Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২১ ১৯শে কার্তিক, ১৪২৫ ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
[বিশেষ প্রতিবেদন] জাপানের গ্রামীণ সংস্কৃতি  
রাহমান মনি

জাপানের গ্রামীণ সংস্কৃতি, আতিথেয়তা, ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার কেনিচি ওকাদা (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)। নিজ নিজ দেশের মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারসহ অন্য যোগাযোগ মাধ্যমে জাপানকে তুলে ধরার জন্য বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ আহ্বান জানান।
২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ রাগবী প্রতিযোগিতা এবং ২০২০ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিক আসরকে সামনে রেখে জাপান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জাপানে বহির্বিশ্বের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রিফেকচার (প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে জাপানি প্রদেশ বা স্বনির্ভর সরকার) এর পরিচিতি ক্যাম্পেইন শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে।
‘দি সেকেন্ড রিজিওনাল প্রমোশন সেমিনার ইন ফিসক্যাল ২০১৭’ নামে অভিহিত ধারাবাহিক সেমিনারে এবারে পরিচিত করানো হয় মিয়াজাকি, আকিতা, ওয়াকায়ামা এবং কাগোশিমা প্রিফেকচার বা প্রদেশকে।
১১ ডিসেম্বর সোমবার জাপানের অভিজাত হোটেল ‘চিনজানসো’তে আয়োজিত সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকবৃন্দ, বিশ্ব মিডিয়ার জাপান প্রতিনিধিগণ, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিগণ, জাপান মিডিয়া এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিনিস্টার সেক্রেটারিয়েটের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার ওকাদা কেনিচি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে স্বাগতিক ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
ওকাদা বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে অবগত আছেন যে, আবে প্রশাসনের মিনিস্ট্রি অব ফরেন এফেয়ার্সের রদবদল হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় তারো কনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারো কনো ফুমিও কিশিদার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর রদবদল হলেও ২০১৬ সাল থেকে চালু হওয়া প্রদেশ পরিচিতি ক্যাম্পেইন চলমান থাকবে। পর্যায়ক্রমে জাপানের ৪৭টি প্রদেশকে পরিচিত করানো হবে। মিডিয়া বন্ধুদের কাছে আমাদের আহ্বান থাকবে আপনারা আপনাদের মিডিয়াসহ সামাজিক মাধ্যমেও তা প্রচার করার ব্যবস্থা নেবেন দয়া করে।
এরপর পর্যায়ক্রমে মিয়াজাকি, আকিতা, ওয়াকায়ামা এবং কাগোশিমা প্রদেশ থেকে স্ব স্ব প্রতিনিধিগণ তাদের প্রদেশকে তুলে ধরেন।
তারা বলেন, টোকিও জাপানের রাজধানী। ইট, কাঠ, কাঁচ আর পাথরে সাজানো সুন্দর এক শহর। নিশ্চয়ই আপনি তা অবলোকন করেছেন এবং মুগ্ধ হয়েছেন, কিন্তু আপনি জানেন কি এর বাহিরে আরও সৌন্দর্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আপনি আরও বেশি উপভোগ করবেন।
হ্যাঁ, আমি জাপানে রাজধানীর বাইরের শহরগুলোর কথা বলছি। জাপানের গ্রামের কথা, জাপানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বলছি। আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি জাপানের গ্রামীণ পরিবেশ, সেখানকার মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি আপনাকে মুগ্ধ করবে।
বাসায় বসে টেলিভিশনে কিংবা আন্তর্জালের মাধ্যমে টোকিও টাওয়ার, ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার কিংবা আমেরিকার গ্রান্ড ক্যানিয়ন জানার চেয়ে সেখানে গিয়ে দেখার মধ্যে যে আনন্দ তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না।
ঠিক তদ্রƒপ জাপানের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে সেখানে যেতে হবে, সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে, সেখানকার সংস্কৃতি, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে হবে। তাহলেই কেবল আপনি আসল সবুজ শ্যামল জাপানকে জানতে পারবেন।
জাপানের আকিতা প্রদেশের শস্য ভা-ারের পাশাপাশি প্রভুভক্ত কুকুরের বেশ সুনাম রয়েছে। জাপানের বিখ্যাত টোকিওর প্রসিদ্ধ এলাকা শিবুইয়া শহরে হাচিকো কেবল জাপানিদের কাছেই পরিচিত নয়, বিদেশি পর্যটকদের কাছে তার বেশ সুনাম রয়েছে।
আকিতা প্রদেশে হাচির জন্ম হয়েছিল ১০ নভেম্বর ’২৩ সালে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর হিদেসাবুরো উয়েনো টোকিওর শিবুইয়া এলাকায় হাচিকে নিয়ে প্রতিদিন রেখে ট্রেনে যেতেন কর্মস্থলে। আর হাচি তার মনিবের জন্য অপেক্ষা করতেন। প্রতিদিন বিকেলে প্রফেসর ফিরে এলে একসঙ্গে বাড়ি ফিরতেন। ১৯২৫ সালের ২৫ মে প্রফেসর উয়েনো কর্মস্থলে ব্রেন হেমারেজে মৃত্যুবরণ করলে হাচি প্রতিদিন সেখানে অপেক্ষা করতে থাকে। দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষা করে ১৯৩৫ সালের ৮ মার্চ মৃত্যুবরণ করে। প্রভুভক্তের এমন নিদর্শনের জন্য শিবুইয়া রেলস্টেশনে হাচির একটি মনুমেন্ট তৈরি করা হয় ১৯৩১ সালে এবং হাচির নাম অনুসারে শিবুইয়া রেলস্টেশনের একটি এক্সিটের নাম হাচিকো এক্সিট রাখা হয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমি পুতিন প্রথমবারের মতো জাপান সফরকালে জাপান সরকার রাষ্ট্রীয় অতিথিকে আকিতার কুকুর উপহার দেয়। এছাড়াও জাপানে দায়িত্ব পালন শেষে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত এবং কেনেডি পরিবারের সদস্য কেরোলিন কেনেডি আকিতার কুকুর নিজের জন্য নিয়ে যান।
জাপানের কাগোশিমা প্রদেশে জাপানের প্রথম মহাশূন্য গবেষণা কেন্দ্র তানোগাশিমাস্পেস সেন্টার বা ঞঘঝঈ যা, ১৯৬৯ সালে জাপান জাতীয় মহাশূন্য উন্নয়ন সংস্থা (ন্যাশনাল স্পেস ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি অফ জাপান ঘঅঝউঅ) প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
১৮৬৮ সালের ১৫ মে জাপানের সম্রাটের সৈন্য দলের নেতৃত্ব দিয়ে সামন্ততান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী বীর সাইগো তাকামোরি কাগোশিমাতে জন্ম নেন এবং বড় হন। জাপানের জাতীয় জাদুঘর যা টোকিওর উয়েনোতে তার একটি মূর্তি স্থাপন করা রয়েছে। টম ক্রুজ অভিনীত ‘দ্য লাস্ট সামুরাই’ ছবিটিতে সাইগো তাকামোরিকে ফোকাস করা হয়। ছবিটি দর্শকপ্রিয়তাও পেয়েছে।
মিয়াজাকি প্রদেশে বাঁশ, বেতের তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং খেলনা জাপান বিখ্যাত। এখানে রয়েছে কিয়ুশু দ্বীপ এলাকার সর্বোচ্চ পর্বত সোবো কাতামুকি পাহাড় যা মাউন্ট সোবো নামে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন পাহাড়সমূহ একে অপরের দিকে মুখ করে আছে। ২০১৭ সালের জুন মাসে জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়।
সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে চার প্রদেশে খাদ্য সংস্কৃতি প্রদর্শন। মিয়াজাকি, আকিতা, ওকায়াসা এবং কাগোশিমা প্রদেশে উৎপন্ন বিভিন্ন কৃষিজাত, বনজ, ফলদ, মৎস্য এবং জলজ ভাণ্ডার থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী এবং মদ (জাপানিজ সাকে)-এর প্রদর্শনী ও আপ্যায়ন। আপ্যায়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রদর্শন করা হয় আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চারটি প্রদেশের নিজস্ব সংস্কৃতিকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকবৃন্দ এবং বিদেশি মিডিয়া কর্মীবৃন্দ তা উপভোগ করেন।
rahmanmoni@gmail.com
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রতিবেদন
  • [মন্তব্য প্রতিবেদন] সোহরাওয়ার্দীর সংবর্ধনা এবং রাজনীতির অনৈতিক খেলা
  • [মতামত] যৌথ পরিবার ভাঙছে...
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive