Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ৫ ২৭শে আষাঢ, ১৪২৫ ১৯ জুলাই, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
একটি বাজেট পর্যালোচনা -জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী  
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রথম বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ, মোট অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৮৬ (সাত শত ছিয়াশি) কোটি টাকা। সংসদে ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন বিএনপির পক্ষ থেকে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট সাইফুর রহমান। জাতীয় পার্টি (এরশাদ সরকার) ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্রে দীক্ষিত আবুল মাল আবদুল মুহিতও ১২ বার বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তার দুঃখ তিনি সাইফুর রহমানকে হারাতে পারেননি, সমান হয়েছেন।

ছক-১ : বাংলাদেশের ৪৭ বাজেট তথ্য : (কোটি টাকায়)
সন    

উপস্থাপক    

সংখ্যা    পরিমাণ
            
ক. প্রথম বাজেট
খ. শেষ বাজেট
১৯৭২-১৯৭৫    তাজউদ্দীন আহমেদ    ৩    ক. ৭৮৬
খ. ১০৮৪.৩৭
১৯৭৫- ১৯৭৬    ড. আজিজুর রহমান    ১    ১৫৪৯.১৯
১৯৭৬-১৯৭৯    জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান    ৩    ক. ১৯৮৯.৮৭
খ. ২৪৯৯
১৯৭৯-১৯৮০    ড. এম এন হুদা    ১    ৩৩১৭
১৯৮০-১৯৮২    সাইফুর রহমান    
২    ক. ৪১০৮
খ. ৪৭৩৮

১৯৮২-১৯৮৪    
আবুল মাল আবদুল মুহিত    
২    ক.৪৭৩৮
খ. ৫৮৯৬
১৯৮৪-১৯৮৮    এম সাইদুজ্জামান    ৪    ক.৬৬৯৯
খ. ৮৫২৭
১৯৮৮-১৯৮৯
১৯৯০-১৯৯১    মে. জে.(অব.) মুনীম
    ২    ক.১০৫৬৫
খ. ১২৯৬০
১৯৮৯-১৯৯০    ড. ওয়াহিদুল হক    ১    ১২৭০৩
১৯৯১-১৯৯৬    সাইফুর রহমান    ৫    ক.১৫৫৮৪
খ.২৩১৭০
১৯৯৬-২০০২    এস এ এম এস কিবরিয়া    ৬    ক.২৪৬০৩
খ. ৪২৩০৬
২০০২-২০০৭    সাইফুর রহমান    ৫    ক.৪৪৮৫৪
খ. ৬৯৭৪০
২০০৭-২০০৯    ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম    ২    ক.৮৭১৩৭
খ. ৯৯৯৬২
২০০৯-২০১৯    আবুল মাল আবদুল মুহিত    ১০    ক.১১৩৮১৯
খ. ৪৬৪৫৭৩
                                                                                          
৪৭টি বাজেটের মধ্যে ৩০টি বাজেট প্রণয়ন করেছেন সিলেটে জন্ম গ্রহণকারী অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, এস এ এম এস কিবরিয়া ও আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১১ জন বাজেট প্রণেতাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ একজন, অর্থনীতিবিদ ৪ জন, সামরিক কর্মকর্তা দুই জন, আমলা ৩ জন এবং চার্টার্ড একাউন্টেন্ট একজন ।
সাইফুর রহমানের ১৯৮০-৮১ সনে প্রথম বাজেটের পরিমাণ ছিল ৪১০৮ (চার হাজার একশত আট) কোটি টাকা এবং ২০০৬ সনে দ্বাদশ বাজেটের পরিমাণ ছিল ৬৯,৭৪০ (ঊনসত্তর হাজার সাতশত চল্লিশ) কোটি টাকা। এএমএ মুহিতের ১৯৮২ সনের প্রথম বাজেটের পরিমাণ ছিল ৪,৭৩৮ (চার হাজার সাতশত আটত্রিশ) কোটি টাকা এবং ২০১৮ সনে খসড়া দ্বাদশ বাজেটের পরিমাণ হচ্ছে ৪,৬৪,৫৭৩ (চার লাখ চৌষট্রি হাজার পাঁচশত তিয়াত্তর) কোটি টাকা অর্থাৎ আবুল মাল আবদুল মুহিতের নিজের প্রথম বাজেটের চেয়ে দ্বাদশ বাজেট প্রায় ৯৮ গুণ বড় এবং তাজউদ্দীন আহমদের স্বাধীনতা উত্তর প্রথম বাজেটের তুলনায় ৫৯২ গুণ বেশি। অগ্রগতি তো বটে। প্রকৃত অগ্রগতি নির্ণয়ের জন্য বিবেচনা প্রয়োজন মানবিক সূচকের অগ্রগতির বিষয়সমূহও।

সংসদে ২০১৮-১৯ সনের বাজেট ও বরাদ্দ
৭ জুন ২০১৮ তারিখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ‘আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে’ সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ শিরোনামে ১৫৬ পৃষ্ঠার বাজেট উপস্থাপন করেছেন সংসদে, যে সংসদের অর্ধেকের বেশি সদস্য বিনা প্রতিদ¦ন্দ্বিতায় নির্বাচিত। বাকি সদস্যরা কারচুপি ও অন্যূন ২০% ভোটার দ্বারা মনোনীত। প্রায় ৭০% সংসদ সদস্য সরাসরি ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। সংসদের কার্যকলাপের চেয়ে তারা নিজস্ব পেশা ও ব্যবসায় বেশি পরিতুষ্ট। ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের হিসাবে সংসদে কোরাম সংকটে দেশের ক্ষতি হয়েছে গতবছর ১২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা যা প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ সনের বাজেট ঘাটতির পুরো ১০%।
অর্থমন্ত্রী ও অর্থ উপমন্ত্রী উভয়ে অত্যন্ত কাম্য পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসের সাবেক সদস্য (সি এস পি) । তাদের প্রশিক্ষণ ও পারদর্শিতা কেন্দ্রিকতার রক্ষা, বিন্যাস ও বিকাশে।  তারা স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধির দক্ষতায় বিশ্বাসী নন এবং তাদের প্রশিক্ষণে ও আগ্রহী নন যা প্রতিভাত হয়েছে বাজেটের প্রায় ছত্রে এবং সংবিধানের স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ১১,৫৯ ও ৬০এর প্রতি অবজ্ঞায়।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ৩৫.২% ব্যয় হয় সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাবদ। এটাই আমলাদের চালাকি ও বাহাদুরী, ছলচাতুরীতে তারা অতুলনীয়। কোটারি স্বার্থ সংরক্ষণই তাদের শিক্ষা।
নিজেদের ভবিষ্যৎ সংরক্ষণের নিমিত্তে অধিকাংশ আমলাগণ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সহযোগিতা করতে অতীব আগ্রহী। অর্থমন্ত্রী মুহিতের খসড়া বাজেটের সম্যক গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হলে ৪৫৩ পৃষ্ঠার বাজেট পুস্তিকা ২০১৮-২০১৯ এবং ৩৫৪ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশে কাস্টমস ট্যারিফ ২০১৮-১৯’ অর্থাৎ মোট ৯৬৩ পৃষ্ঠা ভালোভাবে অধ্যয়ন করতে হবে। বাজেট চূড়ান্ত হবে ৩০ জুন ২০১৮। ঈদ ও অন্যান্য ছুটি বাদ দিলে বাজেট আলোচনার জন্য প্রত্যেক সংসদ বাজেট আলোচনার জন্য গড়ে আধঘণ্টার অনধিক সময় পাবেন। অদ্যাপি সরকারি দলের সকল সদস্য তাদের দেয় সময়ের ৩/৪ অংশ ব্যয় করছেন, সরকার ও দল প্রধানের স্তুতিতে। কতিপয় সংসদ ব্যাংকের অনাচার সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন কিন্তু কোনো সংশোধনী প্রস্তাব আনেননি।
সংসদের বাইরের দলসমূহ কড়া প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। কম্যুনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ বলেছেন ‘উচ্চবিত্তের  তোষণ; নিম্নবিত্ত চ্যাপ্টা, বৈষম্য দ্রুতগতিতে বাড়াবে’ (সাপ্তাহিক একতা-১০ জুন ২০১৮)। সরকারি বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) কাজী ফিরোজ রশিদ সংসদে বলেছেন ‘অর্থমন্ত্রী জনগণের পক্ষ না নিয়ে ব্যাংক লুটেরা ও মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণির পক্ষ নিয়েছেন। ‘বড় বাজেট, ভাবনায় ভোট বক্তব্য দৈনিক সমকালের (৮ জুন ২০১৮)। এইচ এম এরশাদ বলেছেন, ‘সরকার বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে না’। একই বক্তব্য ৮ জুন ২০১৮ তারিখের দৈনিক বণিক বার্তার-। ‘অসম্ভবের বাজেটে স্বপ্নাচ্ছন্ন অর্থমন্ত্রী’। বাজেট সম্পর্কে সিপিডির দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের ও বক্তব্য  ‘বিড়াল ছোটবড় হতে পারে তবে তাকে ইঁদুর ধরতে হবে। সবচেয়ে দরিদ্রদের ৬০% আয় কমেছে এবং সবচেয়ে ধনী ৫% এর আয় বেড়েছে ৫৭.৪%’।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, ‘দেশ থেকে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা নেই মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেটে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমেছে, সমাজের শীর্ষ ৫% ধনীর আয় সর্বনিম্ন ৫% দারিদ্র্যের আয়ের তুলনায় ১২১ গুণ বেড়েছে। আইন বিধানের মাধ্যমে ব্যাংক পর্ষদে একই পরিবারের চার সদস্যের ৯ বছর থাকার বিধান পরিবারতন্ত্রের পাশাপাশি ব্যাংক লুট সহজ করেছে। তদুপরি ব্যাংকিং খাতে ২.৫% আয়কর কমানো ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা, লুটপাট ও বিচারহীনতায় উৎসাহিত সবাই’।
 
ছক-২ : প্রস্তাবিত বাজেটে কতিপয় বরাদ্দ (কোটি টাকায়)
খাত    স্বল্প বরাদ্দ (কোটি টাকায়)
১. রাষ্ট্রপতির কার্যালয়    ২৩
২. দুর্নীতি দমন কমিশন    ১১৭
৩. বাস্তবায়ন পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ    ১৩৫
৪. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট    ১৮০
৫. বাংলাদেশ কম্পট্রোলার ও অডিটর জেনারেলের কার্যালয়    ২১৫
৬. শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়    ২২৭
৭. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়    ৫০৯
৮. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়    ৫৯৫
৯. যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়    ১৩৫২
১০. শিল্প মন্ত্রণালয়     ১৪৯৮
তথ্য সূত্র : বাজেট বক্তৃতা ২০১৮-১৯, পৃ. ১৩১-১৩২
সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে সুদ পরিশোধ, পিপিপি ভর্তুকি ও দায় এবং নিট ঋণ দানের জন্য মোট ৭৬,০৩০ কোটি টাকা (১৬.৩৭%)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ পেয়েছে ২৯,১০২ কোটি (৬.৬৭%) এবং জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিভাগকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৬,৫৯৪ কোটি টাকা (৫.৭২%)। সমৃদ্ধ আগামীর পদযাত্রায় বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট,  বাস্তবায়ন পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং কম্পট্রোলার ও অডিট বিভাগের কার্য পরিচালনার জন্য। বরাদ্দ প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রপতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের গুরুত্ব  ও জবাবদিহিতার প্রতি সরকারের দায়িত্ববোধ। গবেষণার প্রয়োজন নেই, দেশে দুর্নীতির বিস্তার নির্ণয়ের জন্য। বিনা টেন্ডারে অধিক হারে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি, শিক্ষক, পুলিশ কনস্টেবল এবং মিডওয়াফ পদে চাকরির জন্য ন্যূনতম ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা  ঘুষের কথা সর্বজনবিদিত। সুপ্রিম কোর্টে কয়েক লাখ জীবনমরণের মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। অথচ হয়রানির জন্য বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদদের জামিন মামলার সময়ক্ষেপণ যেমন দৃষ্টিকটু তেমনি প্রশ্ন জাগে স্বাধীন দেশে বিচারপতিদের বছরে পাঁচ মাস অবসর যাপন এবং মামলার নথির নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতের দুই কিলোমিটার অনধিক পদযাত্রায় কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজনীয়তার কারণ বিচারে গতি আনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বরাদ্দ নিদেনপক্ষে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন। সঙ্গে কোনো মামলায় কত খরচ হচ্ছে তার হিসাবও প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আইন আদালতে ত্রিশ লাখ মানুষ হত্যার জন্য বিগত ৪ বছরে মাত্র ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা চূড়ান্ত হয়েছে। কত ব্যয় হয়েছে জনগণকে জানানো প্রয়োজন।
বিচারপতিগণ বাংলাদেশের নাগরিক। অন্যদের মতো তাদের বছরে ৪-৬ সপ্তাহ ছুটি তো পর্যাপ্ত।  এদেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ সৃষ্টিকারী গার্মেন্টস্ শ্রমিকগণ তো বছরে দুই সপ্তাহ ছুটিও পান না।
 মসজিদ নির্মাণ এবং বিনা বিচারে বন্দুকযুদ্ধে কথিত মাদক ব্যবসায়ী হত্যা করে মাদক আসক্তি রোধ করা যাবে না। মসজিদ নির্মাণ, মাদ্রাসা স্থাপন স্থানীয় জনগণের অধিকার ও দায়িত্ব। সরকারি খরচে ও উদ্যোগে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার স্থাপন কেবল জনগণকে ভালো কাজ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা নয়, নির্মাণে দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়া হয় এবং দুর্নীতি দমন বিভাগে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
মাদকাসক্তি থেকে তরুণ সমাজকে নিবৃত্ত করতে হাইস্কুল ও কলেজে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় খেলাধুলা এবং লোক সংস্কৃতির বিশেষত স্থানীয় গম্ভীরা, বাউল, বাওয়াইয়া, পুতুল নাচ, পালাগান, যাত্রা, জারিগান, যোগীর গান, সারীর পাঠ, মানিক পীরের গান, শোকের হারি প্রভৃতি কবি গানের আসর পরিচালনার জন্য, বরাদ্দ নিদেন পক্ষে দ্বিগুণ বাড়াতে হবে। এতে ব্যাপকসংখ্যক ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণ সম্ভব হবে। হাইস্কুল ও কলেজের মেয়েদের জন্য বিভিন্ন প্রকার ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও আতœরক্ষামূলক মার্শাল আর্টসের প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা বিভাগ করে ১০০০ (এক হাজার) কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। খেলাধুলার প্রসার ও স্থানীয় পর্যায়ে লাইব্রেরির বিকাশের পরিবর্তে সরকার স্টেডিয়াম স্থাপনে অধিকতর উৎসাহী ঘুষের লেনদেনের কারণে। সাময়িকভাবে আনন্দ সৃষ্টিকারী বিয়ার চালু করা হবে তরুণ সম্প্রদায়কে ইয়াবা, গাঁজা, ভাঙ্গ ও হিরোইন থেকে বিরত রাখার অন্যতম সফল পদ্ধতি। বিয়ারের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি মদ আছে বর্তমানে বাংলাদেশের সকল দোকানে সহজ লভ্য এনাজি ড্রিংকসে ( ঊহবৎমু উৎরহশং) মদের পরিমাণ ৮% এর অধিক এবং ক্যাফিনের মাত্রাও বেশি। অপর পক্ষে বিয়ারে মদের পরিমাণ ৫% এর অনধিক। সম্প্রতি আন্তঃজেলা হাইওয়েতে প্রায়শ অসংখ্য দুর্ঘটনার মূল কারণ গাড়িচালক বাস ও ট্রাক ড্রাইভারদের যাত্রা শুরুর পূর্বে একাধিক ক্যান এনার্জি ড্রিংকস ( ঊহবৎমু উৎরহশং) পান।
 উন্নত দেশের ন্যায় বাংলাদেশে ইয়াবা, গাজা ও হেরোইনকে রেজিস্টার্ড ওষুধে পরিণত করা প্রয়োজন যা কেবল মাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত ফার্মেসিতে পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে ৫-১০ মিলিগ্রাম ইয়াবা (মিথাইল এমফিটামিন জাতীয় নিদ্রানিবারক ওষুধ) ট্যাবলেটের মূল্য হবে ৫ (পাঁচ টাকা) র অনধিক। ইয়াবাসেবী এবং অতিরিক্ত ইয়াবা ব্যবস্থাপত্র প্রদানকারী চিকিৎসকদের অনুসরণও সহজ হবে। উল্লিখিত পদ্ধতিসমূহ কার্যকর করলে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মাদকাসক্তি বহুলাংশে হ্রাস পাবে, বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রয়োজন হবে না।
অপরপক্ষে মিয়ানমার ও ভারত থেকে মাদকের সরবরাহ সহজেই বন্ধ করতে পারে আমাদের সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি,  পুলিশবাহিনী প্রভৃতি আইনশৃংখলা বাহিনী। তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে ২৮ হাজার মাদক সরবরাহকারীকে জেলে রাখার প্রয়োজন হবে না। অবশ্য এতে পুলিশ ও র‌্যাবের গ্রেফতার বাণিজ্য বাবদ ব্যবসা নষ্ট হবে প্রায় একশত কোটি টাকার।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ ৫,৭০২ ( পাঁচ হাজার সাতশত দুই) কোটি টাকা আলাদা করে দেখানো প্রয়োজন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ১ হাজার ৪৯৮ (এক হাজার চারশত আটানব্বই) কোটি টাকার সঙ্গে যোগ করে দেখানোই যুক্তিসঙ্গত কিংবা মাদ্রাসা শিক্ষাকে ‘প্রাথমিক, গণশিক্ষা ও আধুনিক মাদ্রাসা শিক্ষা’ শীর্ষক মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত করা হবে সঠিক পদক্ষেপ।
রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অধীনে সকল সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ( বিশ্ববিদ্যালয়) দেখভাল ন্যস্ত হলে উচ্চশিক্ষা গতিশীল হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (টএঈ) ও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অধীন হওয়া বাঞ্চনীয়। উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও বটে। স্মরণযোগ্য যে কার্যক্রমবিহীন অলস জীবন যাপনে রুগ্ণ হয়ে অতীতে রাষ্ট্রপতি কয়েকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অবশ্যি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বাবদ বরাদ্দ রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে স্থানান্তর ন্যায্য কাজ হবে।
উপেক্ষিত সুশাসন ও প্রশিক্ষণ
বাজেটে অর্থমন্ত্রীর সুশাসন সম্পর্কে  দু’পৃষ্ঠা বক্তব্য থাকলেও সুশাসন স্থাপনের সদিচ্ছার কোনো প্রমাণ প্রস্তাবিত বাজেটে প্রকাশ পায়নি। সুশাসনের ভিত্তি হবে সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি হ্রাসের জন্য যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণ।
কেন্দ্রিকতা যানজট ও হয়রানি বৃদ্ধি করে এবং জনগণকে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত করে। ঢাকা শহরের পুরানো হাসপাতালসমূহ যথা ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বিএসএমএমইউ ও পঙ্গু হাসপাতালে ১০ থেকে ১৪তলা বিল্ডিং তৈরি করলেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি হবে না, তবে অগ্নিনির্বাপক বিভাগের কাজ জটিল হবে এবং কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাবে। এটা ভুল পদক্ষেপ। সঠিক পদক্ষেপ হতো  প্রধানমন্ত্রীর দুইটি নির্দেশের দ্রুত বাস্তবায়ন- প্রথমত ঢাকা শহরে কর্মরত কয়েকশত চিকিৎসককে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দুই বছরের জন্য প্রেরণ এবং ৪০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নবীন চিকিৎসকদের এক বছর ইন্টার্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ। সঙ্গে প্রতিবছর মেডিকেল ছাত্রদেরও সেখানে ট্রেনিং ব্যবস্থা করা। নবীন ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ এক বছর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দ্বিতীয় বছর সার্বক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (টঐঋডঈ) সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নেবেন। এতে স্থানীয় জনসাধারণ উপকৃত হবেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ইউনিয়নের চল্লিশ থেকে ষাট হাজার জনগণ ২৪ ঘণ্টা উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং শহরবাসী মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সন্তানদের পল্লী ভীতি কাটবে।
ঢাকা শহরের ব্যাপক জনসাধারণকে অকারণে সরকারি বড় হাসপাতালে ভিড় করা ও দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করার নিমিত্তে ঢাকা শহরের ৯৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ৪-৫টি জেনারেল প্রাকটিশনার (এচ) সেন্টারের উদ্বোধন করলে নগরবাসী উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। প্রতি (এচ) সেন্টারে দুইজন এমবিবিএস চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, প্যাথলজি টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট ও ফিজিওথেরাপিস্ট নিবন্ধিত পরিবারকে সেবা দেবেন । রেফার না হলে কেউ সরাসরি বড় হাসপাতালে ভিড় করতে পারবেন না। ক্লিনিক ভাড়া, ফ্রি ওষুধ ও বেতন ভাতা বাবদ দেড় কোটি নগরবাসীর জন্য অনধিক ৪০০ কোটি টাকা বছরে ব্যয় হবে।
সুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে প্রথম বছর এক হাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে ৪ জন চিকিৎসকের বাসস্থান, ১০-১৫ জন ছাত্রের জন্য ডরমিটরি, ক্লাসরুম, লাইব্রেরির জন্য মাত্র ৬ হাজার বর্গফুটের বিল্ডিং তৈরির প্রয়োজন হবে। এতে সর্বসাকুল্যে ব্যয় মাত্র ১২০০ বার শত কোটি টাকা (১০০০ কেন্দ্রে ী ৬০০০ বর্গফুট ী ২০০০ টাকা) খরচ হবে।
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা, গুলের মূল্য ৩০ (ত্রিশ টাকা). প্রতি দশ শলাকা বিড়ির মূল্য ১০ (দশ) টাকা এবং দশ শলাকার সিগারেটের মূল্য একশত টাকা ধায্য করে ৬৫% সম্পূরক কর আরোপ করা হলে শুল্কলব্ধ অর্থ দিয়ে ৫০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও নগর এচ সেন্টারের সকল ব্যয় বহন সহজ হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ক্ষতিকর এনার্জী ড্রিংকস ও অন্যান্য ধরনের মদের উপর অধিক হারে সম্পুরক শুল্ক ধার্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে চুইংগাম, সুগার কনফেকশনারি, চকোলেট, ককো ও পলিথিন প্লাস্টিক ব্যাগের উপর ৫-১০% সম্পূরক কর যথেষ্ট নয়। একইভাবে তামাকজাত পণ্যের উপর থেকে ২৫% রপ্তানি শুল্ক প্রত্যাহার ভুল কাজ হবে।
সংবিধানের ১১,৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের যথাযথ প্রয়োগের নিমিত্তে সারা বাংলাদেশকে ১০টি প্রদেশ বা বঙ্গবন্ধুর বিকেন্দ্রীকরণের স্বপ্নানুযায়ী ৬৫টি স্টেট সৃষ্টির জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন ছিল। নিদেনপক্ষে অনুচ্ছেদ ৫৯ অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সৃষ্ট স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত জেলা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদেশে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ‘ঊষবপঃবফ উরংঃৎরপঃ ঐবধষঃয / ঊফঁপধঃরড়হ/ ঞবপযহরপধষ ঞৎধরহরহম / ঝড়পরধষ ঝবপঁৎরঃু অঁঃযড়ৎরঃু স্থাপন একান্ত প্রয়োজন। এই জাতীয় স্বয়ং শাসিত জেলা কর্তৃপক্ষ স্থাপনের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। আমলা ও নগরবাসী রাজনীতিবিদরা  কেন্দ্রিকতা পছন্দ করেন, নিদেনপক্ষে কেন্দ্রের আমলা দ্বারা স্থানীয় শাসন নিয়ন্ত্রণ।
বিশ্বস্বাস্থ্য পরিসংখ্যান মতে প্রতি বছর ৫২ লাখ পরিবার দরিদ্রসীমার নিচে নামছে স¦াস্থ্য খরচের বোঝার জন্য। এটা নিরসনে বাজেটে কোনো উদ্যোগ নেই।
অসচ্ছল যুদ্ধাহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আনুমানিক দশ হাজারের বেশি নয়। তাদের জন্য ৪০০ (চারশত) কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সুশাসনের স্বার্থে এই বরাদ্দ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর  করা যুক্তিসংগত পদক্ষেপ হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা, উৎসব ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বিজয় দিবস ভাতা কি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রদর্শন না ঘুষ দিয়ে ভোট কেনার ব্যবস্থা তা বিবেচনা প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন আর কৃষক শ্রমিকরা দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ দৃঢ় করছেন। এদের কথা অর্থমন্ত্রী ভুলে গেছেন। মোট ৬৫ বছরের বয়স্ক ব্যক্তিসংখ্যা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, দরিদ্র মাতা ও ল্যাকটেটিং মাতাদের কিছু অংশকে ভাতা দানের অর্থ হচ্ছে কেন্দ্রের সরকারের নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতির বিস্তার। ক্যানসার, বিকল কিডনি, লিভার সিরোসিস ও স্ট্রোকের রোগীকে পনের হাজার টাকা অনুদান দালালের আয় বৃদ্ধি ছাড়া রোগীর চিকিৎসায় কিঞ্চিৎ লাভ হয় না। পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সংস্কার প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টিতে (পৃ.১০৯-১০)  ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে আগত দুই কোটির অধিক সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী  মনে হলেও, অধিকাংশ অর্থনীতিবিদদের  ন্যায় ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন যে, দেশের দুই কোটি বেকারের ৪৭% স্নাতকধারী তরুণ যারা দেয়ার কথা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’, তারা মাদকাসক্তি ও অপরাধমূলক  কর্মকা-ে লিপ্ত হয়ে সৃষ্টি করছে ‘ডেমোগ্রাফিক নাইটমেয়ার’ বা দুঃস্বপ্ন।
অর্থমন্ত্রীর ভাই জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রতিনিধি ড. এ. কে আবদুল মোমেনের মতে ‘বাংলাদেশের লক্ষণীয় সম্পদ মানুষ ও প্রাণি ছাড়া কিছু নেই। অশিক্ষিত লোকের মধ্যে বেকারত্ব ৪.৫ শতাংশের বেশি নয়। ৪৯ শতাংশ হচ্ছে ২৫ বছরের নিচে এবং শিক্ষিত বেকার সংখ্যা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং তা দিন দিন বাড়ছে’ (বণিক বার্তা ৩০ মে ২০১৮)। তদুপরি আন্তর্জাতিক ইকোনমিক কোরামের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে ১৭৬ দিন লাগে, সেক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় প্রয়োজন হয় মাত্র ১৭ দিন। বাংলাদেশি আমলা মালয়েশিয়ান থেকে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতায় দুর্বল নন, দীর্ঘসূত্রতা  বাংলাদেশে দুর্নীতির হার বৃদ্ধির অন্যতম পদ্ধতি। বিশ্বব্যাংকের ২০১৭ সনের প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে অর্থ প্রেরণ সংক্রান্ত রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে যে, ৭.৮ মিলিয়ন বাংলাদেশি দেশে পাঠিয়েছে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলার, অপর পক্ষে ৬ মিলিয়ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফিলিপিনো শ্রমিকগণ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশের দ্বিগুণের ও অধিক, সমসংখ্যক পাকিস্তানি শ্রমিকগণ পাঠিয়েছেন  ২০ মিলিয়ন ডলার। ১৬.৪ মিলিয়ন ভারতীয় শ্রমিকগণ ভারতে অর্থ প্রেরণ করেছেন ৭০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে কর্মরত লক্ষাধিক ভারতীয় বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রেরণ করেছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার।
 সউদিরা মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের জন্য অনুদান দিতে আগ্রহী কিন্তু প্রশিক্ষণবিহীন বাংলাদেশি মুসলিম শ্রমিকদের সউদি আরবে কর্মসংস্থানে উৎসাহী নন। তাদের প্রিয় প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত শ্রীলংকা ও ফিলিপিনো শ্রমিকগণ বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত সামাল দিচ্ছেন রেডিমেড গার্মন্টেস্ শিল্পের ৪ মিলিয়ন নারী শ্রমিক এবং দশমিলিয়ন অনধিক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক। এদের নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট’ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ মাত্র ২২৭ ( দুই শত সাতাশ) কোটি টাকা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ মাত্র ৫৯৫ (পাঁচ শত পঁচানব্বই) কোটি টাকা। অথচ এসব শ্রমিকগণ আয় করেন বছরে ত্রিশ বিলিয়ন ডলার।

কতিপয় কর সংস্কার সুপারিশ
কোনো বাজেট সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় এবং বাজেটে সকলকে সন্তুষ্ট করা অসম্ভব ব্যাপার। কখনো কখনো কর্তৃপক্ষ ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে ভুল কাজ করেন। কর সংস্কার সুশাসনের  অংশ।
১. ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা চার লাখ টাকা হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে আংশিক বা সার্বক্ষণিকভাবে কর্মরত সকল ব্যক্তি, এমনকি ফুটপাতের দোকানদার ও ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেবেন বছরে ন্যূন এক হাজার টাকা জমা দিয়ে। গৃহকর্মীদের ফি জমা দেবেন গৃহকর্মীর পক্ষে গৃহমালিক। উল্লেখ্য যে, ফুটপাতের দোকানদারদের প্রত্যেকে ভ্রাম্যমাণ পুলিশকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা ঘুষ দেন খাজনা হিসাবে তদুপরি স্থানীয় থানাকে প্রতি সপ্তাহে ৩০০-৫০০ টাকা উপঢৌকন দেন, স্থানীয় মাস্তানদের দেন কমপক্ষে দৈনিক ১০০ টাকা চাঁদা।
২. সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রশিক্ষণের কর হার কমানো ভুল কাজ হবে। এদের কর হার অবশ্যই ৪০% হওয়া উচিত। একইভাবে মোবাইল কল অপারেটর কোম্পানির করহার ৪৫% হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৩. দেশে ব্যবহৃত ফরমুলেটেড ওষুধের মূল্য সুলভ করার লক্ষ্যে সরকার  টেবিল-১ এ অন্তর্ভুক্ত ১৪১টি কাঁচামালের মধ্যে ৮১ টির শুল্ক ৫% এবং বাকি ৬০টির শূন্য শুল্কহার ধার্য করেছেন। কতিপয় ক্যানসার ও বিকল কিডনি রোগের ওষুধের কাঁচামালকে শূন্য শুল্ক আওতায় আনা হয়েছে। টেবিল-২ অন্তর্ভুক্ত ১১টি কাঁচামাল ও সামগ্রীর শুল্ক ১০০ ও ১৫% করা হয়েছে। (পৃ. ১৩৮-১৪১)
 দুই তিন হাজারের  শুল্কের পরিবর্তে সকল ওষুধের কাঁচামাল ও সামগ্রীর উপর শূন্য (০%) শুল্কের পরিবর্তে সকল কাঁচামাল সামগ্রীর উপর ৫% শুল্ক ধার্য করলে শুল্ক অফিসে দুর্নীতি ও হয়রানি কমবে। এবং ১৯৮২ সনের জাতীয় ওষুধ নীতির মূল্য নির্ধারণ নিয়মাবলী প্রয়োগ করলে দেশের সকল ওষুধের গজচ মূল্য অর্র্ধেকে নেমে আসবে ভোট সুবিধা হবে। অপর পক্ষে সরকারের আয় বৃদ্ধিও হবে।
৪. ওষুধ শিল্পের সক্রিয় কাঁচামাল (ইঁষশ উৎঁমং) উৎপাদনে ব্যবহৃত সকল রাসায়নিক দ্রব্যের শুল্ক মুক্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানির জন্য আগামী পাঁচ বছর ২৫% ক্যাশ ইনসনটিভ দিন এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট আমদানিকৃত ইঁষশ উৎঁমং এর ২৫% শুল্ক ও সম্পূরক কর ধার্য করলে দেশে বহু অচও ফ্যাক্টরি স্থাপিত হবে। বর্তমানে দেশে ২৫০ ওষুধের ফরমলেশন ইউনিট আছে, কিন্তু কাঁচামাল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আছে মাত্র দশটি।
৫. বাংলাদেশি স্নাতক তরুণ তরুণীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রতি জেলায় স্বায়ত্তশাসিত কর্ম প্রশিক্ষণ ও সংস্থার জন্য জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্তৃপক্ষ’ (উরংঃৎরপঃ ঞবপযহরপধষ ঞৎধরহরহম ্ ঋড়ৎবরমহ ঊসঢ়ষড়ুসবহঃ অঁঃযড়ৎরঃু) স্থাপন প্রয়োজন সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের আলোকে।
সকল কারিগরি কেন্দ্রে আরবি, জাপানি, চৈনিক, ইউরোপীয় ভাষা জার্মান, ইংরেজি, স্পেনিস ও পর্তুগিজ ভাষায় কথোপকথন নিদেন পক্ষে দুইটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করবেন এবং বয়স্ক যতœ, গৃহকর্ম পরিচালনা, ড্রাইভিং, শিশু প্রতিপালন, নির্মাণ, কৃষিকাজ, ফলদ বাগান ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে কারিগরি ব্যুৎপত্তি অর্জন করবেন যাতে উচ্চ বেতনে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। প্রশিক্ষণই উন্নত জীবন যাপনের চাবিকাঠি। এ সকল কেন্দ্রে বছরে হাজার দুয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্নাতক কর্মীরা অতিরিক্ত একাধিক বিলিয়ন ডলার বিদেশে অর্জন করে স্বদেশে রেমিটেন্স পাঠাবেন।
৬. ওষুধের ফরম্যুলেশন ইউনিটে অল্প বিনিয়োগে লাভ বেশি হয়। অপরপক্ষে ওষুধের কাঁচামাল শিল্পে  (অপঃরাব চযধৎসধপবঁঃরপধষ ওহমৎবফরবহঃ – অচও) বিনিয়োগ বেশি কিন্তু লাভ কম । দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন ব্যবস্থা দৃঢ় না হলে বিদেশে বাংলাদেশের ওষুধের রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়বে।
৭. গার্মেন্টস শিল্প লাভজনক শিল্প। বর্তমান বাজেটে ১৫% করহার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই শিল্পের কর হার ন্যূনতম ২০% হওয়া বাঞ্ছনীয়। লব্দ অতিরিক্ত কর দিয়ে শ্রমিকের পূর্ণ স্বাস্থ্য সুবিধা ও সামরিক বাহিনীর দরে রেশনিং সুবিধা দিলে শ্রমিকের পুষ্টি বাড়বে, সঙ্গে বাড়বে তাদের উৎপাদনশীলতা। বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কার কর্মীদের ২/৩ অংশ মাত্র।
৮. গুঁড়ো দুধের আমদানি শুল্ক না কমিয়ে দেশে গাভি ও ছাগি পালনের প্রণোদনা দিলে অধিকসংখ্যক দরিদ্র জনগণ উপকৃত হবেন ।
৯. প্রতি জেলায় ড্রাইভিং ও গাড়ি নিবন্ধন অফিস স্থাপন করে, বর্তমানে প্রচলিত গাড়ির শ্রেণি বিন্যাস স্তর ২০ থেকে কমিয়ে ৯ (নয়) স্তরে নামিয়ে আনলে দুর্নীতি ও হয়রানি কমবে । ৫ বা ১০ বছরের নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করলে রেজিস্ট্রেশন বাবদ প্রয় ১ হাজার কোটি টাকা আয় হবে। বাস ও এম্বুলেন্সকে জনস¦ার্থে  রোড ট্যাক্সের আওতাবহিভুক্ত করা যুক্তিসঙ্গত হবে। ডিজিটাল নম্বর প্লেটসহ ৫ বছরের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি হবে ১০ হাজার থেকে শুরু করে বাস ট্রাকের জন্য এক লাখ টাকা। একবারে ৫ বৎসরের রোড ট্যাক্স হবে সমপরিমাণে।  সামরিক বাহিনীসহ সকল সরকারি যানবাহনকে নিবন্ধিত হয়ে নির্দিষ্ট হারে রেজিস্ট্রেশন ও রোড ট্যাক্সও দিতে হবে।
১০. গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার দায়িত্ব বেসরকারি স্থানীয় গ্যারেজের নিকট স্থানান্তর হবে হয়রানি থেকে মুক্তির পথ। প্রতি দুই বছর পরপর গ্যারেজের মাননিয়ন্ত্রণ করবেন জেলা ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছর নতুন এক লাখ মোটরসাইকেল, অটোরিকশা প্রভৃতি এবং এক লাখ অন্যান্য গাড়ি রাস্তায় নামছে। এক লাখ নতুন ড্রাইভার তৎসঙ্গে।

১১. বিচার বিভাগের হয়রানি, মামলায় জট কমানোসহ গতিশীলতার জন্য হাজিরা ও শুনানির জন্য নিম্ন আদালতে প্রতিবার ১০০০ টাকা এবং উচ্চ আদালতে প্রতিবার দুই হাজার টাকা ফি ধার্য যুক্তিসংগত হবে। নি¤œ আদালতের ১০০০ টাকার ৫০০ টাকা পাবেন প্রতিপক্ষের আইনজীবী। তিনবারের বেশি সময় নিলে উপস্থিতি  ফি দ্বিগুণ হবে। সারাদেশে প্রতিদিন নিম্ন আদালতে ন্যূন ২৫ হাজার মামলা শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। অর্জিত ফি দিয়ে বিচারক বিচারপতিদের বেতনভাতা বাড়ানো হবে যাতে তাদের কর্মদক্ষতা ও কর্মস্পৃহা বাড়ে। ফলে মামলা জটও হ্রাস পাবে।



ছক -৩ : এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত চালু গাড়ির খতিয়ান
    

মোটর সাইকেল    অটোরিকশা, টেমপো, পিকআপ প্রভৃতি    প্রাইভেটকার, জিপ, মাইক্রোবাস প্রভৃতি    

ট্যাক্সি ক্যাব    

এমবুলেন্স    কাভার ভ্যান, কার্গোভ্যান,  ডেলিভারী ভ্যান প্রভৃতি    

বাস    ট্রাক, ট্যাংকার, ট্রাক্টর, বিশালাকৃতি যান প্রভৃতি    

অন্যান্য
সংখ্যা    ২১,৭৭,৬১৩    ৪,০৫,৮৬৬    ৫১৮৬৭৮    ৪৫২৫৪    ৫৩৫২    ১৭১২৮৮    ৪৪৮৩২    ২৯২৩০৫    ১৭০৫৪
৫ বছর  মেয়াদি নিবন্ধন ফি (টাকায়)    ১০,০০০    ১৫,০০০    ৪০,০০০    ৩০,০০০    ২০,০০০    ৬০,০০০    ১,০০,০০০    ১,০০,০০০    ৪০,০০০
৫ বছর  মেয়াদি রোড ট্যাক্স (টাকায়)    ২০,০০০    ৩০,০০০    ১,০০,০০০    ১,০০,০০০    ফ্রি    ১,০০,০০০    ফ্রি    ৩,০০,০০০    ৫০,০০০
১০ বছর মেয়াদি ড্রাইভিং লাইসেন্স    ৫০০০    ৫০০০    ১০,০০০    ১০,০০০    ১০,০০০    ২০,০০০    ৩০,০০০    ৩০,০০০    ১০,০০০
সূত্র : তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে সংখ্যাতত্ত্ব

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট ২০১৮-১৯
২৬ মে ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ঢাকাসহ অপর ১০টি জেলায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সংবিধানের ১১, ৫৯, ও ৬০ অনুুচ্ছেদের আলোকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মাণে’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রায় তিনগুণ বড় ১২,১৬,৪০০ ( বার লাখ ষোল হাজার চারশত কোটি) টাকার বিকল্প বাজেটে ‘২০১৮-১৯’ প্রকাশ করেছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ হচ্ছে ‘প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করন’, ৫৯ অনুচ্ছেদ হচ্ছে ‘স্থানীয় শাসনের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা’, ‘প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের কার্য, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ‘জনসাধারণের কার্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নিমিত্তে।’ ৬০ অনুচ্ছেদ হচ্ছে ‘স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থানীয় কর আরোপ করিবার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা, অধিকার ও দায়িত্ব’।
বাংলাদেশ অর্থনীতির সমিতির মূল বক্তব্য, ‘মুক্ত বাজারের উন্নয়ন দর্শন আর্থ-সামাজিক বৈষম্যকে প্রকটতর করেছে, বাড়িয়েছে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, গ্রাম ও শহরের বৈষম্য, দুর্বল সবলের বৈষম্য এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য। পাশাপাশি বাড়ছে গুটি কয়েক সুপার ধনী। আইন-বিচার সরকার রাজনীতি বস্তুত; রেন্ট সিকার ক্ষমতাবাজদের পক্ষে, দুশাসনের মাত্রাতিরিক্ততা সুশাসনকে কাগুজে বুলিতে পরিণত করেছে। এছাড়াও মৌলবাদের অর্থনীতির ২০১৬ সালে নিটলাভ হয়েছে ৩,১৬২ (তিন হাজার একশত বাষট্রি) কোটি টাকা। এবং বাংলাদেশে প্রতি তিনজন ছাত্রের একজন মাদ্রাসার ছাত্র। এসব হলো ভবিষ্যতে ধর্মের নামে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বর্তমান বিনিয়োগ।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবে ‘ঢাকামুখী এককেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে জেলা উপজেলায় ‘দাপ্তরিক বি-কেন্দ্রীকরণ ও সকল সিটি কর্পোরেশনে সিটি গর্ভমেন্ট গঠন, প্রতিরক্ষা খাতে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ব্যয় কমানো ও জনসম্মুখে প্রকাশ, কৃষি খাতের বিপণন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম হ্রাস এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য ‘আয় ও মুনাফার উপর কর’, মূল্যসংযোজন কর, পৌর হোল্ডিংকর, বেসরকারি হাসপাতাল নিবন্ধন ফি, ওষুধ প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও নবায়ন ফি, বিদেশি নাগরিকদের উপর কর, মাদক শুল্ক, যানবাহন কর, কালোটাকা উদ্ধার থেকে প্রাপ্তি, অর্থপাচার থেকে প্রাপ্তি, বিউটি পারলার, আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসের ক্যাপাসিটি কর প্রভৃতি থেকে ২,৬০,৯৫০ (দুই লাখ ষাট হাজার নয়শত পঞ্চাশ কোটি) টাকা আদায় সম্ভব মনে করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। তদোপরি ‘বন্ড মার্কেট’ ও সরকারি বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব থেকে পাওয়া যাবে ১,৪৫,৫৮০ (এক লক্ষ পঁঁয়তাল্লিশ হাজার পাঁচশত আশি কোটি) টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫০,০০০ ব্যক্তি আছেন যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক কোটির বেশি কর আদায় সম্ভব এবং উচিতও বটে।
সমিতির বিকল্প বাজেট সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশের বক্তব্য হলো, ত্রয়ী ক্ষমতা কাঠামো অর্থাৎ ‘অসৎ আমলা+অসৎ রাজনীতিবিদ+অসৎ ব্যবসায়ী’ চক্র না ভেঙে, বহুল ঈপ্সিত সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যতীত বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগণের জন্য বিরাট কিছু অর্জন সম্ভব নয়’ (-আমাদের সময়, ৯ জুন ২০১৮)।
 ট্রাস্টি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
  • ভারতমুখী রাজনীতি -শুভ কিবরিয়া
  • ভারতের ভুলের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে -আনিস রায়হান
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive