Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২১ ১৯শে কার্তিক, ১৪২৫ ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
ল্যাটিন ছাড়া জমজমাট বিশ্বকাপ -শুভ কিবরিয়া  
এবারের বিশ্বকাপ যে ভিন্নরকম উত্তেজনা ছড়াবে তার প্রথম প্রমাণ রাখে আইসল্যান্ড। খুব কম জনসংখ্যার এই দেশ ফুটবল জায়ান্ট আর্জেন্টিনাকে থমকে দেয় গ্রুপ পর্বের ৬ষ্ঠ খেলায়। ১৬ জুন ২০১৮ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় মস্কোর স্পার্তাক ভেন্যুতে ১-১ গোলে ড্র করে আইসল্যান্ড মেসির দলের অগ্রযাত্রায় বড় ধাক্কা দেয়। একই রকম ধাক্কা আনে ইউরোপের ফুটবল খেলুড়ে দেশ সুইজারল্যান্ড। বাণিজ্য আর পর্যটনের দেশ সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় ল্যাটিন ফুটবলের অন্যতম দিকপাল ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ১৭ জুন গ্রুপ পর্বে ১-১ গোল ব্রাজিল-সুইজারল্যান্ড খেলাটি ড্র হয়। শক্তিমত্ত ক্রোশিয়ার কাছে গ্রুপ পর্বে ৩-০ গোলে গোহারা হারে আর্জেন্টিনা। তারপর দ্বিতীয় রাউন্ডে যায় তারা। কিন্তু ফ্রান্সের দমকা হাওয়া আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। ল্যাটিন দল উরুগুয়েও ছিটকে পড়ে এই ফ্রান্সের কাছেই। কোয়ার্টার ফাইনালে এক অলআউট ম্যাচে ফ্রান্স ২-০ গোলে উরুগুয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা থামিয়ে দেয়। ল্যাটিন দল ব্রাজিলের স্বপ্নযাত্রার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবারের বিশ্বকাপে নন্দনশৈলীময় ফুটবল দেখানো দল বেলজিয়াম। বেলজিয়াম ঝড়ে উপড়ে যায় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, কোয়ার্টার ফাইনালেই।
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হবার পর জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ের ছিটকে পড়া এবারের বিশ্বকাপে এক অনন্য ঘটনা। বিশেষত বাংলাদেশের ফুটবলপাগল দর্শকদের প্রিয়তম দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালেই ঝরে পড়ায়, বিশ্বকাপ উত্তেজনা এখানে অনেকটাই থিতিয়ে যায়।
সেমিফাইনালে অংশ নেয়া সব দলই এখন ইউরোপের।

অঘটন না বাস্তবতা
এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যে বড় বড় চাঁইরা শেষ পর্যন্ত যেতে পারল না এটাকে কি আমরা অঘটন বলব, না এটাই আসলে বাস্তবতা। সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে দেখা যাক বিগত সময়ের ফলাফল কী বলে? ১৯৭০ সাল থেকে যদি আমরা বিশ্বকাপের রোল অফ অনার দেখি সেখানে ফাইনালে জার্মানি, ব্রাজিল, ইতালি, আর্জেন্টিনা, হল্যান্ড দলকে বারবার দেখতে পাই। ফ্রান্স দুবার এবং স্পেন দলকে একবার ফাইনালে খেলতে দেখতে পাই। যদিও বিশ্বকাপ ফুটবলের রোল অফ অনারে ১৯৭০ সালের পর থেকে ফাইনালে জার্মানি, ব্রাজিল, ইতালি, আর্জেন্টিনা, হল্যান্ড দলই প্রাধান্য বিস্তার করেছে। ল্যাতিন আমেরিকার দল উরুগুয়ে ১৯৫০ সালের পর আর বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেনি। কিন্তু এবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসরে ইতালি, হল্যান্ড ঢুকতে পারেনি। বাছাইপর্বেই আটকে গেছে এই দুই বড় দল। চূড়ান্ত পর্বের সেমিফাইনাল লড়াইয়েও নেই জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, উরুগুয়ে। ইতিপূর্বে বিশ্বকাপ জিতেছে এমন দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ফ্রান্সই গেছে এবারের আসরের সেমিফাইনালে। লাতিন আমেরিকার কোনো দলই বিশ্বকাপ-২০১৮ তে সেমিফাইনালে যেতে পারেনি। এই লেখা যখন লিখছি তখন চূড়ান্ত হয়ে গেছে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-বেলজিয়াম এবং ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া।
ইউরোপের ফুটবলের এই জয়জয়কারের কারণ কী? একটা কারণ হতে পারে, জমজমাট ক্লাব ফুটবলের বড় বড় আসর আয়োজন করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ফুটবলে ইউরোপ প্রচুর অর্থলগ্নি করে। সেটা তাদের রেজাল্ট অরিয়েন্টেড ফুটবলের দিকে মনোযোগী করেছে। সারা বছর তারা ফুটবল নিয়েই মাতোয়ারা থাকে। এক ধরনের ফুটবল মগ্নতার ফলাফলকেন্দ্রিক ফুটবলদর্শন হয়তো ইউরোপকে এই লড়াইয়ে এগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার ফুটবল বহু স্টারের জন্ম দিলেও তারা গোলকেন্দ্রিক আধুনিক ফুটবলকে ততটা এগিয়ে নিতে পারেনি। স্টার নির্ভরতার কারণে দলের চেয়ে স্টার বড় হয়েছে বটে কিন্তু ল্যাতিন আমেরিকার দলগুলো সমন্বিত দল হয়ে উঠতে পারেনি। স্টাররা যেদিন পারফর্ম করেছে সেদিন দল ভালো করেছে, স্টারদের খারাপ দিনে দলকে বিষণœ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আবার দলের মধ্যে প্রচুর নতুন কমবয়সী খেলোয়াড়ের সমাবেশও ঘটেনি। ইউরোপ এক্ষেত্রে এগিয়ে থেকেছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম তার উদাহরণ।
গতিময় ফলাফলকেন্দ্রিক ফুটবলে অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের একটা মিশেল এবার বিশ্বকাপে ইউরোপের দলগুলোকে এগিয়ে রেখেছে। যদিও স্পেন তার ব্যতিক্রম। একঝাঁক নামি কিন্তু বয়সী খেলোয়াড়ের ওপর ভর করে এগুতে চেয়েছে স্পেন। ফলাফল তাই শেষ পর্যন্ত তাদের অনুকূলে যায়নি।
অন্যদিকে স্টার খেলোয়াড়রা ক্লাব ফুটবলে সতীর্থ হিসেবে পান নামি দামি গুণী সব খেলোয়াড়কে। সেটা তাদের স্টারত্ব বজায় রাখতে সহায়ক হয়। মেসি বা রোনালদো কিংবা নেইমার ক্লাব ফুটবলে যাদের সাথে খেলেন জাতীয় দলের মধ্যে সবসময় সেই মানের স্টার সতীর্থ পাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাড়তি চাপ নিতে হয় তাদের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময়। সেটাও তাদের খেলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আবার দলগুলোর শক্তি সম্পর্কে একটা বাজারি প্রচারণাও আছে। ফুটবল নিজেই এখন বড় বাণিজ্য। ফুটবলকে কেন্দ্র করে মিডিয়াও বড় বাণিজ্য চালায়। ফলে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে জনতুষ্টিমূলক প্রচারণার একটা প্রবণতা চলে বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই। যেহেতু মেসি বা নেইমার বা রোনালদো সারাবিশ্বে জনপ্রিয়, তাই তাদের দল চ্যাম্পিয়ানশিপ ফাইট দেবে এরকম পূর্ব প্রচারণা বাণিজ্যিকভাবেই চলে। সেটা বেলজিয়াম বা ফ্রান্স বা ক্রোয়েশিয়ার মতো দলকে নিয়ে হয় না। হয় না আইসল্যান্ডের মতো দলকে নিয়েও। ফলে বাস্তবে শক্তির বিচারে যাই হোক না কেন বাণিজ্যের বিচারে অনেক দল এগিয়ে থাকে। তাই এবারের বিশ্বকাপকে নিয়ে প্রচারণার যে ঢং আর বাস্তবে যা ঘটল তার মধ্যে ফারাক অনেক, তবে সেটাকে অঘটন বলা মুশকিল।

বাংলাদেশ সমাচার
বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশে মাতামাতি অন্য অনেক দেশের চেয়ে বেশি। ফুটবলে একটা আগ্রহী জেনারেশন সবসময় ছিল এখনো আছে। তার ওপর অছে বাঙালির আবেগজনিত উম্মাদনা। নিজের দেশ বিশ্বকাপে নেই তো কী হয়েছে, দলে বা গ্রুপে ভাগ হয়ে আমরা আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল বা জার্মানি বা পর্তুগাল বা ফ্রান্স হয়ে নিজেদের গোপন স্বপ্নকে মিথ্যা আশায় ভর করে চালিত হই এই একমাস। তাতে ঢোলের বাড়ি দেয় মিডিয়া। মুনাফা আর বাণিজ্যের ওপর সওয়ার হয়ে ফুটবলকে নিয়ে বাড়তি মাতামাতি চালায় তারা। জনতা খাবে বলে ‘আর্জেন্টিনা’ কিংবা ‘ব্রাজিল’ নিয়ে চলে বাড়তি গসিপ। এই গসিপ প্রণোদনা দেয় ভীষণ। রাজনৈতিক বিভক্তির সংস্কৃতি ভর করে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলার সমর্থনেও। তাই বিভিন্ন দলের সমর্থকরা হয়ে যায় বিভাজিত। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের মতো এই একমাস আমরা হয়ে পড়ি পরস্পরের প্রতিপক্ষ। রাজনৈতিক বা সামাজিক সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে যা যা আমরা করি সেটাই চলে আমাদের  ফুটবল সমর্থনেও। আমাদের ফুটবলের মান যাই হোক, ফুটবলের সম্ভাবনা যে অন্ধকারেই থাকুক না কেন আমরা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য দলের পতাকা জড়িয়ে এক অদ্ভুত ঘোর লাগা শিহরণ নিয়ে মেতে থাকি।
বিশ্বকাপ ফুটবলে ল্যাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়ার অনেক অনেক দেশের উত্তেজনাময় ফুটবল উপভোগ করি আমরা এক ঘোরলাগা উন্মাদনায় আর তাতে আমাদের মনের কুঠুরিতে একটা গোপন স্বপ্নও বড় হয়ে ওঠে। মনে মনে আমরা দেশের ফুটবলে মেসি, রোনালদো, নেইমার, ইনিয়েস্তা, এমবাপ্প, হ্যারি কেন, লুকাকু, মডরিচের মতো ফুটবলারদের আবির্ভাব কল্পনা করি কিন্তু আমাদের সে স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। এই স্বপ্নভঙ্গ আর বেদনা নিয়েই দেখতে দেখতে চলে যায় বিশ্বকাপের আসরও!

তবুও আনন্দ
এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যদিও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানির মতো দল নেই তবুও বলা চলে এবারের ফুটবল আসর জমে উঠেছে দারুণভাবেই। যেসব দল সেমি ফাইনালে উঠেছে তারা সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় ফুটবল খেলেই যোগ্যতার সাথে তাদের সামর্থ্যরে প্রমাণ রেখেছে। এবারের আসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তির প্রভাব খেলায় অপসুযোগের হার কমিয়ে দেয়ায় ফুটবল অধিকতর গোলকেন্দ্রিক হয়েছে। এবারের আসরে পেনাল্টি কিক বেশি এসেছে প্রযুক্তির নিখুঁত চোখের কারণেই। জায়ান্ট দলগুলোর বাইরে এশিয়ার জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়া অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিয়েছে। হিসাবের বাইরে থাকা স্বাগতিক রাশিয়ার অসাধারণ শক্তিমান ফুটবল দর্শকদের মন ভরিয়ে দিয়েছে।
নেইমার, মেসি, রোনালদোর খেলা মানুষ মিস করবে বটে কিন্তু মনে রাখবে নতুন তারকা এমবাপ্পে, লুকাকু, মডরিচসহ এই বিশ্বকাপের আসর মাতানো হ্যারি কেনের কথা।
কাজেই ল্যাতিন আমেরিকার দৃষ্টিনন্দন ফুটবল শেষাবধি এই আসরকে মাতিয়ে না রাখলেও ইউরোপের গতিময়, ফলাফলকেন্দ্রিক হিসেবি ফুটবল দর্শকদের সেই অভাব পূরণ করে দেবে। খেলা, আয়োজন সব বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপ তাই স্মরণীয় হয়েই থাকবে।
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
খেলা
  • [খেলা] ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলা
  • মেয়েদের দেখানো পথে কিশোরদের জয়যাত্রা
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive