Logo
 বর্ষ ১০ সংখ্যা ৪৫ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৫ ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
‘শিক্ষার্থীরা যেখানেই থাকুক তারা যেন দেশের প্রতিনিধিত্বের ব্যাপারটা ভুলে না যায়’-তাসলিম আহমেদ  
বিচারক, ইয়াং লিডার্স প্রোগ্রাম

চারবারের সফলতার পর পঞ্চমবারের মতো চ্যানেল আইতে শুরু হতে যাচ্ছে ইয়াং লিডার্স প্রোগ্রাম ২০১৭। আয়োজক ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি., চ্যানেল আই ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দ্য ইয়াং লিডার্স লি.। সাধারণত বহির্বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরন ও ধারণা একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে সহজভাবে তুলে ধরে ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃত্ব গড়ে তোলাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিযোগীদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি করে তাদের ব্যবসায়িক জ্ঞানের পরিধি ও মেধা যাচাই এবং তা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে বাস্তব পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্বগুণ প্রতিষ্ঠা করা। চলতি বছর বাংলাদেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা অংশ নিতে পারবে ইয়াং লিডার্স প্রোগ্রাম-ওয়াইএলপিতে।
ইয়াং লিডার্স প্রোগ্রমের আদ্যোপান্ত নিয়ে কথা হচ্ছিল এর অন্যতম বিচারক তাসলিশ আহমেদের সঙ্গে। দীর্ঘ সাক্ষাতকারে তিনি ওয়াইএলপির সংকট-সম্ভাবনা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন সুইটি আক্তার। ছবি তুলেছেন কাজী তাইফুর
সাপ্তাহিক : লিডার বলতে আপনারা কী বুঝান?
তাসলিম আহমেদ : লিডার বলতে প্রথাগত লিডারশিপ বা নেতৃত্বের কথা ভাবছি না। অনেকে ভাবতে পারে আমরা লিডার বলতে তথাগত নেতৃত্ব দেয়ার কথা বলছি। কিন্তু আসলে লিডার তো সে-ই, যে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে, দলকে এগিয়ে নিতে পারে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। আমি বলছি যে, উই আর লুকিং ফর পিপল হু উইল লিড দি নেক্সট জেনারেশন অ্যান্ড নেক্সট বাংলাদেশ।
আমাদের কাজের এ ক্ষেত্রটা একটু ভিন্ন ধাঁচের এবং এর পরিসরটাও সীমিত। আমরা প্রথম দিকে যখন শুরু করি তখন ব্যবসায় প্রশাসন থেকে পাস করা ছাত্রদের দেখলাম ওয়াইএলপিতে আসছে। আবার আমরা দেখতে পেলাম এই ওয়াইএলপিতেই যুক্ত হচ্ছেন ডাক্তার, স্থপতিরা। এর মানে হচ্ছে, আমরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করতে পারছি। মোটকথা হলো, বিভিন্ন সেক্টরে যারা নেতৃত্ব দেয়- রাজনীতির ক্ষেত্রে, ব্যবসায়ী ক্ষেত্রে, চাকরি ক্ষেত্রে- সর্বক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতাকেই আমরা লিডারশিপ বলছি।
সাপ্তাহিক : ওয়াইএলপি কেন? উচ্চ শিক্ষার স্কলারশিপের জন্য অনেক ব্যবস্থা জারি আছে, সেগুলো কেন কাজ করছে না?
তাসলিম আহমেদ : কাজ করছে না, এতে আমি একমত নই। কাজ অবশ্যই করছে। প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবাই মিলেই চেষ্টা করছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার মান খারাপ, তাও আমি বলব না। আমি অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখেছি স্কলারশিপ দিতে। আপনি যদি বুয়েট, আইবিএ’র দিকে তাকান দেখবেন এরা সবাই উচ্চশিক্ষার মান এখনও ধরে রেখেছে। আমি কখনো বলব না উচ্চশিক্ষার মান হারিয়ে গেছে।
আমাদের প্রোগ্রামে একটা তফাৎ আছে, শুধু পড়াশোনাকে ওয়াইএলপি প্রাধান্য দেয় না। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাকটিক্যাল জ্ঞানকে প্রাধান্য দেয়া হয়। পড়াশোনা পরবর্তী ব্যাপারগুলো শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে ও প্রয়োগ করতে পারছে, সেটাই আমরা বেশি প্রাধান্য দেই। একজন মানুষের লেখাপড়া থেকে যে অর্জন-শিক্ষা, তা সে কতটুকু প্রয়োগ করতে পারল সেটাই আমাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য। এর সঙ্গে চলে মেধা যাচাই। উভয় ক্ষেত্রের পারদর্শীদের মধ্য থেকে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
সাপ্তাহিক : বিশ্বে অভিবাসন নিয়ে সংকট চলছে? বিদেশ গমনেচ্ছু ছাত্রদের ওপর এর প্রভাব কী?
তাসলিম আহমেদ : আমাদের সবসময় লক্ষ্য থাকে যত বেশি পারা যায় ছাত্রদের স্কলারশিপ দেয়া। আমরা সাধারণত মাথায় রাখি ১০ জন। অনেক সময় উনিশ-বিশ হলেও পাঠিয়ে দিচ্ছি। আবার অনেক সময় দেখা যায় কমে যাচ্ছে। কিন্তু যোগ্য না হলে তাকে আমরা পাঠাতে সাহায্য করি না। এত কষ্ট করে মেধা যাচাই-বাছাই করে একটি ছেলে বা মেয়েকে যখন স্কলারশিপ দিয়ে বিদেশে পাঠানো হবে তখন সে আমাদের প্রোগ্রাম বা কোনো চ্যানেলকে প্রতিনিধিত্ব করবে না। তারা প্রতিনিধিত্ব করবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে। সেক্ষেত্রে যদি কোয়ালিটিতে কোনো ঝামেলা হয় তাহলে ছেলেমেয়েরা যেসব প্রতিষ্ঠানে যাবে, সেখানকার লোকেরা দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। যে কারণে আমরা অযথা সংখ্যা বাড়াই না, আবার কমাইও না। ঠিক এই কারণেই কেউ যোগ্য না হলে তাকে আমরা পাঠাই না। গতবারের ঘটনা বললেই বুঝবেন- এমনটা হয়েছে যে আমরা ১০ জনকে পাঠাচ্ছি। তাদের বাইরে আরও দুজন ছিল। এরাও কিন্তু কোনো অংশে পিছিয়ে ছিল না। তাই জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের চাকরি দিয়ে দেয়া হয়।
আরেকটা বিষয় হলো, আমরা শিক্ষার্থীদের এখন কোনো শর্ট কোর্সে বাইরে স্কলারশিপ দিচ্ছি না। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ফুল কোর্সে আমরা স্কলারশিপ দিয়ে থাকি।
সাপ্তাহিক : অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তার ব্যাপারে কিছু বলুন?
তাসলিম আহমেদ : এটা আসলে কোনো গ্ল্যামার শো না যে, এটা রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যাবে। তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ওয়াইএলপিকে জনপ্রিয় করার জন্য আমরা তেমন কোনো চেষ্টাও করছি না। এটা নিজেই জনপ্রিয় হচ্ছে। এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আপনাকে প্রথমেই যা বলেছি, শুরুতে বিবিএর ছেলেমেয়েরা আবেদন করত। কিন্তু এখন ডাক্তার, স্থপতি, প্রকৌশলী, আইসিটি থেকে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীও এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে আবেদন করছেন। এর থেকে প্রমাণ হয়, প্রথমত মানুষ এই প্রোগ্রামকে পজেটিভলি গ্রহণ করছে, দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর আবেদন করার সংখ্যা বাড়ছে। তৃতীয়ত, আমরা বড় বড় করপোরেট সংস্থাগুলো সঙ্গে পাচ্ছি। আমরা কিন্তু স্পন্সরশিপ চাই না এই প্রোগ্রামের জন্য। তারপরেও বেশকিছু বড় প্রতিষ্ঠান গতবার আমাদের সঙ্গে ছিল- ওয়েল গ্রুপ, সিমফোনি, ইনসেপ্টা। এই প্রোগ্রামে ভালো কাজ হচ্ছে বলেই এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সঙ্গে এগিয়ে আসছে। এমনকি বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গত বছর এ প্রোগ্রামে সম্পৃক্ত হয়েছে।
সাপ্তাহিক : দেশের সম্পদ খরচ করেই তো এদের পড়ালেখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেশেই এই মেধা প্রয়োগের দাবি কি বেশি যৌক্তিক নয়?
তাসলিম আহমেদ : আমাদের বেলায় যতটুকু বলতে পারি, আমার মনে হয় ১০ শতাংশের বেশি কেউ বাইরে নেই। সবাই দেশে ফিরে এসেছে। কিন্তু এটা ঠিক দেশের সম্পদ খরচ করে বাইরে দেয়া উচিত না। একটা কথা সত্য, যেটা আমরা বিশ্বাস করি যে, আপনি দেশে থেকেই যে কেবল দেশের সেবা করতে পারবেন তা কিন্তু নয়, বাইরে থেকেও দেশের সেবা করা সম্ভব। যদি আপনার মাঝে ওই মানসিকতা বা ইচ্ছা থাকে। যেমন আমাদের বিরাট যে জনশক্তি বাইরে আছে, তারা প্রচুর পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। যদি বলেন কেন বাইরে চলে যাচ্ছে? ওদেরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন, তাহলে কিন্তু দেশে রেমিট্যান্স আসবে না। দেশে থাকলে যে দেশের সেবা করা যাবে বা যায় এমন সুযোগ নাও থাকতে পারে। দেশের বাইরে এত বড় জনশক্তি রয়েছে, এটাও দেশেরই। আপনি বলতে পারেন এই জনশক্তি যদি আর একটু দক্ষ হতো তাহলে দেশে রেমিট্যান্স বেশি আসত।
এবার শিক্ষার্থীদের বেলায় চলে আসি, আমরা একটা ব্যাপার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করি। যারাই যাচ্ছে তাদের ট্রেনিং, গ্রুমিং দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়, যাতে এই শিক্ষার্থীরা যেখানেই থাকুক তারা যেন দেশের প্রতিনিধিত্বের ব্যাপারটা ভুলে না যায়। যে শিক্ষার্থী বাইরে ইউনিলো-তে চাকরি করে সে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানের যে শাখাটা রয়েছে সেই শাখাটাতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। আমি বলব বাইরে গেলেও তারা কোনো না কোনোভাবে অবদান রাখছে।
এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ একমত যে, জ্ঞান বা মেধা পাচার অপরাধ। আমার যে মেধা আছে তা যদি আমারই কাজে না লাগে যদি বিদেশে পাচার হয়ে যায় এবং দেশের কাজে না লাগে তা তো কোনো সুখকর ব্যাপার নয়। এজন্যই আমাদের প্লাটফর্মটা সীমিত। আমরা চেষ্টা করছি এই বিষয়ে জ্ঞান বা দিকনির্দেশনা দিতে এবং আমরা সুযোগ করে দিচ্ছি বেশি মেধাবী হতে। যাতে তারা দেশের কাজে লাগে সেটার প্রচেষ্টা থাকে আমাদের। যারা স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে যাচ্ছে প্রত্যেককে এই শিক্ষায় শিক্ষিত করানো দরকার। যেসব প্রতিষ্ঠান এই কাজে যুক্ত, এখানে তাদের গুরুত্ব দিতে হবে।
সাপ্তাহিক : পশ্চিমা বিশ্বের অনেক স্থানেই অভিবাসন নীতি বদলে যাচ্ছে, এর প্রভাব কেমন দেখছেন?
তাসলিম আহমেদ : একেবারে কোনো প্রভাব থাকবে না, তা নয়। কিছুটা প্রভাব পড়বেই। দূরে একটা জায়গায় গেলে, বিদেশে পড়াশোনা করতে হলে কিছু সমস্যায় তো পড়তেই হয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এর প্রভাব খুব একটা স্থায়ী নয়। কারণ বিদেশে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলে এর আগে কিছু কাজকর্ম করতে হয়। যেমন আপনাকে আইএলটিএস, জিমেট, জিআরই দিতে হয়। একটা ভালো মানের নাম্বার পেতে হয়। আর্থিক অবস্থা সচ্ছল থাকলে এবং সব কিছু দেখেই বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পড়াশোনার জন্য ছাড়পত্র দিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতি কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া যেসব শিক্ষার্থী স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে লেখাপড়ার জন্য যাচ্ছে তারা মূলত স্কিলড ক্যাটাগরিতে আছে। তাই আমার কাছে মনে হয় না, এদের বিদেশে যাওয়ার সময় কোনো সমস্যা হতে পারে। তবে যাওয়ার পর কিছু সমস্যা বা পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু এ গুড পারসন’স অলওয়েজ এ গুড পার্সন- সে এখানেও যেমন ভালো তেমনি বিদেশেও ভালো থাকবে বলে আমি মনে করি। তাছাড়া এখানে একজনকে নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে সফল হতে হয়। ফলে তারা নিজেরাই যথেষ্ট সচেতন থাকে।
সাপ্তাহিক : গত আসরের অর্জন কী?
তাসলিম আহমেদ : অর্জনের কথা যদি বলি, তাহলে আমাদের এই প্রোগ্রাম অনেক বিস্তার করেছে। বিভিন্ন বিভাগ যুক্ত হয়েছে। আগে কখনো মানবিক বিভাগ থেকে যুক্ত হতে কাউকে দেখিনি, কিন্তু এবার সেটা হয়েছে। তাছাড়া কলা অনুষদ থেকে যুক্ত হতে দেখিনি এবার তারাও আবেদন করেছে। অর্জনটা হচ্ছে যে, অনেক অনেক বেশি আমরা নিয়মিতভাবে প্রতিযোগী পাচ্ছি। আমাদের প্রোগ্রামের গ্রহণযোগ্যতা যেমন বেড়েছে তেমনি বলতে পারি আমরা মানুষের জীবনটা বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রাখতে পারছি। একজন মানুষের জীবনকে ট্রান্সফর্ম করতে আমরা সহায়তা করি। কয়েকদিন পরে শুরু হবে ওয়াইএলপি। আমরা চাই ওয়াইএলপির প্রত্যেক শিক্ষার্থী আত্মবিশ্বাসী হবে, পরিবর্তন ও দেশের কাজ করবে- এটাই ওয়াইএলপির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সাপ্তাহিক : তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এটি কেমন সাড়া ফেলছে বলে মনে করেন?
তাসলিম আহমেদ : তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যাচাই করার সুযোগ পায়। এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে তারা চিন্তা ও শক্তির ওপর ভর করে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পায়। এখন ইন্টারনেটের যুগ। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য একটি গ্রুপ পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন চ্যানেল আই থেকে এই যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাদের সঙ্গে অবস্থান, কতটুকু কোর্স বাকি, নানা সমস্যা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলেই তরুণ প্রজন্ম এই প্রোগ্রামের প্রতি উৎসাহিত হচ্ছেন। পর পর চারবার প্রোগ্রামটি হবার ফলে, এর মাধ্যমে বাইরে ভালো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ মিলছে- এটিই তাদের আকৃষ্ট করছে। সেই কারণেই মূলত তরুণ শিক্ষার্থীরা ওয়াইএলপির প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।
সাপ্তাহিক : গত ৪ আসর থেকে এবারের আয়োজনে নতুনত্ব কী আসছে?
তাসলিম আহমেদ : গত ৪ বছরের তুলনায় এবার অনেক দিক থেকে আলাদা। ওয়াইএলপি প্রথম আসর থেকেই বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরাই কেবল অংশগ্রহণ করতে পারতেন।  দ্বিতীয় বছর ওয়াইএলপি বিজনেস অ্যান্ড সায়েন্স বিষয়টি নিয়ে আসি। এ বছর আরও বড় করা হয়েছে। পলিটিক্যাল সায়েন্স হতে পারে, ডাক্তারি হতে পারে, আর্কিটেক্ট হতে পারে, ব্যবসা প্রশাসন তো রয়েছেই। সব বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারছে। অর্থাৎ শিক্ষার সব প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণের ফলে ওয়াইএলপি অনেক বড় হয়ে গেছে। এটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। দ্বিতীয়ত, পাবলিক ইউনিভার্সিটি, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারী অনেক বেড়েছে।
সাপ্তাহিক : দেশের ভেতরের শিক্ষার্থীরাই কী ওয়াইএলপি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করছেন নাকি বাইরে যারা পড়াশোনা করছেন তারাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন?
তাসলিম আহমেদ : দেশের ভিতরের শিক্ষার্থীরাই নয়, বাইরে যারা পড়াশোনা করছেন তারাও অংশগ্রহণ করছেন। গত ৪ আসরেরও বাইরে পড়াশোনা করে যারা কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন ওয়াইএলপিতে অংশগ্রহণ করেছিল। এবারও অনেকেই অংশগ্রহণ করবে বলে আমি আশা করি। ২য় আসরে লন্ডন থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী সেরা ১০ জনের মধ্যে ছিল। স্নাতক পর্যায়ের পর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাগ্রহণের জন্য এত বড় সুযোগ এভাবে আগে কখনো তাদের দেয়া হয়নি। মূলত প্রতিযোগী বাড়ার এটিও একটি বড় কারণ। এছাড়া ওয়াইএলপি বিজনেসের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বেশকিছু বিষয়ও বাড়ানো হয়েছে। সেই কারণেই অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রায় ১০০০ অংশগ্রহণকারী থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১০০ জন সিলেক্ট করি, চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের জন্য আমরা ৫০ জন প্রতিযোগী বাছাই করেছি। মূলত এদের নিয়েই আমাদের মূল পর্ব শুরু হবে। ৫০ জনকে নিয়ে ৫টি দলে ভাগ করে দেওয়া হয়। বিচারকগণ এই ৫০ জন থেকে দলগতভাবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে অ্যালিমিনেট করে আমরা সেরা ১০ জনকে পাই।
সাপ্তাহিক : ভবিষ্যতে ওয়াইএলপিকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
তাসলিম আহমেদ : আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়, আমরা সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছি- আমরা ফিউচার লিডার তৈরি করছি। কিন্তু আমরা প্রফেশনাল লিডার তৈরি করতে চাই। এটিই আমরা বলছি। তবে এ লক্ষ্য তো একদিনে অর্জন হবে না। রাতারাতি তো লিডার হয়ে যাবে না। আমাদের সঙ্গে যারা থাকবে, আমাদের টাস্কগুলো যারা করবে, আমাদের ব্রিফগুলো যারা পাবে, আমাদের দিকনির্দেশনা যারা মেনে চলবে, ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে যে টিপসগুলো পাবে, এতে তাদের মাইন্ডসেটের পরিবর্তন হয়। তার মধ্যে বিশাল পরিবর্তন আসে। আপনি যদি আমাদের প্রথম দিকের একটি মেয়ে অথবা ছেলেকে দেখেন, তাহলে তাকেই পরবর্তীতে দেখবেন তার কথা বলা, হাঁটা-চলা, সমস্যা সমাধান কিংবা আত্মবিশ্বাস সবকিছুতে পরিবর্তন এনে দিচ্ছে। এ বিষয়টি ওয়াইএলপির কয়েক মাসের গ্রুপিংয়ে শেখানো হয়। এ পরিবর্তন আসার ফলে সে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সে তার জায়গায় একদিন না একদিন সফল হয়ে উঠবে। এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
দেশের বাইরেও ওয়াইএলপি দিয়ে আমরা প্রশংসিত হচ্ছি। বিবিসি রেডিও আমাদের স্টুডেন্টদের নিয়ে স্টোরি করছে। বাংলাদেশের মতো জায়গায় ওয়াইএলপির মতো প্রোগ্রাম হয়। বিবিসি তাদের নিয়ে স্টোরি করছে, এটাও আমাদের অর্জন। ওয়াইএলপির একটি ছেলেকে যখন দেখি সে ইউরোপ আমেরিকায় ভালো কাজ করছে, যখন দেখি একটি মেয়ে মিলান থেকে পড়ে এসে উদ্যোক্তা হয়েছে, তখন আনন্দিত হই। মনে হয় ওয়াইএলপির মাধ্যমে কিছুটা তো অর্জন হয়েছে। মাত্র ৪ আসরের তুলনায় হিসাব করলে বলব, আমাদের চাওয়ার থেকে প্রাপ্তিটা অনেক বেশি। আশা করি এ সাফল্য অব্যাহত থাকবে।
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
সাক্ষাৎকার
  • [কর্পোরেট সাক্ষাৎকার] ‘২৭ জুলাই ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে জর্জিয়া ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সেন্টারে’-মোহাম্মদ আলমগীর
  • [কর্পোরেট সাক্ষাৎকার] ‘গ্লোবাল লেভেলে রিপ্রেজেন্ট করার জন্যে তরুণদের আমরা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছি’-সুব্রত রঞ্জন দাশ
  • [কর্পোরেট সাক্ষাৎকার] প্রবাসীদের ভাবনায় স্বদেশ ঘিরে নানা পরিকল্পনা
  • [কর্পোরেট সাক্ষাৎকার] ‘গার্মেন্টস আমাদের শ্রমভিত্তিক শিল্প আর সফটওয়্যার মেধাভিত্তিক’-ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান
  • [কর্পোরেট সাক্ষাৎকার] ‘বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মত’-জসীম উদ্দিন
  • [কর্পোরেট সাক্ষাৎকার] ‘রিয়েল এস্টেট আগের তুলনায় বাংলাদেশে কিছুটা ডিসিপ্লিনড ওয়েতে হচ্ছে’-নাহিদুল খান
  • ‘সুবর্ণ নাগরিক হিসেবে অটিস্টিকদের কার্ড দেয়া হচ্ছে’-রাশেদ খান মেনন
  • ‘এনআরবিদের বাংলাদেশের পর্যটনে ইনভেস্ট করতে কাজ করছি আমরা’-আখতারুজ্জামান কবীর
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive