Logo
 বর্ষ ১০ সংখ্যা ৫০ ১০ই জৈ্যষ্ঠ, ১৪২৫ ২৪ মে, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
ইতালির জাতীয় নির্বাচনে বড় ইস্যু অভিবাসন  
পলাশ রহমান

আগামী ৪ মার্চ ইতালির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ডান এবং বাম জোট। এর বাইরে মুভিমেন্তি চিংকুয়ে স্তেল্লে বা ফাইভ স্টার মুভমেন্ট নামের একটি দলকে তৃতীয় শক্তি হিসাবে দেখা যেতে পারে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইতালীয় প্রেসিডেন্ট সেরজো মাত্তারেল্লা চলমান সংসদ ভেঙে দেন এবং ৪ মার্চ জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করেন। এর একদিন পর ২৯ ডিসেম্বর অফিসিয়ালভাবে নির্বাচনী গেজেট প্রকাশ করা হয়।
কাপো দেল স্তাতো বা রাষ্ট্রপ্রধান চলমান সংসদের মেয়ার শেষে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন ছোট মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে দেন, যারা শুধু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রুটির কাজ করতে পারবে। এর বাইরে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো কোনো ক্ষমতা তাদের হাতে নেই।
উল্লেখ্য, ইতালিতে অনেক রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। অতীতের প্রায় সব নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এ দেশের নির্বাচন কমিশন খুবই শক্তিশালী এবং রাজনীতিকরা জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা অবাধ নির্বাচনে বিশ্বাস করেন। তারা মনে করেন একজন সত্যিকারের রাজনীতিকের যতগুলো মৌলিক গুণাবলি থাকা উচিত তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা, জনরায় মেনে নেয়া।
এবারের নির্বাচনে ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির দল ফরছা ইতালিয়ার সঙ্গে জোটবন্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে লেগা নর্দ এবং ফ্রাতেল্লি ইতালিয়া নামের দুটি দল। ডানপন্থি এসব দল এর আগেও জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে এবং সরকার গঠন করেছে। সরকারে থাকাকালীন সিলভিও বেরলুসকোনি বিভিন্ন ইস্যুতে কড়া বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তিনি রাষ্ট্রীয় কর ফাঁকি দিয়েছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এর দায়ে ক্ষমতা হারানোর পর পিডি (বাম) সরকারের আমলে তিনি আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং এবারের নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন। তিনি সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও নির্বাচনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনোর বেরলুসকোনি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, তার নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় যেতে পারলে ইতালিতে বসবাসকারী ছয় লাখ অভিবাসীকে (ইতালীয় ডকুমেন্টের বাইরে থাকা) বহিষ্কার করবেন। তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করবেন। ইতালীয় অভিবাসী আইন সংস্কার করে বর্তমানের তুলনায় অধিক শক্ত করবেন। তার মতে ইতালিতে বসবাসকারী অভিবাসীরা (ইতালীয় ডকুমেন্টের বাইরে থাকা) সোস্যাল বোমার মতো, যা যে কোনো সময়ে বিস্ফোরিত হতে পারে। ইতালির জাতীয় নিরাপত্তা ব্যাহত করতে পারে।
উল্লেখ্য, সরকারি হিসাব মতে গত বছর ইতালিতে অবৈধ উপায়ে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
ডানজোটের অন্যতম শরিক ফেদেরালে দেল্লা লেগা নর্দ বা নর্দান লীগ (যারা ইতালিতে কট্টর জাতীয়তাবাদী হিসাবে পরিচিত) নেতা মাত্তেয় সালভিনি ঘোষণা করেছেন, তারা ক্ষমতায় যেতে পারলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি কপি করবেন। ইতালির নিরাপত্তার স্বার্থে অভিবাসীদের ওপর অধিক কড়াকড়ি আরোপ করবেন এবং নৌকায় চড়ে ইতালিতে অনুপ্রবেশ বন্ধ করবেন।
তিনি বলেন, নদীপথে অনুপ্রেবেশকারীদের কোনো নৌকা ইতালির সীমানায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। বিশেষ করে মুসলিম অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। ইতালিতে তাদের প্রবেশাধিকার সংকোচন করা হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইতালীয় নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি অভিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ইতালিতে থাকতে হলে বৈধভাবে থাকতে হবে। সরকারকে ট্যাক্স দিতে হবে এবং ইতালীয় কালচার মানতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালভিনি বলেন, ডানজোট সরকার গঠন করলে এমন আইন করা হবে যাতে ইতালীয় ডকুমেন্টের বাইরে থাকা অভিবাসীদের ফেরত নিতে তাদের নিজ দেশ বাধ্য হবে। তিনি বলেন, রিফুজি হিসাবে শুধু তারাই ইতালিতে থাকতে পারবে যাদের দেশে যুদ্ধাবস্থা চলছে, অন্যথায় নয়।
অন্যদিকে বামজোটের নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তেয় রেনসি বলেছেন, ইতালির রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংকট নিরসনের জন্য বাম জোটের কোনো বিকল্প নেই। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জনজীবনের মান উন্নয়ন, কম মাত্রার ট্যাক্স এবং ইতালির মানবিক রূপ ধরে রাখতে হলে বামজোটকে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি বলেন, ডানদের ভোট দিলে ইতালিতে মানবতার সংকট সৃষ্টি হবে। অভিবাসীদের নিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ বছর ইতালির রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল বামজোট সরকার। এ সময়ে অন্তত তিনবার তারা সংসদে আস্থা সংকটে পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। গত বছর সিনোর রেনসি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সংসদে ইতালির সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব তোলেন এবং গণভোটে পরাজিত হয়ে পদত্যাগ করেন।
তুলনামূলক নতুন এবং ইয়াং জেনারেশনের কাছে তুমুল জনপ্রিয় দল মুভিমেন্তি চিংকুয়ে স্তেল্লে বা ফাইভ স্টার মুভমেন্ট। এই দলের প্রধান জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা বেপ্পে গ্রিল্লো। তিনি এবং তার দল ইতালির আমূল পরিবর্তন চায়। তারা মনে করেন অন্যান্য দলের রাজনীতিকরা আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দুর্নীতিজীবী রাজনীতিকদের সরিয়ে সংস্কারমূলক সরকার গঠন করতে পারলেই গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।
এ দলের তরুণ নেতা লুইজি দি মাইয়ো নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধান ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, ইতালির তরুণ যুবক প্রজন্মকে অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতির শেকড়ে আঘাত করতে হবে। ভোটের মাধ্যমে যদি দুর্নীতিবাজদের ‘না’ বলা যায় তবে অটোমেটিক দ্রব্যমূল্য এবং ট্যাক্স কমে আসবে। জনজীবন উন্নত হবে। সুতরাং এবারের নির্বাচনেই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
অভিবাসন বিষয়ে সিনোর মাইয়ো বলেন, ইতালিতে অভিবাসীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে। দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অভিবাসন নীতি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, অভিবাসীরা এখন ইতালিতে ব্যবসা পণ্যে পরিণত হয়েছে। অসাধু রাজনীতিকরা তাদের নিয়ে ব্যবসা করছে। যা ইতালির নিরাপত্তার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মুভিমেন্তি চিংকুয়ে স্তেল্লে ক্ষমতায় যেতে পারলে রাজনীতিকদের এসব অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হবে।
২০০৯ সালে গঠিত মুভিমেন্তি চিংকুয়ে স্তেল্লে যুবসমাজের কাছে বেশ জনপ্রিয় দল হলেও সাধারণ মানুষ এটাকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসাবে মানতে রাজি নয়। তারা মনে করেন এটা একটা মুভমেন্ট বা আন্দোলন। রাষ্ট্রীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন। অভিজ্ঞজনরা মনে করেন মুভিমেন্তি চিংকুয়ে স্তেল্লেকে ভোট দিবে শুধু রাজনীতি বা রাজনীতিকদের উপর ত্যক্ত-বিরক্ত ভোটাররা।
স্থানীয় সংবাদ মিডিয়াগুলোর জরিপ মতে মুভিমেন্তি চিংকুয়ে স্তেল্লে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারতো যদি তারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতো। কিন্তু তারা গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে রাজি হয়নি। তারা এককভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা তাদের বিজয় থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
অভিজ্ঞ মহল মনে করেন প্রধান দুই জোটের বিরুদ্ধে এককভাবে লড়াই করে ৫১ শতাংশ ভোট পাওয়া চিংকুয়ে স্তেল্লেরপক্ষে সম্ভব হবে না। তবে নির্বাচনে তারা তৃতীয় পর্যায়ে থাকতে পারবে অথবা ট্রাম্পকার্ড ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২.
ইতালীয় ভোটারদের সঙ্গে বাংলাদেশি ভোটারদের দারুণ এক মিল আছে, তারা পরপর দুই মেয়াদে একই সরকার দেখতে পছন্দ করে না। এ ধারাবাহিকতা যদি রক্ষা হয় তবে এবারের ভোটে ডানজোট নির্বাচিত হওয়ার কথা। আর তা হলে সত্যিই ইতালিতে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য কিছুটা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ডানজোটের অন্যতম শরিক লেগা নর্দ ইউরোপে শুধু কট্টর জাতীয়তাবাদী হিসাবেই পরিচিত নয়, অভিবাসী বিরোধী বলেও তাদের খ্যাতি আছে।
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রবাসে
  • সেইদিন বেশি দূরে নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিরাই বাংলাদেশে বিনিয়োগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে
  • প্রিয়বাংলার ফ্রি মেডিকেল সেন্টার
  • ইসল কোর্সের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive