Logo
 বর্ষ ৯ সংখ্যা ৪৯ ৪ঠা জৈ্যষ্ঠ, ১৪২৪ ১৮ মে, ২০১৭ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ  
রাহমান মনি

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সম্প্রতি একের পর এক সহিংসতা এবং অতি সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে টোকিওতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
১৩ নভেম্বর ২০১৬ রোববার টোকিও শহীদ মিনার সম্মুখে এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসীরা অংশ নেয়। ইকেবুকুরো নিশিগুচি কোয়েনের টোকিও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা এইদিন বিভিন্ন পোস্টার, প্ল্যাকার্ড হাতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মালসামানা লুটপাট, সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং নিরীহ জনগণের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতাসহ দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। বাংলা, ইংরেজি এবং জাপানি ভাষায় পোস্টারের মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় কিংবা সংগঠনের আহ্বানে নয় বরং সর্ব ধর্মীয় এবং সর্ব স্থানীয় প্রবাসীদের অংশগ্রহণে সত্যিকার অর্থেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান পরিস্ফুটিত হয়। প্রবাসী মিডিয়াকর্মীরা এ সময় উপস্থিত থেকে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
নির্দিষ্ট কোনো ব্যানার না থাকলেও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং সহযোগিতায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ছিল অত্যন্ত সার্থক একটি আয়োজন। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে যে অগোছালো আয়োজনও যে গোছালো হয়ে যায় ১ অক্টোবর ২০১৬ টোকিও মানববন্ধন উদাহরণ হয়ে থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় এবং আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সচেতন এবং বিবেকবান প্রবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে তাদের সমর্থনের কথা জানান দেন।
বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ নতুন কোনো ঘটনা নয়। যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে তখন সে দল এই জনগোষ্ঠী নিয়ে খেলেছে। এই একটি জায়গাতে সব দলই এক। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন যতটা না ধর্মীয় কারণে তার চেয়েও বেশি ব্যক্তি স্বার্থপরতার। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থে সংখ্যালঘুদের উপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ায় প্রবাসে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে নিরীহ জনগণের উপর জুলুম নির্যাতন চালায়। সরকার বরাবরের মতোই তদন্ত করার নামে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছিঁটেফোঁটা সাহায্য করার নামে তামাশা করে। নাসিরনগর এবং সাঁওতালদের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। কিন্তু প্রবাসীরা মানববন্ধন করে এসব তামাশা বন্ধ করাসহ প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের কাঠগড়ায় এনে দোষী সাব্যস্ত করে কঠিন শাস্তির দাবি জানায়। প্রবাসীরা মনে করে বাংলাদেশ সবার। এখানে সবার সহাবস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। তাই শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ের অন্যতম হাতিয়ার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
টোকিও মানববন্ধন থেকে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্যাতন বন্ধের জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী নৃগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার, মিয়ানমারের গণহত্যা, রোহিঙ্গা নির্যাতন, সাঁওতালদের উপর অত্যাচার বন্ধসহ বিশ্বব্যাপী মুসলিম বিদ্বেষ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
সব শেষে কাজী ইনসানুল হক এবং সুখেন ব্রহ্ম শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
rahmanmoni@gmail.com
Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
প্রবাসে
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.
বর্তমান সংথ্যা
পুরানো সংথ্যা
Click to see Archive
Doshdik
 
 
 
Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive