Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ১৭ ২১শে আশ্বিন, ১৪২৫ ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
[স ম্পা দ কী য়] মহামান্য রাষ্ট্রপতির শুভবোধ ও দায়-দায়িত্ব  
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নিজ বক্তব্যে এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন, যার মধ্যে রাজনীতি ও দেশের ভবিষ্যৎ বিষয়ে তার শুভবোধ বা জনহিতকর আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বড় পদে চাকরি শেষে, কিংবা পেশাগত জীবন শেষ করে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তার মতে, এখন রাজনীতি হয়ে গেছে গ্রামের ‘গরিবের বউয়ের মতো’। এখানে কোনো নিয়মনীতি নেই। যার যখন, যেভাবে ইচ্ছা রাজনীতিতে ঢুকছে। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বাধা। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনা করা উচিত।
স্বভাবসুলভ রসবোধ আর কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষার মিশ্রণে রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে কটাক্ষ করেছেন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের রাজনীতিবিদ বনে যাওয়ার প্রবণতাকে। আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমি যদি বলি আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিকসের লেকচারার হইতাম চাই, নিশ্চয়ই উপাচার্য সাহেব আমারে ঢুকাইবেন না। বা আমি যদি কোনো হাসপাতালে গিয়া বলি, এত দিন রাজনীতি করছি, হাসপাতালে ডাক্তারি করার লাইগ্যা দেও। বোঝেন অবস্থাটা কী হবে?’
আবদুল হামিদ বলেন, ‘কিন্তু রাজনীতি গরিবের ভাউজ, সবাই ইঞ্জিনিয়ার কইন আর ডাক্তারই কইন, এই ভিসি সাবও ৬৫ বছর হইলে কইব, আমিও রাজনীতি করুম। যারা সরকারি চাকরি করে, জজ সাবরা যারা আছে, ৬৭ বছর চাকরি করব। কইরা রিটায়ার্ড কইরা কইব, ‘আমিও রাজনীতি করিব’। আর্মির জেনারেল অয়, সেনাপ্রধান অয়, অনেকে রিটায়ার্টমেন্টে গিয়েই কয়, ‘আমিও রাজনীতি করিব’। সরকারি সচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারি প্রত্যেকেই রিটায়ার কইরা বলে, ‘আমি রাজনীতি করিব’। এটার কোনো রাখঢাক নাই, কোনো নিয়মনীতি বালাই নাই। যে ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা, তখনই রাজনীতিতে ঢুকছে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অন্যান্য পেশায় চাইলেই যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও রাজনীতিতে তা আছে। যে কারণে সবাই চাকরি শেষ করে রাজনীতিতে ঢুকতে চায়। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।’
রাষ্ট্রপতি আমাদের সমাজে ‘মহামান্য’ হিসেবে বিবেচিত। রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন তিনি। আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবনও সমৃদ্ধ। যার সুবাদে তিনি অন্য প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে রাষ্ট্রপতি হতে পেরেছেন। কিন্তু ঢাবির সমাবর্তনে দেয়া বক্তব্যে কেবলই তার শুভবোধের পরিচয় মিলেছে। তিনি রাজনীতির গুণগত মান ধরে রাখার পক্ষপাতি, এমন আকাক্সক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। অথচ এটা বাস্তবায়ন করাটা তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। রাজনীতিতে ব্যবসায়ী, পেশাজীবীরা ঢুকছে তার আমলেই। তার নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর্বেও এটা ঘটেছে। এখন তিনি যে পদে রয়েছেন, সেটা কাজ করার, আকাক্সক্ষাকে বাস্তবায়ন করার। অথচ রাষ্ট্রপতি প্রার্থনা করছেন। এটা জাতিকে হতাশ করে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির শুভবোধের প্রতি দেশবাসীর সমর্থন রয়েছে, কিন্তু জনমানুষের প্রকৃত চাওয়া হলো, তিনি আর সবার মতো সংকটের রূপ নিয়ে আলোচনার মধ্যে নিজেকে ব্যাপৃত রাখবেন না বরং তিনি সংকটের সমাধান করবেন। দেশের রাজনীতির গুণগত মান উত্তরণে রাষ্ট্রপতির যে দায়িত্ব রয়েছে সেটা কার্যকর দেখতে চায় জনগণ।
১১ অক্টোবর ২০১৮  বর্ষ ১১  সংখ্যা ১৬
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
নিয়মিত বিভাগ
  • [স ম্পা দ কী য়] রেকর্ড ছাড়িয়েছে ডেঙ্গু, নীরব নগর কর্তৃপক্ষ
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive