Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২১ ১৯শে কার্তিক, ১৪২৫ ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
ফুটবলেও দুই দলের বৃত্ত!  
মযহারুল ইসলাম বাবলা

বিশ্বজুড়ে এখন চলছে ফুটবল উন্মাদনা। প্রতি বিশ্বকাপেই এটি লক্ষ্য করা যায়। বিশ্ব ফুটবলের তলানিতে থাকা আমাদের দেশেও ফুটবল নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, উত্তেজনার সীমা-পরিসীমা নেই। ভাবখানা এমন যে আমরাই যেন বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছি। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পেছনে অবশ্য রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের দাপুটে নন্দিত ফুটবলের শীর্ষে থাকা দুইটি দেশ আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল। আমাদের ফুটবলপ্রেমীদের সংখ্যাগরিষ্ঠদের প্রিয় দল ওই দুটিই। ওই দুই দলের বাইরে অন্য দলের সমর্থক থাকলেও, নগণ্যই। দুই দলের সমর্থকদের দেয়াল লিখন, পতাকা ওড়ানো, আবেগ-উচ্ছ্বাস আমরা প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবলে লক্ষ্য করে থাকি। আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল দুই দলের আমাদের সমর্থকেরা একে অপরকে শত্রু পর্যন্ত বিবেচনা করে। ব্রাজিলের বিপক্ষে অন্য যে-কোনো দলের খেলায় আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা হয়ে পড়ে ব্রাজিলের বিপক্ষ দলের সমর্থক। অপরদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলায় ব্রাজিল সমর্থকেরা হয়ে যায় ওই বিপক্ষ দলের সমর্থক। এই দুই দলের বিপক্ষ যে-কোনো দলের সাফল্যে উচ্চৈঃস্বরে আনন্দ প্রকাশ করতেও দেখা যায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের।
বাঙালির ফুটবল প্রীতি গভীর মানতেই হবে। যদিও বাঙালি জাতির ফুটবলের দীর্ঘ ঐতিহ্যের পরেও মান বিচারের তুলনায় বিশ্ব ফুটবলের যোজন-যোজন পেছনে। তলানিতে বললেও ভুল হবে না।
বিশ্ব ফুটবলের ন্যায় আমাদের ক্লাব ফুটবলের ক্ষেত্রেও একই ধারা সুদূর অতীত থেকে আজ অবধি বলবৎ রয়েছে। ঢাকার ক্লাব ফুটবলে এক সময়ে ভিক্টোরিয়া এবং ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সমর্থকদের মধ্যে এটা লক্ষ্য করা যেতো। ঢাকা মোহামেডান পরবর্তীতে ক্লাব ফুটবলে যুক্ত হবার পর মোহামেডান-ভিক্টোরিয়া, মোহামেডান-ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, মোহামেডান-ইপিআইডিসি এবং স্বাধীনতার পর মোহামেডান-আবাহনীর সমর্থকদের মধ্যে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব বিশ্ব ফুটবলের সমর্থকদের ক্ষেত্রেও একই ধারাবাহিকতা, অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আমাদের ক্লাব ফুটবলে দুই প্রধান দলের সমর্থকেরা একে অপরকে কেবল শত্রুই মনে করতো না, মারামারি, হানাহানিতে পর্যন্ত লিপ্ত হতো। এই হানাহানি দ্রুত নৃশংস পর্যায়ে পর্যন্ত পৌঁছে যেতো। দুই প্রধান দলের খেলায় হানাহানিতে আহত-নিহতের অজস্র ঘৃণিত ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তা এবং শঙ্কার আতঙ্কে স্টেডিয়াম মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট দুই প্রধান দলের খেলার দিন বন্ধ হয়ে যেতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের পরও হানাহানির ঘটনা প্রায় ঘটতো। কতজন যে খেলা দেখতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছে, তার সংখ্যাও কম নয়। পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গাড়ি ভাঙচুর, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও বাদ যায়নি। ঢাকা স্টেডিয়াম থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্লাব ফুটবলের খেলা স্থানান্তরের পর মিরপুরেও অভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। মনে পড়ে নিরাপত্তার কারণে একবার মোহামেডান-আবাহনীর খেলা দর্শকবিহীন আর্মি স্টেডিয়ামে পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়েছিল।
বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা আমাদের ক্লাব ফুটবলে শীর্ষে থাকা দুইদলের সমর্থকদের মধ্যেই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ঘটনা ঘটে এসেছে। মাঝারি বা দুর্বল দলগুলোর সমর্থক তেমন ছিল না বললে ভুল হবে না। কারণটি খুবই সোজা। সেটা হচ্ছে সবল, শক্তিমান এবং শীর্ষে থাকা দলের প্রতিই সর্বাধিক মানুষের সমর্থন। অর্থাৎ আমরা বীর-বাহাদুর ও বিজয়ীকেই পছন্দ করি। দুর্বল ও নিচের সারিতে থাকা দলগুলোকে নয়। এই বীর-বাহাদুর ও বিজয়ী প্রধান দুইদলের মধ্যেই আমরা আটকে আছি। এটি আমাদের রাজনীতির ক্ষেত্রেও সুদীর্ঘকাল হতে দেখে আসছি। দেশে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আমাদের জনসাধারণের অগ্রণী ভূমিকাকে অস্বীকার করা যাবে না। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতেও দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বহাল-তবিয়তে টিকে আছে। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, এশিয়ার প্রায় সকল দেশেই দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা, কখনো এদল কখনো ওদল ক্ষমতাসীন হয়ে আসছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতে একসময় সর্বভারতীয় একক দল ছিল জাতীয় কংগ্রেস। কংগ্রেস বিরোধী শক্তিমান কোনো একক দল ছিল না। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অনেক দলের সমন্বয়ে মোর্চা গঠিত হতো। সেই কংগ্রেস দলও এখন আর সর্বভারতীয় একক শক্তিমান দল নয়। কংগ্রেসকেও অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করে বর্তমানের এককভাবে সর্বাধিক শক্তিশালী হিন্দুত্ববাদী-সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ভারতে কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি দখলে নিয়ে নিয়েছে। এককভাবে কংগ্রেস ক্ষয়িষ্ণু দলে রূপান্তরিত হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসকে তাই জোট গঠনের পথেই হাঁটতে হচ্ছে। এক সময় বিজেপিকেও কংগ্রেসবিরোধী জোটে থাকতে হয়েছে। নিজেদের অসম শক্তি অর্জনের পর বিজেপিকে আর জোটের মুখাপেক্ষি হতে হচ্ছে না। দুই-একটি রাজ্যে বিজেপি জোটভুক্ত হতে বাধ্য হলেও বৃহৎ ভারতে তাদের একক নিরঙ্কুশ অবস্থান ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে।
ফুটবল খেলাতে যেমন শীর্ষ দুই দলের বাইরে অপর দলের সমর্থক তেমন থাকে না, রাজনীতির ক্ষেত্রেও সেটা দেখা যায়। এর মূল কারণই হচ্ছে আমরা শক্তিধর, বীর-বাহাদুর, বিজয়ীদেরই পক্ষে থাকি। যত ভালোই হোক মূলধারার বাইরের কাউকে সমর্থন করি না। যত খারাপই হোক বীর-বাহাদুর, বিজয়ী, ক্ষমতাবানদেরই পক্ষাবলম্বনে বিলম্ব করি না। আমাদের মস্তিষ্কে সেটা স্থায়ী আসন নিয়ে বসেছে। ক্ষমতা ও বিজয়ীর দম্ভের অংশীদার হতেই পছন্দ করি, গর্বিত হই, আপ্লুত হই। বিশেষ প্রয়োজনে সেটা ব্যবহারও করি। এটা আমাদের চরিত্রে, মজ্জায় স্থায়ীভাবে ঠাঁই নিয়েছে। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা টিকে থাকার মূলে উপরের কারণ ও বিষয়গুলো ক্রিয়াশীল বলেই বিকল্প ভাবনা-চিন্তা কারো মনেই রেখাপাত করে না। একমাত্র এই সমস্ত গতানুগতিক ধারাবাহিকতায় দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার জয়যাত্রা অব্যাহত গতিতে চলছে, দেশে এবং বিদেশে।
নির্বাহী সম্পাদক, নতুন দিগন্ত
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
খেলা
  • [খেলা] ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলা
  • মেয়েদের দেখানো পথে কিশোরদের জয়যাত্রা
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive