Logo
 বর্ষ ১০ সংখ্যা ২৩ ২২শে কার্তিক, ১৪২৪ ১৬ নভেম্বর, ২০১৭ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
[সাফল্য] জাহিদের সেফ হয়ে উঠার গল্প ও তার সফলতা  
সুইটি আক্তার

বাংলাদেশের ছেলেরা এখন আর ঘরে বসে থাকে না। আজকাল ঘরে ঘরে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও বিভিন্ন রকম হাতের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। ঘরে বসে যেই কাজ করা যায়, তা এক সময় বাজারজাত করা সম্ভব। শুধু দরকার ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস আর একটু সাহস। যার কথা বলতে চাচ্ছি তা হলো রন্ধন শিল্পী।
আগের দিনে মা-খালাদের দেখা যেত তা রান্না করতেন শুধু ঘরের লোকদের পেটপুরে খাওয়ানোর জন্য। বর্তমানে মেয়েরা রান্নার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছে। তার পাশাপাশি ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। তারাও এখন এই রান্নাশিল্পকে ধরে রেখে জীবিকা নির্বাহ করছে। ছেলেরা যে ঘরে বসেই রান্নার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারবে তা কখনো চিন্তাও করেনি। ঘরে বসে বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড তৈরি করে বা প্যাকেটজাত খাবার বাজারজাত করছে। স্বল্পপুঁজিতে এ মহৎ কাজের উদ্যোগ নেওয়া যায়।
মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। পেশায় একজন সেফ। ১৯৯৭ সালে চাঁদপুর জেলায় কচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. খোরশেদ আলম। জাহিদুল ইসলাম খুব ছোটবেলায় তার মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। বাবা পেশায় ছিলেন বায়িং হাউজের একজন সামান্যতম কর্মচারী। জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ছোট থাকতেই অভাব ও অনটনে বড় হয়েছি। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। আমার মা খুব কষ্ট করে আমাদের পরিবার পরিচালনা করতেন। আমার মা খুব ভালো রান্না করতে পারেন। এক কথায় আমার মায়ের হাতের রান্না আমার কাছে অমৃত। মাকে আমি রান্নাতে সাহায্য-সহযোগিতা করতাম। আমার মা পিঠা খুব ভালো বানাতে পারেন। তাই, মা প্রথমে বিভিন্ন পিঠা বানানোর অর্ডার নিয়ে তা হোম ডেলিভারি দিতেন। আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল হোম ডেলিভারি করে। মা এবং আমি একসঙ্গে কাজ করতাম। এক সময় রান্না করার প্রত্যেক পদ্ধতি নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসি। বলতে পারেন, আমার রান্নার হাতেখড়ি হয়েছে মায়ের কাছ থেকে। মাত্র ১০ বছর বয়সে আমি আর মা মিলে এই ‘হোম ডেলিভারি সার্ভিস শুরু করি।’ এভাবেই জাহিদুল ইসলাম ব্যক্ত করছিলেন তার জীবন যুদ্ধের পথচলা।
জাহিদুল ইসলাম সাপ্তাহিককে জানান, আমার জীবন চলার পথটা সহজ ছিল না। আমি আর আমার মা দুজন মিলেই জীবনের কঠিনতম পথচলা শুরু করি। ২০১২ সালে আমি একটি অনলাইন পেজ খুলি। অনলাইন পেজটির নাম দেওয়া হয় লুৎফর নাহার পিঠা ঘর। এখান থেকে আমরা অতি সহজে অর্ডার নিতে পারি। প্রথম দিকে আমাদের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কিন্তু তারপরে আমরা ভালোই সাড়া পাই। অনলাইন পেজ খোলার পর আমাদের ৫০ শতাংশ বিক্রি শুরু হয়। তাছাড়া আমরা ওই সময়টাতে হোম ডেলিভারির পাশাপাশি বিভিন্ন মেলা, উৎসবে পিঠার স্টল নিয়ে বসতাম। চ্যানেল আই, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় পিঠা উৎসব, মেজো পিঠা উৎসব, প্রিন্স বারগার উৎসবে আমরা অংশগ্রহণ করি।
২০১২ সালে আমরা জাতীয় পিঠা উৎসবের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় স্থান লাভ করি। এখান থেকেই আমাদের পিঠার জনপ্রিয়তা দেখা যায়।
২০১৩-১৭ পর্যন্ত প্রিন্স বার্গার পিঠা উৎসব প্রতিযোগিতায় আমরা নিয়মিত দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি। এভাবেই আমাদের আরও জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে।
তাছাড়া মা আমাকে পিঠা বানানো ছাড়াও অন্যান্য রান্না শিখিয়েছেন। এক সময় আমি নিজে নিজেই বিভিন্ন রকমের রান্নার ডিশ তৈরি করতাম।
২০১৫ সালে আমি ‘রূপচাঁদা সুপার সেফ-এ অংশগ্রহণ করি। আমি ‘রূপচাঁদা সুপার সেফ’-এ অংশগ্রহণ করার আগে মা এবং অন্যান্য ইনস্টিটিউট থেকে রান্নার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। মায়ের অনুপ্রেরণাতে আমি এই ‘রূপচাঁদা সুপার সেফে’ অংশগ্রহণ করেছি। তখন আমি ময়মনসিংহ বিভাগীয়ভাবে প্রথম স্থান লাভ করি। বাংলাদেশের সকল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে আমি ১৬তম অবস্থান বিরাজ করি। রূপচাঁদা সুপার সেফ ১৬তম অবস্থান থাকা অবস্থায় আমি বাদ পড়ে যাই। বাদ পড়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। কিন্তু আমার মা আমাকে বলেছেন, ‘তুমি এভাবে ভেঙে পড়ো না। মানুষ হেরে যাওয়ার পরেই তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।’ মা ছাড়াও আমার অনেক শুভাকাক্সক্ষী, যাদের কথা না বললেই নয় তারা হলেন জেবা আন্টি, রাহাত ভাই, আফরোজা আন্টি এবং আরও অনেকেই আমাকে অনুপ্রেরণা জোগায়। আমি পুনরায় উঠে দাঁড়াই। ইউসেফ ইনস্টিটিউট থেকে এনটিভিকিউ কুকিং লেভেল ওয়ান কোর্স সম্পন্ন করি। এই ইনস্টিটিউট থেকে আমি স্কলারশিপ অর্জন করি।
এরপর থেকে আমার জীবনযাত্রার পথ সামনের দিকে ধাবিত হয়। ২০১৫ সালের শেষের দিকে আমি এটিএন বাংলার সেরা রন্ধনশিল্পীর রেসিপি নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন দেখি। তখন রংপুর বিভাগীয়ভাবে আমি আমার রেসিপি নিয়ে সেরা রন্ধনশিল্পীর অংশগ্রহণ করি। আমি রংপুর থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্যায়ে ঢাকায় এসে অংশগ্রহণ করি। সেরা রন্ধনশিল্পী তখন পুরো বাংলাদেশে ৮ হাজার অংশগ্রহণকারী ছিল। সেখান থেকে বাছাই করে আনা হয় ৪৯ জন। আবার পুনরায় বাছাই করে ৪৯ জন থেকে ১৪ জনে নিয়ে আসে। সেরা ১৪ জনের মাঝে শেষ পর্যায়ে আমি সেরা রন্ধনশিল্পী খেতাব অর্জন করি।
এছাড়া বিভিন্ন রান্না প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আমি বিভিন্ন রকমের রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম হিসেবে চাকরি করতাম।
আমি যখন ইউসেফ ইনস্টিটিউট থেকে স্কলারশিপ অর্জন করি, তার পরেই সেরা রন্ধনশিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করি। তাই, সেরা রন্ধনশিল্পী হওয়ার পর ইন্ডিয়াতে স্কলারশিপ নিয়ে এনটিভিকিউ লেভেল ‘টু’ সম্পন্ন করি। বাংলাদেশে আসার পর আমি প্রথম ঝরী ংবধংরড়হ যড়ঃবষ-এ এসে যোগদান করি। মূলত এখানে আমাকে ইন্টার্নি করতে হয়েছে। তাই ইন্টার্নি শেষ হওয়ার পর হোটেল মালিক আমাকে এখানেই চাকরি করার ব্যবস্থা করে দেন। আমি প্রায় ২ বছর এখানে কাজ করেছি সেফ হিসেবে।
বর্তমানে আমি বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ফুড কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছি। তাছাড়া এ বছরে আমি নতুন একটা অনলাইন পেজ খুলেছি হোমফুড খানাপিনা, এখানে আমার তৈরি সকল রকমের রেসিপি হোম ডেলিভারি ও অর্ডার নিয়ে থাকি। জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাইর মধ্যে চলতে হয়েছে।
সব কিছু অতিক্রম করে একজন সেফ হতে পেরেছি। আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল আমি একজন সেফ হব। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। শুধু এখন বাংলাদেশে নয়, ইন্ডিয়ার বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে কলকাতায় আমার জনপ্রিয়তা আছে। ২০১৬ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর আমি জি-বাংলার সুদিপার রান্নাঘরে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। আর এ বছরে আকাশ-৮ রাঁধুনী রান্নাঘরে আমন্ত্রিত হয়েছি। এমনকি এশিয়ার ফুড ফেস্টিভ্যাল বাংলাদেশের সেফ হিসেবে সেখানে আমন্ত্রণ পাই। তাছাড়া আমার তৈরি রেসিপি বিভিন্ন পত্রিকা, সাপ্তাহিক, সাতকাহন, আমাদের সময়, সমকাল ইত্যাদিতে ছাপানো হয়।
সর্বশেষ একটা কথাই বলব, মানুষ আসলে ইচ্ছা করলে সব করতে পারে। কিন্তু একটা মানুষের সফলতার পেছনে আর একজন মানুষের অনুপ্রেরণা থাকে। আর আমার এই সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হচ্ছেন আমার মা। আমার মা আমার পুরো পৃথিবী। আমি আমার মাকে অনেক ভালোবাসি।
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
দেশজুড়ে
  • [সাফল্য] ফজলু পিঠা ঘর
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive