Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ৩০ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
[মতামত] শেখ হাসিনার নতুন যাত্রা : রাজনীতির বিশেষ মাত্রা  
রাজু আলীম

নতুন ধরনের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে  হ্যাটট্রিক জয়ে চতুর্থ বারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। এ এক নতুন বাংলাদেশ, নতুন গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্র শেখ হাসিনার বিশেষ মডেল। প্রথাগত গতানুগতিক ব্যবস্থা এরিস্টটল, জন লক ও অগাস্ট কোৎ এর পথ পেরিয়ে  বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে নতুন মাত্রা পেয়ে বিকশিত হচ্ছে। এই নতুন গণতান্ত্রিক ধারার একক অন্যতম কৃতিত্ব শেখ হাসিনার। এই প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় রেকর্ডসংখ্যক দল। এতোগুলো দল এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে অংশ নেয়নি। গেল দশ বছরে সারা বিশ্বের কাছে দোর্দ- প্রতাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে নতুন অভিযাত্রায় নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই দেশে আগে ছিল শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী আর নাগরিক সমাজের দল। কিন্তু সময়ের পালাবদলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন শুধু  শিক্ষিত রুচিশীল মানুষের দল নয়। এই রাজনৈতিক দল এখন দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ভুখা নাঙ্গা দলিত মথিত শোষিত বঞ্চিত সকল শ্রেণি পেশার মানুষের দল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে এ বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা তেমন একটা ছিল না। সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল বিএনপি জোটের। কিন্তু ধীরে ধীরে বিএনপির উত্তরবঙ্গের সেই দুর্গে হানা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিজয়টা যে শুধু জয়ের বিষয় নয়, বিজয়টা একই সঙ্গে ছিনিয়ে নেয়ারও। সেই বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টায় এবার উত্তরবঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। উত্তরবঙ্গে বিএনপি জোটের অবস্থা এখন নাজুক। শেখের বেটি বলতে উত্তরবঙ্গের মানুষ আজ অজ্ঞান। তাইতো এবারের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার।
গেল দশ বছরে শেখ হাসিনা বিরোধী দলের জন্যে বাংলাদেশের রাজনীতিকে অনেক কঠিন করে দিয়েছেন। রাজনীতি মানে যে এসি রুমে বসে  প্রেস কনফারেন্স আর নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া নয়। রাজনীতি মানে রাজপথের দখল নেয়া। সেই রাজপথের দখল নিতে কৌশলে বিরোধীদের দমন করে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কৌশলে শেখ হাসিনা বারবার জয়ী হয়েছেন। আপামর জনসাধারণ রাজপথে বিরোধী দলের সঙ্গে একাত্ম হয়নি গেল দশ বছরে। কারণ সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের ব্যবস্থা করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তাহলে জনতা কেন রাজপথে নামবে? নাগরিকদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা ও দেশের প্রবৃদ্ধির উচ্চ মাত্রা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। আর  এই দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, মেট্রোরেল, মনোরেল, ফ্লাইওভার নির্মাণসহ মেগা প্রজেক্টগুলো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তরুণ ভোটারদের মন কেড়েছে।
দেশকে উন্নত করতে হলে প্রয়োজন একক এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত। শেখ হাসিনার একক এবং দৃঢ় সিদ্ধান্তে এই দেশে জঙ্গি দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সারা বিশ্বে। একের পর এক জঙ্গি হামলায় বিএনপি সরকারের সময় যেখানে ভয়ের রাজ্যে পরিণত হেয়েছিল বাংলাদেশ, সেখানে শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে গেল দশ বছরে বাংলাদেশের কোথাও একটা বোমার শব্দ শোনা যায়নি। মাদক নির্মূলে শেখ হাসিনার আপসহীন অবস্থা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এই দেশে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো ডাকসাইটে আর হামবড়া রাজাকারের ফাঁসি হবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। অনেকেই ভেবেছিল সাকা চৌধুরীর ফাঁসি হলে মনে হয় চট্টগ্রাম আলাদাভাবে স্বাধীন রাজ্য হয়ে যাবে। কিন্তু সাকা চৌধুরীর মতো কুখ্যাত রাজাকারের ফাঁসি দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো বিদ্রোহ তো দূরের কথা টুঁ শব্দ পর্যন্ত হয়নি চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশে। এটি শেখ হাসিনা প্রশাসনের আকাশচুম্বী সফলতা। শুধু সাকা চৌধুরীই নয়, বিএনপি জোটের শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, মিরপুরের কসাইখ্যাত কাদের মোল্লার ফাঁসি আর বিশ্বের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে জেলে আজীবন শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ব মিডিয়ায় শেখ হাসিনার ইমেজ বৃদ্ধি পায়। আর এরই প্রভাব পড়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের হিসাবে। তাইতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের নির্বাচনে বিজয়ী দলকে অভিনন্দন না জানিয়ে উল্টো বয়কট, ফলাফল প্রত্যাখ্যান ও পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির যে রীতি যুগ যুগ ধরে প্রচলিত সেই পুরনো ধ্যান-ধারণাতে বিশ্বাসী এবারও বিএনপি-জামায়াতের ঐক্যজোট ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি-জামায়াত ঐক্যজোটের এই ভয়াবহ ভরাডুবি দেশে বিদেশে মানুষের কাছে অবাক হওয়ার  কিছু ছিল না।
বিশ্ববাসী অনেকটাই নিশ্চিত ছিল যে, শেখ হাসিনা আবারও সরকার গঠন করছে। এর কারণ বিশ্ব মিডিয়ায় নির্বাচনের আগে যে জনমত যাচাই করা হয়েছে তাতে সুস্পষ্ট আওয়ামী লীগের অভাবনীয় বিজয়ের ফলাফলই প্রতিভাত হয়েছে প্রায় সকল জরিপে। তাছাড়া শেখ হাসিনা সরকার গেল দশ বছরে বাংলাদেশকে ডিজিটাল রূপ দেয়াতে যে চূড়ান্ত সফলতা দেখিয়েছে তাতে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা এবার আওয়ামী লীগকে বেছে নেবে এটা নিশ্চিত ছিল। তাছাড়া বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার ফায়দা সরকার যে নির্বাচনের মাধ্যমে আদায় করবে তাও কাক্সিক্ষত ছিল। নির্বাচনের আগে একের পর এক লন্ডনে অবস্থানরত তারেক জিয়া, দেশের ভেতরে মওদুদ আহমেদ, মেজর হাফিজ, বরকতউল্লা বুলু এবং ঐক্যজোটের এমপি পদপ্রার্থীদের নাশকতার কথোপকথনের রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়া ও মূল ধারার গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে সেই ডিজিটাল সুবিধা পুরোপুরি গেছে আওয়ামী লীগের পক্ষে। আর এর আগে বিএনপির নমিনেশন বাণিজ্য নিয়ে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের গেটে তালা দেয়া তাদের এমপি নমিনেশন পেতে আগ্রহীদের। সেই সঙ্গে তারেক রহমানকে লন্ডনে কোটি কোটি টাকা পাঠানোর স্বীকারোক্তিমূলক রেকর্ডিং অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে রাজনৈতিকভাবে ডুবন্ত বিএনপির পরাজয়ের পথে বাড়তি মাত্রা হিসেবে কাজ করেছে ভোটারদের কাছে। আওয়ামী লীগের ক্যান্ডিডেড সিলেকশন আর নির্বাচন মনিটরিং পদ্ধতি ছিল তুমুল সক্রিয়। পক্ষান্তরে রাজনীতির রীতি পদ্ধতি এবং অজ্ঞানতার কারণে বিক্ষিপ্ত, পোস্টার শূন্য, গণসংযোগের অভাব, নেতাকর্মী শূন্য আর নির্বাচনের মাঠে গ্রেফতার মামলা হামলার ভয়ে বিএনপি কর্মীদের মাঠের অনুপস্থিতি ঐক্যজোটের পরাজয় সুনিশ্চিত করেছে।
অন্য নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার দেশে সংঘাত, হানাহানি কম হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের লম্বা লাইনও দেখা গেছে। নির্বাচনের ভোট গ্রহণ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ভারত, নেপাল, সার্ক ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার ওআইসি নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিকে অনেক বেশি কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং করে দিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার গড়া নতুন ফরমেটের এই গণতন্ত্র পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করছে। এই নতুন গণতান্ত্রিক মাত্রায় আছে রীতি পদ্ধতি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সঙ্গে কৌশল, পেশিশক্তি এবং কূটকৌশলের খেলা। এই ভোটযুদ্ধের নীতি যেমন কুটিল তেমন জটিল। রাজনীতির এই জটিল রাস্তায় ঐক্যজোট এবং বিএনপির মতো বালখিল্য রাজনীতির ধারক-বাহকরা মনে হয় শেখ হাসিনার রাজনীতির এই ট্রায়ালে আগামী আরও বহু বছর খাবি খাবে নিঃসন্দেহে। রাজনীতির এই ট্রায়ালে ফিরে আসতে হলে বিএনপি এবং ঐক্যজোটের খোল নলচে পাল্টাতে হবে। আধুনিক শিক্ষিত ডিজিটাল উন্নত সমাজের সমকক্ষ চিন্তাভাবনার ধারক বাহক মেধাবী শেখ হাসিনা বিশ্বে অমরতার পথে নতুন ধারার গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ চর্চায় কিংবদন্তী হয়ে যদি তিনি বেঁচে থাকেন আর তা না হলে তার পরম্পরা আরও কয়েক যুগ নেতৃত্ব দেবেন এমন সম্ভাবনার বার্তা দেয়া খুব কঠিন কাজ না।
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রতিবেদন
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.
বর্তমান সংথ্যা
পুরানো সংথ্যা
Click to see Archive
Doshdik
 
 
 
Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive