Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২১ ১৯শে কার্তিক, ১৪২৫ ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
কেন দমন-নিপীড়ন -গোলাম মোর্তোজা  
কোটা সংস্কার আন্দোলন সংগঠিত করেছেন রাশেদ-নুরুল-ফারুকরা। প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যখন তারা সংবাদ সম্মেলন করতে জড়ো হয়েছিলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের আক্রমণ করে। নুরুলকে লাথি-ঘুষি-পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। নুরুল শিক্ষক ড. জাভেদের পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। শিক্ষকও নাজেহাল হয়েছেন ছাত্রলীগের হাতে। শিক্ষকের হাত কেটে গেছে, নুরুলকে তিনি রক্ষা করতে পারেননি। সেই ভিডিও চিত্র মানুষ দেখেছেন। তারপর থেকে এক নাগাড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন করছে ছাত্রলীগ। পুলিশ কখনো দর্শক, কখনো নির্যাতিতদের গ্রেপ্তার করছে। নিরীহ আন্দোলনকারীদের রক্ষা বা নায্য আচরণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর মতো কেউ এই রাষ্ট্রীয় প্রশাসন বা ক্ষমতাসীনদের মাঝে আছে বলে মনে হচ্ছে না। নিযার্তনের কিছু ঘটনা, অমানবিকতার কিছু দৃষ্টান্ত।

১. জ্ঞান হারানো ক্ষত-বিক্ষত নুরুলকে ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় ফেলে রাখা হলো। চিকিৎসা দেয়া হলো না। নিয়ে আসা হলো, বেসরকারি আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজে। পুলিশের ভয়ে মাঝরাতে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হলো। নুরুলের বাবা জানিয়েছেন, এখন তার চিকিৎসা চলছে গাজীপুরের কোনো একটি ক্লিনিক বা হাসপাতালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র নুরুল, গরিবের সন্তান নুরুলকে আহত করা হলো পিটিয়ে। আর জনগণের অর্থে চলা ঢাকা মেডিকেলে তার চিকিৎসা হলো না। নুরুলের বাবা জমি বিক্রি টাকা নিয়ে এসেছেন ছেলের চিকিৎসার জন্য।

২. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন লোহার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরুদ- ও দুই পায়ের হাড় ভেঙে দিয়েছে। তার আগে দশ বারো জন মিলে পিটিয়েছে। রাজশাহী মেডিকেলে গুরুতর আহত তরিকুলের চিকিৎসা চলছিল। আকষ্মিকভাবে তরিকুলকে মেডিকেল থেকে রিলিজ (তাড়িয়ে) দেয়া হয়েছে। অথচ তরিকুলের প্রয়োজন ছিল উন্নত চিকিৎসা। রাজশাহীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় তরিকুলকে। সেখানকার ডাক্তার বলেছেন, তরিকুলের উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় নেয়া দরকার। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে তরিকুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সারা জীবনের জন্যে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভালো বিষয় যে, রাষ্ট্র না নিলেও কিছু নাগরিক তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন।

৩. রাশেদের নামে ৫৭ ধারায় মামলা করেছে এক ছাত্রলীগ নেতা। তড়িৎ গতিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে রাশেদকে। নিয়েছে ৫ দিনের রিমান্ডে। রাশেদ যেদিন গ্রেপ্তার হলো, সেদিন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ রাশেদের বাবাকে ফোন করে বলেছেন, আপনার ছেলেকে গুম করে ফেলা হবে। কুলাঙ্গার ছেলে জন্ম দেয়ার জন্য বিষোদগার করেছেন রাশেদের বাবাকে। ৭ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন রাশেদের বাবা।

৪. শহীদ মিনারে প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় ছাত্রলীগ নেতারা আক্রমণ করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক নেতা ফারুকসহ অন্যদের ওপর। দশ বারোজন মিলে কিল-ঘুষি-লাথি-লাঠি দিয়ে আঘাত করে। সেই নির্যাতনটিও ছিল ভয়ঙ্কর। ফারুককে বাঁচানোর চেষ্টা করেন আন্দোলনের দু’জন নারী কর্মী। তাদের দু’জনকেই লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। শারীরিকভাবে নির্যাতন করে, গায়ে হাত দেয়, ধর্ষণের হুমকি দেয়। একটি মেয়ে সিএনজি করে বাসায় চলে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। দু’তিনজন তার সিএনজিতে উঠে পড়ে। বিষোদগার এবং যৌন নিপীড়ন করতে করতে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। থানায় পুলিশও তাকে শারীরিক মানসিকভাবে নিপীড়ন করে। ছাত্রীরা নিজেরাই তাদের উপর চলা নিপীড়নের কিছু বর্ণনা দিয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত সরকারের নেতামন্ত্রীরা ঢালাওভাবে সবাইকে ‘রাজাকার’ বা রাজাকারের সন্তান বলছেন। কিছু তথাকথিত নিরপেক্ষ নামক সুবিধাবাদী বলছেন, আন্দোলনকারীরা ‘আমি রাজাকার’ লিখল কেন? লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বা দুইজন ‘আমি রাজাকার’ লিখেছিল। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ছিল বঙ্গবন্ধুর ছবিওয়ালা পোস্টার ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় অন্যায্যতার ঠাঁই নাই’। তারা দুই জনের ‘আমি রাজাকার’ লেখা দেখলেন। লাখ লাখ জনের ‘বঙ্গবন্ধুর’ পোস্টার দেখলেন না।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক পর্যায়ে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেছিলেন। যারা আন্দোলন করছেন সেসব শিক্ষার্থীদেরই যে তিনি ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেছিলেন পুরো বক্তব্য শুনলে তা মনে হয় না। আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে সংবাদটি এভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, মতিয়া চৌধুরী তাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেছেন। এর প্রেক্ষিতে একজন টি শার্টে আর একটি মেয়ে হাতে-গালে ‘আমি রাজাকার’ লিখে প্রতিবাদে অংশ নেয়। মনে রাখতে হবে, এটা ছিল মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের প্রকাশ। ‘আমি রাজাকার’ অবশ্যই তা সমর্থনযোগ্য নয়। কাজটি করা ঠিক হয়নি। আবার মতিয়া চৌধুরী যাই বুঝিয়ে থাকেন না কেন, আন্দোলনের উত্তাল সময়ে এমন কথা বলার আগে আরও চিন্তা করা দরকার ছিল।
আন্দোলনের সময় এসব বক্তব্য ভিন্নমাত্রা নিয়ে সয়ক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরিকল্পনা নিয়ে ছড়াতে হয় না।
বিএনপি-জামায়াত এই আন্দোলন থেকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করতেই পারে। আন্দোলনকারীরা তাদের সেই সুযোগ দেয়নি। তারা যদি সুযোগ পেয়ে থাকে, তা পাচ্ছে সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে।

৫. যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন করছেন তারা তরুণ শিক্ষার্থী। একটা তথাকথিত নিরপেক্ষ শ্রেণি সকল কিছু প্রত্যাশা করছেন আন্দোলনকারীদের থেকে। আন্দোলনকারীরা কোনো ভুল করতে পারবে না, সরকার নিপীড়ন করতে পারবে- তাদের মনোভাব অনেকটা এমনই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার শিক্ষকের মধ্যে অল্প কয়েকজন শিক্ষক ন্যায্যতার পক্ষে নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারখানেক শিক্ষকের মধ্যে ন্যায্যতার পক্ষে প্রতিবাদী শিক্ষকের সংখ্যা ১৪ জন। ভিসি আবার এই ১৪ জনকে বলছেন সরকারবিরোধী। নিজে হয়ে গেছেন সরকার পক্ষী। ভুলে গেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-শিক্ষকদের স্বতন্ত্র একটা অবস্থান বা মর্যাদা আছে। স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার তারা সংরক্ষণ করেন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তো কিছুই দেখছে না।
৬. কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন একটা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। ছাত্রলীগ এবং পুলিশি নিপীড়ন থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার মতো কেউ আছেন বলে মনে হচ্ছে না। এত প্রতিকূলতার মাঝেও আন্দোলন-প্রতিবাদ চলছেই।
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
  • নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ -শুভ কিবরিয়া
  • নির্বাচন ঘিরে জনমনে ৫ শঙ্কা -আনিস রায়হান
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive