Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ১৩ ২৩শে ভাদ্র, ১৪২৫ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
ঢাকা মেট্রো রেলের সাতটি স্টেশনের নাম হলি আর্টিজানে নিহতদের নামে করার দাবি জাপান প্রবাসীদের  
জা পা ন

রাহমান মনি

বাংলাদেশে নির্মিতব্য ঢাকা মেট্রো রেলের অন্তত সাতটি স্টেশনের নাম ১ জুলাই ২০১৬ ঢাকায় নিহত হলি আর্টিজানে নিহতদের নামে করার জোর দাবি জানিয়ে ঢাকায় হলি আর্টিজানে  নৃশংস হত্যাকা-ের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নিহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করল জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি।
স্মরণসভায়, যে সাতজন জাপানিজ নিহত হয়েছেন তাদের সবার নামে একটি করে মেট্রো রেলস্টেশনের নাম রাখার দাবি জানানো হয়। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে এলাকার নামের সঙ্গে নিহত জাপানিজ নামজুড়ে নাম রাখার প্রস্তাব রাখেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ১৭ জন বিদেশি বন্ধুসহ হামলার শিকার ২৮ জন নিহত হন। সকলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। নজিরবিহীন নারকীয় ওই হত্যাকা-ে ৭ জন ছিলেন জাপানিজ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন কাজে জড়িত ছিলেন। তারা মেট্রো রেলের কাজের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন।
১ জুলাই ২০১৮ রোববার টোকিওর কিতা সিটি আকাবানে বুনকা সেনটার বিভিও হলে প্রবাসীদের আয়োজিত এক স্মরণসভায় যোগ দিয়েছিলেন জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান ও প্রথম সচিব মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেনসহ প্রবাসী সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী মিডিয়া কর্মীবৃন্দ এবং সর্বস্তরের প্রবাসীরা।
সভার শুরুতে দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেনের নেতৃত্বে প্রবাসীরা নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করাসহ দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
গোলাম মাসুম জিকোর পরিচালনায় সান্ধ্যকালীন মহতী এ আয়োজনে দিবসটির তাৎপর্যে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট হাসিনা বেগম রেখা, আনাফ হিরোকি ওগাওয়া, আবুল খায়ের, আব্দুল কুদ্দুস, মোল্লা দেলোয়ার হোসেন, বিমান কুমার পোদ্দার, এ জেড এম জালাল, এনামুল হক, চৌধুরী লিটন, চৌধুরী শাহীন, আশরাফুল ইসলাম শেলি, মীর রেজাউল করিম রেজা, সালেহ মো. আরিফ, মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অসাম্প্রদায়িক চেতনার। এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। সেই জায়গাটিতে ১ জুলাই ২০১৬ হলি আর্টিজানের নারকীয় ঘটনা একটি বড় ধরনের আঘাত। জাতি হিসেবে আমরা কখনোই ভাবিনি বাংলাদেশের মাটিতে এমন ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটতে পারে। বাঙালি জাতি এ জন্য প্রস্তুত ছিল না। কারণ কোনো বাঙালি এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। এটা আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসী ঘটনার যোগসূত্র হতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, জাপান আমাদের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র। জাপানিরা আমাদের পরম বন্ধু। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় থেকে শুরু করে অদ্যাবধি জাপান আমাদের দেশে অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। যে ৭ জন জাপানিজকে হত্যা করা হয়েছে তারাও বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করতে গিয়েছিলেন অথচ তাদেরকে লাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে।
বক্তারা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সরকারের কাছে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত চার্জশিট প্রদানসহ অবিলম্বে বিচারের মাধ্যমে শাস্তির দাবি জানান। সঠিক বিচার বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলসহ ভিকটিম পরিবারগুলোতে কিছুটা হলেও সান্ত¡না এনে দিবে বলে তারা মনে করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ প্রজন্মের তরুণ আনাফ হিরোকি ওগাওয়া বলেন, আমার জানা ও দেখা বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের সঙ্গে ১ জুলাই ২০১৬’র ঘটনা কল্পনাতেও আনতে পারতেছি না। ওই ঘটনাকে নিছকই একটি সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে দেখব, নাকি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে দেখব তাও বলতে পারছি না। তবে, যেটাই ঘটে থাকুক না কেন, একমাত্র উপযুক্ত বিচারই পারে ক্ষত লাঘব করতে এবং একই সঙ্গে এমন ঘটনা যেন দ্বিতীয়বার না ঘটতে পারে সেই পদক্ষেপও নিতে হবে।
দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে এমন একটি ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্বের বহু দেশেই এমনটি ঘটছে একাধিকবার। যেটা কারোরই কাম্য নয়। তবে, আশার আলো হচ্ছে জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটাই সতর্ক রয়েছেন। আমাদের দেশে দ্বিতীয়বার আর এমন পৈশাচিক ঘটনা আর ঘটেনি। আমরা প্রাথমিক ধাক্কাটা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছি।
জাপানিরা ইতোমধ্যে আমাদের দেশে পুনরায় যেতে শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রকল্পে তারা সহযোগিতাসহ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। স্বল্পকালীন ভ্রমণেও তারা বাংলাদেশকে বেছে নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। কারণ আপনারা সর্বদা জাপানিদের সঙ্গে মিশে থাকেন। আপনারাই তাদের ভালো বুঝে থাকেন এবং তারাও আপনাদের কথায় বিশ্বাস রাখবেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গোলাম মাসুম জিকো। অনুষ্ঠানটি পৃষ্ঠপোষকতা করেন চৌধুরী শাহীন, মীর রেজাউল করিম রেজা, আশরাফুল ইসলাম শেলি, গোলাম মাসুম জিকো।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাপ্তাহিক জাপান প্রতিনিধি রাহমান মনি।
rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রবাসে
  • মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটির ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৮
  • জাপানে ছাত্র ভিসা নিয়ে হা-হুতাশ বন্ধ করাটা জরুরি
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive