ ফোটা কালো চুলের বেণি খুলে দেয়ার অপরাধে তুমি আমাকে তোমার কাঁচা গালের কামড় দিয়েছিলে। আর আমি রাগে তোমার সঙ্গে কথা না বলায় তুমি নিজেকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে অনশন করেছিলে। একদিন দেখা না হলে তুমি চিঠি লিখতে, অথবা আমার প্রতীক্ষায় বসে বসে পথ গুনতে। তোমার স্কুলের বেঞ্চে আমার নাম লেখার অপরাধে দশবার কান ধরেছিলে। বর্ষার তীব্র বর্ষণে প্রতিদিন তুমি আমায় তোমার ছাতার ভেতর নিয়ে আসতে। তোমার চিঠিতে লিখেছিলে প্রিয় ‘ঝ’ ভালোবাসা ভালো থাকা হয় যেন। আজ অতীতের সেই স্মৃতিগুলো কেবলি আমার কাছে ধূসর মরুভূমি...। তবু তোমার ভালোবাসার ছোঁয়ায় আজো প্রতীকের পথে প্রতীক্ষায় আছি এই মরুভূমিতে ফুল ফোটার প্রতীক্ষায় শুধু তোমার জন্য। ভালো থেক প্রিয় স্বপ্নপুরি, অ-নে-ক ভালো থেক। ইতি তোমার, সুজন মজুমদার, ০১৯১৬-৪৩৭৬৩৯
তোমার মায়ের ওয়াদা রাখতে সারা পৃথিবীতে মানুষ হয়ত আরামদায়ক ঘুমে বিভোর। শত চেষ্টার পরেও আমার দু’চোখে ঘুম নেই। তোমাকে না পাওয়ার বেদনায় এ মন আজো নাড়া দেয় এবং হৃদয়ের পাঁজরগুলো দিন দিন ধুঁকে ধুঁকে ঝাঁজরা হয়ে যাচ্ছে। তুমি প্রথম আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলে। আমি তখন রাজি হইনি। কিন্তু যখন তুমি জিদ নিলে তখন আমি তোমার জীবনের কথা ভেবে আমি রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু তখনো তোমার নাম জানা হয়নি। তোমার প্রেমে আমি মুগ্ধ। তোমার রূপ, তোমার মাথার চুল এবং তোমার চাহনি আমাকে তোমার প্রেমে ফেলতে বাধ্য করে। তখন আমি তোমার প্রেমের কাছে হেরে যাই। কিন্তু প্রথম যেদিন তোমার সঙ্গে দেখা করি এবং সিনেমা হলে গিয়ে ‘আজ গায়ে হলুদ’ ছবিটি উপভোগ করতে করতে তোমার নাম জানা হয়। তখন ঠিক ওই মুহূর্তে ছবির কাহিনীর সঙ্গে আমাদের প্রেমের কাহিনী মিলে যায়। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তুমি বলেছিলে ছবির নায়িকা হিন্দু, নায়ক মুসলিম, তাই তুমি মুসলিম আর আমি হিন্দু। কিন্তু কিছু করার নেই। তখন আমাদের প্রেমের সম্পর্ক অনেক গভীরে হাবুডুবু খাচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন তোমার বাসায় যাওয়া আসা হয় এবং তোমার মা, ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। কিন্তু প্রতিমা তুমি হয়ত জান না, তোমাকে দেখা করার জন্য এক রাতে তোমার বাসায় যাই সেদিন তুমি বাসায় ছিলে না। সেদিন নাকি তুমি তোমার বড় দিদির বাড়ি রাঙামাটিতে বেড়াতে গেছ। সেদিন তোমার মা এবং বড় ভাই আমাকে কসম করে বলেছে বাবা একমাত্র তুমিই পার আমাদের মান সম্মান রক্ষা করতে। কারণ আমার মেয়ে যদি মুসলিম হয়ে যায়, তাহলে সমাজে আমাদের ঠাঁই হবে না। তুমি আমার ছেলের মতো। প্রতিমা যদি তোমাকে বিয়ে করতে চায় তাহলে তুমি যে কোনোভাবেই হোক তুমি ওকে বোঝাতে পারবে বাবা। তোমার মায়ের এ কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। কিন্তু করার কিছু নেই। কারণ তোমার মা সেদিন তার মাথায় আমার হাত রেখে ওয়াদা নিয়েছে। সেই মায়ের ওয়াদা আমি ভাঙতে পারি না প্রতিমা। তুমি যেদিন আমাকে বিয়ে করতে বললে, আমি শুধু কিছু সময় চেয়ে নিয়েছি। কিন্তু তোমার মায়ের ওয়াদার কথা তোমাকে খুলে বলতে পারিনি। তাই তুমি রাগ করে আমার সঙ্গে দেখা করা কিংবা যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে। কিন্তু প্রতিমা শুধু তোমার মায়ের কথা রাখতে আমি আমার প্রেমকে বিসর্জন দিলাম। কিছুদিন আগে নাকি তোমার বিয়ে হয়ে গেছে। যাক খুব ভালো খবর। প্রতিমা তুমি বল এই কি আমার দোষ, এই কি আমার অপরাধ। এতদিন যে কথা তোমাকে বলতে পারিনি আজ সেই কথাটি প্রিয় ‘ভালোবাসা দিবসে’ তোমাকে জানালাম। মোঃ জাহিদ হাসান ০১৮১৯-৫৪০৪১০
ফিরিয়ে দেব না আর সৌরভ, কোথায় আছ জানি না। আমার ওপর অভিমান না করে গেলেই পারতে। আমি ভীষণ একা হয়ে গেছি। জান, সবাই আমার সঙ্গে কেমন করে। চার দেয়ালে বন্দি হয়ে আছি। কাউকে ভালোবাসতে চাইলে ফিরিয়ে দেয়। সবাই ছলনা করে আমার সঙ্গে। ভালোবাসি বললেও ভালোবাসে না। জানি, তোমাকে ফিরিয়ে দেয়ার শাস্তি পাচ্ছি। জান, একা একা আমি অনেক কাঁদি। কেউ শোনে না। মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত আমি। জান সৌরভ, আমি একজনকে ভালোবাসি। তাকে বলেছি। কিন্তু যে আমায় নিয়ে খেলা করে। ভালোবাসি খেলা বুঝেছ। ঠিক তোমার সঙ্গে যেমন করেছি। এই সৌরভ, ফিরে আস না। আবার আমরা সেই নদীর পাড়ে বেড়াতে যাব। তুমি যা বলবে এখন আমি তাই করব। মনে আছে, একদিন কোন অপরাধে তুমি আমায় কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলে। অভিমানে আমি এক সপ্তাহ তোমার সঙ্গে দেখা করিনি। তুমি যদি এখন আমার সামনে আস দেখ, অনেকক্ষণ কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকব। আমি আর পারছি না। তোমার প্রয়োজন অনুভব করছি। ফিরে এসো প্লিজ। বলছি তো আর ফিরিয়ে দেব না। এই, এখনো রাগ করে থাকবে? তুমি না আমায় ভালোবাস। জান, এখনো আমার মা আর ভাইয়েরা আমায় বকে। আরো বেশি শাসন করে। বাসা থেকে বের হতে দেয় না। এসব কথা আমি কাকে বলি বল তো। যেদিন তোমাদের মালপত্র ট্রাকে তোলা হচ্ছিল সেদিন অনেক কেঁদেছি। যাওয়ার সময় ঠিকানা তো দিলেই না, দেখাও করলে না। এত অভিমানী কেন তুমি। তবে কিন্তু আমি অভিমান করব। চলে যাব দূরে। পাবে না তখন। রেহানা রিমি পূর্ব গোয়ালপাড়া, ঠাকুরগাঁও
পলাশ-শিমুলের মেলা বসেছিল প্রিয়তমেষু, দিনটা ছিল সোমবার। আজ সকাল থেকে মনটা উড়–উড়– ভাব। আজ তুমি বাড়িতে যাবে। বিদায় জানাতে হবে। মাথায় আমার দুশ্চিন্তা কাজ করছে পাওয়া না পাওয়ার আশঙ্কায়। এ রকম হওয়ার যুক্তি ছিল। কারণ বরাবরই আমি ছিলাম প্রেমিক মাত্র। সম্পর্কটাও বিতর্কিত ছিল। বিষয়টা নিয়ে অসংখ্য প্রশ্নের তাড়া খেয়ে ফিরতাম। বুঝতে দেয়নি কখনো। উত্তর খোঁজায় ব্যস্ত থাকতাম। এত অল্প সময়ে আমার কাছাকাছি চলে আসাটাও নিয়ে ভেবেছি। তুমি বলতে ‘এটাকে কখনো গভীরভাবে নেবে না। কারণ এটা প্রেম।’ যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে বলতে কাউকে ভালোলাগাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। যেদিন তুমি প্রথম আমাদের বাড়িতে এসেছিল, সেদিন রাত শেষে ভোর এসেছিল অন্যরকম সেজে; রৌদ্র ছিল ঝলমলে, আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা ছিল; বিকেলে তোমার আগমনে পলাশ-শিমুলের মেলা বসেছিল। তোমাকে সংবর্ধনা জানিয়েছিলাম মনের সবটুকু আবেগ দিয়ে। আবার অপরাহ্নের শেষ সময়ে বিদায় জানাতে গিয়ে এক উর্বশীর ছবি ভেসেছিল চোখে। যাক সে কথা। তোমাকে বিদায় জানাতে এগিয়ে গেলাম। আমি তখনো বুঝতে পারিনি ইতোমধ্যে অনেক কিছু ঘটে গেছে। তোমার মুখ মলিন, আকাশ স্তব্ধ। হলো বিচ্ছেদ, শুরু হলো বিরহ। এই শহরকে বিদায় জানালে। শেষ মুহূর্তে কথা হয়নি। এর পর থেকে ভুলে যাবার চেষ্টা করি তোমার সমস্ত চেতনা থেকে। স্মৃতিতে অসংখ্য ঘটনা এসে তোলপাড় সৃষ্টি করে। একান্তই নিজের আবেগকে পাত্তা না দিয়ে পারি না। কী দুঃসাহস আমার! অবাক হই। তোমার প্রেমে পড়ার সাহস হলো কীভাবে? আমাকে উপেক্ষা করে একাই ভালোবাসার নদীতে ঝাঁপ দিলে। কীভাবে একটা মধুর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায়। না পাওয়ার শূন্যতার মধ্যে বেঁচে থাকার অনুভূতির কথা লিখেছিলাম। লেখাটি ছাপা হয়েছিল একটি দৈনিক পত্রিকায়। কিছুদিন পর আমার ঠিকানায় হলুদ খামে একটি চিঠি এসেছিল। প্রকাশিত লেখাটির প্রশংসা করে তারপর লিখেছিলামÑ ‘অমীমাংসিত সম্পর্ক কখনো শেষ হয় না, ঝুলে থাকে।’ চিঠিটা আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলাম। প্রেরকের ঠিকানায় নাম ঠিকানা না মর্মাহত হয়েছিলাম। ওই প্রেরকের আরো একটি চিঠির অপেক্ষায়...। আমি কখনো কল্পনাবিলাসী ছিলাম না। এখনো নেই। বাস্তববাদী হওয়ার কারণে বিসর্জন দিয়েছি অনেক কিছু। প্রেমের অভিজ্ঞতা আমার তখন ছিল না। এখন যতটা না বুঝি। অস্বীকার করব না, তোমার আগমনে জীবনের একটা গতি হয়েছে। ভালোবাসা পেতে গিয়ে দিতে শিখেছি। তোমার নির্দেশগুলো পালন করছি। তুমি হয়ত জান না, তার পরও বলছি। দীর্ঘ ৬ বছর পর ভর্তি হয়ে এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট পেলাম। আমার বন্ধুরা এই ফলাফল শুনে যতটা খুশি হয়েছে ততটা খুশি হতে পারিনি। যার জন্য আমার এই আয়োজন তাকে না জানাতে পারার বেদনায়...। কিছুদিন পরই এইচএসসি পরীক্ষা দেব। তোমার স্বপ্ন পূরণ আর আমার আত্মবিশ্বাস। তুমি চলে যাওয়ার পর একবারও নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখনি। যদি রাখতে তাহলে দ্বিতীয়বার ভুল করতে না। তোমার একটা কথা এই মুহূর্তে খুব মনে পড়ছে। তুমি বলেছিলে ধরো, যদি আমি হারিয়ে যাই; অনেক দূরে...। আমি সেই কথার প্রতিবাদ করিনি। শুধু বলেছিলাম, সম্পর্কটাকে এত হালকা ভাবা ঠিক নয়। আজ লিখতে গিয়ে মনটা একেবারই ভারাক্রান্ত। মানুষের মন নীরবে হারিয়ে যায় তা জানা ছিল না। তোমার জমে থাকা কষ্টের গল্পের মনোযোগী পাঠক ছিলাম। এই অসময়ে এসে মনে হচ্ছে এটাই আমার অপরাধ। আমাকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এই শহরকে বিদায় জানালে। একবারও ভাবলে না আমার কথা। কে কি বলেছিল তা জানার প্রয়োজনবোধ মনে করনি। এ রকম একটা কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলার দায়িত্ব কি আমার ছিল? তোমার আচরণে এক বিন্দু কষ্ট পাইনি। কষ্ট পেয়েছিলাম তখন যখন তুমি ছিলে একেবারই নীরব। তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে এই শহর আগের মতোই। পাল্টে গেছে শুধু লেনদেন। তার পরও থমকে যাওয়া সবাইকে ভালোবাসি। ভালোবাসি তোমাকেও। জীবন শাহ কিশোরগঞ্জ থেকে ০১৮১৪-৭৯৯ ৭৯৯
তবুও পড়ে নিও বন্ধু ঞ+ঝ, কেমন আছ? কুয়াশার এই হিম হিম শীত জানি দু’জন দুই প্রান্তে বসবাস করছ। তবুও জানি তোমাদের ভালোবাসা নিরন্তর। তোমাদের ভালোবাসা থাক হৃদয়ে এক ক্যাম্পাসে! কখনো অনেক বৃদ্ধা পড়ে আছে পথের পানে শীতের কুয়াশায় কাঁপছে একটু ভালোবাসা না পাওয়ার বেদনায়। তবুও তা তারা জীবনটা কত সুন্দরভাবে পাড়ি দিচ্ছে একবার চেয়ে দেখ না বন্ধু তাদের নিঃসঙ্গতার সুখটুকু। শুনেছি তোমাদের দু’জনের মাঝে ক’মাস মান অভিমান ছিল হয়ত সোনিয়া না বললে আমার জানা হতো না। মেয়েটার মা-বাবা কেউ না থাকায় হয়ত নিজের মাঝে এক বেদনার পাহাড় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই বলে কী মাঝে ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল? পৃথিবীতে যে কাউকে ভালোবেসেছে সবার মাঝে এক একটা স্বার্থ থাকে। কিন্তু কোনো স্বার্থহীন ভালোবাসা একমাত্র সেই দিনের চলতি পথের মেয়েটি (সোনিয়া) যার ভালোবাসা শুধু তারেকের জন্য। কোনো এক বিকেলে হঠাৎ আমার সেল্ফ ফোনটা বেজে উঠল, অপর প্রান্তে সোনিয়ার নীরব কণ্ঠ প্রশ্ন করলাম কী হয়েছে? উত্তরে তার প্রথম কথাটি ছিল আগের তারেককে এখনকার তারেক মেলাতে পারিনি। সোনিয়ার এই বেদনাবিধুর কথাটি আমাকে খুব আহত করেছে তাই সেদিন আমিও বললাম দেখ সোনিয়া তোমার জন্য তারেককে নষ্ট হতে দেব না আর তারেকের জন্য তুমি সোনিয়াকেও নষ্ট হতে দেব না...। হেÑ বন্ধুরা, আজ কী জান তোমাদের সঙ্গে যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল ঠিক আজ ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতে দেখি কাঁটায় কাঁটায় এক বছর পূর্ণ। ১৫-১২-০৮ সে দিনটিতে প্রথম দেখা হয়েছিল আমাদের তিন জনের কোনো এক উড়ে আসা চলতি পথে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনে। পাশাপাশি আমি তারেক আর তুমি একটু দূরে। তবুও কি জান ঈশ্বর কত মহৎ আমাদের তিন জনের ভালোবাসা আজো কাছে রেখেছে। তার জন্য ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সে দিনের এক টুকরো কাগজে আমাদের কন্ট্রাক্ট নম্বর রেখে আসা তারপর বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে তোমাদের দু’জনের ভালোবাসা। এখনো মাঝে মধ্যে সেই ক্ষণিকের দেখা থেকে খুব আনমনে বসে উপেক্ষা করি। জানি না এখন কোথায় আছ তোমরা? হয়ত পড়ালেখার কঠিন বাস্তব সম্মুখে দু’জন দুই প্রান্তে খুব ব্যস্ত। তবুও ভালো থেক ভালোবাসার সঙ্গে জীবনটাকে সুন্দর করে এগিয়ে নেয়া... এই কামনায়Ñ তোমাদের ভালোবাসা হোক আগামীর জয়। তোমাদের ভালোবাসার প্রতি আমার অসীম শ্রদ্ধা। দু’জনের ভালোবাসার কাছে আমার এই ছোট্ট একটা পঙ্ক্তি উপহার। জানি রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ দাশ, এই যুগের নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহাদের মতো হবে না। তবুও পড়ে নিওÑ সেদিন দূরে দাঁড়িয়ে শুনেছিলাম ট্রেনের হুইসেল/ কাছে এসে দেখি তোমার ঠোঁটের মধুর শিষ, যা শুনতে ভালো লাগে/ এখন আমি ফিরে যাই বাউলের পিছু পিছু তারপর/ আবারো চলন্ত ট্রেনের হুইসেল, মুহূর্তে একতারাটা পড়ে যায়/ আর প্রেমিক-প্রেমিকা ফিরে যায় সাজ ঘরে/ কত সুন্দর আড়ালে তাদের ভালোবাসা/ আমারও দেখার সাধ হয়েছে সাজ ঘরে যাওয়ার/ অতঃপর দু’জনে দেখি সাজ ঘরে ভালোবাসায় মগ্ন। অথচ আমিও কাল রাত জেগে ছিলাম/ হাতের আঙ্গুলের চাপ টিভি রিমোর্টের উপর/ কই প্রতিটি চ্যানেলে ঘুরেছি কোথাও পেলাম খুঁজে এক জুটি প্রেমিক-প্রেমিকা.../ মাঝে মধ্যে এইও শুনি অন্য মুখে প্লিজ একটু একটু হাসি...। আলমগীর মাসুদ বিলোনিয়া, ফেনী ০১৮১৮-৪৯৫৬১৫
আমাকে দেখতে চুপে চুপে প্রিয়, কেমন আছ? আজ প্রায় এক যুগ পর লিখতে বসেছি তোমায়। মনে হচ্ছে অনেক কিছু লিখব আজ তোমায়। তুমি কি জান কেন আজ লিখতে বসেছি। কতবার একটা কথা বলতে চেয়েছি কিন্তু বলতে পারিনি। আমি না বললেও তুমি তা জান। বুঝতে পার। তার পরও আজ এক যুগ পরের চিঠিতে একবার বলব কথাটা। ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। পাগলের মতো, অন্ধের মতো ভালোবাসি তোমায়। এই চিঠিতে শুধু এই কথাটা বলব বলে লিখতে বসিনি। আজ হারিয়ে যাব চিঠির মাঝে সেই অনেক বছরের আগের দিনগুলোর মাঝে। প্রথম দিন এক ঘরে ভাই-ভাবিসহ বসে তোমার সঙ্গে কোক আর চানাচুর খাওয়ার মাঝে আমাদের প্রথম দেখা। আমি জানি আজকের লেখার অনেক ঘটনাই তোমার মনে নেই। তবে এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। আমি তোমায় স্মরণ করে দিচ্ছি। তুমি দেখ আমি কীভাবে সব স্মৃতিগুলো লালন করছি হৃদয় মন্দিরে। তোমাকে আর পারুল আপাকে নিয়ে অনেক ক্ষ্যাপাতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে আমার এমন একটা সম্পর্ক। শুধু কি তাই, আজ আমরা একই ছাদের নিচে বাস করছি খুব আপন আর কাছের মানুষ হয়ে। তোমার বাসার সামনে দিয়ে প্রতিদিন বিকেলে হাঁটতে যাব বলে বের হতাম আর তুমি অফিস থেকে এসে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে। মাঝে মধ্যে ভাবির সঙ্গে কথা বলতে আর চুপে চুপে আমাকে দেখতে। আর আমি আনমনে তোমার সেই লাল চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। তোমার রুমের জানালার পাশে বসে কতবার সেই গানটি (তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিয়ে আসতে) গেয়েছ আজো সেই গানটি আমার এসএমএস প্রোগ্রামে রেখেছি। এসএমএস আসলে গানটা বেজে ওঠে। আচ্ছা তোমার কি মনে আছে আমাদের প্রথম চিরকুটটির কথা। ঐদিন আমি জানতাম না যে তুমি আমায় চিরকুট দেবে, আমি লিখেছিলাম তোমার জন্য একটা পরে দু’জনেই যখন বিনিময় করলাম দেখি দুটোতেই একই লেখা। অনেক মজা পেয়েছি দু’জন সেদিন। আমি আজো আমার চিরকুটের কথা রেখেছি। প্রথম যেদিন কলেজ ফাঁকি দিয়ে ভদ্র বেশে তোমার সঙ্গে বের হয়েছি অনেক গল্প করেছিলাম দু’জন খোলা আকাশের নিচে, তবে তখনকার গল্পগুলো রুচিশীল ছিল। এখন মাঝে মধ্যে বর্তমান ছেলেমেয়েদের ভালোবাসার গল্প শুনে মনে হতাশা জাগে। আসলে আমাদের সমাজ কীভাবে পাল্টে গেছে। থাক আজ সমাজের কথা। আজ শুধু তোমার আর আমার কথা। মাত্র এক মাসের সম্পর্কের কথাগুলো পাড়ার ছেলেরা জানতে পেরে কি যে খেপেছিল। কারণ তো তুমি জানতে না। ওরা আমাকে প্রপোজাল করেছিল আমি পাত্তা দিইনি বলে ওরা এমন করেছিল। এক মাস পর কীভাবে হারিয়ে গেলে তুমি আজো মনে হলে বুকটা আমার ধক্ করে ওঠে। তোমাকে হারিয়ে কত জায়গায় খুঁজেছি পাইনি। মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছি শুধু তোমার জন্য। তোমার সম্পর্কে আপা আর মা সব জানত। মা আমার অবস্থা দেখে নামাজের বিছানায় বসে পার্থনা করেছে। যেন সৃষ্টিকর্তা তোমার খোঁজ আমাকে দেয়। ভুলতে পারিনি কিছুই। সব স্মৃতি যেন আমার জন্য সৃষ্টি। কষ্টের সেই দুটো বছর কত যে মিথ্যা বলেছি। তা তুমি কখনো শোননি। প্রথম দিকে প্রায় আমি (পাখিরে তুই দূরে থাকরে কিছুই আমার ভালো লাগে না) গানটা গাইতাম। সব আশা যখন আমার শেষ হয়ে গেল তখন সম্বল ছিল রবি চৌধুরীর (ভুলে যেতে পারি আমি) গানটি। এই গানটি গাইতে গাইতে একদিন তোমায় আমি খুঁজে পেয়েছি। এই ছোট্ট শহরে তুমি কোথায় লুকিয়ে ছিলে। আচ্ছা তুমিও কি আমায় খুঁজেছিলে? তোমারইÑ পাখি আঃ আর আক্তার মোঃপুর, ঢাকা
আমি অপেক্ষায় আছি মাঝে মধ্যেই নাবিলার কথা মনে পড়ে। কিন্তু আজ যেন বার বার তার কথা মনে পড়ছে। কারণ, আজকের এই ভ্যালেন্টাইনডেতেই নাবিলা প্রথম আমাকে তার ভালোলাগার কথাটি জানিয়েছিল। কেমন আছে নাবিলা? আজো কি সে আমাকে ভালোবাসে? নাকি ভুলে গেছে। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ভ্যালেন্টাইনডেতে নাবিলা যখন আমাকে তার ভালোলাগার কথাটি জানাল, তখন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এতই ব্যস্ত ছিলাম যে, নাবিলার ভালোবাসা তেমনভাবে অনুধাবন করার চেষ্টাই করিনি। আজ আমি কর্পোরেট সেক্টরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি ঠিকই, কিন্তু হারিয়েছি নাবিলার মতো অসাধারণ একটি মেয়ের ভালোবাসা। সতিও আজ যদি নাবিলা আমার পাশে থাকত, তাহলে জীবনটা হয়ত আরো পরিপূর্ণ মনে হতো। মাঝে মাঝে তোমাকে ভীষণ মিস করি নাবিলা। তুমি কোথায় আছ? তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারি নাই। তোমার প্রিয় বান্ধবী জয়ীতাও তোমার ঠিকানা বলতে পারে না। তোমার মোবাইল নম্বর যেটা তুমি ব্যবহার করতে সেটা বন্ধ অনেকদিন যাবৎ। সবার কাছ থেকে নিজেকে কেন আড়াল করে রেখেছে? নাবিলা সেই ভ্যালেন্টাইনডেতে যে কথাটি আমি তোমাকে বলতে পারি নাই, আজ এই দিনে বলছি : আই লাভ ইউ নাবিলা। যদিও সেই ভ্যালেন্টাইনসডেতে আর আজকের ভ্যালেন্টাইনসডের মধ্যে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। তাই সাপ্তাহিক-এর মাধ্যমে বলতে চাই, তুমি যদি আমাকে আজো ভালোবেসে থাক, তাহলে যোগাযোগ কর। আমি অপেক্ষায় আছি। সাইফুর রহমান ঘোড়ামারা, রাজশাহী, ০১৭১৯১৩২২১৩ স্বপ্ন পথের দিশারী জয়িতা, মাঘের মাঝামাঝি লগ্নে উত্তরের দুয়ার থেকে হু হু করে শীতের বাতাস বইছে। তাই আমার প্রিয় হলদে পাখি রঙের কাঁথাটা গায়ে জড়িয়ে মেঝেতে রাখা জলচৌকিটা লেখার টেবিল বানালাম। কিন্তু কেন এই আয়োজন! কি লিখব! কাকে লিখছি! দু’মাস আগেও যে আমার হৃদয়াকাশ তো বটেই ত্রিশ বছরের জীবনে এক ইঞ্চি স্থানও দখল নিতে আসেনি, আজ সেই যেন অতীত বর্তমানকে ছাপিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যে এখন আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পথের দিশারী। মাঝে মাঝে নিজেকেই বিশ্বাস হয় না। সত্যিই সে আমার। আমার অবর্তমানে আমাকে নিয়ে কল্পনা করে, আমার কণ্ঠস্বর, স্পর্শ তাকে আলোকিত, আলোড়িত করে। দুঃখের অন্তহীন সমুদ্রের মাঝে সবুজ শ্যামল তীরের নিশানা দেখায়। আমার ভালো লাগে জীবনের কঠিন পথে চলতে। কঠিন সেই সত্য বুঝি তুমিই। আর জানই তো “সত্য সে কঠিন।” কঠিনেরে আমি ভালোবাসিলাম। দেখা যাক আমার আনন্দ আমাকে সুখ না দুঃখের সাগরে ভাসায়। জয়িতা কতদিন তুমি বলেছ তোমাকে একটা চিঠি লিখতে, কিন্তু কখনোই তোমাকে লেখা হয়নি। কেন লেখিনি তা তোমাকে কখনোই বলা হয়নি। জানতে চেয়েছ এড়িয়ে গিয়েছি। আজ এই রাজশাহী শহরে এসে পুরনো অনেক কথাই মনে পড়ল। ভাবলাম তোমাকে একটি চিঠি লেখি। তোমাকে জানাই আমার কথা। রাস্তার ওপাশে প্রাচীন কিংবদন্তিতুল্য রাজশাহী কলেজ যার সঙ্গে আমার সাড়ে চার বছরের কত শত স্মৃতি জড়িয়ে যে রয়েছে সব কিছু এখন স্মরণেরও অতীত। সময়টা এই শতাব্দীর নয়। বিগত শতাব্দীতে ঘটে যাওয়া কিছু খ- স্মৃতি। হঠাৎ একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বাসায় ফিরে দেখি হলুদ খামে মোড়া একখানা পত্র। বাইরে কোনো নাম-ঠিকানা কিছুই লেখা নেই। প্রেরকের স্থানে লেখা ‘রাজশাহী কলেজ’। এর আগে কখনো এমন অজ্ঞাত কোনো পত্র পাইনি। তাই কিছুটা দ্বিধান্বিত, কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম। যতœ করে খামের মুখটা খুলতেই নীল কাগজে কালো অক্ষরে গোটা গোটা করে লেখাÑ “মাঝে মাঝে বড় একা লাগে, তাই লিখ।” নিচে ঠিকানা। সেই আমার পত্র লেখার হাতেখড়ি। তাকে আমি আদর করে লক্ষ্মী বলে ডাকতাম। শরৎচন্ত্রের শ্রীকান্তের সেই রাজলক্ষ্মীর মতো এক নারী ছিল সে। কোনোদিন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। আর কোনোদিন হবেও না। না দেখে, না শুনে শুধুমাত্র পত্রালাপেও যে একজন মানুষ আরেকজনের কত কাছে যাওয়া যায় লক্ষ্মীকে না দেখলে তুমি কখনো বিশ্বাস করবে না। কতবার যে রাজশাহী যাওয়ার নিমন্ত্রণ পেয়েছিÑ শীত উদ্যাপন, পদ্মায় নৌকাভ্রমণ, আম উৎসব আরো কত কী? সাড়ে চার বছর পরে কলেজের এক প্রফেসরের সঙ্গে শুভ পরিণয়ের মাধ্যমে আমাদের পত্র মিতালীর দাফন কাফন সম্পন্ন হয়। এর পরে আর কখনোই কাউকে চিঠি লেখা হয়নি। রাজধানী থেকে অন্তত তিনশ কিলোমিটার দূরের এই নগরীতে বসেও অন্তরের গহীন জুড়ে আছো তুমি। তোমার ভালোবাসা আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। আমার হৃদয়ে তোমার আগমন উল্কার বেগে, আর বিচরণ পায়রার মতো। এরপরে শুধুই আমাদের ভালোবাসা নিয়ে লিখব। কারণ তুমিই যে আমার সকল সুখের উৎস, আমার আনন্দ। ভালো থেক, আজ এখানেই শেষ করছি। তোমারই জয়, মিরপুর, ঢাকা ০১৯১৫২৩০৯৭৯ |