Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ৩০ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
[উদ্ভাবন] লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল ধানের জাত  

ফয়জুল সিদ্দিকী

হঠাৎ বন্যা হলো, জমির ধানের চারাগুলো ৫-১০ দিন পানিতে ডুবে রইল। অতঃপর আপনার কপালে হাত।
আবার ভাবুন তো, ১৮ দিন ধানের  চারা পানির নিচে নিমজ্জিত অথচ চারার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। পানি নেমে গেলে ধানের চারাগুলো আবার সতেজ দাঁড়িয়ে। ফলনও স্বাভাবিক। এ ছাড়াও লবণাক্ততার কারণে আপনার জমিতে ধান চাষ সম্ভব হচ্ছে না। এসব নানা সমস্যার সমাধান দিতে বাজারে আসছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর তিনটি নতুন জাতের ধান।

লবণাক্ত সহনশীল ধানের জাত
বাগেরহাট জেলায় রবি মৌসুমে লবণাক্ততা বাড়তে থাকে। অত্যধিক লবণাক্ততাসহিষ্ণু জাত না থাকায় রবি মৌসুমে জমি পতিত পড়ে থাকে। এ ছাড়াও ৩/৪ ফুটের অধিক পানি ও চিংড়ি চাষের কারণে ধান চাষের সুযোগ থাকে না। ফলে ধানের উৎপাদন কমে যায়। ব্রি-এর বর্তমান গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুস সালাম জানান, তার নেতৃত্বে লবণাক্ত সহনশীল জাত আবিষ্কার করা হয়। এ জাতের নাম ব্রি ধান-৪৭। যেখানে সাধারণ ধানের চারা 8ds/m লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে না সেখানে এটি সারা জীবন 6ds/m অবস্থায় এটি ১২-১৪ দিন 8ds/m লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। মুন্সীগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাতের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে আশাতীত ফল পাওয়া যায়। ড. সালাম জানান, DFID- Petra IRRI প্রকল্পের মাধ্যমে এ ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ ধানের ফলন হেক্টর প্রতি ৫/৬ টন। আয়ুষ্কাল ১৫০-১৫৫ দিন এবং উচ্চতা ১০০ সেমি.

জলাবদ্ধতা সহনশীল ধানের জাত
বাংলাদেশের অতি পরিচিত ধানের জাত বিআর-১১ ও স্বর্ণা ধানের মধ্যে জলাবদ্ধতা জিন (sub-1) স্থাপনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সহনশীল জাত আবিষ্কার করা হয়েছে। এ জন্য ইরি ও ব্রি-এর বিজ্ঞানীরা ২০০৫-০৬ সালে যৌথ গবেষণা শুরু করে। নতুনভাবে উদ্ভাবিত এ ধানের জাত দেখতে বিআর-১১ ও স্বর্ণা ধানের জাতের মতোই। এ জাতের অন্যতম উদ্ভাবক বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রি-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খোন্দকার ইফতেখারদ্দৌলা জানান, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ইরি ও ব্রি-এর যৌথ উদ্যোগে উদ্ভাবিত এ ধান ১৪ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত চারা অবস্থায় পানিতে নিমজ্জিত থাকার পরও ফলন দিতে পারে। বন্যায় নিমজ্জিত না থাকলে এ ধানের ফলন ও জীবনকাল বিআর-১১ ও স্বর্ণা ধানের মতোই। তবে বন্যা হলে উদ্ভাবিত এই দুই জাতের ধানের জীবনকাল বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৫-১৬০ দিনে যায় এবং ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় কমে হেক্টর প্রতি ৩-৪ টনে ওঠানামা করে। উদ্ভাবিত এ জাত দুটির নামকরণ সম্পর্কে ড. ইফতেখার জানান, এখনো কোনো নাম দেয়া হয়নি। তবে ব্রি ধান-৫১ ও ব্রি ধান-৫২ নাম হতে পারে। অবশ্যই এর পাশাপাশি জনপ্রিয় নামকরণও করা হবে।

ব্রি হাইব্রিড-৩
দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমন ধানের চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ব্রি হাইব্রিড-৩ নামক ধানের জাত  আবিষ্কার করেছেন। যার আয়ুষ্কাল স্বল্প অথচ ফলন অনেক বেশি। এ ধান আবিষ্কারকদের অন্যতম ব্রি-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জামিল আহ্সান জানান, এ ধানের ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৫ থেকে ৯ টন। উচ্চতা ১০০ থেকে ১১০ সেমি. এবং জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন। তিনি জানান, এ ধান অচিরেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং এটি গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের খাদ্য ঘাটতি সমাধানে ভূমিকা রাখবে।

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
ফিচার ও অন্যান্য
  • খেলার মাঠ থেকে রাজনীতিতে আলোচিত যারা...
  • [অভিমত] জনমুখী বইমেলা জরুরি
  • গ্রামের বিবর্তন -আতাউর রহমান মারুফ
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive