|
বাংলালিংক বাংলার পথে। চ্যানেল আই-এর একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। ধারাবাহিক এ অনুষ্ঠানের এক একটি পর্বে তুলে ধরা হয় দেশের একটি স্থান। তুলে ধরা হয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন বিবরণ। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় রয়েছে টিংকু ট্র্যাভেলার।
ব্যাপক দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠানটির পর্ব অবলম্বনে সাপ্তাহিক-এর পাঠকদের জন্য এই স্পট ফিচার। এবারে থাকছে ‘নেত্রকোনা’।
বাংলালিংক বাংলার পথে অনুষ্ঠানটিতে এই পর্বে তুলে ধরা হয়েছে নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থান। সব স্থান একসঙ্গে উপস্থাপন সম্ভব নয়। তাই পর্ব ভাগ করে নেত্রকোনার স্পটগুলোকে তুলে ধরা হলো... আব্দুল্লাহ্ নূহ
নেত্রকোনার পূর্বধলা শহরের দশভুজা বাড়িতে রয়েছে রাজা গোপিনাথ সিংহের বাড়ি। তিনি এই বাড়িতে দশভুজার একটি মূর্তি স্থাপন করে প্রতিদিন তাতে পূজা দিতেন। তাই স্থানীয়রা এই বাড়ির নাম দেয় দশভুজা বাড়ি। রাজা গোপিনাথ সিংহের পঞ্চম পুরুষ কালী কুমার সিংহের তৃতীয় পুত্র মনিন্দ চন্দ্র সিংহ ভারত উপমহাদেশের সাম্যবাদী কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মনি সিং নামে পরিচিত। তিনি ১৯০১ সালের ২৮ জুলাই এই বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জেলা নেত্রকোনা। এ জেলার আয়তন ২ হাজার ৮১০ কিলোমিটার। ঢাকা বিভাগের আওতাধীন এ জেলায় রয়েছে ১০টি উপজেলা ৪টি পৌরসভা, ৮৪টি ইউনিয়ন এবং ২ হাজার ২৮২টি গ্রাম। উপজেলাগুলো হচ্ছে, কেন্দুয়া, মদন, খালিয়াজুরি, আটপাড়া, নেত্রকোনা সদর, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, পূর্বধলা, কমলাকান্দা ও দুর্গাপুর। এ জেলার প্রধান নদীগুলো হচ্ছে সোমেশ্বরী, কংস, মগড়া, ধনু, ধলা, তেওরখালী, বরুনা, চিন্নাই, লাওয়ারী, বালিয়া, গুনাই ইত্যাদি। সে সময় দশভুজা বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল এক বিলের ধারে। বিলটির নাম রাজধলা বিল। এই রাজধলা বিল নিয়ে অনেক কল্পকথা প্রচলিত আছে। আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, বিলের পূর্বদিকে এখনো কোনো আবর্জনা বা কচুরিপানা জন্মায় না এবং পানি খুব পরিষ্কার। এ কারণে এলাকার মানুষ একে ধলাবিল বলত। ধলা মানে সাদা বা স্বচ্ছ। বর্তমানে ১৫০ একর জায়গা জুড়ে থাকা রাজধলা বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এই বিলের পানি এক সময় রাজা জমিদার ছাড়া আর কেউ ব্যবহার করতে পারত না। এই কারণে জমিদাররা ধলা বিলের সঙ্গে রাজ যোগ করে নাম রাখে রাজধলা বিল। রোয়াইলবাড়ি থেকে মাটির রাস্তা ধরে কলসকাঠির ওপর দিয়ে যাওয়া যায় কুতুবপুরে। এখানে রয়েছে বাংলা সাহিত্যের সফল ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ-এর পৈত্রিক ভিটা। কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নবেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর গ্রামের এই বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং মা আয়েশা খানম। হুমায়ুন আহমেদের লেখালেখি শুরু হয় ঊনিশ-বিশ বছর বয়স থেকে। নন্দিত নরকে লেখার মাধ্যমে ১৯৭২ সালে তিনি সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে তার লেখা প্রথম উপন্যাসের নাম শঙ্খনীল কারাগার। হুমায়ুন আহমেদ কেবল একজন জনপ্রিয় লেখকই নন, নাট্যকার, চলচ্চিত্রকার হিসেবেও সফল ব্যক্তিত্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নশাস্ত্রের অধ্যাপনাকালেও তিনি দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। বাংলা সাহিত্যে এমন বৈচিত্র্যতাপূর্ণ লেখা অন্য কোন লেখকের বেলায় দেখা যায় না। হুমায়ুন আহমেদের প্রতিটি গল্প বা উপন্যাসই পাঠকের কোনো না কোনো ঘটনা বা জীবনের সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পায়। কথাসাহিত্য, নাটক এবং চলচ্চিত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ুন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার, শিশু একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন স্বর্ণপদক, অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, অন্যদিন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম পারফর্মেন্স এ্যাওয়ার্ড, বাচসাস পুরস্কার, টেনাশিনাস পদকসহ দেশি-বিদেশি নানান সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ত্রিমোহনী থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে সোজা গেলে পড়বে পূর্বধলা চৌরাস্তা। সেখান থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে মাটির রাস্তা ধরে যাওয়া যায় ভাগবেড় গ্রামে। ভাগবেড় গ্রামে রয়েছে জমিদার গোপিনাথ ভাদুড়ির জমিদারবাড়ি। ভাগবেড় জমিদার বংশের প্রথম জমিদার ছিলেন তিনি। এই ভাদুড়ি জমিদার বংশ পরবর্তী ৭ পুরুষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। ভাদুড়িরাই এ অঞ্চলের মধ্যে সবচে উচ্চ শিক্ষিত ছিল। এদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ অঞ্চলে নাট্যচর্চার প্রসার ঘটে। এই পরিবারের কালীশংকর ভাদুড়ি, জয়নাথ ভাদুড়ি, প্রাণনাথ ভাদুড়ি, তপনকুমার ভাদুড়ি, ত্রিপানাথ ভাদুড়ি, অজিত শংকর ভাদুড়িসহ অনেকেই প্রখ্যাত নাট্য অভিনেতা ছিলেন। এই বংশের শেষ জমিদার ছিলেন সুধির কুমার ভাদুড়ি। তার ভাই তরুন শংকর ভাদুড়ির কন্যার নাম জয়া ভাদুড়ি। ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের সময় ভাদুড়ি পরিবার কলকাতায় চলে যায়। জয়া ভাদুড়ির জন্ম তথ্যমতে কলকাতাতে। ভাদুড়ি জমিদার বাড়িতে একটা বড় গ্রন্থাগার ছিল যা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সেই গ্রন্থাগারে রক্ষিত অনেক দু®প্রাপ্য বই, পত্রিকা, দলিল আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। এই অঞ্চলের ইতিহাস গবেষক আলী আহম্মদ খান সেই আগুন থেকে সাপ্তাহিক ভারত মিহির পত্রিকার কপি বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার কপি আর কোথাও সংরক্ষিত নেই। এখন থেকে বাংলালিংক বাংলার পথে প্রচারিত হবে চ্যানেল আইতে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায়
অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে যে কোনো তথ্য ও মতামত জানাতে ই-মেইল করুন : tinkutravelar@yahoo.com |