Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ৩০ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
নতুন সরকার, নতুন চ্যালেঞ্জ -শুভ কিবরিয়া  
অনেক প্রত্যাশিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে এক অপ্রত্যাশিত বিপুল বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার। এ নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের অনেক প্রশ্ন আছে। আছে অনেক চাপা ও প্রকাশ্য ক্ষোভ। বাংলাদেশে বহু বছরের মধ্যে এটা একটা অভূতপূর্ব নির্বাচন এবং এই নির্বাচনের ফলাফলও অভূতপূর্ব। বিরোধীদলহীন প্রায় একক জোটের সরকার ক্ষমতায় বসেছে। ফলে রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে চেক ও ব্যালান্সের যে কাঠামো তার অস্তিত্ব প্রায় বিলীন। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারপ্রধানের যে একচ্ছত্র ক্ষমতা সেই ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির যে আলোচনা চলছিল সেটাকে নিষ্ক্রিয় করেই এই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রীর হাতে অসীমতর ক্ষমতা দিয়েছে। রাষ্ট্র ও তার প্রধানতম বিভাগগুলোর মধ্যে যে ভারসাম্য সেটাও কতটা সুরক্ষিত আছে তা নিয়েও প্রশ্ন ও সংশয় আছে। এই বিপুল বিজয় দলের সকল শ্রেণির নেতাকর্মীর জন্য যে প্রত্যাশা তৈরি করবে সেটা মোকাবিলা করাটাও হবে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে নতুন সরকার টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ শাসন করতে যাচ্ছে।
গত মেয়াদে এই সরকার অনেক মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানাবিধ মেগা প্রজেক্টগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করে ফেলাটা হবে বড় দায়িত্ব। বিগত মেয়াদে সরকার অনেকগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু করেছিল। সেই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বাস্তবায়ন করে সেখানে বিনিয়োগ আনা এবং সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে ব্যাপকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে একটা বড় কাজ। দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সুশাসনের অভাব ছিল গত বছরগুলোতে প্রকট। এই সুশাসন ফিরবে কিনা সেটা একটা বড় প্রশ্ন। কেননা সুশাসন বিঘিœত করে, সরকারের কাছে থাকা ক্ষমতাবান মানুষ। এবারও সেইসব মানুষ আরও বড় ক্ষমতার কাছাকাছি জায়গা পেতে পারে। ফলে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন তৈরি করা খুব সহজ কাজ হবে না। এই কঠিন কাজটি কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে, কতটা যোগ্যতার সঙ্গে করা সম্ভব হবে, সেটা এই সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
অবশ্য শুধু ব্যাংকিং খাতই নয়, দেশের সর্বক্ষেত্রেই সুশাসন দৃশ্যমান করা হবে একটা বড় কাজ। দুর্নীতি মোকাবিলার কাজটাও সরকারের সামনে অনেক বড় কাজ হয়ে দেখা দেবে।
রাষ্ট্র ও সরকার এবং দলকে আওয়ামী লীগ খুব আলাদা করতে পারেনি এবং চায়ওনি। ফলে রাষ্ট্র-সরকার-দল অনেক ক্ষেত্রেই একাকার হয়েছে অতীতে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সুশাসন নিশ্চিত করা জটিল কাজ। এই সরকার সেই জটিল কাজটি কতটা সহজ করতে পারে সেটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
এই সরকার অতীতে অবকাঠামো উন্নয়নে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত, সড়ক, পরিবহন খাতে সরকারের বড় বড় উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তা নিয়ে অনেক আলোচনা আছে। বিশেষত এই উন্নয়ন প্রচেষ্টা কতটা সাশ্রয়ী মূল্যে হচ্ছে সেই প্রশ্ন বারবার এসেছে। এইবার সেই প্রশ্ন আরও বড় হয়ে দেখা দিতে পারে।
পৃথিবীতে অনেক দেশেই অধিক সময়ের জন্য ক্ষমতায় এসে সরকারগুলো গণতন্ত্রকে পরিবারতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের ধারায় ঠেলেছে। সেটা বিজয়ী দল বা সরকারকে শেষাবধি অজনপ্রিয় করেছে। যে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনকে উপলক্ষ করে ক্ষমতায় বসা সেই জনগণ উপেক্ষিত হয়েছে। বরং দল, সরকার, দলের স্বজন, ক্ষমতার কাঠামোর চারিপার্শ্বের লোকজন ও তাদের আত্মীস্বজনের ভাগ্যই বিপুলভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। যেটা শাসকশ্রেণিকে শুধু অজনপ্রিয়ই করে নাই, শোষকেই পরিণত করেছে। আমাদের মতো জনভারে আক্রান্ত দেশে সেটা খুব বিরল ঘটনাও নয়। এই সরকারের জন্য সেটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যেভাবেই, যে কায়দাতেই সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন, সরকার শেষাবধি সকল জনগণের দেখভালের দায়িত্ব নেয়। সকল দলের, সকল মতের জনগণের সরকার হতে হয় ক্ষমতাসীন সরকারকে। কিন্তু এই বিপুল বিজয় তাতে বাদ সাধতে পারে। সরকারি দল ও তার স্তাবকশ্রেণি সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে বাধা হয়ে উঠতে পারে। সেই বাধা উৎরে জনগণের সরকার হয়ে ওঠাটা এই সরকারের জন্য একটা বড় কাজও বটে।
এগুলো চ্যালেঞ্জ। আবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার যে বড় সুবিধা একক নেতৃত্ব সেটা এই সরকারের আছে। শেখ হাসিনাই শেষাবধি দল বা সরকারের একক কর্তৃত্ব। সকল দ-মু-ের একক কর্তা। সেটা এবার বাংলাদেশের শাসনকে ইতিবাচক দিকে পরিবর্তনের সুযোগ দিতে পারে। সেই মোড়ফেরানো ইতিহাস তৈরির সুযোগও আবার থাকছে সরকার বা সরকারপ্রধানের হাতে।
রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক কাঠামো, বিপর্যস্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কতটা মাথা তুলে দাঁড়াবে সেটা একটা বড় জিজ্ঞাসা। এই সরকার সেই সুযোগকে কতটা কাজে লাগাতে চাইবে, চাইলেও কতটা পারবে সেই প্রশ্নও কিন্তু থাকছে। সেটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ এই সরকারের জন্য।

দুই.
বাঙালির রাজনীতি ও রাষ্ট্র নিয়ে ভেবেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক লেখায় ও চিন্তায় দেশভাবনা ছিল প্রবল। সেই দেশভাবনার একটা বড় অংশ ছিল দেশের মানুষ। বিদেশ ভ্রমণে গিয়েও তা অক্ষুণœ থাকত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষ বিদেশযাত্রা ছিল ইরান-ইরাক। রবীন্দ্রনাথের সত্তর বছর বয়সে ১৯৩২ সালের এই ভ্রমণ নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘পারস্যে’ শিরোনামে। সেই সফরের অভিজ্ঞতার এক জায়গায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখছেন, ‘মনে পড়ছে ইরাকে একজন সম্মানযোগ্য সম্ভ্রান্ত লোক আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘ইংরেজ জাতের সম্পর্কে আপনার কী বিচার?।’ আমি বললেম, ‘তাঁদের মধ্যে যাঁরা নবংঃ তাঁরা মানবজাতির মধ্যে  নবংঃ।’ তিনি একটু হেসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আর যারা  হবীঃ নবংঃ? চুপ করে রইলুম। উত্তর দিতে হলে অসংযত ভাষার আশঙ্কা ছিল। এশিয়ার অধিকাংশ কারবার এই হবীঃ নবংঃ-এর সঙ্গেই। তাদের সংখ্যা বেশি, তাদের স্মৃতি বহু ব্যাপক লোকের মনের মধ্যে চিরমুদ্রিত হয়ে থাকে।’
রবীন্দ্রনাথ পারস্যের মানুষ সম্পর্কেও কৌতূহলী ছিলেন। তিনি লিখছেন, ‘বৈকালে পারসিক পার্লামেন্টের একজন সদস্য আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। জিজ্ঞাসা করতে চাইলেন আমি কী জানতে চাই। বললুম, পারস্যের শাশ্বত স্বরূপটি জানতে চাই, যে পারস্য আপন প্রতিভায় স্বপ্রতিষ্ঠিত। তিনি বললেন, বড়ো মুশকিল। সে পারস্য কোথায় কে জানে। এ দেশে এক বৃহৎ দল আছে তারা অশিক্ষিত, পুরনো তাদের মধ্যে অপভ্রষ্ট, নতুন তাদের অনুদ্গত। শিক্ষিত বিশেষণে যারা খ্যাত তারা আধুনিক; নতুনকে তারা চিনতে আরম্ভ করেছে, পুরনোকে তারা চেনে না।’
যে কোনো জাতির জন্য সর্বকালে এই সংকট অতি সাধারণ ঘটনা। যে কোনো বড় পরিবর্তনে বা পরিবর্ধনেও মানুষের এই সংকট দেশ কাল ভিন্ন নয়। কিন্তু তাহলে মানুষের কর্তব্য কী? এই কথাটা রবীন্দ্রনাথ খুব সুন্দর করে বলেছেন তাঁর ‘জাপান যাত্রী’ রচনায়। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বাইবেলে আছে যে নম্র সেই পৃথিবীকে অধিকার করবে; তার মানেই হচ্ছে, নম্রতার শক্তি বাইরে নয় ভিতরে- যে যত কম আঘাত দেয় ততই সে জয়ী হয়। সে রণক্ষেত্রে লড়াই করে না; অদৃশ্যলোকে বিশ্বশক্তির সঙ্গে সন্ধি করে সে জয়ী হয়।’
বাংলাদেশের সরকার ও রাজনীতি সম্পর্কেও এখন সেই কথাটা খাটে। নতুন সরকার কতটা নম্রতার সঙ্গে জনহৃদয় সত্যি সত্যি জয় করতে পারে সেটাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তিন.
যে কোনো নতুন সরকারের সাফল্য দেখতে হলে তাদের সময় দেয়া দরকার। কাজের সুযোগ পাওয়া দরকার। এই নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা রেখে লেখাটি শেষ করতে চাই নাসিরুদ্দীন হোজ্জার কতগুলো পুরনো কৌতুক নতুন করে উপস্থাপন করে।
ক.
একদিন বাদশাহ হোজ্জাকে জিজ্ঞেস করলেন,-‘হোজ্জা, যদি তোমার সামনে দুটো জিনিস রাখা হয়-একটি হলো স্বর্ণমুদ্রা আর একটি হলো ন্যায়। তাহলে তুমি কোনটা বেছে নেবে?’
-‘আমি স্বর্ণমুদ্রা বেছে নেব।’ হোজ্জা উত্তর দিল।
বাদশাহ বললেন,-‘ কেন হোজ্জা? আমি হলে স্বর্ণমুদ্রা না নিয়ে ন্যায় বেছে নিতাম। স্বর্ণমুদ্রাতে এমন কী আছে? ন্যায় খুঁজে পাওয়া সহজসাধ্য নয় জান?’
হোজ্জা বলল,-‘জানি জাঁহাপনা। যার যেটা অভাব সে সেটাই চায়। আপনার যেটা অভাব সেটাই আপনি বেছে নিতে চাইছেন।’
খ.
একবার জনসাধারণ সর্বসম্মতিক্রমে হোজ্জাকে কাজী নির্বাচিত করতে চাইল। হোজ্জা বলল,- না, প্রথমে আমি কাজীর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি তারপর তোমরা সিদ্ধান্ত নিও। কেমন?
সবাই রাজি হলো।
হোজ্জা কাজীর দরবারে গিয়ে কাজীকে জিজ্ঞেস করল,-‘হুজুর, যদি দুটি গরুর মধ্যে লড়াইয়ে একটি গরু আরেকটিকে মেরে ফেলে তাহলে এই মামলার কী করে ফয়সালা হবে?’
কাজী একটু ভেবে বললেন,-‘প্রথমেই জানতে হবে নিহত গরুর মালিক কে?’
-‘যদি নিহত গরু জমিদারের হয়?’
-‘তাহলে বিচারের বিধি অনুযায়ী জিতে যাওয়া গরুর মালিক জমিদারকে দুটি গরুর দাম দেবে।
-‘যদি ঐ নিহত গরুর মালিক একজন সাধারণ কৃষক হয়?’
-‘তাহলে তার তো সহজ ফয়সালা : সাধারণ কৃষক একটি গরুর মূল্য দেবে জমিদারকে।’
হোজ্জা ভ্রু-কুঁচকিয়ে বলল,-‘হুজুর, আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। জমিদারের গরু সাধারণ কৃষকের গরু মেরে ফেললে সে কেন জমিদারকে টাকা দিতে যাবে?’
কাজী তার থুঁতনিতে হাত বুলোতে বুলোতে বললেন,-‘ এ একটি খুব সহজ কথা। জমিদারের গরু কৃষকের গরুকে মেরে ফেলতে গিয়ে নিশ্চয় অনেক শক্তি ক্ষয় করেছে। সুতরাং জমিদারের গরুর শক্তিক্ষয়ের জন্য খরচার টাকা কৃষককেই দিতে হবে।’
-‘হুঁ হু্ ঁআচ্ছা, এইভাবে বিচারের ফায়সালা করতে হবে! আমি বুঝলাম।’
হোজ্জা কাজীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গ্রামবাসীর কাছে কাজীর শিক্ষার কথা বিনা দ্বিধায় বলল,-‘ভাইসব, আমার দ্বারা কাজীর কাজ হবে না। কারণ, ঐ কাজীর মতোন ‘নিরপেক্ষ’ বিচার আমি একজন্মেও শিখতে পারব না!’
গ.
একবার বাদশাহ নাসীরুদ্দীন হোজ্জাকে জিজ্ঞেস করলেন,-‘এমন একটি পন্থা বল যা অবলম্বন করলে আমার মৃত্যুর পর স্বর্গে যাওয়া নিশ্চিত হতে পারে।’
হোজ্জা উত্তরে বলল,-‘সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো আপনি কোনো কাজকর্ম না করে দিনরাত ঘুমিয়ে থাকুন।’
একথা শুনে বাদশাহ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,-‘ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কি কিছু চর্চা করা যায়?’
-‘ঘুমিয়ে থাকা আপনার পক্ষে সব চাইতে উত্তম চর্চা।’
হোজ্জা উত্তরে আরও বলল,-‘আপনি ঘুমিয়ে থাকলে আর কোনো মন্দ কাজ করতে পারবেন না।’ কারণ হলো, প্রবাদ আছে,-‘জাগ্রত মন্দলোকের চেয়ে ঘুমন্ত মন্দলোক ভালো।’
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
এই সময়/রাজনীতি
 মতামত সমূহ
Author : Md samaun
good
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.
বর্তমান সংথ্যা
পুরানো সংথ্যা
Click to see Archive
Doshdik
 
 
 
Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive