Logo
 বর্ষ ১০ সংখ্যা ১৫ ২৬শে ভাদ্র, ১৪২৪ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
মানবতার পরাজয় -গোলাম মোর্তোজা  
প্রশ্ন : চাচা, দুপুরে ভাত খেয়েছেন?
উত্তর : গরু হারাইছেরে বাবা।
প্রশ্ন : বললাম, দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করেছেন কিনা?
উত্তর : মাথায় ধান। হাটে বিক্রি করে ইলিশ মাছ কিনব।

চাচা এক প্রশ্নের আরেক উত্তর দিচ্ছেন, কানে কম শোনেন বলে। গ্রাম বাংলার হাসি-রসিকতার এমন বিষয় এখন বাস্তবে ফিরে এসেছে। পরীক্ষার খাতায় এক রকম প্রশ্নের আরেক রকম উত্তর লিখলে, পাস করতে বা জিপিএ ফাইভ পেতে সমস্যা হয় না। শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, শিক্ষা জীবন পার করে যারা এসেছেন তাদেরও একটা বড় অংশ এখন ‘চাচার কম শোনা রীতি’ অনুযায়ী প্রশ্ন করেন বা উত্তর দেন।
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সরকারের ঘোষিত নীতি ‘কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না’। বিজিবিকে সতর্ক পাহারায় রাখা হয়েছে। নাফ নদীর দিকে বন্দুক তাক করে রাখা বিজিবির ছবি ছাপা হলো দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে।
জাতিসংঘ এবং বিশ্ব গণমাধ্যম যেদিন জানালো, বাংলাদেশে ঢোকা রোহিঙ্গার সংখ্যা দেড় লাখ, সেদিনই বাংলাদেশ সরকার জানালো, বিজিবি প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গা পুশব্যাক করেছে।
প্রাসঙ্গিকভাবে প্রশ্নটি সামনে চলে এলো, দেড় লাখ ঢুকল কীভাবে?
এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল না সরকার বা সরকার সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ থেকেই। দেখা গেল ক্ষিপ্ততার প্রকাশ। আসল পাল্টা প্রশ্ন, ‘তাহলে আপনি কি বলতে চাইছেন বিজিবির উচিত ছিল সীমান্তে রোহিঙ্গাদের গুলি করে হত্যা করা?’
বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন। পুরো বিষয়ের সঙ্গে গুলি করার কোনো প্রসঙ্গ নেই। আছে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। সেদিকে না থেকে প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অদ্ভুত অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করছেন।
কানে কম শোনা চাচার ‘গরু হারানো’ উত্তরের সঙ্গে কি তাৎপর্যপূর্ণ মিল!
‘কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না’র মাঝেই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘বিষয়টি মানবিকভাবে’ দেখতে। এই মানবিকভাবে দেখার অর্থ কি ধরে নেব যে, ‘কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না’র অবস্থান বাংলাদেশ পরিবর্তন করেছে? ঠিক আছে, ধরে নিলাম। তাহলে আড়াই হাজার ফেরত পাঠানোর সংবাদ প্রচার করলেন কেন?
দেড় লাখের পর জাতিসংঘ সুনির্দিষ্ট করে বলেছে ২ লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারপর বলেছে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এসব সংবাদ বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘের সূত্র উল্লেখ করে। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুকে এবারের সহিংসতায় আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৩ লাখ বলে উল্লেখ করেছেন। কত রোহিঙ্গা এবার বাংলাদেশে ঢুকেছে, হয়ত এটাই বাংলাদেশ সরকারের ভাষ্য। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ৩ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকে থাকলে এবং বাংলাদেশ এই তথ্য স্বীকার করে নিলে প্রশ্ন আসে, তারা কীভাবে ঢুকল? জোর করে ঢুকে পড়েছে না সীমান্ত খুলে দেয়া হয়েছে?
এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। আছে পাল্টা প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতাটা লক্ষ্য করে দেখেন।
‘তাহলে কি আপনি বলতে চাইছেন, মানবিক কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-খাদ্য-চিকিৎসা দিয়ে ঠিক করেনি?’
আশ্রয় দেয়া, ঠিক করা না করার কোনো প্রসঙ্গই লেখায় বলা হয়নি বা প্রশ্ন করা হয়নি। প্রশ্ন করা হয়েছে, কত রোহিঙ্গা কীভাবে বাংলাদেশে ঢুকেছেÑ সরকারের ভাষ্য কী? এই প্রশ্নেরও উত্তর না দিয়ে ‘চাচার রীতিতে’ প্রশ্ন করা হয়েছে!
প্রাণ বাঁচানোর আশায় আগত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিয়ে উপায় নেই বাংলাদেশের। আশ্রয় দেয়াটাই সঠিক কাজ। ‘কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না’ প্রথমাবস্থায় এ কথা বলেও যে  বাংলাদেশ ভুল করেছে, তাও নয়। কৌশলগত কারণে এটা বলা হয়তো ঠিকই ছিল। বাস্তবতা হলো মিয়ানমারের সঙ্গে পাহাড়-জঙ্গল-নদী মিলিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ২৭১ কিলোমিটার। ৪৫-৫০ কিলোমিটার নৌপথ। এর বাইরে পুরোটাই পাহাড়-জঙ্গল। পাহারা দিয়ে রোহিঙ্গা জনস্রোত আটকানো সম্ভব ছিল না। একটি উদাহরণ দেই, বান্দরবান অঞ্চলে মিয়ানমারের সঙ্গে যে সীমান্ত তা অত্যন্ত দুর্গম। বিজিবি প্রহরার একটি পিলার থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। এই দূরত্ব পাহাড়-জঙ্গলের দুর্গম হাঁটা পথে বিজিবি প্রহরা দেয়। বিজিবির প্রহরা দল একদিকে গেলে আরেক দিক সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকে। যা পাহারা দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব নয়। মিয়ানমার তার সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন পাকা রাস্তা তৈরি করেছে। তারা টহল দেয় গাড়ি নিয়ে। ওপাশ থেকে গুলি করে রোহিঙ্গাদের কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকার সুযোগ করে দেয়।
এমন প্রতিকূল পরিবেশে বিজিবির পক্ষে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব নয়। ফলে অনিবার্যভাবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। এবং সেই সংখ্যা ৩ লাখ নয়, আজকে পর্যন্ত কমপক্ষে ৪ লাখ। সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে, রোহিঙ্গারা আসছে। বাংলাদেশ সরকারের আগত রোহিঙ্গাদের জন্যে টেকনাফ-কক্সবাজার-বান্দরবান এলাকায় সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা দরকার ছিল। দু’তিন চার বা তারও বেশি স্থানে রোহিঙ্গাদের রেখে তালিকা করতে পারত বাংলাদেশ। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে দেখাতে পারত যে, বাংলাদেশ তিন চার বা পাঁচ লাখ বা তারও বেশিসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। জাতিসংঘসহ অন্যদের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করতে পারত বাংলাদেশ। আটকানো সম্ভব না হলেও, সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে রোহিঙ্গাদের তালিকা করা সম্ভব ছিল। কাজটি করার কোনো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি। কক্সবাজার, টেকনাফ, বান্দরবান এমনকি চট্টগ্রামের লোকালয়ে ঢুকে গেছে রোহিঙ্গারা। অনেকে পূর্বের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিশে গেছে। পাহাড়-জঙ্গল কেটে রোহিঙ্গারা বসতি স্থাপন করছে। বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ির আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্ব রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গারা পাহাড়-জঙ্গল দখল করছে। স্থানীয় অনেকে অর্থের বিনিময়েও তাদের আনছে, থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। এসব দেখার সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ আছে বলে মনে হচ্ছে না। যখন রোহিঙ্গারা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সরকার তাদের রাখার জায়গা দেখা শুরু করেছে!

২.
বাণিজ্যিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করে পৃথিবী চলে। সামরিক কৌশলগত কারণের সঙ্গেও থাকে বাণিজ্য। চীন বাংলাদেশের কাছে সাবমেরিন বিক্রি করে। ভারত ক্ষুব্ধ হয়। ভারত আবার মিয়ানমারের কাছে সাবমেরিন বিধ্বংসী টর্পেডো বিক্রি করে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাণিজ্যিক স্বার্থে চীন মিয়ানমারের পক্ষে। ভারতের নিজের স্বার্থ তো বটেই, এই অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থ দেখারও দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশ ভারত। ভারতের রিলায়েন্সসহ বড় কিছু প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারে গেছে। মিয়ানমারের সমুদ্রে বিপুল গ্যাস সম্পদ তারা আবিষ্কার করেছে। মিয়ানমারের উপর চীনের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দিতে চায় না ভারত। আমেরিকার নীতিও তাই। আমেরিকা প্রকাশ্যে মিয়ানমারের গণহত্যা নিয়ে কিছু কথা বললেও, মিয়ানমার বিষয়ে মোটেই কঠোর কোনো অবস্থান নেবে না। ভারত তো সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় বালির একটি আন্তর্জাতিক ঘোষণা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ভারত। ভারতের অবস্থান কত শক্তভাবে মিয়ানমারের পক্ষে তা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আবার আমেরিকার বিপরীতে চীনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। চীন-রাশিয়া জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশের প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে তার প্রকাশ ঘটিয়েছে। অর্থাৎ মিয়ানমার সংকটে এই অঞ্চলের বৃহৎ শক্তি চীন এবং ভারত সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষে। গণহত্যা এবং রোহিঙ্গা বিতাড়নের পথ বন্ধ করার ক্ষেত্রে চীন-ভারতের কোনো উদ্যোগ তো নেই-ই, উল্টো শতভাগ প্রকাশ্য সমর্থন আছে। চীন এবং ভারতকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এবং আমেরিকার সমর্থনও মিয়ানমারের পক্ষে।
ওআইসি নীরব। জাপানের ২৪টি প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারে শিল্পপার্ক তৈরি করছে। জাপানেরও স্বার্থ রয়েছে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে।
রোহিঙ্গা সংকটে সবচেয়ে বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ। প্রকারান্তরে সেই বাংলাদেশের পক্ষে বা বাংলাদেশের স্বার্থ বা ন্যায্যতার প্রশ্নে কেউ নেই। কেউ নেই বলতে, মিয়ানমারকে চাপ দিতে পারে, এমন কেউ বাংলাদেশের পক্ষে নেই। তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা, ইউরোপের কিছু দেশ ন্যায্যতার কথা বলছে। কিন্তু মিয়ানমারের উপর কার্যকর চাপ দেয়ার সক্ষমতা তাদের নেই। ইউরোপের থাকলেও, তাদের নীতি তেমন নয়। তারা ন্যায্য কথা বলার বাইরে কিছু করবে না। কানাডা সর্বোচ্চ অং সান সুচির সম্মানজনক নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারে। যা দিয়ে বাংলাদেশের কিছু আসবে যাবে না।
বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হতে পারত যদি ভারত বা চীন শক্ত অবস্থান নিয়ে মিয়ানমারকে চাপ দিত। কিন্তু ঘটছে তার উল্টোটা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। বাণিজ্যিক-নিরাপত্তা দু’দিক দিয়েই। ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর বিদ্রোহীরা দীর্ঘ বছর বাংলাদেশে আশ্রয়-পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। সর্বজনস্বীকৃত যে, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ভারতের চাহিদার পুরোটা পূরণ করেছে। বিদ্রোহী নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে, আশ্রয় দেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশাল বড় কাজ করেছে বাংলাদেশ, ভারতের সবাই তা স্বীকারও করে। ট্রানজিট সুবিধা দেয়া, মানবিক কারণে বিনা ফিতে বাংলাদেশের উপর দিয়ে পণ্য পরিবহনের সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের নানাবিধ সুবিধা তো আছেই। সেই ভারত এভাবে মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। কারণ ভারত নিজের স্বার্থ দেখছে, সবাই তাই দেখে। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে প্রায় দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে ভারত যে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেবে, তা বাংলাদেশের বুঝতে না পারার কারণ ছিল না। খুব বেশি কূটনৈতিক জ্ঞানেরও দরকার ছিল না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার সফরে গিয়ে মিয়ানমারের পক্ষে ভারতের অবস্থানের যে কথা বলেছেন, তা অনুমিতই ছিল। কিন্তু মোদি মিয়ানমারে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব বা প্রধানমন্ত্রীর ভারত ঘনিষ্ঠ দূতদের কাউকে ভারতে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের বিপদ এবং প্রত্যাশার কথাটা মোদির কাছে অন্তত বলা যেত। তা করা হয়নি। মোদি মিয়ানমার থেকে ফেরার এবং বালি ঘোষণা থেকে ভারত সরে আসার পর দিল্লিস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেখা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চলমান সহিংসতা নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রকাশ্য সমর্থনের পর পররাষ্ট্র সচিব আলাদা কিছু বলবেন, সেই প্রত্যাশা করাটাও নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
চীন জাতিসংঘে মিয়ানমারের পক্ষে ভেটো দিচ্ছে, আর বাংলাদেশ ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলছে! উচ্চপর্যায়ে কথা বলার চেষ্টা দৃশ্যমান নয়। অথচ চীনের সঙ্গে এখন বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিরাজমান। অবশ্যই বাংলাদেশের চেয়ে মিয়ানমারে চীনের অনেক বড় স্বার্থ। তারপরও বাংলাদেশ চীনের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা বলতে পারত। তা করতে দেখা যায়নি। রাশিয়ার সঙ্গেও বাংলাদেশের অস্ত্র কেনা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেই রাশিয়ার সঙ্গেও বাংলাদেশের আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, এমন তথ্য জানা যায়নি।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র জাপান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম চুপচাপ আছে। জাপানসহ এসব দেশে বাংলাদেশ দূত পাঠাতে পারত। তেমন কোনো চিন্তা আছে বলে মনেই হচ্ছে না।

৩.
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে কথা বলছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। ফার্স্টলেডিকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখে কান্নাকাটি করে গেছেন। বিষয়টি নিয়েও ‘চাচার রীতি’তে তির্যক প্রশ্ন-মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে অনেককে। কেন তুরস্কের ফার্স্টলেডি এলেন, কেন কান্নাকাটি করে গেলেন? তুরস্ক কি জাহাজভর্তি করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিয়ে যাবে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে এখন কেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলছেন এরদোগান?
কোনো সন্দেহ নেই এরদোগান রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলছেন নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্যে। মুসলিম বিশ্বের মোড়ল হওয়ার বাসনা তার বহু দিনের। বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রতিকূলতায় সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বের নীরবতার সুযোগে সে নেতা হতে চায়।
ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, আইএস জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়-পৃষ্ঠপোষকতার সমালোচনায় জর্জরিত হয়েছে এরদোগান। সেই ভাবমূর্তি কাটানোর চেষ্টারই অংশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার অবস্থান। যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করেছে, আবার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতাও বেড়েছে। সেই এরদোগান রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলছেন, যে কথা বাংলাদেশের পক্ষে যাচ্ছে, সরকার সংশ্লিষ্ট অনেককে তা নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে।
প্রশ্ন আসে, আপনারা আসলে চাইছেন কী? তুরস্কও ভারত-চীন-রাশিয়ার মতো মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিক? এরদোগান মিয়ানমারের পক্ষে কথা বললে আপনারা খুশি হতেন?
রামপাল ইস্যুতে এরদোগানের তুরস্ক যখন ইউনেস্কোতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়, তখন কিন্তু আপনারা নাখোশ হননি। তখন গর্ব করে বলেন, তুরস্কসহ ১২ দেশ রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। স্ববিরোধিতারও সীমা থাকা দরকার! যখন আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু আপনার বিরুদ্ধে, তখন তুরস্ক তার নিজের স্বার্থে আপনার পাশে। নিজের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে তাকে আমি দূরে ঠেলে দেব কেন?
যতদূর জানা যাচ্ছে, সৌদি আরবের অবস্থানও কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষে চলে যাচ্ছে। ওআইসি থেকে কোনো ভালো সংবাদ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।
বুঝতে হবে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা কোনো দেশ যদি নিয়ে যায়, তা সমাধান নয়। সমাধান রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানেতে।
বাংলাদেশে আরেকটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে। সরকারের সব রকমের অন্যায়-অনৈতিকতা সমর্থন করা তাদের প্রধান কাজ। কখনো কখনো ধরি মাছ না ছুঁই পানি নীতিতে কিছু কথা বলেন। এই শ্রেণিটির একটা কমন বিষয় যে কোনো ইস্যুতে প্রশ্ন এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ‘এখন আমাদের শান্তির দূত ড. ইউনূস কোথায়? ড. ইউনূস চুপ কেন? কেন ড. ইউনূস এ বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলেন না?’
এবারও নিয়ম করে তারা এ প্রশ্ন সামনে আনলেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাধারণত তার নিজের কাজের বাইরে অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলেন না। এবার বললেন। সুনির্দিষ্ট করে খোলা চিঠি লিখলেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেন। রোহিঙ্গাদের উপর চালানো নিপীড়ন-নির্যাতনের কথা জানালেন পৃথিবীকে। লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ, জানালেন সে কথাও।
এই শ্রেণিটির পরের বক্তব্য ‘বলেছেন তবে জোর দিয়ে নয়, এটা করা দরকার ছিল, ওটা করতে পারতেন...।’
এরপর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে সাক্ষাৎকার দিয়ে নোবেল বিজয়ী মিয়ানমার নেত্রী অং সান সুচির তীব্র সমালোচনা করলেন ড. ইউনূস। জেগে ওঠার আহ্বান জানালেন তাকে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে ড. ইউনূসই সবচেয়ে জোরালোভাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে, সূচির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। জাতিসংঘের উদ্যোগের পেছনে নিশ্চয় ড. ইউনূসের চিঠি- কথার একটা ভূমিকা আছে।
প্রশ্ন তোলা শ্রেণিটি নীরব-নিশ্চুপ। যারা প্রশ্ন তোলেন, ড. ইউনূস কেন চুপ, তারা কখনো বলেন না যে, সরকারের উচিত ড. ইউনূসের পরিচিতি ও প্রভাবকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজে লাগানো। সরকার না চাইলে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় কোনো কাজে সহায়তা করতে পারেন না, করার সুযোগ থাকে নাÑ এই সাধারণ বিষয়টিও তারা প্রশ্ন করার সময় বিবেচনায় নেন না।
সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের সীমাহীন দুর্বলতা নিয়ে তারা মিনমিন করেন। তুরস্কের ফার্স্টলেডি আসলে সমালোচনা করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা দূতরা চুপচাপ বসে থাকলে সমালোচনা করেন না।
অং সান সুচি বলছেন আরাকানে সবাই নিরাপদে আছে। এর বিপরীতে অথেনটিক ভিডিও ক্লিপিংসসহ তথ্য দিয়ে প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের দুর্বলতা লক্ষণীয়। এখন পর্যন্ত প্রচারণা যতটা হচ্ছে, বিশ্বমিডিয়া নিজের থেকে করছে।

৪.
এবারের হিসাব বাদ দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ছিল নিবন্ধিত ৩২ হাজার, অনিবন্ধিত ৫ থেকে ৭ লাখ। এবার এখন পর্যন্ত এসেছে জাতিসংঘের হিসাবে ৩ লাখ, বাস্তবে ৪ লাখের উপরে। আরও কমপক্ষে ৩ লাখ আসার পথে রয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা আছে কমপক্ষে ১০ লাখ। এই সংখ্যাটা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ১৩ থেকে ১৪ লাখে পরিণত হবে।
রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’ গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর উপর আক্রমণ করে। এই আক্রমণের অজুহাতে চলছে রোহিঙ্গা নিধন। ‘আরসা’র সঙ্গে আমরা এখন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সংযোগ আবিষ্কার করছি। ‘আরসা’ যে ২০১২ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থে আইএসআই’র মাধ্যমে মিয়ানমারের ভেতরে শক্তিশালী হয়ে উঠছিল, নতুন নতুন একে-৪৭ নিয়ে সজ্জিত হচ্ছিল, তা খুব অজানা ছিল না। বিশেষ করে বান্দরবান-মিয়ানমার অঞ্চলের খোঁজ যারা রাখেন তাদের কাছে। তা জানা থাকার কথা আমাদের গোয়েন্দা সংস্থারও। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র ব্যবহার করে আমাদের দু’একটি গণমাধ্যম এখন যে সংবাদ প্রকাশ করছে, তাতে মনে হচ্ছে এখনই প্রথম জানা গেল বিষয়টি। বিষয়টি মোটেই তেমন নয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন, আরসা ধাওয়া খেয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। বাংলাদেশ ধাওয়া দিলে আবার মিয়ানমারে চলে যায়।
এই তথ্যটি একেবারেই সঠিক নয়। ‘আরসা’ মিয়ানমারের ভেতরের সংগঠন। তারা কখনো বাংলাদেশে আসে না। অস্ত্র পায় সমুদ্র পথে, বাংলাদেশের মাধ্যমে নয়। ‘আরসা’র নিজস্ব কোনো পোষাক নেই। সাধারন রোহিঙ্গাদের পেষাকই ‘আরসা’র পোষাক। এবং ‘আরসা’ যথেষ্ট শক্তিশালী সংগঠন। গ্রাম- বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, রোহিঙ্গাদের হত্যা- বিতাড়িত করা হয়েছে। ফলে সাধারন রোহিঙ্গা হিসেবে আরাকানে ‘আরসা’র থাকার সুযোগ নেই। ফলে তারা যুদ্ধ বিরতির ঘোষনা দিয়েছে। একথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, আগত ৪ লাখ রোহিঙ্গাদের ভেতরে ‘আরসা’ সদস্যরাও আছে।
আইএস, আল কায়েদা ইতোমধ্যে মিয়ানমারে আক্রমণের আহ্বান জানিয়েছে। ২৫ আগস্টের মতো আরেকটি আক্রমণ মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর উপর হলে সম্ভাবনা আছে সেই দায় স্বীকার করতে পারে আইএস বা আল কায়েদা। তখন পরিচিতি দেয়া সহজ হবে যে রোহিঙ্গারা আইএস জঙ্গি বা তাদের ভেতরে আইএস জঙ্গি আছে। মিয়ানমার যে পরিচিতি দিতে চায়, যে ইস্যুকে সামনে এনে চীন-ভারত-রাশিয়া মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মিয়ানমারে অবস্থানরত বিশ্বস্ত কিছু সূত্র জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে সর্বত্র প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, ১১ সেপ্টেম্বর ইসলামি জঙ্গিরা মিয়ানমারে বড় রকমের আক্রমণ করতে পারে। মিয়ানমারের সরকারের নিয়ন্ত্রিত সকল মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা আবার মিয়ানমারে ফিরে যাবে বা মিয়ানমার ফেরত নেবেÑ সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মিয়ানমারের সরকারের মুখপাত্রের দুটি বক্তব্যে সেই ইঙ্গিত খুব পরিষ্কার। বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ বা কাগজপত্র থাকলেই শুধু মিয়ানমার তাদের ফেরত নেবে। তাছাড়া কাউকে ফেরত নেয়া হবে না। এসব রোহিঙ্গার নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের নাগরিকত্বের বৈধ কাগজপত্র থাকবে কীভাবে!
আর মিয়ানমারের এক জেনারেল ইয়াঙ্গুনে বলেছেন, যে কাজটি আমাদের করার কথা ছিল ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, এতদিন পর আমরা তা করছি। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া বিষয়ক কোনো চিন্তাভাবনার মধ্যে মিয়ানমারের নেই।
এই অবস্থায় ১২ থেকে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব জাতিসংঘের বাহবা পেতে পারে।মানবতার প্রচারণা চালিয়ে বড় পুরস্কারের আশাও করা যেতে পারে। পাহাড় ধসে প্রায় দের’শ বাংলাদেশের মানুষ প্রাণ হারানোর পরও প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামে যাননি। এখন রোহিঙ্গাদের দেখতে যাচ্ছেন। সব কিছুতেই নানা হিসেব কাজ করছে।
মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া হয়তো দুই চার হাজার রোহিঙ্গা নিতে পারে। কিন্তু বিশাল দায়-চাপ বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে। ‘আরসা’র সশস্ত্র সংগ্রাম যদি কোনো দিন জোরদার হয়, তবে কক্সবাজার-টেকনাফ-বান্দরবান নিয়ে কঠিন জটিলতা তৈরি হবে। নিঃসন্দেহে এই জটিলতা তৈরিতে বড়ভাবে ভূমিকা রাখবে পাকিস্তান। যদি পাকিস্তানের সেই ভূমিকা রাখার সুযোগ কখনো তৈরি হয়, তার জন্যে বড়ভাবে দায়ী থাকবে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা। ভারত-চীনকেও সেই দায় বহন করতে হবে।
সুতরাং সামনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্যে ভয়ঙ্কর সংকটকাল আসতে পারে। বাংলাদেশের এই সংকট আগাম উপলব্ধি করা দরকার। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সুবিধা নেয়ার অহেতুক ক্ষতিকর তর্ক-বিতর্কের ঊর্ধ্বে ওঠা দরকার। তা না হলে বিপদ থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। কেউ বাংলাদেশের পাশে নেই-ও। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বন্ধুহীন। কেন এই বন্ধুহীন অবস্থা তৈরি হলো, নির্মোহভাবে তা খতিয়ে দেখা দরকার।

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
  • এই হাত মানুষের : ওঁরা বাঁচতে চায়... -শুভ কিবরিয়া
  • চোখের জলে ভাসছে সাগর পাড় : থামছে না রোহিঙ্গা স্রোত -সায়েম সাবু
  • উত্তর কোরিয়ার দাপট ভেতর-বাহির -আনিস রায়হান
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive