Logo
 বর্ষ ২ সংখ্যা ৩৮ ২৪শে পৌষ, ১৪১৬ ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১০ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
 
iforning
‘আমলাতান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে না বরং আমলারা ভয়ে সবকিছু উপরের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন’- ড. আকবর আলী খান  

সাপ্তাহিক-এর পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জব্বার হোসেন ও শুভ কিবরিয়া

সাপ্তাহিক : সরকারের প্রায় ৯ মাস সময় অতিক্রান্ত হলো, সরকারের বাইরে থাকা লোক, ভেতরে থাকা লোকদের এবং পুরো কার্যক্রম সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কি? আপনি কীভাবে দেখছেন?
আকবর আলী খান : সরকার অনেক প্রত্যাশা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন এবং দেশের মানুষেরও অন্য সরকারের চাইতে তাদের কাছে অনেক বেশি প্রত্যাশা। প্রথম দিকে বেশ ভালোভাবেই কাজ শুরু হয়েছিল। যেমন, দ্রব্যমূল্য কিছুটা কমে ছিল। এখানে সরকারের যতখানি কৃতিত্ব তার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য কমে যাওয়া। আর সংসদকে শক্তিশালী করার জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটি করা হয়েছে এবং মোটামুটিভাবে বাজেট তৈরি করে তাতে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে তারা কাজ শুরু করেছেন।
এখন যে সমস্যা সেটা হলো সমস্ত ক্ষমতা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। যার ফলে প্রশাসনও স্থবির হয়ে এসেছে। এভাবে যদি সব কিছু কেন্দ্রীভূত হতে থাকে তবে প্রশাসনে গতি আনা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে যাবে। অভিজ্ঞতায় যেটা দেখা যাচ্ছে যে, সরকারের যে উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বাজেট সেখানে বাস্তবায়নের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তার একটা বড় কারণ হলো যে, আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। এবং দ্বিতীয়ত হলো, মন্ত্রিসভায় যাদের গ্রহণ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তার ফলে তাদের নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর অনেক দায়িত্ব এবং কাজ বেড়ে গেছে। এর ফলে মূলত প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক সরকার হয়ে গেছে এবং তার ওপর অনেক বেশি চাপ হয়ে গেছে। এই চাপ নিয়ে তিনি কতক্ষণ পর্যন্ত একটা গতিশীল নয় এমন প্রশাসনকে গতিশীল করতে পারবেন তার উপরে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে।
সাপ্তাহিক : আওয়ামী লীগের আগের সাধারণ সম্পাদক জলিল সাহেব সাম্প্রতিক যে মন্তব্য করেছেন তার মধ্যে এই বক্তব্য রয়েছে যে, সরকার আমলাতান্ত্রিক হয়ে গেছে এবং সরকারের উপদেষ্টারা মন্ত্রীদের  উপরে বসে আছেন। এই বক্তব্যটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
আকবর আলী খান : আমি কিন্তু ওইভাবে দেখছি না। আমলাতান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে না বরং আমলারা ভয়ে সবকিছু উপরের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সরকারের দায়িত্ব হলো, আমলাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া। মন্ত্রীদের দায়িত্ব নিজের হাতে কাজ করা নয়। আমরা সেই মন্ত্রীকেই ভালো মন্ত্রী     বলব যে তার লোকজনকে দিয়ে ঠিকভাবে কাজ করিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু সব কাজ যদি নিজেকে করতে হয় তবে সেটা তার পক্ষে করা সম্ভব হবে না। যদি হয় তবে সেটা মূল্যায়ন হিসেবে সঠিক হবে না। তবে এটা ঠিক যে, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে উপদেষ্টা হিসেবে অনেক প্রাক্তন আমলারা রয়েছেন। তাদের ভূমিকা কতটুকু সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। কিন্তু যেটা হয়ে গেছে সেটা হলো যে, কোনো সিদ্ধান্তই কেউ সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমতি ছাড়া নিতে সাহস পাচ্ছে না এবং এতে প্রশাসনের মধ্যে গতিশীলতা অনেক কমে যাবে।
সাপ্তাহিক : এখন অভিজ্ঞতাহীন মন্ত্রিসভা নিয়েও অনেক প্রশ্ন আসছে। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে, এর আগের বার তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন তিনি যাদেরকে মন্ত্রিত্ব দিয়েছিলেন তারাও প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছিলেন। সুতরাং প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হলেই যে কাজ করতে পারবে না এই যুক্তি কি ঠিক?
আকবর আলী খান : সেটা ঠিক নয়। কিন্তু এখন যেটা মনে হচ্ছে সেটা হলো, প্রথমবারের তুলনায় এবারে প্রশাসন অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত। অর্থাৎ বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এটা আসলে ভালো লক্ষণ নয়। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কাজ হলো অন্য মন্ত্রীদের দিয়ে কাজ করানো এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের কাজ হলো তাদের অধীনস্থ বিভাগ এবং অন্যদের দিয়ে কাজ করানো। কিন্তু এটা যদি তারা নিজেরা করেন সেটা হয়ত বাধ্য হয়ে তাদের করতে হয় কিন্তু প্রশাসনের যে সাধারণ নিয়ম তার সঙ্গে তা মেলে না।
সাপ্তাহিক : স্থানীয় সরকারের ব্যাপারে আপনি অনেক দিন ধরে কথা বলছেন এবং এই নির্বাচনের আগে যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর, তারমধ্যে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করারও একটা এজেন্ডা ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম যে, উপজেলা পরিষদের যে আইনটি হলো তার সঙ্গে সাংসদদের উপদেষ্টা করা হলো। রাজনৈতিক সরকারগুলো কেন স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়ন করতে চায় না?
আকবর আলী খান : বাংলাদেশের একটা দুর্ভাগ্য হলো, দেখা যায় যে গণতান্ত্রিক সরকাররা স্থানীয় সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেন। এবং স্বৈরতান্ত্রিক সরকার যারা তারা অপেক্ষাকৃত স্থানীয় সরকারের পক্ষে অবস্থান নেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, নির্বাচিত জেলা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত বছর হয়ে গেল কোনো আন্তর্জাতিক সরকারের আমলেই জেলা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। আর উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রেও যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এদেরকে আন্তর্জাতিক সংজ্ঞায় স্থানীয় সরকার বলা যাবে না। কারণ, আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুসারে স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ হলেও অন্তত কতগুলো ব্যাপারে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
এখন কোনো ব্যাপারেই যাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই তাদেরকে স্থানীয় সরকার বলা যাবে না। তাদেরকে কেন্দ্রীয় সরকারের শাখা অফিস বলতে হবে। তারা কেন্দ্রীয় সরকারেরই বর্ধিত রূপ। তারা আলাদা স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান নয়। আমি মনে করি এমপিদের যে ক্ষমতা উপজেলা পরিষদে দেয়া হয়েছে এই কাজটিই জাতীয় সংসদ সম্ভবত ভিন্নভাবে করতে পারত।
যেহেতু এখানে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত আছে সেহেতু তাদের উচিত ছিল এই প্রশ্নটি গণভোটে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা। কিন্তু তারা গণভোট না করে নিজেরাই তাদের নিজেদের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং আমার মনে হয় যে, আগামী নির্বাচনে এটা একটা বড় ইস্যু হওয়া উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতবিরোধ নেই। তারা সবাই অন্য বিষয়গুলো নিয়ে এমনকি সংসদে তারা কে কোথায় বসবেন সেটা নিয়েও একমত হতে পারেন না। কিন্তু উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা কমিয়ে রাখতে হবে এটা নিয়ে তাদের সকলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।
সাপ্তাহিক : কিন্তু এর দার্শনিক জায়গাটা কি? আপনি বললেন যে, স্বৈরতান্ত্রিক সরকার স্থানীয় সরকারের পক্ষে কাজ করে এবং এর মধ্য দিয়ে তারা জনগণের কাছে যাবার একটা রাস্তা তৈরি করে। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানরা তো ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক দলের লোক নয়...
আকবর আলী খান : এখানে মূলত এমপিরা ভয় করে যে, স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে উঠবে। কাজেই তারা চান না যে তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী হোক। সেজন্য তাদেরকে দুর্বল করার জন্য তারা উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী হতে দিতে চান না।
সাপ্তাহিক : আমাদের দেশের জনসংখ্যা এত বেড়ে যাচ্ছে, এত সমস্যা বাড়ছে। এখন স্থানীয় সরকার যদি এভাবে অবিকশিত থাকে তবে গণতন্ত্রের ওপর এর কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?
আকবর আলী খান : আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এটা একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, যেসব বিষয় স্থানীয় সরকারের করা উচিত সেগুলো কেন্দ্রীয় সরকার নিলে এসব কাজ কোনোদিনই হবে না। যেমন, প্রাথমিক শিক্ষা। এটা যদি কেন্দ্রীয় সরকার করে তবে কখনই সে এটা ভালোভাবে করতে পারবে না। কারণ, ঢাকায় বসে কুড়িগ্রাম কিংবা পটুয়াখালীর প্রত্যন্ত একটি গ্রামে কি হচ্ছে সেটার তদারকি সম্ভব নয় পৃথিবীর সব জায়গাতেই এই ধরনের বিষয়গুলো বিকেন্দ্রীভূত করে স্থানীয় সরকারের হাতে দেয়া হয়। এসব বিষয় স্থানীয় সরকারের হাতে দেয়া তো দূরের কথা যেসব বিষয় স্থানীয় সরকার স্থানীয়ভাবে করছে সেগুলোতেও তাদেরকে এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে না। কাজেই ওই পর্যায়ে যাওয়া তো অনেক দূরের ব্যাপার। প্রাথমিক পর্যায়েই এখন স্থানীয় সরকারকে খর্ব করে রাখা হয়েছে।
সাপ্তাহিক : সম্প্রতি চিনির বাজারের ব্যাপারটা লক্ষণীয়। বাণিজ্যমন্ত্রী আগে প্রচুর কথা বলতেন প্রেসের সামনে, সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্তগুলো জানাতেন। এবারে যখন ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা বা চিনি নিয়ে সমস্যা হলো এবং তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসলেন তখন তিনি আর প্রেসের সঙ্গে কথা বলছেন না, ফ্লোর ছেড়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের জন্য। এবং আমরা শেষে দেখলাম চিনির দাম বাড়িয়ে রেখে ব্যবসায়ী নেতারা মিটিং শেষ করলেন। এই যে বাজার নিয়ন্ত্রণ এক ধরনের ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্বে চলে যাচ্ছে এ সরকারের আমলেই। সেটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
আকবর আলী খান : আমরা যদি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো দেখি তবে সেখানে দেখব যে, দ্রব্যমূল্য হ্রাস করার জন্য সরকারের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। এবং সেই ম্যানিফেস্টো অনুসারে কাজ করলে সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। বাংলাদেশে এখন যেটা হয়েছে সেটা হলো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে আমরা কেবল কথা বলছি। শুধু বর্তমান সরকার নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং এর আগের সরকার সবাই কথা বলেছে কিন্তু দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
এর একটা ইতিহাস আছে। সেটা হলো, আমরা যখন প্রথম বাণিজ্য উদারীকরণের ব্যবস্থা করি তখন ধরে নেয়া হয়েছিল যে, বাণিজ্য যদি উদার করে দেয়া হয় তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য কম দামে পাওয়া যাবে এবং অতি সহজে যদি এগুলো আমদানি করা যায় তবে আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি কমে যাবে। এবং প্রকৃতপক্ষে সেটা হয়েছিল। ভারত থেকে অতি দ্রুত পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা অনেকখানি সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এখন সমস্যা দেখা যাচ্ছেÑ ভারতে যখনই দ্রব্যমূল্যের সমস্যা দেখা দেয় বাংলাদেশে তার প্রভাব আরও ব্যাপক আকারে পড়ে এবং এটারও একটা কারণ আছে। কারণ আমরা যেসব খাদ্যদ্রব্য ব্যবহার করে থাকি সেগুলো পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই ব্যবহার করা হয় না। যেমন চালের বাজার অত্যন্ত সংকীর্ণ। পৃথিবীর অনেক দেশেই চাল উৎপন্ন হয় না। বাংলাদেশ, ভারত কিংবা চীন যখন চাল কিনতে যায় তখন চালের বাজারে একটা বিরাট প্রভাব পড়ে যায়। যেমন মসুরের ডাল পৃথিবীর অনেক দেশেই হয় না। ভারত যদি আগে মসুরের ডাল কিনে ফেলে তবে আমরা কিন্তু বাজারে গিয়ে মসুরের ডাল পাব না। ভারত যদি আগে চাল কিনে ফেলে তবে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে গিয়ে চাল পাব না। এর ফলে এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে আমরা এমন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত হয়ে পড়েছি যে সেখানে আমরা কোনো স্বাধীন নীতি অনুসরণ করতে পারছি না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কিন্তু পারেননি।
ভারত সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার একটা কাঠামো আছে। তারা অনেক ভালোভাবে সেটা করে থাকে। যেমন, ভারত সরকার এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তাদের চারটি পণ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এগুলো হলো চাল, ডাল, চিনি এবং তেল। কিন্তু তাদের এই চাল এখনো মাঠেই রয়েছে। কিন্তু সরকার ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, তারা বাইরে থেকে আমদানী করবেন। এবং আমদানী করার জন্য তারা ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ নিয়ে আমি নিশ্চিত নই কিন্তু আমার ধারণা যে, এতদিনে হয়ত কেনাও হয়ে গেছে।
এখন আমরা যদি বাজারে চাল কিনতে যাই তবে কিনতে পারব না এবং কিনতে পেলেও অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হবে। কাজেই এ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কি উৎপন্ন হচ্ছে, ভারতে কি উৎপন্ন হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তার দাম কত এবং এগুলো কোন দিকে যাবে তা নিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত সমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এবং তার ওপর সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের কাঠামো আমাদের দেশে আদৌ নেই। এটা হলো আমাদের দেশে বাজার নিয়ন্ত্রণের একটা বড় সমস্যা।
দ্বিতীয়ত হলো বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য একেক পণ্যের জন্য একেক রকমের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বলে কোনো লাভ নেই। যদি আলুর বাজার নিয়ন্ত্রন করতে চান তবে সরকারের কোল্ড স্টোরেজ থাকতে হবে। আবার সব্জির বাজার সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এগুলো একেকটার জন্য একেক রকম ব্যবস্থা নিতে হবে। সে জন্য প্রথম যেটা প্রয়োজন সেটা হলো সরকার কোন কোন পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করবে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে তবে ব্যবসায়ীরা ফাটকাবাজি করবেই। কারণ, ব্যবসায়ীরা ধর্ম-কর্ম করার জন্য ব্যবসা করে না, তারা মুনাফা করার জন্য ব্যবসা করেন। এটা সর্বজনস্বীকৃত সত্য। সরকার যদি মনে করেন তবে যেসব পণ্য ব্যবসায়ীরা ফাটকাবাজি করতে পারবে না সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের একটা সুনির্দিষ্ট নীতি থাকতে হবে এবং আমার ধারণা যে, সরকারের পক্ষে সব পণ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সুনির্দিষ্ট পণ্য চিহ্নিত করে সেগুলো সরকার কতটুকু মজুদ করবে, কোথায় মজুদ করবে? সরকারের গুদাম নেই, সরকারের কোল্ড স্টোরেজ নেই, সরকারের কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই।
বছরের পর বছর আলুর ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে দেখা যাচ্ছে যে, আলুবীজের মান নিম্ন হওয়ার ফলে আমরা প্রত্যাশিত পরিমাণ আলু উৎপাদন করতে পারছি না। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার আছে। একটা হলো কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানো আরেকটা হলো আন্তর্জাতিক বাজার পরিবীক্ষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রয় করার ব্যবস্থা করা এবং সেই ক্রয় করতে হলে সেগুলোকে মজুদ করা এবং বিক্রি করার একটা অবকাঠামো নির্মাণ করা এটাও আমাদের নেই। এর সঙ্গে আরও দুইটা ব্যবস্থা নিতে হবে। একটা হলো আমাদের দেশে কতগুলো পণ্যের আমদানি অল্প কিছু ব্যবসায়ীর হাতে কুক্ষিগত হয়ে গেছে। যেমন ভোজ্যতেল, চিনি এবং অনেক ক্ষেত্রে চাল, গম। এগুলোও খুব বড় বড় ব্যবসায়ী বিরাট বিরাট চালানে নিয়ে আসেন। ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে এত বড় চালান আনা সম্ভব হয় না। তার ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে বাজারে একেবারেই নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। এ জন্য যা প্রয়োজন তা হলো, ছোট ব্যবসায়ীদের সমবায় গড়ে তুলতে হবে। এবং তাদেরকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এবং সরকার থেকে উৎসাহিত করা উচিত। আর সবশেষে যেটা দরকার তা হলো, সবজি, মাছ, মুরগিÑ এগুলোর বাজার যদি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তবে সরকার পারবে না। কারণ তরিতরকারি চব্বিশ বা আটচল্লিশ ঘণ্টায় নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হলো কনজুমার কো-অপারেটিভ এবং প্রডিউসার কোঅপারেটিভ করা। শহরের লোকদের সচেতন করতে হবে যে, আপনারা মাথাপিছু ১ হাজার বা ২ হাজার টাকা দিয়ে, ১শ বা ২শ লোক মিলে ১ লাখ বা ২ লাখ টাকা পুঁজি করে একটা সমবায় করেন এবং সরাসরি গ্রামের চাষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রয় করার ব্যবস্থা করেন। সে রকম যদি কিছু কনজুমার কো-অপারেটিভও গড়ে তোলা যায় তাহলেও বাজারের ওপর একটা প্রভাব পড়বে।
এগুলো নিয়ে এ রকম অনেক কাজ করতে হবে। কিন্তু কোনো কাজই এখন পর্যন্ত হয়নি। তার ফলে যারা এই ধরনের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকেন তাদের কেবলমাত্র কথা বলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। আর তাদেরকে কথা বলার জন্য উৎসাহিত করা হয়। কারণ বাজারের মধ্যে যাতে ভয়ের সৃষ্টি না হয় সে জন্য তিনি সব সময় বলতে থাকেন যে, ভয়ের কোনো কারণ নেই এবং সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আসলে পুরো কাঠামোটা আমরা এখনো নির্মাণ করতে পারিনি।
সাপ্তাহিক : অর্থাৎ যে যে কাঠামো থাকলে এক ধরনের ব্যবস্থা তৈরি হতো তার কোনোটাই তৈরি হয়নি। এরপর খরার কারণে এবার তারা চাল রপ্তানি বন্ধ করেছে এবং আমদানি করছে। তাহলে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে...
আকবর আলী খান : আমরা এখনো প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছি। যদি আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের ভালো ফসল দিয়ে দেন তবে সমস্যা হবে না। আমরা যদি কখন ফসল কাটা হবে সেই সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকি তাহলে কিন্তু সত্যিই অসুবিধা হয়ে যাবে। তবে একটা ভালো বিষয় রয়েছে যে, এখন পর্যন্ত   সরকারের   খাদ্য  মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক। কিন্তু এরপর যদি আবার সমস্যা হয় তবে সেটা সরকারের পক্ষে সামলানো মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। এসব ব্যাপারে আগাম সিদ্ধান্ত নেয়া, যেমন ভারত সরকার যে ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে সে ধরনের কাঠামো আমাদের নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
সাপ্তাহিক : আপনি তো রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশনের দায়িত্বে আছেন এবং এটা নিয়ে আপনি বলছেন যে, এটা প্রায় অকার্যকর হয়ে আসছে, আপনি কাজ করতে পারছেন না। আবার সরকারের একজন উপদেষ্টা বিবিসিতে আপনার এই বক্তব্যের বিপরীতে বললেন যে, অকার্যকরই যদি হয়ে যায় তবে তাদের থাকার দরকার কি? তারা ছেড়ে দিলেই তো পারে। আপনার অভিমত কি?
আকবর আলী খান : আসলে এত বেশি কাজ রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা কাজ করছিলাম এবং সরকারের আগ্রহ ও সহযোগিতার অভাবে এখানে কাজ হচ্ছে না। সরে যাওয়া আমাদের পক্ষে কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। আমরা এখানে খণ্ডকালীন দায়িত্বে আছি, আমরা এখানে চাকরি করি না। কাজেই আমাদের ছেড়ে যাওয়াতে কিছু আসে যায় না। কিন্তু যেটা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন সেটা হলো, বাংলাদেশে রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশনের দরকার রয়েছে এবং সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এটা কীভাবে করা হবে।
আমরা অনেকগুলো ব্যাপারে সরকারের কাছে সিদ্ধান্ত চেয়েছি আমাদের কাজ করার ব্যাপারে। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে কতগুলো মোটা মোটা বই লিখে গিয়ে কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশের ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করেন তবে দেখতে পাবেন যে, অতীতে অনেক কমিশন করা হয়েছে, কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে কিন্তু কোনো কমিশনের কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। কয়েক কোটি টাকা দিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন নিয়োগ করেছিল। তাদের একটি সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়নি। সে জায়গায় আমরা এতটুকু দাবি করতে পারব যে, অল্পতেই আমাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আমরা যদি দেখি যে, আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়নের সরকারের কোনো আগ্রহ নেই তখন আমরা প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের মতো কতগুলো মোটা বই করার আগ্রহ নেই। তখন আমরা নিশ্চিত ছেড়ে দিয়ে চলে যাব।
সাপ্তাহিক : সাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন যে, যত বাঁধাই আসুক তিনি গ্যাস তুলবেনই। যারা বিরোধিতা করছেন তারা বলছেন যে, তেল-গ্যাস তুলতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু তোলার ক্ষেত্রে যে চুক্তিতে রপ্তানি করার কথা বলা হচ্ছে সেই চুক্তিটা জনগণের সামনে আসুক, জনগণ জানুক। এ ক্ষেত্রে আপনার অভিমত কি?
আকবর আলী খান : আমি মনে করি যেহেতু এ সম্পর্কে জনমনে অনেক সন্দেহ, অনেক প্রশ্ন উঠেছে সেহেতু সরকারের উচিত হবে সংশ্লিষ্ট যে সংসদীয় কমিটি আছে তারা গণশুনানি দিয়ে যেসব বক্তব্য উচ্চারিত হচ্ছে সেগুলো শুনে সরকারের কাছে একটা সুপারিশ পেশ করুক। সেটা যদি প্রকাশ্যে শুনানি হয় তাহলে প্রকৃত ইস্যুগুলো কি এবং সরকার আসলে কি চুক্তি করতে যাচ্ছে সেগুলো আলোচিত হওয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার পর সরকার দেশের জন্য যে সিদ্ধান্ত ভালো সেই সিদ্ধান্তই নেবেন। কিন্তু সেটা তো আলোচনারই কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।
সাপ্তাহিক : স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছেন যে, দ্রুত গ্যাস তোলা উচিত...
আকবর আলী খান : সরকার অন্য কোনো ফোরাম সৃষ্টি করুক যেখানে এগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং সে আলোচনা মাসের পর মাস হওয়ার দরকার নেই। একটা শুনানি কোনো না কোনো পর্যায়ে হওয়া উচিত।
সাপ্তাহিক : আপনি তো সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ছিলেন, আপনার কি মনে হয় অতীতে তেল-গ্যাস
উত্তোলনে যেসব প্রোডাকশন শেয়ারিং চুক্তিগুলো হয়েছে এবং বর্তমানে যে চুক্তিগুলো হচ্ছে তাতে কি দেশের স্বার্থ লঙ্ঘিত হচ্ছে?
আকবর আলী খান : সর্বশেষ পিএসসিতে কি আছে সেটা আমি জানি না। কারণ সেটা প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু এ পর্যন্ত যতগুলো পিএসসি হয়েছে তাতে কতগুলি দুর্বলতা আছে সেটা আমি জানি। সেগুলো কি সমাধান করা হয়েছে আমি তা জানি না।
আমাদের পিএসসিতে একটা দুর্বলতা আছে সেটা হলো, দুর্ঘটনা হলে বা ক্ষতি হলে কি হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু চুক্তিতে উল্লেখ নেই। যার ফলে আমাদের মাগুরছড়া সমস্যা হয়েছে। কাজেই আমি মনে করি যে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতের এই সমস্যাটার সমাধান করা উচিত।
দ্বিতীয় সমস্যা হলো, বলা আছে যে, পিএসসি অনুসারে যে তেল-গ্যাস পাওয়া যাবে সেগুলো ৭ বছরের কম সময়ে তোলা যাবে না। কারণ যখন তেল-গ্যাস পাওয়া যায় তাদের উদ্দেশ্য থাকে তাড়াতাড়ি করে সেগুলো উত্তোলন করে এখান থেকে চলে যাওয়ার। আর আমরা চাই যেন এগুলো দীর্ঘতম সময় ধরে রাখা হয়। তাই চুক্তিতে থাকে যে, ৭ বছরের মধ্যে করতে হবে। এখানে তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো যে কাজটা করে থাকে তা হলো, এরা তেল-গ্যাসের রিজার্ভটাকে বাড়িয়ে দেখায়। রিজার্ভ যা তা যদি দ্বিগুণ করেও দেখায় তাহলে ৭ বছরের মজুদ কিন্তু সাড়ে ৩ বছরে শেষ হয়ে যাবে। কাজেই এখানে জটিলতা রয়ে গেছে এবং সেই জটিলতা নিরসন করা হয়নি।
এই দুটি সমস্যার পাশাপাশি আর একটা সমস্যা আছে। এই সমস্যাটার কথা যারা আন্দোলন করছেন তারাও বলছেন। সেটা হলো, সমুদ্রে যদি তেল-গ্যাস পাওয়া যায় তবে পাইপ লাইন কে নির্মাণ করবে এবং খরচ কে বহন করবে তার ওপর বিস্তারিত বর্ণনা চুক্তিতে নেই। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটাও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। এছাড়া আগে যেসব চুক্তি হয়েছে সেগুলো সরকার পরিবর্তিত করেছেন কিনা আমি জানি না।
সাপ্তাহিক : আমরা পত্র-পত্রিকা খুললে দেখতে পারছি যে, এ সরকারের আমলে টেন্ডার এবং চাঁদাবাজি ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও তার মিটিং থেকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। এ সমস্যা কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে বা আদৌ মোকাবেলা করা সম্ভব কিনা?
আকবর আলী খান : মোকাবেলা করা অবশ্যই সম্ভব। এটা রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্ন। যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে তবে তাদের এটা করতে পারা উচিত। দলের লোক যদি অপরাধ করে থাকে তবে দরকার হলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে দিতে হবে। বহিষ্কার করে দিলেই তারা এ ধরনের কাজ করতে সাহস পাবে না। সে ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আমাদের যথেষ্ট আছে কিনা সেটা অন্য প্রশ্ন। দেখতে হবে যে, কি ঘটছে ভবিষ্যতে।
সাপ্তাহিক : সরকার সম্প্রতি গণখাতে ক্রয়নীতিতে পরিবর্তন করেছে এবং তাতে দাতা সংস্থাও আপত্তি দিয়েছেন। আপনার অভিমত কি?
আকবর আলী খান : দাতা সংস্থা আপত্তি দেয়ার কারণ হলো, তাদের যে প্রক্রিয়া আছে তার ব্যতিক্রম হলে তাদের দ্বারা অর্থায়ন করা সম্ভব হবে না। তবে এমনিতে যেটা করা হয়েছে যে, চাঁদাবাজি কিংবা টেন্ডারবাজি ঠেকানোর জন্য আইন সংশোধন না করে বরং সরাসরি ওই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা উচিত ছিল। আমরা যদি মনে করি যে পদ্ধতি পরিবর্তন করে চাঁদাবাজি, টেণ্ডারবাজি ঠেকাতে পারব তা ভাবা ভুল হবে। চাঁদাবাজি, টেণ্ডারবাজি যারা করে তাদের বিরুদ্ধে যদি সরকার ব্যবস্থা না নেন, তবে শুধু পদ্ধতি পরিবর্তন করলে সেই পদ্ধতির মধ্যে তারা আবার ঘাপলা করবে এবং সমস্যা সৃষ্টি করবে।
সাপ্তাহিক : প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী ক্রসফায়ারের পক্ষে এক ধরনের যুক্তি তুলে ধরছেন যে, ক্রসফায়ার ছাড়া সাধারণ আইনে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা সম্ভব নয়, বিচার করা সম্ভব নয়। এই যে ক্রসফায়ার বাড়ছে এবং সরকার এর পক্ষে কথা বলছে। এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
আকবর আলী খান : বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে এ ধরনের ঘটনা যে ইতোপূর্বে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ঘটেনি তা নয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা যদি আমরা পর্যালোচনা করি তবে দেখবো যে, কোনো কোনো দেশে এ ধরনের পদক্ষেপ অল্প সময়ের জন্য ফলপ্রসূ হয়েছে। যেমন ভারতবর্ষে সিআরপি নক্সাল দমনে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু আমাদের দেশে এর বয়স পাঁচ বছর হয়ে গেছে। এত সময় অতিক্রান্ত হবার পর এর আর কার্যকারিতা নেই। কারণ, নতুন একটা ওষুধ দিলে যেমন রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায় সে রকমভাবে এখন বাংলাদেশে সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ার রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে । আমরা অবশ্যই চাই যে, সরকার সন্ত্রাস দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করুক। কিন্তু সেটা মোকাবেলা করতে গেলে সরকারকে অন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে এ ধরনের ব্যবস্থা পুরোপ্রশাসনকে ক্রিমিনালাইজ করে ফেলতে পারে। কারণ, যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা যথাযথভাবে না থাকে এবং সেটা প্রতিফলিত না হয় তাহলে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থার জন্য এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। আমি মনে করি, ক্রসফায়ার কার্যকর তবে সেটা অতি অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হতে পারে। পাঁচ বছর একটা দীর্ঘসময়। এবং পাঁচ বছরে যেটা দিয়ে কিছু করা যায়নি সেটা দিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করা যাবে বলে আমি মনে করি না।
সাপ্তাহিক : আমরা দেখছি যে, এক ধরনের ক্রসফায়ার বাণিজ্যও চলছে...
আকবর আলী খান : সেজন্য উদাহরণে যেতে পারি। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে এ ব্যবস্থা নিয়ে দেখা গেছে যে, তা অপরাধের মাত্রা আরও অনেক বাড়িয়ে দেয়। কাজেই এ ধরনের ব্যবস্থা হয়তো ৬ মাস বা এক বছরের জন্য হতে পারে তবে তা আইনগত দিক দিয়ে মোটেও সমর্থনযোগ্য না। হয়তো কোনো কোনো দেশে সফল হতে পারে। কিন্তু পাঁচ বছরে যেটা দিয়ে কিছু করা যায়নি সেটা দিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার চিন্তা করা অমূলক।
সাপ্তাহিক : বিডিআর বিদ্রোহের বিচার বিষয়ে আপনার অভিমত কি? নিরাপত্তা হেফাজতে বিডিআর জওয়ানদের ক্রমাগত মৃত্যুর সংবাদও আমরা পাচ্ছি...
আকবর আলী খান : একটা তো হলো যে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। কাজেই এর মধ্যেই বিচার করতে হবে। আর বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। আর এ ধরনের অভিযোগ যদি কোথাও পাওয়া যায় তবে অবশ্যই সরকারকে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাপ্তাহিক : বিডিআর বিদ্রোহের পরবর্তীতে যেসব পদক্ষেপ যেমন পোশাক পরিবর্তন, নাম পরিবর্তন চলছে তাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
আকবর আলী খান : এই প্রক্রিয়াটা এখনও সম্পন্ন হয়নি। কারণ এটা করার জন্য যেটা প্রয়োজন তা হলো বিডিআর আইন পরিবর্তন করতে হবে। এখন পর্যন্ত তো সংসদে নতুন কোনো আইনের খসড়া দেয়া হয়নি। এবং সেখানে বোঝা যাবে যে, শুধু পোশাক পরিবর্তন নয়, কেন নতুন আইন করা হচ্ছে? পোশাক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি নতুন বাহিনী তৈরি করা হবে। সেই নতুন বাহিনী তৈরি করা হলে আগের বাহিনীর কি অবস্থান হবে? এবং তাদেরকে কি শর্তে নতুন বাহিনীতে দেয়া হবে? আদৌ নেয়া হবে কি হবে না? এগুলো কিন্তু আমার কাছে স্পষ্ট নয়। যখন আমরা নতুন আইনের খসড়া দেখতে পাব তখন আমরা পুরোপুরি বলতে পারবো।
সাপ্তাহিক : এ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তাকে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মতো একটা হত্যাকাণ্ড মোকাবিলা করতে হলো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো সরকারের সামনে নির্দিষ্ট আরও অনেক বড় বড় এজেন্ডা আছে। অথচ সরকার নানা বিষয়ে ষড়যন্ত্রের কথা বলা শুরু করেছেন। সম্প্রতি আমরা মতিয়া চৌধুরীর কাছ থেকে শুনতে পেলাম যে, ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই যে ৯ মাসের ক্ষমতায় বিপদ, ষড়যন্ত্র এগুলোকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
আকবর আলী খান : ১৯৪৭ সাল থেকে গত ৬২ বছর ধরে আমরা সব সরকারের কাছ থেকেই এ ধরনের বক্তব্য পাচ্ছি। পাকিস্তানের মুসলিম লীগ সরকার থেকে পরবর্তী সব সরকারের সময়েই এ কথা বলা হয়ে থাকে।
সাপ্তাহিক : এটা কেন বলা হয়?
আকবর আলী খান : একটু কিছু ঘটলেই সরকার মনে করে যে এটা ষড়যন্ত্রের জন্য হয়েছে। সমস্যা যেমন বাইরের দিক থেকে থাকে তেমন ভিতরের দিক থেকেও থাকে। যা হোক, সার্বিক মূল্যায়ন করে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হবে। শুধু ষড়যন্ত্র বলে এগুলো এড়িয়ে যাওয়ার উপায় থাকে না।
সাপ্তাহিক : যখন কোনো সরকার নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় গদিতে আসে তখন সেটা গণতান্ত্রিক ভাবেই হোক বা যেভাবেই হোক তারপরপরই একটা বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় তাকে। এই ধারাবাহিকতায় যদি আমরা বলি বর্তমান সরকারও একটা বিপজ্জনক সম্ভাবনার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, এই বিষয়টা আপনার কাছে কি রকম মনে হয়?
আকবর আলী খান : আমি সরকারের মধ্যে বড় সমস্যা যেটা দেখি যে, সরকার কিন্তু অনেক প্রত্যাশা জাগিয়েছে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য যে ধরনের গতিশীল প্রশাসন দরকার সেটা এখনও তৈরি হয়নি। সুতরাং অর্জন এবং প্রত্যাশার মধ্যে যত বেশি ফারাক দেখা দেবে দেশের রাজনৈতিক সংকট তত বেশি ঘনীভূত হবে।
সাপ্তাহিক : আপনি তো অনেকদিন দাতা সংস্থার সঙ্গেও কাজ করেছেন। দাতা সংস্থার শর্ত, দাতা সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের দেশে এক ধরনের কথা আছে যে, দাতা সংস্থা শর্ত চাপিয়ে দেয়। আপনার অভিজ্ঞতা কি?
আকবর আলী খান : দাতা সংস্থার কতগুলো মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতি আছে। সে ব্যাপারে তারা সাধারণত সমঝোতা করতে পারেন না।
 কিন্তু আমাদের যেটা বড় দুর্বলতা সেটা হলো আমাদের নিজস্ব কোনো নীতি নেই। যেখানে কোনো নিজস্ব নীতি এবং নিজস্ব বোধ থাকে না, সেখানে দাতাদের নিজস্ব মত চাপিয়ে দেয়াটা অনেক সহজ হয়। ভারতের ক্ষেত্রে যেটা দেখা যায় যে,  তাদের যেহেতু সব ব্যাপারেই নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে, কাজেই দাতা সংস্থারও তাদের নীতিমালা মেনে চলতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা গেছে নিজস্ব নীতিমালা না থাকার কারণে এমনকি অভ্যন্তরীণ অনেক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও দাতা সংস্থা তাদের নীতিমালা চাপিয়ে দেয়। আমরা যদি না জানি যে, আমাদের কোথায় যেতে হবে, কি করতে হবে তাহলে তো অন্যে তাদের সুবিধা অনুযায়ী মতামত চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেবেই।
সাপ্তাহিক : পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বদলে আমরা দাতাতাড়িত পিআরএসসিতে অভ্যস্ত হচ্ছি...
আকবর আলী খান : ভারতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাকেই পিআরএসপি হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এগুলো নিয়ে অনেক মতবিরোধ রয়েছে এবং পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করতে গিয়ে দেখা গেছে যে, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার শেষ বছরে বা শেষ বছরের আগের বছরে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এটা যদি সঠিকভাবে আগে থেকে ভাবা না হয় তবে তা থেকে তো কোনো লাভ পাওয়া যায় না।
সাপ্তাহিক : আপনি তো সরকারে ছিলেন এবং সরকারের বাইরেও ছিলেন, কিন্তু যখন সরকার থেকে বের হয়ে এলেন তখন দেখলাম যে, সমাজের একজন বিবেক হিসেবে নানা বিষয়ে কথা বলছেন। এমনকি সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও দেখলাম আপনি যথেষ্ট তৎপর। আবার একটা সময়ে দেখলাম হঠাৎ করে আপনি চুপ হয়ে গেলেন। এটা কেন? এ নিয়ে অনেকে অনেক কথাও বলে, এ ক্ষেত্রে আপনার ব্যাখ্যা কি?
আকবর আলী খান : এ ধরনের কথা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ২০০৮ সালের মে মাসে আমার অস্ত্রপচার হয়, তারপর আমি প্রায় প্যারালাইজড হয়ে যাই। এবং গত দেড় বছর ধরে আমি প্রায় প্যারালাইজড। আমি চুপ হয়ে যাইনি। আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এবং একটা অত্যন্ত কঠিন সময় অতিক্রম করছিলাম। তারপর আমি যখন দেশে ফিরে এলাম এবং মিরপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও আমি আমার বক্তব্য রেখে গেছি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে আমার কোনো বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে চিকিৎসার উদ্দেশে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেরদিন সাংবাদিকদের বলে গিয়েছিলাম যে, আমি চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু আমার এই অসুস্থতার সংবাদ দেশের কোনো সংবাদপত্র প্রকাশ করেনি।
সাপ্তাহিক : তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়েও একটা বিতর্ক চলছে। এ বিষয়ে আপনার ভাবনা কি?
আকবর আলী খান : আমার বক্তব্য হলো যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। এবং সব রাজনৈতিক দল যদি একমত হয় যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই, তবে তত্ত্বাবধয়াক সরকার উঠে যেতে পারে। কিন্তু যদি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে একমত না হন তবে এ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। কিন্তু ইতোমধ্যে এ ব্যবস্থা চালু রাখার ফলে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেগুলো দূর করতে হবে। সেটা হলো যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইনে যেহেতু আছে যে, সর্বশেষ অবসর নেয়া প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হবে। সেই সর্বশেষ অবসর নেওয়া প্রধান বিচারপতি কে হবে সেটা নিয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক খেলা শুরু হয়ে যায়। এটার খুব খারাপ প্রভাব বিচার ব্যবস্থার ওপর পড়ে। সেজন্য আমি বলেছিলাম একটা লোককে নির্বাচন না করে সংবিধানে যাদেরকে যোগ্য বলা হয়েছে তাদের মধ্যে থেকে লটারি করে যদি একজনকে নির্বাচন করা হয় তবে আগে থেকে গুটি চালাচালির যে রীতি এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হয়তো সম্ভব হবে না। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুরু মাত্র রুটিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিন্তু অন্য সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে না, এমনটি হতে পারে না, এটা আসলে সংশোধনীতে স্পষ্ট না। অর্থাৎ কোন কোন ক্ষেত্রে আইন প্রণয়ন করতে হবে আর কোন কোন ক্ষেত্রে করতে হবে না সেটা স্পষ্ট করতে হবে।
এরপর আরেকটি ব্যাপার হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উপদেষ্টা হিসেবে এমন অনেক ব্যক্তিকে নেয়া হয়েছে যাদের মান সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ দুর্নীতি মামলার সম্মুখীনও হয়েছেন। এই উপদেষ্টা নিয়োগের ব্যাপারেও কিছু নীতিমালা প্রণয়নের ব্যাপার রয়েছে বলে আমি মনে করি যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো লোক উপদেষ্টা না হয়।
সাপ্তাহিক : আমরা দেখেছি যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীর একটা দ্বন্দ্ব প্রায়ই হয়। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কি? আপনি কীভাবে দেখেন?
আকবর আলী খান : আমরা এর মধ্যে বেশ কয়েকবার সামরিক শাসন এবং সামরিক হস্তক্ষেপ দেখেছি। সেখানে দেখা গেছে কেউই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। আমরা যদি অতীত পর্যালোচনা করি তবে দেখা যাবে যে, গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশ শাসন করা সম্ভব নয়।
সাপ্তাহিক : ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আপনার কাছে কেমন মনে হয়?
আকবর আলী খান : ভবিষ্যতের বাংলাদেশ সম্পর্কে আমি খুব আশাবাদী। ১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশ হয় তখন সবাই যে রকম নৈরাশ্যবাদী ছিল যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেই সেটাকে আমরা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছি। ’৭১-এর তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি এগিয়েছে। এখন আমরা যদি বিশ্বের নানান দেশের দিকে তাকাই তবে দেখতে পাব যে, বাংলাদেশের প্রচুর প্রতিভাবান মানুষ সেসব জায়গায় রয়েছে। আমাদের সমস্যা একটাই আমরা বাংলাদেশিরা ব্যক্তিগতভাবে খুব উঁচু পর্যায়ের। কিন্তু আমরা সমষ্টিগতভাবে কোনো উঁচু পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান গড়তে পারিনি। এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। এর মধ্যে অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তি রয়েছেন কিন্তু সেই ব্যক্তিগুলো সম্মিলিতভাবে কোনো কাজ করতে পারেন না। খুব অল্প সময়ের জন্য; যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় হয়েছিল। কিন্তু এখন তারা পারেন না। কাজেই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, পরস্পরের জন্য শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা, এটা করতে পারলেই আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
সাক্ষাৎকার
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :
বর্তমান সংথ্যা
পুরানো সংথ্যা
Click to see Archive
 
 
 
Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive