Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ৩০ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
‘কোনোভাবেই দুর্নীতিকে বরদাস্ত করব না’-শ ম রেজাউল করিম  
শ ম রেজাউল করিম। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বিশিষ্ট আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
নির্বাচন, মন্ত্রিসভা এবং নিজের পরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর। দুর্নীতি রোধে সরকার জিরো টলারেন্স উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় যে চমক দেখিয়েছেন, তার প্রতিফলন দেশবাসী কাজের মাধ্যমে দেখতে পাবেন। দীর্ঘ আলোচনায় জামায়াত এবং বিচার ব্যবস্থার প্রসঙ্গও গুরুত্ব পায়।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু
 
সাপ্তাহিক : প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। মন্ত্রিসভাতেও ঠাঁই পেলেন। কী বলবেন এই অর্জন নিয়ে?
শ ম রেজাউল করিম : আমার এই অর্জন জনগণের। মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শতভাগ আস্থা রাখছেন বলেই আমি নির্বাচিত হতে পেরেছি।
প্রতিজন নির্বাচিত প্রতিনিধির কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে। আমি মনে করি, সরকার এবং আমার নিজের চ্যালেঞ্জগুলো অভিন্ন।
আমার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সকল প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল এবং স্বচ্ছ করতে চাই।
সাপ্তাহিক : আপনি স্বচ্ছতা ফিরে আনার কথা বলছেন। এই মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পুরনো। এর সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। দুর্নীতিরোধে কতটুকু চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন বলে মনে করেন?
শ ম রেজাউল করিম : দুর্নীতির অভিযোগ আমাদের কাছেও আসছে। এ নিয়ে অনেক মুখরোচক কথাও শোনা যায়। আমি দায়িত্ব নেয়ার পরেই সকলকে স্পষ্ট করে বলেছি, আমি কোনো অনিয়ম, দুর্নীতিকে বরদাস্ত করব না। দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলেই প্রমাণ সাপেক্ষে নজিরবিহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাপ্তাহিক : এর  আগের মন্ত্রীরাও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পারেননি বরং অভিযোগ মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও?
শ ম রেজাউল করিম : আমি দুর্নীতি মুক্ত করতে চ্যালেঞ্জ নেবই। আমি গতানুগতিক কাজে বিশ্বাসী নই। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
সাপ্তাহিক :  উন্নয়নের সঙ্গে ‘অপরিকল্পিত উন্নয়ন’ কথাটিও এখন সামনে আসছে। শহুরে উন্নয়নে নাগরিক জীবনকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
শ ম রেজাউল করিম : অন্যরা কী করেছেন, তার দায় আমার নয়। আমি দায়িত্ব নেয়ার পরেই বলেছি, কোনো অপরিকল্পিত উন্নয়ন হবে না। অনিয়মের মাধ্যমে কোনো অবকাঠামো যদি শুরু হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোও আমি খতিয়ে দেখবে। যদি তা বন্ধ করতে হয়, আমি অবশ্যই তা করব। সে সাহস এবং দৃঢ়তা আমার আছে।
সাপ্তাহিক : খেলার মাঠ দখল হচ্ছে। পার্কের জায়গাও উধাও। ব্যক্তির পাশাপাশি সরকারি অব্যবস্থাপনাও এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।
শ ম রেজাউল করিম : সর্বসাধারণের জন্য কোনো খেলার মাঠ এবং পার্ক যদি দখল হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সেসব উদ্ধার করব। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে। সকল অন্যায় এবং দুর্নীতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সে রয়েছেন।
চিত্তবিনোদনের জন্য পার্ক এবং খেলার মাঠ একটি সমাজের মানুষের জন্য অতিজরুরি। কোনো মহলের স্বার্থের কারণে যদি নাগরিকের অধিকার হরণ হয়, তা উদ্ধারের জন্য যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তাই করা হবে।
সাপ্তাহিক : উন্নয়নের অব্যবস্থাপনায় অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরও সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাও এর জন্য দায়ী।  
শ ম রেজাউল করিম : আমি মনে করি, কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তর আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনের যে কাজ, তার ব্যবস্থাপনায় আমরাই সর্বাধিক গুরুত্ব পাবার কথা। সংশ্লিষ্টরা সহায়ক হিসেবে থাকবে। ঠিক অন্যদের বেলায় গণপূর্ত সহায়ক হবে। কিন্তু কেউ কারো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কথা নয়।
এটি বুঝতে পারলে সমন্বয় এমনিতেই হবে। এর জন্য বিশেষ কোনো অনুকম্পা থাকবে না।
সাপ্তাহিক : নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অভিজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সরিয়ে দেয়ায় সমালোচনাও হচ্ছে।
শ ম রেজাউল করিম : যারা আমাদের পূর্বে ছিলেন তারা চমৎকারভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। আমরা এসেছি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আস্থার মধ্য দিয়ে। তার এই আস্থা বাস্তবে রূপ দেয়া আমাদের কর্তব্য। আমরা আমাদের নিষ্ঠা এবং সততা দিয়ে আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে পারব বলে মনে করি।
মন্ত্রিসভায় যারা নতুন এসেছি, তারা একেবারে আনকোরা বা আনাড়ি নই। জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার যখন প্রথম সদস্য হোন, তখন তার বয়স ছিল ২৭ বছর। আমার বয়স এখন ষাটের কোঠায়। মন্ত্রিসভায় নতুন যাঁরা আসেন তাদের অভিজ্ঞতা থাকে না। তবে শুরুর অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকের চাইতে বেশি, এটি বিশ্বাস করতেই পারি।
সাপ্তাহিক : এবারে দুই-তৃতীয়াংশ নতুন মন্ত্রী। আপনি কী মনে করেন এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কোনো বার্তা দিলেন?   
শ ম রেজাউল করিম : বাংলাদেশ এখন তারুণ্যের। তারুণ্যদীপ্ত মন্ত্রিসভা করার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে বার্তা দিলেন যে, অধিক কর্মস্পৃহা এবং গতিশীলতা নিয়ে সরকার মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকছে।
সিনিয়র মন্ত্রীদের অনেকের বয়স ৭০ পার হয়েছিল। তারা চিরদিন আমাদের মাঝে থাকবেন না। নতুনদের জায়গা না দিলে নেতৃত্বের ঘাটতি থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী টিম লিডার থেকে নতুনদের প্রশিক্ষিত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে। আমি মনে করি, এই মন্ত্রিসভা পূর্বের যে কোনো মন্ত্রিসভা থেকে অধিক গতিশীল হবে।
সাপ্তাহিক : এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রধান অন্তরায় কোন বিষয়টিকে মনে করছেন?
শ ম রেজাউল করিম : আমি সামগ্রিকভাবে দুর্নীতিরোধে গুরুত্বারোপ করব। আমি দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনেই সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে বসেছি।
আমি তাদের বলেছি, শেখ হাসিনা পরিশ্রমী এবং সৎ হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী। সততায় তিনি শীর্ষে। তার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়ে আমরা দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। আমরা কোনোভাবেই দুর্নীতিকে বরদাস্ত করব না। দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন, আমরা তার টুঁটি চেপে ধরবই। হয়তো একটু সময় লাগতে পারে।
সাপ্তাহিক : এক্ষেত্রে কোনো প্রতিকূলতা আসতে পারে কী-না?
শ ম রেজাউল করিম : দুর্নীতিবাজরাই আমাদের প্রতিবন্ধকতা। তারা নানাভাবেই বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। সুবিধাভোগী হাউজিং সেক্টরে, গৃহায়নে, রাজউকে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তারা আমাদের কাজের বাধা হয়ে যেতে পারেন।
কিন্তু আমরা জানি, এই বাধা কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়। আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সৎ এবং স্বচ্ছ কর্মধারা অব্যাহত রাখব।
সাপ্তাহিক  : দুর্নীতি রোধ করতে জনভিত্তির দরকার হয়। ভোট নিয়ে বিতর্ক আছে। অধিকসংখ্যক মানুষকে অনাস্থায় রেখে....
শ ম রেজাউল করিম : অবশ্যই সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে জনসমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকার এবার সেই জনসমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। ১৯৭০ সালের মতো এবারের নির্বাচনে মানুষ উপচে পড়েছিল।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, এই নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা আদালতে যাবেন। আমরাও আইনের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করব।
আমাদের বিশ্বাস, বিএনপি-জামায়াত এবং কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির সমন্বয়ে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল, তা মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। জোটটির প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তার নিশ্চয়তা ছিল না। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান দ-প্রাপ্ত। ড. কামাল হোসেন নির্বাচন করেননি। যে নৌকার হাল ধরার কেউ নেই, সেই নৌকায় কোনো যাত্রী উঠতে চায় না।
আমার ধারণা মানুষ বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ভীতসন্ত্রস্ত।
দ্বিতীয়ত, দেশের অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচার চেয়েছে। আর বিএনপি সুকৌশলে যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের মনোনয়ন দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ মনে করছে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরাধিকার রক্ষা করতে চায়। মানুষ এই নীতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তৃতীয়ত, ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের দ- মওকুফ চেয়েছেন। দুর্নীতিবাজদের মুক্তি চাওয়ার বিষয়টি মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।
তৃতীয়ত, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নয়নে যে বিপ্লব ঘটেছে তার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যই মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রেখেছে। মানুষ চায় তার নিরাপত্তা। আওয়ামী লীগ সরকার সেটি নিশ্চিত করেছে। একদিকে দুর্নীতির দায়ে দ-প্রাপ্ত নেতৃত্ব অন্যদিকে বিশ্বের সৎ এবং পরিশ্রমী নেতৃত্ব। মানুষ শেখ হাসিনার প্রতিই আস্থা রেখেছেন।
সাপ্তাহিক : নির্বাচনে জালিয়াতি তো অস্বীকার করা যায় না...
শ ম রেজাউল করিম : নির্বাচন নিয়ে কোনোই বিতর্ক নেই। নির্বাচনে বিএনপি বাণিজ্য করেছে। আতাউর রহমানের পুত্র জিয়াউর রহমান খানকে মনোনয়ন না দিয়ে একজন অস্তিত্বহীন মানুষকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরী বা তৈমুর আলম খন্দকারের মতো নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হলো না। কোনো কোনো আসনে ৫ জনের অধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হলো। যে টাকা বেশি দিয়েছে তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
এই অবস্থায় বিএনপির প্রতি মানুষ কোনোভাবেই আস্থায় রাখেনি। ফলে নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে, আমি তা মনে করি না। বিএনপির অযোগ্যতায় আমরা ভোট পেয়েছি।
সাপ্তাহিক : অভিযোগ উঠেছে রাত থেকেই ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়া, পুলিশের পক্ষ থেকেও সিল মারার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীপক্ষ?  
শ ম রেজাউল করিম : রাতে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে, এমন দৃশ্য কোনো মিডিয়া দেখাতে পারেনি। মোবাইলেও কোনো তথ্য ধারণ করার চিত্র কেউ দেখাতে পারেনি। বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও অনিয়মের কথা বলতে পারেননি।
এ কারণে আমি মনে করি, বিএনপির অভিযোগ হচ্ছে গতানুগতিক। রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি ছাড়া এ অভিযোগের কোনো গুরুত্ব নেই।
সাপ্তাহিক : উন্নয়নের আড়ালে গণতন্ত্র চাপা পড়ছে, এমন অভিযোগ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও।
শ ম রেজাউল করিম : উন্নয়নের আড়ালে গণতন্ত্র চাপা পড়ছে না। গণতন্ত্র তার নিজের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছে। এই উপমহাদেশে কোনো সরকারপ্রধান বিরোধী পক্ষের সঙ্গে দিনের পর দিন সংলাপে বসার নজির আছে বলে আমার জানা নেই। শেখ হাসিনা সে নজির স্থাপন করলেন। এমনকি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে একাধিকবার বসলেন।
 শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই সকলে নির্বাচনে অংশ নিলেন। নির্বাচনের দিন দুপুরেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অবস্থান পাল্টালে তার দায় সরকারের না।
এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। এবারের নির্বাচনে গণতন্ত্র আরও বিকশিত হয়েছে।
সাপ্তাহিক : গণতন্ত্র বিকশিত করতে শক্তিশালী বিরোধী দল দরকার হয়। সংসদ সত্যিকার বিরোধী দল হারা। এই প্রশ্নে কী বলবেন?
শ ম রেজাউল করিম : হ্যাঁ, সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা জরুরি বলে মনে করি। কিন্তু বিরোধী দলের অর্থ এই নয় যে, সরকারকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে হবে। অথবা বয়কট করার মধ্য দিয়েই নিজের অবস্থান জানান দেয়া।
সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যারা সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি, তারা গণতন্ত্র বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারেন না। বরং গত সরকারে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন।
তবে আমরা চাই বিরোধী দল আরও কার্যকর ভূমিকা রাখুক। এবারে জাতীয় পার্টি সরকারের অংশীদারিত্বে নেই। তারা ভালো ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।
বিরোধী দল তার ভূমিকা রাখতে না পারলে তারাও হারিয়ে যাবে। এক সময়ের শক্তিশালী বিরোধী দল এখন বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। শক্তিশালী দল জাসদ ভেঙে এখন টুকরো টুকরো। ন্যাপের খবর কেউ জানে না। এরা আদর্শভিত্তিক দল ছিল। তাই এমন করুণ অবস্থা। আর বিএনপি তো আদর্শহীন দলছুট মানুষের দল। তাদের নিজস্ব কোনো আদর্শ নেই।
ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্যই বিএনপির সৃষ্টি। আর আওয়ামী লীগ আজ থেকে ৭০ বছর আগে রাজপথে সৃষ্টি হয়েছিল। বিএনপি তার অবস্থান পরিবর্তন না করলে আর কখনই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। সৃজনশীল রাজনীতি না করলে মুসলিম লীগের মতো অবস্থা হবে বিএনপির।
সাপ্তাহিক : ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতদের ব্যাপারে কী বলবেন?  
শ ম রেজাউল করিম : আমরা চাই যে কয়টি আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সংসদে আসুক। সবাই সংসদে এসে সোচ্চার ভূমিকা রাখুক। সরকারের ভুল জোরালোভাবে ধরিয়ে দিক।
শেখ হাসিনা বারবার বলেন, জনগণ রায় দিলে আছি, না দিলে নেই। তিনি বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। এ কারণেই শেখ হাসিনার সন্তানরা দুর্নীতিমুক্ত। শেখ হাসিনা বিশ্বের সৎ প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় শেখ হাসিনা তার কোনো স্বজনকে রাখেননি। তার এই অবিরাম প্রচেষ্টা কোনোভাবেই আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। এই প্রচেষ্টায় বিরোধীরাও শরিক হোক, এমনটি প্রত্যাশা করি।
সাপ্তাহিক : এবারে মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের শরিক দলের নেতারাও বাদ পড়েছেন। এটি কীভাবে দেখছেন?
শ ম রেজাউল করিম : মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেও তারা আমাদের সঙ্গেই আছেন। তারা সবাই সংসদে আসবেন। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় সকলেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
পদ হারিয়ে কোনো মন্ত্রী এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। এর মধ্যে দিয়েই আনুগত্য প্রকাশ পায়। আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিমের মতো নেতারা মন্ত্রিসভায় নেই। সুতরাং রাশেদ খান মেনন বা হাসানুল হক ইনু সাহেবরা মন্ত্রিসভার রদবদলকে স্বাভাবিকভাবেই দেখবেন বলে বিশ্বাস করি। আমরা একটি জোটে থেকে গণমানুষের জন্য, দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
সাপ্তাহিক : জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার ফের আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
শ ম রেজাউল করিম : জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে আইনমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বক্তব্য রখেছেন। আইনিভাবেই জামায়াতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা জামায়াতের ব্যাপারে সব সময় সোচ্চার।
আমরা জামায়াতকে কোনো জায়গা দিতে চাই না। কিন্তু ড. কামাল হোসেনরা কৌশলে জামায়াতের পক্ষ  নিলেন। তারা হচ্ছেন বর্ণচোরা। তারা মুখে এক, বাইরে আরেক। আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক কৌশল দিয়েই জামায়াত বা উগ্রবাদী শক্তিকে বিতাড়িত করবে।
সাপ্তাহিক : জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে কোনো আইনি জটিলতা আছে কী-না?
শ ম রেজাউল করিম : বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। আমার বিশ্বাস জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে যা করার তাই করা হবে। জামায়াতকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে বিতাড়িত করবই।
সাপ্তাহিক : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাহী বিভাগ থেকেও আলাদা করা হলেও বিচার বিভাগ মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ ম রেজাউল করিম : এই অভিযোগ তথ্যগতভাবে সত্য নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যে আইন হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে বিচারক নিয়োগ, তাদের বদলি এবং পদোন্নতির মতো বিষয়গুলো জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। যার প্রধান হচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। সেখানে সরকারের কেউ নেই। কারো বদলি করার ক্ষমতা নেই আইন মন্ত্রণালয়ের।
সাপ্তাহিক : রাজনৈতিক মামলায় হাজার হাজার আসামি। হয়রানির অভিযোগ বাড়ছেই।
শ ম রেজাউল করিম : রাজনৈতিক মামলায় হয়রানি হচ্ছে না, এ কথা বলা যাবে না। পুলিশ অনেক সময় রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার করে মামলা দিচ্ছে, হয়রানি করছে। এই অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে। আমরা অবশ্যই তা খতিয়ে দেখব।
তবে মানুষের বিচার পাওয়ার পথ যে রুদ্ধ হয়েছিল, তা এই শেখ হাসিনার সরকার খুলে দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে তা কেউ কল্পনা করেননি। এই দুঃসাহস শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। ২১ আগস্টের হামলার বিচার হয়েছে। জেলহত্যা মামলার বিচার করা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিশ্বজিৎ রায়কে হত্যার বিচার করে ছাত্রলীগের কর্মীদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় মন্ত্রীর জামাইও রক্ষা পায়নি। খুনিদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। বিডিআর হত্যাকা-ের বিচারও করা হলো। খালেদা জিয়া, তারেক রহমানও অপরাধ করে পার পাননি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এটি শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
এ কারণেই মানুষ এখন মনে করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সরকার বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানুষ সরকারের এই দৃঢ়তাকে স্বাগত জানিয়ে আসছে।
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
সাক্ষাৎকার
  • ‘কোনোভাবেই দুর্নীতিকে বরদাস্ত করব না’-শ ম রেজাউল করিম
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive