Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ১৭ ২১শে আশ্বিন, ১৪২৫ ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
[অন্যদৃষ্টি] রৌদ্র-ছায়ার খেলা  
হিমাংশু দেব বর্মণ

শহরে বন্দরে গ্রামেগঞ্জে হাটেবাজারে পথেঘাটে সব মানুষের মুখে চলছে নানা গুঞ্জন, নানা জল্পনা কল্পনা। আবার কখনো উত্তপ্ত হচ্ছে চায়ের দোকানের পরিবেশ। প্রসঙ্গটা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের উল্লাস ভরা প্রচারণা, আর বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের আবেগ উচ্ছ্বাস ভরা বাগ্বিত-া। যেন খোলা আবাদি মাঠে রৌদ্র আর ছায়ার খেলা। আর সাধারণ মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে সব দলকে ঘিরেই ইতিবাচক নেতিবাচক নানা রকম সমালোচনা। পত্রপত্রিকায় দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভিন্ন ভিন্ন মত। কারও মতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা উচিত। কেউ-বা বলছেন সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার। কেউ-বা নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া উচিত বলে মনে করছেন। মূলত মন্তব্য কোনোটাই অনৈতিক বা অগ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু আমার মনে হয় সবকিছুর আগে প্রেক্ষাপটটা বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
ঊননব্বই থেকে শুরু করে দেশে যতগুলো নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে আমরা এসব মন্তব্যের কার্যকর পরিস্থিতির উপস্থিতি দেখেছি। তারপরও আজ পর্যন্ত সমস্যা সমাধানের কোনো ক্ষেত্রই তৈরি হয়নি আমাদের দেশে। আসলে আমরা সাধারণ মানুষ, সবাই চাই একটি সুষ্ঠু স্থায়ী সমাধান। যাতে প্রত্যেকটি নির্বাচনের সময় এমন জটিলতা সৃষ্টি না হয়। এজন্য কেবল আমাদের দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা নয়, বহির্বিশে^র গণতান্ত্রিক দেশগুলোর দিকেও তাকাতে হবে। দেখতে হবে সেসব দেশের সংকটকালীন ঐতিহাসিক পরিস্থিতিসমূহ ও তা মোকাবিলার কায়দা-কৌশল। কেবল বক্তব্য দেয়ার সময় উদাহরণ হিসেবে বিশে^র বিভিন্ন দেশের নাম ও কর্মকা-ের কথা তুলে ধরলে হবে না। তাদের কর্মকা- দেখতে হবে, তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এখানে যদি পাশর্^বর্তী রাষ্ট্র ভারতের কথাই বলি, তাহলে দেখা যাবে কী সরকারি পক্ষ, কী বিরোধী পক্ষ, সবাই কিন্তু তাদের আলোচনার মধ্যে বারবার এই দেশটির কর্মকা-ের কথা তুলে ধরেন। তাদের দিকে আঙুল দিয়ে কথা বলা হয় না এমন প্রসঙ্গ খুব কমই আছে আমাদের দেশে। কিন্তু তাদের নির্বাচন ব্যবস্থাটা কেমন, সেটা তো এখন বড় লক্ষণীয় বিষয়। আসলেই কি সেসব কর্মকা-গুলো পর্যালোচনা করার সময় কারও হাতেই নেই? আর থাকবেই বা না কেন? যে কোনো দেশের পটপরিবর্তন করতে সক্ষম একমাত্র জনগণ। তবে তাকে সঠিক নেতৃত্ব বা দিক নির্দেশনার দরকার পড়ে একটি রাজনৈতিক দলের। তারপরও সাধারণ মানুষকে আন্দোলনমুখী করে তুলতে সহায়তা করে এই রাজনৈতিক দলই। দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে জনগণকে সচেতন করে তোলা, তা নিয়ে রাজপথে দাঁড়ানো এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি দিয়ে তাদের মন জয় করে তবেই সাধারণ মানুষকে আন্দোলনমুখী করে তুলতে হয়। এটা দুঃখজনক, নাকি খুশির খবর, নাকি হতাশার বিষয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের চলতি দশ বছরের মধ্যে এমন কোনো বিষয় নিয়ে কোনো বড় দলকে আন্দোলন তো দূরের কথা, জনগণের মাঝে কোনো প্রচার প্রপাগান্ডা আদৌ দেখা যায়নি।
আমাদের দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’। তারা তাদের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনায় হেরে গিয়ে আজ জাতীয় সংসদের বাইরে অবস্থান করছে। সংসদে একটি বিরোধী দল আছে জাতীয় পার্টি। আসলে তা নামমাত্র। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেই বলেন আমরা আর গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে থাকতে চাই না। তার মানে তিনি নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছেন তাদের দুর্বলতা কোথায়! তবে তিনি যত যা-ই বলেন, সেটা তার দলের ক্ষমতায় সম্ভব হবে না। বিএনপি নির্বাচনে এলে তার দল স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর বিরোধী দলে থাকবে না। হয় সরকারের সঙ্গে জোট করে থাকতে হবে, অথবা যে সংখ্যক আসন তার দল পাবে তাতে সংসদের বাইরে না গেলেও ভেতরে হয়তো গুটিকয়েক আসন থাকবে, তবে তা একদম পেছনের সারিতে। বিরোধী দলে থাকবে, তবে কথা বলার মতো কোনো অবস্থান তার দলের থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে সেটুকুও সম্ভব হবে, নাকি সরকারের সঙ্গেই লেজুড়বৃত্তি করে চলতে হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
কথার মাঝে একটু ভিন্ন বিষয় তুলে ধরছি আলোচনা সহজে পেশ করার জন্য। আর তা হলো আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটু ভাবতে গেলে প্রথমেই আমার যেটা মনে আসে, তা হলো আজকের নির্মাতা বা কুশলীরা বিগত দশ বছর আগের ছবিও দেখেননি। দেখলেও তা শুধু বিনোদন লাভের জন্য। তা থেকে কিছু শেখার উদ্দেশ্য তাদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। যার ফলে আজ দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এমন নাজুক পরিস্থিতি। সারা বছরের মধ্যে একটি কী দুটি ছবির খরচ মূল্যটা ঘরে আসে। বড় জোর একটির বেশি ছবিতে ব্যবসা হয় না। দেশের রাজনীতিতেও ঠিক একই অবস্থা। পুরনো ঘটনা থেকে কোনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কোনো চেষ্টা একেবারেই অদৃশ্য। এর পেছনেও একটি বড় কারণ রয়েছে। তা হলো বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এই দুটি দলেরই জন্ম হয়েছে জনবিচ্ছিন্নভাবে। সেনাবাহিনীর ব্যারাক থেকে জন্ম নিয়ে উঠে আসা দল জনসমর্থন ছাড়াই একেবারে ক্ষমতা গ্রহণ করা দল। জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা একটি মাত্র দল হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ কারণেই বোধ করি তাদের আন্দোলনটা গণমুখী হয়ে থাকে। জনগণের স্বার্থ নিহিত দাবিসমূহ সামনে রেখে, জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেই তারা আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা ক্ষমতায় গেলে তা বাস্তবায়নে কিছুটা ত্রুটি থাকলেও গণমানুষ তাদের প্রতি আশ^স্ত থাকে আগামীতে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এই আশা করে। অন্য কোনো দলের কোনো কর্মসূচিতে জনগণের আশ^স্ত হওয়ার মতো তেমন কিছু থাকে না আমাদের দেশে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি কথায় কথায় যতই জনগণের সম্পৃক্ততার কথা বলে থাকেন আসলে তা আদৌ দৃশ্যমান নয়। তা বর্তমান রাজনৈতিক দল দুইটির নেতাদের মুহুর্মুহু প্রচারণার মাঝেও দেশের এই নীরবতা দেখেই বোঝা যায়।
তবে রাজনীতির বাঁক ঠিকই নানাভাবে নানাদিকে মোড় নিচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতির এই পতিত সময়ে আবার কিছুটা নড়েচড়ে বসতে চাইছেন ’৭২ সালের সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। আওয়ামী লীগের প্রতি ওনার দুঃখ জেগেছিল যে, তারা তার সংবিধানকে ছিঁড়ে কেটে খ- খ- করে ফেলেছে। তাঁর আদর্শগুলোকে অগ্রাহ্য করেছে। এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন বিএনপি তাঁর সংবিধানকে যথাযথ মূল্য দেবে এবং তা কার্যকর করবে। তার জন্য তিনি জোট বাঁধছেন বিএনপির সঙ্গে। এছাড়া অন্য একটা স্বপ্নও দেখতে পারেন তিনি। আর তা হলো, সারাজীবন রাজনীতি করে আজ তিনি হয়তো হিসাব মেলাতে বসে দেখেছেন, কইÑ কিছুই তো পেলাম না। শেষ বেলায় এসে অন্তত একটু তো ক্ষমতার স্বাদ পাই। এহেন চিন্তা-চেতনার আশ্রয় নিয়ে তিনি জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তা কার্যকরও করে ফেলেছেন। কিন্তু বাস্তবে তা হবে ঠিক ষাঁড়ের কাছে দুধের আশা করার মতো।
তবে জোটের স্থায়িত্ব নিয়েও যথেষ্ট ভাবার বিষয় রয়েছে। বিএনপি আজ ঐক্যের স্বার্থে যে কোনো শর্ত মানতে রাজিÑ বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব। এখানে অন্য দলগুলোর মতো তার দলও এখন সংসদের বাইরে থাকা দল। আর এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এটা জলের মতো স্বচ্ছ যে তার দল রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট দুর্বলও। আর এই সুযোগ তো অবশ্যই কাজে লাগাতে চাইবে জোটের শরিক দলগুলো। বিএনপি কখনো চাইবে না তার আসন সংখ্যা কম হোক। একটি বড় দল হিসেবে জোটের মধ্যে একটি বড় অবস্থান সে দাবি করবেই, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে তার নেতৃত্ব ও কর্মকা- যখন তাদের কথার মাঝেই প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে, তখন আসন বণ্টনের বেলায় তাদের আশাব্যঞ্জক অবস্থান থাকবে না, এটাই আশা রাখা যায়। আর তখনই জোট আর জোট থাকবে না।
একটি কথা পরিষ্কার বলতেই হয় যে, অতি ছোট হলেও যে বাম দলগুলো পিএনপির সঙ্গে জোটে শামিল হয়েছে, নেতৃত্বের বেলায় তাদের স্থানই থাকবে শীর্ষে। এটা পরিক্ষিত। কারণ আওয়ামী শাসনের এই দশ বছরে গণমানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নামতে দেখা গেছে এই বাম দলগুলোকেই। এছাড়া সরকার ও বিরোধী, এই দুই জোটের বাইরে থাকা অপেক্ষাকৃত বড় বাম দলগুলো সরকারের প্রত্যেকটি গণস্বার্থ বিরোধী কর্মকা-ের প্রতিবাদ করে আসছে রাজপথে দাঁড়িয়ে। সেখানে বিএনপিকে দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারা বলেন, আন্দোলনে নামলেই সরকার গুলি চালায়। তাই আমরা রজপথে নেই। বিশে^র ইতিহাসে কী বলে? যে আন্দোলনে গুলি চলে, সেই আন্দোলনই বেগবান হয় এবং সফলতা লাভ করে। বিনা রক্তে কোনো আন্দোলন সফল হয়নি। ইতিহাসই তার বড় প্রমাণ। কিন্তু এখানে গুলির দোহাই দিয়ে তারা নিজেদের দুর্বলতা ঢেকে রাখতে চায়। এমনকি এই আন্দোলনেও তারা গুলির ভয়েই সামনে যাবে না, পেছনেই থাকবে। আর সামনে থাকবে এই বামেরা। তাহলে আসন বণ্টনের বেলায় অবশ্য সামনের সারির লোকেরাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চাইবে বা থাকবেও। তাতে তো আর বিএনপির পোষাবে না! আর তখনই শুরু হবে টানাপড়েন। জোট জোট খেলা আর থাকবে না। পরিণত হবে রৌদ্র-ছায়ার খেলায়। অতএব এসব মাতামাতি মাখামাখি নিয়ে কেবল সাধারণ মানুষকেই বিব্রত করা হবে। এ শিক্ষা আমাদের নিকবর্তী ইতিহাস থেকেই পাওয়া।
পরিশেষে বলতে ইচ্ছে হয় যে,  আসলে বাম আর ডান মিলে কখনো এক জোট হতে পারে না। হলে বাম আর বাম থাকে না। ডান হয়ে যায়। এখানে লাভ বলেন আর কৃতিত্বই বলেন তা ডানেরই হয়। কার্যত বাম-ডানের বশীভূত হয়ে যায়। তার নিজস্ব গতিকে হারিয়ে ডানেই পরিণত হয়ে যায়। এটা নতুন বা কাল্পনিক কোনো কথা নয়। একটু লক্ষ্য করলেই বিষয়টা আমার চেয়ে আপনারাই (পাঠকরা) ভালো বুঝতে পারবেন।
hd.bormon@gmail.com
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
এই সময়/রাজনীতি
  • [অন্যদৃষ্টি] আঞ্চলিক ভাষার টানাপড়েন
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive